সূরাঃ এরাফ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ আলিফ-লাম-মীম-ছোয়াদ।

আয়াতঃ ০২⇒ এই এক গ্রন্থ তোমার নিকটে অবতারিত হইয়াছে, অতএব এতদ্দারা ভয় প্রদর্শন করিতে ও বিশ্বাসীদিগকে উপদেশ দিতে যেন ইহার সম্বন্ধে তোমার অন্তরে কোন সঙ্কুচিত ভাব না হয়।

আয়াতঃ ০৩⇒ তোমাদের প্রতিপালক হইতে, (হে লোক সকল) তোমাদিগের নিকটে যাহা অবতারিত হইয়াছে তোমরা তাহার অনুসরণ কর, তাহা ব্যতিত অন্য বন্ধুদিগের অনুসরণ করিও না, তোমরা উপদেশ যাহা গ্রাহ্য করিয়া থাকো তাহা অল্পই।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং বহু গ্রামবাসীকে আমি বিনাশ করিয়াছি, তৎসকলের প্রতি রাত্রিতে কিংবা তাহাদের মাধ্যাহ্নিক নিদ্রাবস্থায় আমার শাস্তি উপস্থিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ পরে যখন তাহাদের প্রতি আমার শাস্তি উপস্থিত হইল, “নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী ছিলাম” ইহা বলা ভিন্ন তাহাদের অন্য উক্তি ছিল না।

আয়াতঃ ০৬⇒ অনন্তর অবশ্য আমি যাহাদিগের প্রতি (প্রেরিতপুরুষ) প্রেরিত হইয়াছিল তাহাদিগকে প্রশ্ন করিব, এবং অবশ্য প্রেরিতদিগকে প্রশ্ন করিব।

আয়াতঃ ০৭⇒ অবশেষে জ্ঞানসহকারে তাহাদের নিকটে অবশ্য বর্ণনা করিব, যেহেতু আমি লুক্কায়িত ছিলাম না।

আয়াতঃ ০৮⇒ সেই দিনকার তুল করা ঠিক, অনন্তর যাহাদের পাল্লা (সাধুতায়) গুরুভার হইবে, সেই তাহারাই মুক্তিলাভকারী।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং যাহাদের পাল্লা লঘুভার হইবে তাহারা সেই লোক যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অত্যাচার করিয়াছিল বলিয়া আপনাদের জীবনের অনিষ্ট করিয়াছে।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমাদিগকে ধরাতলে স্থান দান করিয়াছি, এবং তোমাদের জন্য তথায় উপজীবিকা উৎপাদন করিয়াছি, তোমরা কৃতজ্ঞতা যাহা দান কর তাহা অল্পই।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি, তৎপর তোমাদের মূর্তি গঠন করিয়াছি, তৎপর দেবতাদিগকে বলিয়াছিলাম যে, তোমরা আদমকে প্রনাম কর, তাহাতে শয়তান ব্যতীত (অন্য সকলে) প্রনাম করিয়াছিল; সে প্রনামকারীদিগের অন্তর্গত হয় নাই।

আয়াতঃ ১২⇒ (ঈশ্বর) জিজ্ঞাসা করিলেন, “আমি যখন তোমাকে আজ্ঞা করিলাম তখন প্রনাম করিতে কিসে বারন করিল?” সে বলিল, “আমি তাহা অপেক্ষা উত্তম, তুমি আমাকে অগ্নি দ্বারা  ও তাহাকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছ।“

আয়াতঃ ১৩⇒ তিনি বলিলেন, “তুমি এ স্থান হইতে চলিয়া যাও, যেহেতু এখানে অংকার করা তোমার জন্য (উচিত) নয়, অতএব বাহির হও, নিশ্চয় তুমি নিকৃষ্টদিগের অন্তর্গত।“

আয়াতঃ ১৪⇒ সে বলিল, “উত্থাপনের দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও।“

আয়াতঃ ১৫⇒ তিনি বলিলেন, “নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদিগের অন্তর্গত।“

আয়াতঃ ১৬⇒ সে বলিল, “অবশেষে যেমন তুমি আমাকে বিভ্রান্ত করিলে আমিও তাহাদিগের জন্য তোমার সরল পথে অবশ্য বসিয়া থাকিব।

আয়াতঃ ১৭⇒ অতঃপর তাহাদের সম্মুখ হইতে ও তাহাদের পশ্চাত হইতে ও তাহাদের দক্ষিন হইতে এবং তাহাদের বাম হইতে অবশ্য আমি তাহাদের নিকটে আসিব, এবং তুমি আমাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ প্রাপ্ত হইবে না।“

আয়াতঃ ১৮⇒ তিনি বলিলেন, “এ স্থান হইতে তুমি লাঞ্ছিত ও তাড়িত অবস্থায় বাহির হও, তাহাদের যে ব্যক্তি নিশ্চয় তোমার অনুসরণ করিবে অবশ্য আমি একযোগে সেই তোমাদিগের দ্বারা নরকলোক পূর্ণ করিব।“

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী স্বর্গেতে বাস করিতে থাক, অনন্তর যথা হইতে তোমাদের ইচ্ছা হয় ভক্ষন কর, এবং এই বৃক্ষের নিকটে যাইও না, তাহা হইলে তোমরা পাপীদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ২০⇒ অনন্তর শয়তান তাহাদের উভয়ের সেই লজ্জাকর অঙ্গ তাহাদিগ হইতে যাহা গুপ্ত ছিল তাহাদের জন্য ব্যক্ত করিতে তাহদিগকে কুমন্ত্রণা দিল, এবং বলিল যে, “তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের উভয়ের দেবতা হওয়া অথবা (এস্থানে) চিরনিবাসী হওয়া ব্যতীত বৃক্ষবিষয়ে তোমাদিগকে নিবারন করেন নাই।“

আয়াতঃ ২১⇒ সে তাহাদের দুই জনের জন্য শপথ করিয়া বলিল যে, “নিশ্চয় আমি তোমাদের দুই জনের, উপদেশদিগের অন্তর্গত।“

আয়াতঃ ২২⇒ অনন্তর সে তাহাদিগের প্রবঞ্চনাতে ফেলিল, যখন তাহারা সেই বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করিল তখন তাহাদের গুপ্ত অঙ্গ তাহাদের নিমিত্ত প্রকাশিত হইয়া পরিল ও তাহারা তদুপরি স্বর্গীয় তরুর পত্র সকল আচ্ছাদন করিতে লাগিল, এবং তাহাদিগের প্রতিপালক তাহাদিগকে ডাকিয়া বলিলেন যে, “এই বৃক্ষ সম্বন্ধে আমি কি তোমাদের নিষেধ করি নাই? এবং আমি কি বলি নাই যে, শয়তান তোমাদের স্পষ্ট শত্রু”?

আয়াতঃ ২৩⇒ তাহারা বলিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছি, যদি তুমি আমাদিগকে ক্ষমা না কর ও আমাদের প্রতি দয়া না কর তবে অবশ্য আমরা ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হইব।

আয়াতঃ ২৪⇒ তিনি বলিলেন, “তোমরা নামিয়ায যাও, তোমরা পরস্পর শত্রু এবং ভূতলে তোমাদের অবস্থিতি ও কিছুকাল পর্যন্ত (তথায় তোমাদের) ফলভোগ হইবে”।

আয়াতঃ ২৫⇒ তিনি বলিলেন, “তোমরা তথায় বাঁচিবে ও তথায় মরিবে, এবং তথা হইতে নিষ্ক্রামিত হইবে।“

আয়াতঃ ২৬⇒ হে আদমসন্তানগণ, নিশ্চয় তোমাদের প্রতি আমি সেই বস্ত্র যাহা তোমাদের গুপ্ত অঙ্গকে আবৃত করিতেছে ও সুশোভন বস্ত্র অবতারন করিয়াছি, এবং বৈরাগ্য বস্ত্র (অবতারন করিয়াছি) ইহাই উৎকৃষ্ট, ইহা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের (অন্তর্গত) ভরসা যে তাহারা উপদেশ লাভ করিবে।

আয়াতঃ ২৭⇒ হে আদমসন্তানগণ, তোমাদের পিতা-মাতাকে যেমন স্বর্গ হইতে বিচ্যুত করিয়াছে, তাহাদিগকে তাহাদের গুপ্ত অঙ্গ প্রদর্শন করিতে  তাহাদিগ হইতে তাহাদের বস্ত্র উন্মোচন করিয়াছে তদ্রুপ শয়তান তোমাদিগকেও যেন বিপাকে না ফেলে, নিশ্চয় সে ও তাহার দল যে স্থান হইতে তোমরা তাহাদিগকে দেখিতে না পাও তোমাদিগকে দেখিয়া থাকে, নিশ্চয় আমি শয়তানদিগকে অবিশ্বাসী লোকদিগের বন্ধু করিয়াছি।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তাহারা যখন দুষ্ক্রিয়া করে তখন বলিয়া থাকে “আমাদের পিতৃপুরুষদিগকে আমরা এ বিষয়ে প্রাপ্ত হইয়াছি, এবং ঈশ্বর আমাদিগকে এ বিষয়ে আদেশ করিয়াছেন, “তুমি বল, নিশ্চয় ঈশ্বর দুষ্কর্মে আদেশ করেন না, যাহা তোমরা জ্ঞাত নহ ঈশ্বরের প্রতি কি তাহা বলিতেছ?

আয়াতঃ ২৯⇒ বল, আমার প্রতিপালকের আজ্ঞা ন্যায়যুক্ত, প্রত্যেক নমাজের সময় উপস্থিতমতে তোমরা স্বীয় মুখ মণ্ডলকে ঠিক রাখিও, এবং তাহার জন্য ধর্মের বিশোধনকারী হইয়া তাঁহার অর্চনা করিও, যদ্রুপ তিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন তদ্রুপ পুনর্বার তোমরা হইবে।

আয়াতঃ ৩০⇒ তিনি এক দলকে পথ প্রদর্শন করিলেন ও এক দলকে (এরুপ করিলেন) যে, তাহাদের প্রতি বিপথ গমন উপযুক্ত হইল, নিশ্চয় তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া শয়তান সকলকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিল ও মনে করিতেছিল যে, তাহারা সুপথগামী।

আয়াতঃ ৩১⇒ এক দলকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করেছেন, আর অপর দলের পথভ্রষ্টতা তিনি ন্যায়মতো নির্ধারণ করেছেন। তারা আল্লাহকে বাদ দিয়া শয়তানকে  তাদের অভিভাবক করেছিল ও নিজেদেরকে তারা মনে করত সৎপথগামী।

আয়াতঃ ৩২⇒ হে আদমসন্তানগণ, প্রত্যেক নমাজের সময় উপস্থিতমতে তোমরা স্বীয় শোভা গ্রহণ করিও, এবং ভোজন পান করিও, অমিতাচরণ করিও না, নিশ্চয় তিনি অমিতাচারীকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৩৩⇒ বল, ঈশ্বরের সেই শোভাকে যাহা তিনি আপন দাসদিগের জন্য বাহির করিয়াছেন, এবং বিশুদ্ধ উপজীবিকা সকলকে কে অবৈধ করিল? বল, তাহা পার্থিব জীবনে বিশ্বাসীদিগের জন্য হয়, শুদ্ধ (তাহাদের জন্য) সমুত্থানের দিন, এরুপ যাহারা জ্ঞান রাখে সেই দলের নিমিত্ত আমি নিদর্শন সকল বিস্তারিত বর্ণন করি।

আয়াতঃ ৩৪⇒ বল,  যে সকল দুষ্ক্রিয়া গুপ্ত ও ব্যক্ত এবং অপরাধ, অন্যায় অবাধ্যতা এবং যাহার সম্বন্ধে কোন প্রমান উপস্থিত হয় নাই তাহাকে যে তোমরা ঈশ্বরের অংশী কর, এবং যাহা জ্ঞাত নহ ঈশ্বর সম্বন্ধে যে তাহা বল, এই সকল ব্যতীত আমার প্রতিপালক অবৈধ করেন নাই।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এক নির্দিষ্ট কাল আছে, যখন তাহাদের নির্দিষ্ট কাল উপস্থিত হয় তখন তাহারা এক দন্ড বিলম্ব করে না, সত্বরও হয় না।

আয়াতঃ ৩৬⇒ হে আদমের সন্তানগণ, যদি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের নিকটে প্রেরিত পুরুষগণ আগমন করে ও আমার নিদর্শন সকল তোমাদের নিকটে বর্ণনা করে, তাহাতে যাহারা ধর্মভীরু হইবে ও সৎকর্ম করিবে তাহাদের সম্বন্ধে ভয় নাই, তাহারা শোকার্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ও তৎপ্রতি গর্ব করিয়াছে এই তাহারাই নরকাগ্নির অধিবাসী, তাহারা তথায় নিত্যনিবাসী হইবে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ অনন্তর ঈশ্বরের প্রতি যাহারা অসত্য বন্ধন করিয়াছে ও তাঁহার নিদর্শন সকলের সম্বন্ধে অসত্য বলিয়াছে তাহাদের অপেক্ষা কোন ব্যক্তি সমধিক অত্যাচারী?  এই তাহারা, গ্রন্থ হইতে তাহাদের লভ্য সে পর্যন্ত প্রাপ্ত হইবে, যখন আমাদের প্রেরিতগণ তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইবে, তাহাদের প্রান হরণ করিবে ও বলিবে, “তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাকে আহ্বান করিতেছিলে তাহারা কোথায়?” তখন তাহারা বলিবে, “আমাদের নিকট হইতে তাহারা অন্তর্হিত হইয়াছে” এবং তাহারা আপন জীবন সম্বন্ধে সাক্ষ্য দান করিবে যে নিশ্চয় তাহারা কাফের ছিল।

আয়াতঃ ৩৯⇒ তিনি বলিবেন, তোমাদের পূর্বে নিশ্চয় যে সকল দানব ও মানব নরকাগ্নিতে চলিয়া গিয়াছে, সেই দলে তোমরা প্রবেশ কর, যখন এক দল প্রবেশ করিবে তখন আপন ভগিনীকে অভিসম্পাত করিবে, তথায় সকলের পরস্পর একত্রিত হওয়া পর্যন্ত তাহাদের পশ্চাদ্বর্তীগণ তাহাদের পূর্ববর্তী লোক সম্বন্ধে বলিবে যে, “হে আমাদের প্রতিপালক, তাহারা আমাদিগকে বিপথগামী করিয়াছে, অতএব তুমি তাহাদিগকে নরকাগ্নির দ্বিগুণ শাস্তি দান কর।

আয়াতঃ ৪০⇒ তিনি বলিবেন, “প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ, কিন্তু তোমরা বুঝিতেছ না।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং তাহাদের পূর্ববর্তী তাহাদের পশ্চাদ্বর্তীকে বলিবে অনন্তর আমাদের উপর তোমাদের শ্রেষ্ঠতা নাই, অতএব যাহা করিতেছিলে তজ্জন্য শাস্তি আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ৪২⇒ নিশ্চয় যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ও তৎসম্বন্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছে তাহাদের জন্য স্বর্গের দ্বার মুক্ত হইবে না, এবং যে পর্যন্ত না সূচির ছিদ্রে উষ্ট্র প্রবেশ করে সে পর্যন্ত তাহারা স্বর্গে যাইবে না, এবং এইরুপে আমি পাপীদিগকে প্রতিফল দান করি।

আয়াতঃ ৪৩⇒ নরকলোক হইতে তাহাদিগের জন্য শয্যা ও তাহাদের উপর আচ্ছাদন হইবে; এবং এইরুপে আমি অত্যাচারীদিগকে প্রতিফল দান করি।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে (তাহাদের) কোন ব্যক্তিকে তাহাদের সাধ্যানুরূপ ব্যতীত আমি ক্লেশ দান করি না, তাহারা স্বর্গলোকের নিবাসী, তাহারা তথায় নিত্যনিবাসী হইবে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং তাহাদের অন্তরে যে বিষাদ হয় তাহা আমি দূর করি, তাহাদিগের নিন্মে জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত হইবে, এবং তাহারা বলিবে, “ঈশ্বরেরই সম্যক গুনানুবাদ, যিনি আমাদিগকে এই দিকে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, যদি ঈশ্বর আমাদিগকে পথ প্রদর্শন না করিতেন আমরা কখনো পথ প্রাপ্ত হইতাম না, সত্যসত্যই আমাদের প্রতিপালকের প্রেরিতপুরুষগণ সত্যসহকারে আগমন করিয়াছেন;” এবং ধ্বনি হইবে যে, “তোমরা যাহা করিতেছিলে তজ্জন্য তোমাদিগকে এই স্বর্গের উত্তরাধিকারী করা গেল”।

আয়াতঃ ৪৬+৪৭⇒ এবং স্বর্গবাসীগণ নরকবাসীদিগকে ডাকিয়া বলিবে, “আমাদের প্রতিপালক আমাদের নিকটে যাহা অঙ্গীকার করিয়াছিলেন নিশ্চয় তাহা সত্য পাইয়াছি, পরন্তু তোমরা কি তাহাদের প্রতিপালক তোমাদের নিকটে যাহা অঙ্গীকার করিয়াছেন সত্য পাইয়াছ?” তাহারা হ্যাঁ বলিবে, তৎপর ঘোষনাকারী তাহাদের মধ্যে ঘোষনা করিবে যে, যাহারা ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত করে ও সেই পথের জন্য বক্রতা অন্বেষণ করে, এবং যাহারা পরলোক সম্বন্ধে অবিশ্বাসী সেই অত্যাচারীদিগের প্রতি ঈশ্বরের অভিসম্পাত।

আয়াতঃ ৪৮⇒ উভয়ের (স্বর্গ-নরকের) মধ্যে আচ্ছাদন রহিয়াছে, এবং “এরাফের” উপর পুরুষ সকল আছে, তাহারা প্রত্যেককে তাহাদের লক্ষণানুসারে চিনিবে, এবং স্বর্গবাসীদিগকে ডাকিয়া বলিবে, “তোমাদিগের প্রতি সলাম” (তখনও) তাহারা তথায় প্রবেশ করে নাই, (প্রবেশ করিতে) আকাঙ্ক্ষা করিতেছে।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং যখন তাহাদিগের দৃষ্টি নরকবাসীদিগের প্রতি ফিরিয়া আসিবে তখন তাহারা বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদিগকে অত্যাচারী দলের সঙ্গী করিও না।“

আয়াতঃ ৫০⇒ এরাফনিবাসীগণ পুরুষদিগকে তাহাদের লক্ষণানুসারে চিনিয়া ডাকিয়া বলিবে, “তোমাদের হইতে তোমাদের দল উপকার প্রাপ্ত হয় নাই, যেহেতু তোমরা অহংকার করিতেছিলে।“

আয়াতঃ ৫১⇒ ইহারা কি তাহারা যাহাদের সম্বন্ধে তোমরা শপথ করিতেছিলে যে, কখনো তাহাদিগের প্রতি ঈশ্বর দয়া প্রেরন করিবেন না? তোমরা স্বর্গে প্রবেশ কর, তোমাদের প্রতি ভয় নাই ও তোমরা শোকার্ত হইবে না।“

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং নরকবাসীগণ স্বর্গবাসীদিগকে ডাকিয়া বলিবে যে, “আমাদের প্রতি কিছু জল অথবা ঈশ্বর তোমাদিগকে যে উপজীবিকা দিয়াছেন তাহা হইতে কিছু বর্ষণ কর; “তাহারা বলিবে, “ঈশ্বর নিশ্চয় ধর্মদ্রোহিগনের প্রতি এ দুইকে অবৈধ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৫৩⇒ যাহারা আপন ধর্মকে ক্রীড়া ও আমোদস্বরূপ করিয়াছে তাহাদিগকে পার্থিব জীবন প্রতারনা করিয়াছে, অতএব অদ্য আমি তাহাদিগকে বিস্মৃত হইব, তাহারা যেমন আপনাদের এই দিবসের সাক্ষাৎকারকে বিস্মৃত হইয়াছে, এবং যেমন আমার নিদর্শন সকলকে অস্বীকার করিতেছিল।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তাহাদের নিকটে গ্রন্থ আনয়ন করিয়াছি, বিশ্বাসীদলের জণ্য জ্ঞানানুসারে পথ প্রদর্শন ও দয়ার অনুরোধে তাহা বিস্তৃত বর্ণন করিয়াছি।

আয়াতঃ ৫৫⇒ তাহার মর্ম ব্যতীত তাহারা কি প্রতীক্ষা করিয়া থাকে? যেদিন তাহার মর্ম উপস্থিত হইবে যাহারা পূর্বে তাহা বিস্মৃত হইয়াছিল তাহারা বলিবে, “নিশ্চয় আমাদের প্রতিপালকের প্রেরিতপুরুষগণ সত্য সহকারে আসিয়াছিলেন, অনন্তর আমাদের জন্য শুভ প্রার্থী কে আছেন যে, আমাদের নিমিত্ত শুভ প্রার্থনা করিবে? কিংবা আমরা কি ফিরিয়া যাইব, অবশেষে যাহা করিতেছিলাম তদ্ভিন্ন কারয করিব?” সত্যই তাহারা আপন জীবনের ক্ষতি করিয়াছে, এবং যাহা অপলাপ করিতেছিল তাহাদিগ হইতে তাহা বিলুপ্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক সেই পরমেশ্বর যিনি ছয় দিবসে স্বর্গলোক ও ভূলোক সৃজন করিয়াছেন, তৎপর সিংহাসনে স্থিতি করিয়াছিলেন, তিনি দিবা দ্বারা রজনীকে আচ্ছাদিত করেন, তাহাকে (দিবা-রাত্রিকে) সত্বর আহ্বান করিয়া থাকেন, এবং তাঁহার আদেশে সূর্য চন্দ্র ও নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়মিত, জানিও তাঁহারই সৃষ্টি ও আজ্ঞা, বিশ্বপালক পরমেশ্বর বহু সমুন্নত।

আয়াতঃ ৫৭⇒ তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে কাতরতাসহকারে ও গুপ্ত ভাবে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ পৃথিবীতে তাহার সংশোধনের পর তোমরা উপদ্রব করিও না, তাঁহাকে ভয় ও আশার সহিত ডাক, নিশ্চয় ঈশ্বরের দয়া হিতকারী লোকদিগের নিকটে আছে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং তিনিই যিনি আপন দয়ার পূর্বে বায়ু সকলকে সুসংবাদবাহকরুপে প্রেরন করেন, এত দূর পর্যন্ত, যখন (বায়ু) ঘন মেঘকে বহন করে তখন আমি নির্জীব নগরের দিকে তাহাকে প্রেরন করি, পরে আমি তাহা দ্বারা বারিবর্ষণ করিয়া থাকি, অনন্তর তদ্দারা সর্বপ্রকার ফল নিঃসারন করি, এই প্রকার আমি মৃত লোকদিগকে বাহির করিব, ভরসা যে, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে।

আয়াতঃ ৬০⇒ বিশুদ্ধ নগর, আপন প্রতিপালকের আদেশে স্বীয় উৎপাদনীয় বস্তু নিঃসারিত করে, এবং যাহা অবিশুদ্ধ তাহা অল্প বৈ নিঃসারন করে না, এইরুপে আমি কৃতজ্ঞ হয় এরুপ দলের জন্য নিদর্শন সকল বর্ণন করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৬১⇒ সত্যসত্যই আমি নূহাকে তাহার দলের প্রতি প্রেরন করিয়াছিলাম, অবশেষে সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, পরমেশ্বরকে ভজনা কর, তোমাদের জন্য তিনি ভিন্ন অন্য কোন ঈশ্বর নাই, নিশ্চয় আমি তোমাদের সম্বন্ধে মহাদিনের শাস্তিকে ভয় করিতেছি”।

আয়াতঃ ৬২⇒ তাহার দলের প্রধান পুরুষগণ বলিল, “নিশ্চয় আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিপথে দেখিতেছি”।

আয়াতঃ ৬৩⇒ সে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, আমার জন্য পথভ্রান্তি নয়, আমি বিশ্বপালক হইতে প্রেরিত।

আয়াতঃ ৬৪⇒ আমি আপন প্রতিপালকের সমাচার তোমাদিগকে পহুঁছাইতেছি ও তোমাদিগকে উপদেশ দিতেছি, তোমরা যাহা জানিতেছ না আমি ঈশ্বরের সাহায্যে তাহা জানিতেছি।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তোমরা কি বিস্মৃত হইতেছ যে, তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদিগের এক ব্যক্তির প্রতি তোমাদের জন্য উপদেশ আসিয়াছে যেন সে তোমাদিগকে ভয় প্রদর্শন করে ও তাহাতে তোমরা ধর্মভীরু হও, এবং তাহাতে তোমরা দয়া প্রাপ্ত হও?”

আয়াতঃ ৬৬⇒ পরে তাহারা তাহার প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, অবশেষে আমি তাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা নৌকায় ছিল তাহাদিগকে উদ্ধার করিয়াছি, এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল তাহাদিগকে জলমগ্ন করিয়াছি; নিশ্চয় তাহারা এক অন্ধ সম্প্রদায় ছিল।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং আমি আদ জাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা হুদকে (প্রেরন করিয়াছিলাম) সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, ঈশ্বরকে ভজনা কর, তোমাদের জন্য তিনি ভিন্ন অন্য ঈশ্বর নাই, অনন্তর তোমরা কি ধর্মভীরু হইতেছ না?”

আয়াতঃ ৬৮⇒ তাহার সম্প্রদায়ের যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছিল, তাহাদিগের প্রধান পুরুষগণ বলিল, “নিশ্চয় আমরা তোমাকে অজ্ঞানতার মধ্যে দর্শন করিতেছি, এবং নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদিগের অন্তর্গত মনে করিতেছি”।

আয়াতঃ ৬৯⇒ সে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, আমার জন্য অজ্ঞানতা নয়, কিন্তু আমি বিশ্বপালকের নিকট হইতে প্রেরিত।

আয়াতঃ ৭০⇒ আমি স্বীয় প্রতিপালকের সমাচার তোমাদিগকে পহুঁছাইতেছি, এবং আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত উপদেষ্টা।

আয়াতঃ ৭১⇒ তোমরা কি বিস্মৃত হইতেছ যে, তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের এক ব্যক্তির উপরে তোমাদের নিকটে উপদেশ আসিয়াছে যেন সে তোমাদিগকে ভয় প্রদর্শন করে। এবং স্মরণ কর, তিনি যখন নূহার সম্প্রদায়ের অন্তে তোমাদিগকে স্থলাভিষিক্ত ও সৃষ্টির মধ্যে তোমাদিগের (বংশ) বৃদ্ধি করিয়াছিলেন; পরিশেষে ঈশ্বরের দানকে স্মরণ কর, তাহাতে তোমরা উদ্ধার পাইবে।“

আয়াতঃ ৭২⇒ তাহারা বলিল, “আমরা এক্মাত্র ঈশ্বরকে অর্চনা করিব ও আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাহাকে ভজনা করিতেছিলেন পরিত্যাগ করিব? এজন্য তুমি কি আমাদের নিকট আসিয়াছ? অবশেষে যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও তবে আমাদের সম্বন্ধে যাহা অঙ্গীকার করিতেছ তাহা আমাদের নিকটে উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ৭৩⇒ সে বলিল, “সত্যই তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালক হইতে ক্রোধ ও শাস্তি নির্ধারিত হইয়াছে, তোমরা কি আমার সম্বন্ধে কতিপয় নাম সম্বন্ধে বিতণ্ডা করিতেছ? তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষগণ সেই নাম রাখিয়াছে, তাহার জন্য ঈশ্বর কোন প্রমান অবতারন করেন নাই, অবশেষে প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষাকারীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৭৪⇒ অনন্তর আমি তাহাকে ও যাহারা তাহার সঙ্গে ছিল তাহাদিগকে নিজ দয়াগুনে মুক্তি দিয়াছি, এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলকে অসত্য বলিয়াছিল ও অবিশ্বাসী ছিল তাহাদের মূল কর্তন করিয়াছি।

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং আমি সমুদ জাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা সালেহকে (প্রেরন করিয়াছিলাম) সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, ঈশ্বরকে অর্চনা কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য ঈশ্বর নাই, সত্যই তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকটে এক প্রমান উপস্থিত হইয়াছে, এই ঐশ্বরিক উষ্ট্রী তোমাদের জন্য নিদর্শন, অতএব ইহাকে ছাড়িয়া দেও, এ ঈশ্বরের ক্ষেত্রে ভক্ষন করিতে থাকুক, এবং তাহাকে অসদ্ভাবে স্পর্শ করিও না, তাহাতে তোমাদিগকে দুঃখজনক শাস্তি  আক্রমণ করিবে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং স্মরণ কর, যখন আদ জাতির অন্তে তিনি তোমাদিগকে স্থলাভিষিক্ত করিলেন, এবং তোমাদিগকে পৃথিবীতে স্থান দিলেন, তোমরা তাহার কোমল মৃত্তিকা দ্বারা আলয় সকল নির্মাণ করিতেছ ও পর্বত সকলকে কাটিয়া গৃহরাজি প্রস্তুত করিতেছ; অবশেষে ঈশ্বরের উপকার স্মরণ কর, এবং ভূতলে অত্যাচারীরুপে অহিতাচরণ করিও না।“

আয়াতঃ ৭৭⇒ তাহার সম্প্রদায়ের উদ্ধত প্রধান পুরুষগণ যাহাদিগকে দুর্বল মনে করিতেছিল তাহাদিগের যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি বোধ করিতেছ যে, সালেহ তাহার প্রতিপালক কর্তৃক প্রেরিত?” তাহারা বলিল, “সত্যই আমরা তাহার সঙ্গে যাহা প্রেরিত হইয়াছে তৎপ্রতি বিশ্বাসী।“

আয়াতঃ ৭৮⇒ উদ্ধত লোকেরা বলিল, “তোমরা যাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছ নিশ্চয় আমরা তৎ সম্বন্ধে কাফের”।

আয়াতঃ ৭৯⇒ অনন্তর তাহারা উষ্ট্রীকে বধ করিল ও আপন প্রতিপালকের আদেশের অবাধ্য হইল, এবং বলিল, “হে সালেহ, যদি তুমি প্রেরিত পুরুষদিগের অন্তর্গত হও তবে যে বিষয়ে অঙ্গীকার করিয়াছ তাহা উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ৮০⇒ অবশেষে ভূমিকম্প তাহাদিগকে আক্রমণ করিল, পরে তাহারা আপন গৃহে প্রাতঃকালে অধোমুখে (কালগ্রাসে) পতিত হইল।

আয়াতঃ ৮১⇒ অনন্তর সে তাহাদিগ হইতে মুখ ফিরাইল, এবং বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, সত্যসত্যই আমি স্বীয় প্রতিপালকের সমাচার তোমাদিগের নিকটে পহুঁছাইয়াছি, এবং তোমাদিগকে উপদেশ দিয়াছি, কিন্তু তোমরা উপদেষ্টাদিগকে প্রেম কর না।“

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং আমি লুতকে (প্রেরন করিয়াছি) স্মরণ কর, যখন সে আপন দলকে বলিল, “তোমরা যে দুষ্কর্ম করিতেছ তোমাদের পূর্বে কি জগতের কেহ তাহা করিয়াছে?

আয়াতঃ ৮৩⇒ নিশ্চয় তোমরা স্ত্রীলোক ছাড়িয়া কামভাবে পুরুষদিগের নিকটে আসিয়া থাক, বরং “তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দল”।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এবং স্বীয় গ্রাম হইতে ইহাদিগকে বাহির কর, নিশ্চয় ইহারা পবিত্রতা চাহে এরুপ লোক, এ-প্রকার বলা ভিন্ন তাহার দলের উত্তর ছিল না।

আয়াতঃ ৮৫⇒ অনন্তর আমি তাহার স্ত্রী ব্যতীত তাহাকে ও অন্য পরিজনকে মুক্তি দিলাম, সে (লুতের স্ত্রী) অবশষ্ট লোকদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং আমি তাহাদের উপর বৃষ্টি (প্রস্তরবৃষ্টি) বর্ষণ করিলাম, পরে দেখ অপরাধীদিগের পরিণাম কিরুপ হইয়াছিল?

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং আমি মদয়নজাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা শোয়াবকে (প্রেরন করিয়াছিলাম) সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, ঈশ্বরকে ভজনা কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য উপাস্য নাই, সত্যই তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকটে প্রমান উপস্থিত হইয়াছে, অবশেষে তুল ও পরিমাণকে পূর্ণ করিও, এবং লোকদিগকে তাহাদের দ্রব্যপুঞ্জ ন্যূন পরিমাণ দিও না ও পৃথিবীতে তাহার সংশোধনের পর উপদ্রব করিও না, তোমরা বিশ্বাসী হইলে তোমাদের জন্য ইহাই কল্যাণকর।

আয়াতঃ ৮৮⇒ তোমরা ঈশ্বরের পথ হইতে তৎপ্রতি যে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাকে নিবৃত্ত করিতে ও ভয় দেখাইতে প্রত্যেক পথে বসিও না, তোমরা তাহার জন্য বক্রতা অন্বেষণ করিতেছ; স্মরণ কর, যখন তোমরা অল্প ছিলে পরে তোমাদিগকে বর্ধিত করা হইয়াছে; দেখ অত্যাচারীদিগের পরিণাম কিরুপ হইয়াছে?

আয়াতঃ ৮৯⇒ এবং যদি তোমাদের একদল যৎসহ আমি প্রেরিত হইয়াছি তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও একদল অবিশ্বাসী হয় তবে যে পর্যন্ত ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করেন সে পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধারন কর, তিনি বিচারপতিদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৯০⇒ তাহার দলের যে সকল প্রধান পুরুষ উদ্ধত ছিল তাহারা বলিল, “হে শোয়ব, তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদিগকে আমরা আমাদের গ্রাম হইতে অবশ্য বাহির করিব, অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরিয়া আসিবে; সে বলিল, “আমরা যদিও অসন্তুষ্ট, তথাপি কি (ফিরিয়া আসিব?)

আয়াতঃ ৯১⇒ ঈশ্বর তাহা হইতে আমাদিগকে মুক্ত করার পর যদি তোমাদের সেই ধর্মে আমরা ফিরিয়া আসি নিশ্চয় ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিব, এবং আমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বর যাহা ইচ্ছা করেন তাহা অতিক্রম করিয়া তাহার মধ্যে যে আমরা আসিব আমাদের জন্য (উচিত) নয়, জ্ঞানযোগে আমাদের প্রতিপালক সকল বস্তু ঘেরিয়া রহিয়াছেন, ঈশ্বরের প্রতি আমরা নির্ভর করিয়াছি; হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে ও আমাদের জাতির মধ্যে তুমি সত্যভাবে মীমাংসা করিয়া দাও, তুমি মীমাংসাকারীদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।“

আয়াতঃ ৯২⇒ তাহার জাতির যেসকল প্রধান পুরুষ কাফের ছিল তাহারা (বন্ধুদিগকে) বলিল, “যদি তোমরা শোয়বের অনুসরণ কর তবে নিশ্চয় ক্ষতিগ্রস্থ হইবে”।

আয়াতঃ ৯৩⇒ অনন্তর ভূমিকম্প তাহাদিগকে আক্রমণ করিল, পরে তাহারা আপন গৃহে অধোমুখে প্রাতঃকালে (মৃত) পরিয়া রহিল।

আয়াতঃ ৯৪⇒ যাহারা শোয়বের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল  তাহারা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছে।

আয়াতঃ ৯৫⇒ অনন্তর সে তাহাদিগ হইতে ফিরিয়া আসিল, এবং বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, সত্যসত্যই আমি আপন প্রতিপালকের সমাচার সকল তোমাদের নিকটে পহুঁছাইয়াছি ও তোমাদিগকে উপদেশ দিয়াছি, অনন্তর কি প্রকারে ধর্মদ্রোহী দলের প্রতি শোক করি”।

আয়াতঃ ৯৬⇒ এবং আমি কোন গ্রামে তাহার অধিবাসীকে দুঃখ ক্লেশ দ্বারা আক্রমণ না করিয়া  কোন তত্ত্ববাহককে প্রেরন করি নাই, তাহাতে তাহারা কাতর হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৯৭⇒ তৎপর অমঙ্গলের স্থলে মঙ্গল বিনিময় করিয়াছি, এতদূর যে সমধিক হইয়াছে, এবং তাহারা বলিয়াছে, “নিশ্চয় দুঃখ ও সুখ আমাদের পিতৃপুরুষদিগকেও প্রাপ্ত হইয়াছিল;” অনন্তর আমি তাহাদিগকে অকস্মাৎ আক্রমণ করিয়াছি, এদিকে তাহারা অজ্ঞাত ছিল।

আয়াতঃ ৯৮⇒ এবং যদি গ্রামবাসীগণ বিশ্বাস করিত ও ধর্মভীরু হইত, তবে অবশ্য আমি তাহাদের প্রতি স্বর্গ ও মর্তের উন্নতির দ্বার মুক্ত করিতাম, কিন্তু তাহারা অসত্যারোপ করিল, অতএব যাহা করিতেছিল, তজ্জন্য তাহাদিগকে আমি আক্রমণ করিলাম।

আয়াতঃ ৯৯⇒ পরন্তু গ্রামবাসীগণ কি নিঃশঙ্ক আছে? এই যে আমার শাস্তি রাত্রিকালে উপস্থিত হইবে, এবং তাহারা নিদ্রিত থাকিবে।

আয়াতঃ ১০০⇒ অথবা গ্রামবাসীগণ কি নিঃশঙ্ক আছে? এই যে আমার শাস্তি মধ্যাহ্নকালে উপস্থিত হইবে, এবং তাহারা ক্রীড়া করিতে থাকিবে।

আয়াতঃ ১০১⇒ পরন্তু তাহারা কি ঈশ্বরের চতুরতার সম্বন্ধে নিঃশঙ্ক আছে? অনন্তর ক্ষতিকারক দল ব্যতীত অন্যে ঈশ্বরের চতুরময় নিঃশঙ্ক হয় না।

আয়াতঃ ১০২⇒ যাহারা তাহাদের (পূর্ব) নিবাসীদিগের অন্তে পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হইয়াছে, তাহাদের জন্য কি ইহা (কোরআন) পথ প্রদর্শন করে নাই, আমি ইচ্ছা করিলে তাহাদের অপরাধের বিনিময়ে তাহাদিগকে আক্রমণ করিতাম, এবং তাহাদের মনের উপর মোহর (মন বদ্ধ) করিয়া রাখিয়াছি, অতএব তাহারা শুনিতেছে না।

আয়াতঃ ১০৩⇒ সেই সকল গ্রাম (গ্রামবাসী), আমি তোমাদের নিকটে (হে মোহাম্মদ) তাহাদের তত্ত্বসকল বর্ণনা করিতেছি, এবং সত্যসত্যই তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রেরিত পুরুষগণ প্রমান সকল সহ উপস্থিত হইয়াছিল, পূর্বে যে বিষয়ে তাহারা অসত্যারোপ করিয়াছিল, পরে কখনো তাহাতে বিশ্বাস স্থাপন করে নাই, এইরুপে ঈশ্বর কাফেরদিগের মনের উপর মোহর করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১০৪⇒ এবং আমি ইহাদের অধিকাংশকে অঙ্গীকার পূর্ণ করিতে প্রাপ্ত হই নাই ও ইহাদের অধিকাংশকে অবশ্য দুষ্ক্রিয়াশীল প্রাপ্ত হইয়াছি।

আয়াতঃ ১০৫⇒ তৎপর ইহাদের অন্তে আমি মুসাকে আমার নিদর্শন সকল সহ ফেরওনের ও তাহার প্রধান লোকদিগের নিকটে প্রেরন করিয়াছিলাম, পরে তাহারা তাহার (নিদর্শনের) প্রতি অত্যাচার করিয়াছিল, অনন্তর দেখ, উপপ্লবকারীদিগের পরিণাম কি হইয়াছিল।

আয়াতঃ ১০৬⇒ এবং মুসা বলিয়াছিল, “হে ফেরওন, নিশ্চয় আমি বিশ্বপালকের নিকট হইতে প্রেরিত।

আয়াতঃ ১০৭⇒ সত্য ভিন্ন ঈশ্বর সম্বন্ধে বলি না, এ বিষয়ে আমি উপযুক্ত, সত্যই তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকটে এক প্রমান উপস্থিত করিয়াছি, অতএব আমার সঙ্গে এস্রায়েলসন্ততিগণকে প্রেরন কর।

আয়াতঃ ১০৮⇒ সে বলিল, “যদি তুমি নিদর্শন সকল সহ আসিয়াছ, তবে সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হইলে তাহা উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ১০৯⇒ অবশেষে সে আপন দন্ড নিক্ষেপ করিল, পরে অকস্মাৎ তাহা স্পষ্ট অজগর হইল।

আয়াতঃ ১১০⇒ এবং স্বকীয় হস্ত বাহির করিল, অনন্তর অকস্মাৎ তাহা দর্শকদিগের জন্য শুভ্র (জ্যোতিঃ) হইল।

আয়াতঃ ১১১⇒ ফেরওনের দলের প্রধান পুরুষেরা বলিল, “নিশ্চয় এ জ্ঞানী ঐন্দ্রজালিক।

আয়াতঃ ১১২⇒ সে ইচ্ছা করিতেছে যে, তোমাদিগকে তোমাদের দেশ হইতে তাড়িত করে।“ (ফেরওন বলিল) “অনন্তর তোমরা কি আদেশ করিতেছ?”

আয়াতঃ ১১৩⇒ তাহারা বলিল,  “তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে নিবৃত্ত রাখ, এবং নগর সকলে দূতগণ প্রেরন কর।

আয়াতঃ ১১৪⇒ তাহারা তোমার নিকটে প্রত্যেক জ্ঞানবান ঐন্দ্রজালিক লোককে উপস্থিত করিবে”।

আয়াতঃ ১১৫⇒ এবং ঐন্দ্রজালিকগণ ফেরওনের নিকটে আগমন করিয়া বলিল, “যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে নিশ্চয় আমাদের জন্য কোন পারিশ্রমিক আছে।“ সে বলিল, “হ্যাঁ তবে অবশ্য তোমরা আমার সান্নিধ্যবর্তীদের অন্তর্গত।“

আয়াতঃ ১১৬⇒ তাহারা বলিল, “হে মুসা, এই তুমি কি নিক্ষেপ করিবে, না আমরা নিক্ষেপকারী হইব?”

আয়াতঃ ১১৭⇒ সে বলিল, “তোমরা নিক্ষেপ কর,” অনন্তর যখন তাহারা নিক্ষেপ করিল, তখন লোকের চোক্ষে জাদু করিল ও তাহাদিগকে ভয় দেখাইল, এবং এক মহা ইন্দ্রজাল উপস্থিত করিল।

আয়াতঃ ১১৮⇒ এবং আমি মুসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম যে, স্বীয় যষ্টিকে তুমি নিক্ষেপ কর, অনন্তর তাহারা যে মায়া স্থাপন করিতেছিল, উহা অকস্মাৎ তাহা গিলিয়া ফেলিতে লাগিল।

আয়াতঃ ১১৯⇒ অবশেষে সত্য প্রমানিত হইল ও তাহারা যাহা করিতেছিল মিথ্যা হইল।

আয়াতঃ ১২০⇒ অনন্তর সেই স্থানে তাহারা পরাজিত হইল, এবং নিকৃষ্ট হইয়া ফিরিয়া গেল।

আয়াতঃ ১২১⇒ এবং ঐন্দ্রজালিকগণ প্রণত হইয়া পরিল।

আয়াতঃ ১২২+১২৩⇒ বলিল, “আমরা বিশ্বপালকের প্রতি ও মুসা-হারুনের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিলাম।“

আয়াতঃ ১২৪⇒ ফেরওন বলিল, “তোমাদিগকে আজ্ঞা প্রদানের পূর্বে তোমরা তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছ, নিশ্চয় ইহা প্রতারনা, এই নগরেতে তোমরা এই প্রবঞ্চনা করিয়াছ যে, তোমরা এ স্থান হইতে এ স্থানের অধীবাসীদিগকে বাহির করিবে, অতএব সত্বর তোমরা জানিতে পাইবে।

আয়াতঃ ১২৫⇒ অবশ্য আমি তোমাদের হস্ত ও তোমাদের পদ বিপরীতভাবে ছেদন করিব, তৎপর একযোগে অবশ্য তোমাদিগকে শূলে স্থাপন করিব”।

আয়াতঃ ১২৬⇒ তাহারা বলিল, নিশ্চয় আমরা  স্বীয় প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

আয়াতঃ ১২৭⇒ এবং আমরা যে স্বীয় প্রতিপালকের নিদর্শন সকলের প্রতি যখন তাহা আমাদের নিকট উপস্থিত হইয়াছে, বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, তুমি আমাদিগের প্রতিবন্ধক হইতেছ তাহা নহে, (উহার প্রতিদ্বন্দ্বী) হইতেছ; হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের প্রতি ধৈর্য স্থাপন কর ও আমাদিগকে মোসলমান (জীবনে) কালগ্রস্থ করিও।“

আয়াতঃ ১২৮⇒ এবং ফেরওনীয় সম্প্রদায়ের প্রধান লোকেরা বলিল, “তুমি কি মুসা ও তাহার দলকে দেশে উপদ্রব করিতে এবং তোমাকে ও তোমার উপাস্যদেবদিগকে ধ্বংস করিতে ছাড়িয়া দিতেছ?” সে বলিল, “এক্ষন আমরা তাহাদের সন্তানদিগকে বধ করিব ও নারীগণকে জীবিত রাখিব, এবং নিশ্চয় আমরা তাহাদের উপর পরাক্রান্ত”।

আয়াতঃ ১২৯⇒ মুসা আপন দলকে বলিল, “ঈশ্বরের নিকটে সাহায্য প্রার্থনা কর ও ধৈর্য ধারন কর,  নিশ্চয় পরমেশ্বরেরই পৃথিবী, তিনি আপন দাসদিগের যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে তাহার উত্তরাধিকারী করেন, এবং ধর্মভীরু লোকদিগের জন্যই (শুভ) পরিণাম”।

আয়াতঃ ১৩০⇒ তাহারা বলিল, “আমাদের নিকটে তোমার আগমনের পূর্বে ও আমাদের নিকটে তোমার আগমনের পর আমরা উতপীড়িত হইয়াছি।“ সে বলিল, “আশা আছে যে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রুকে বিনাশ করিয়া তোমাদিগকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করিবেন, অবশেষে দেখ, তোমরা কেমন আচরণ করিতেছ।“

আয়াতঃ ১৩১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি ফেরওনের দলকে দুর্ভিক্ষ দ্বারা ও ফল সকলের অপচয় দ্বারা আক্রান্ত করিলাম, তাহাতে যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

আয়াতঃ ১৩২⇒ অনন্তর যখন তাহাদিগের কল্যাণ উপস্থিত হইত, তাহারা বলিত, ইহা আমাদের জন্যই, এবং যদি অকল্যাণ তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইত, তবে তাহারা মুসা ও তাহার সঙ্গীদিগের উপর অকুশল আরোপ করিত; জানিও তাহাদের অকুশলারোপ ঈশ্বরের নিকটে, তদ্ভিন্ন নহে; কিন্তু তাহাদের অধিকাংশেই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১৩৩⇒ এবং তাহারা বলিল, “তুমি নিদর্শন সকলের যে কিছু আমাদের নিকটে উপস্থিত করিবে যে, তদ্দারা আমাদিগকে মুগ্ধ করিবে, কিন্তু আমরা তোমার সম্বন্ধে বিশ্বাসকারী নহি।“

আয়াতঃ ১৩৪⇒ অনন্তর আমি তাহাদিগের প্রতি ঝটিকা, পঙ্গপাল ও শলভ মণ্ডূক এবং রক্ত (এই) ভিন্ন ভিন্ন নিদর্শন সকল প্রেরন করিলাম, পরে তাহারা অহংকার করিল, এবং তাহারা অপরাধী দল ছিল।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ এবং যখন তাহাদের উপর শাস্তি উপস্থিত হইল, তখন তাহারা বলিল, “হে মুসা, (ঈশ্বর) তোমার নিকটে যাহা অঙ্গীকার করিয়াছেন তদ্বিষয়ে আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকটে প্রার্থনা কর, যদি তুমি আমাদিগ হইতে শাস্তিকে উন্মোচন কর, তবে অবশ্য আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসী হইব, এবং অবশ্য তোমার সঙ্গে এস্রায়েলসন্ততিগণকে প্রেরন করিব”।

আয়াতঃ ১৩৬⇒ অনন্তর যখন আমি তাহাদিগ হইতে সেই শাস্তি কিছুকাল পর্যন্ত যে তাহারা তাহা প্রাপ্ত হইতেছিল উন্মোচন করিলাম, তখন অকস্মাৎ তাহারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করিল।

আয়াতঃ ১৩৭⇒ অবশেষে আমি তাহাদিগ হইতে প্রতিশোধ লইলাম, পরে তাহাদিগকে সমুদ্রে নিমগ্ন করিলাম, যেহেতু তাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল ও তাহারা তৎপ্রতি উদাসীন ছিল।

আয়াতঃ ১৩৮⇒ এবং পৃথিবীর পূর্ব দিকের ও তাহার পশ্চিম দিকের যে স্থানে আমি সমুন্নতি বিধান করিয়াছি, যাহারা দুর্বল বলিয়া পরিগণিত ছিল সেই দলকে তাহার উত্তরাধিকারী করিয়াছি, এস্রায়েলসন্ততিগণের সম্বন্ধে তাহারা যে ধৈর্য ধারন করিয়াছিল তন্নিমিত্ত (হে মোহাম্মদ) তোমার প্রতিপালকের শুভ বাক্য পূর্ণ হইয়াছে, এবং ফেরওন ও তাহার দল যাহা করিতেছিল ও যাহা উঠাইতেছিল, আমি তাহা বিনষ্ট করিয়াছি।

আয়াতঃ ১৩৯⇒ এবং আমি এস্রায়েলসন্তানগণকে সাগর পাড় করাইয়াছিলাম, পরে আপন পুত্তলিকাদিগের সঙ্গে সহবাস করিতেছিল, এম্ন এক জাতির নিকটে তাহারা উপস্থিত হইল, বলিল, “হে মুসা, ইহাদিগের যেমন ঈশ্বর সকল আছে, তুমি আমাদিগের জন্য এরুপ এক ঈশ্বর প্রস্তুত কর;” সে বলিল, “নিশ্চয় তোমরা (এমন) একদল  যে মূর্খতা করিতেছ।

আয়াতঃ ১৪০⇒ নিশ্চয় এই সকল লোক, ইহারা যাহাতে স্থীত তাহা অলীক, এবং যাহা করিতেছে তাহা মিথ্যা”।

আয়াতঃ ১৪১⇒ সে বলিল, “আমি ঈশ্বরকে ছাড়িয়া কি তোমাদের উপাস্যকে অন্বেষণ করিব? বস্তুতঃ তিনি সমুদায় জগতের উপরে তোমাদিগকে শ্রেষ্ঠতা দান করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৪২⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তিনি তোমাদিগকে ফেরওনীয় লোক হইতে উদ্ধার করিয়াছিলেন; তাহারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি পহুঁছাইতেছিল, তোমাদের পুত্রসন্তানগণকে হত্যা করিতেছিল ও তোমাদের কন্যাদিগকে জীবিত রাখিয়াছিল, এবিষয়ে তোমাদের প্রতিপালক হইতে কঠিন পরীক্ষা ছিল।“

আয়াতঃ ১৪৩⇒ এবং আমি মুসার সঙ্গে ত্রিংশৎ রজনীর অঙ্গীকার করিয়াছিলাম, এবং দশ দিন সহ তাহা পূর্ণ করিয়াছিলাম, পরে তাহার প্রতিপালকের চত্বারিংশৎ রজনীর অঙ্গীকার পূর্ণ হইয়াছিল, এবং মুসা আপন ভ্রাতা হারুনকে বলিয়াছিল, “আমার দলে তুমি আমার স্থলাভিষিক্ত হও ও সদনুষ্ঠান কর, অত্যাচারীদিগের পথের অনুসরণ করিও না।

আয়াতঃ ১৪৪⇒ এবং যখন মুসা আমার নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হইল ও তাহার প্রতিপালক তাহার সঙ্গে কথা কহিলেন, সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দেখা দেও, আমি তোমার প্রতি দৃষ্টি করি;” তিনি বলিলেন, “তুমি আমাকে কখনো দেখিবে না, কিন্তু পর্বতের দিকে দৃষ্টি কর, পরে যদি সে স্বস্থানে স্থিতি করে, তবে সত্বর তুমি আমাকে দেখিবে;” অনন্তর যখন সেই পর্বতের দিকে তাহার প্রতিপালক প্রকাশিত হইল, তখন তাহাকে চূর্ণ করা হইল, এবং মুসা অচৈতন্য ভাবে পরিল, অবশেষে যখন সংজ্ঞা লাভ করিল, বলিল, “পবিত্রতা তোমার (হে ঈশ্বর), আমি তোমার নিকটে প্রত্যাগমন করিতেছি, এবং আমি বিশবাসীদিগের প্রথম”।

আয়াতঃ ১৪৫⇒ তিনি বলিলেন, “হে মুসা, সত্যই আমি মানব জাতির প্রতি স্বীয় সংবাদ প্রেরন ও স্বীয় বাক্য (কথনে) তোমাকে স্বীকার করিয়াছি, অতএব আমি যাহা তোমাকে দান করিলাম, তাহা গ্রহণ কর, এবং কৃতজ্ঞদিগের অন্তর্গত হও”।

আয়াতঃ ১৪৬⇒ এবং আমি সকল বিষয়ের উপদেশ ও সকল বিষয়ের বর্ণনা তাহার জন্য পট্টকে লিপি করিলাম, পরে (বলিয়াছিলাম) তাহা সবলে ধারন কর, এবং আপন দলকে আদেশ কর, যেন তাহার উৎকৃষ্ট সকলকে গ্রহণ করে, সত্বর আমি তোমাদিগকে দুর্বৃত্ত লোকদিগের আলয় প্রদর্শন করিব।

আয়াতঃ ১৪৭⇒ যাহারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করে, সত্বর আমি তাহাদিগকে আপন নিদর্শনাবলী হইতে নিবৃত্ত রাখিব, এবং যদি তাহারা সমুদায় নিদর্শন দর্শন করে, তাহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিবে না, এবং যদি তাহারা প্রকৃত পথ দর্শন করে, তাহাকে পন্থারুপে গ্রহণ করিবে না, যদি তাহারা ভ্রান্তির পথ দর্শন করে, তাহাকে পন্থারুপে গ্রহণ করিবে; ইহা এজন্য যে, তাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ও তৎপ্রতি উদাসীন হইয়াছে।

আয়াতঃ ১৪৮⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি ও পারলৌকিক সম্মিলনের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, তাহাদের ক্রিয়া সকল বিনষ্ট হইবে, তাহারা যাহা করিতেছিল, তাহার বিনিময় ব্যতীত দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ১৪৯⇒ এবং মুসার দল, সে চলিয়া গেলে পর আপন আভরণ দ্বারা গোবৎস মূর্তি নির্মাণ করিল, তাহার শব্দ ছিল; তাহারা কি দেখে নাই যে,  নিশ্চয় সে তাহাদের সঙ্গে কথা কহে না ও তাহাদিগকে কোন পথ প্রদর্শন করে না; তাহাকে গ্রহণ করিল ও তাহারা অত্যাচারী ছিল।

আয়াতঃ ১৫০⇒ এবং যখন তাহারা আপন হস্তে অনুতপ্ত হইল এবং দেখিল যে, নিশ্চয় তাহারা বিপথগামী হইয়াছে, তখন বলিল, “যদি আমাদের প্রতিপালক আমাদিগকে দয়া ও আমাদিগকে ক্ষমা না করেন তবে অবশ্য আমরা ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হই”।

আয়াতঃ ১৫১⇒ যখন মুসা আপন দলের নিকটে ক্রুদ্ধ ও শোকার্তভাবে ফিরিয়া আসিল, তখন বলিল, “আমার অন্তে তোমরা যাহাকে স্থলাভিষিক্ত করিয়াছ, তাহা কদর্য, তোমরা কি আপন প্রতিপালকের আজ্ঞার সম্বন্ধে সত্বর হইলে”? এবং সে সেই পট্টক সকল নিক্ষেপ করিল, এবং স্বীয় ভ্রাতার মস্তক গ্রহণ করিল, তাহাকে আপনার দিকে টানিতে লাগিল, সে (হারুন) বলিল, “হে আমার মাতৃনন্দন, নিশ্চয় এই দল আমাকে দুর্বল মনে করিয়াছে, এবং আমাদের বধ করিতে উদ্যত হইয়াছিল। অনন্তর আমাদ্দারা তুমি শত্রুকে সন্তুষ্ট করিও না, এবং আমাকে অত্যাচারীদিগের দলভুক্ত করিও না।“

আয়াতঃ ১৫২⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ও আমার ভ্রাতাকে ক্ষমা কর, এবং আপন দয়ার মধ্যে আমাদিগকে প্রবিষ্ট কর, তুমি দয়ালুদিগের মধ্যে পরম দয়ালু”।

আয়াতঃ ১৫৩⇒ নিশ্চয় যাহারা গোবৎসকে (উপাস্যদেবরুপে) গ্রহণ করিয়াছে তাহাদের প্রতিপালক হইতে অবশ্য তাহাদের জন্য আক্রোশ পহুঁছিবে, এবং সাংসারিক জীবনে দুর্গতি হইবে, এইরুপে আমি অপলাপকারীদিগকে প্রতিফল দান করি।

আয়াতঃ ১৫৪⇒ এবং যাহারা দুষ্কর্ম করিয়াছে, অবশেষে তাহার পর অনুতাপ করিয়াছে, এবং বিশ্বাসী হইয়াছে, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক (হে মোহাম্ম) তাহার পর ক্ষমাশীল ও দয়ালু হন।

আয়াতঃ ১৫৫⇒ এবং যখন মুসার ক্রোধের শান্তি হইল, সে পট্টক সকল গ্রহণ করিল, তাহার লিপির মধ্যে উপদেশ ছিল, এবং যাহারা আপন প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের জন্য দয়া ছিল।

আয়াতঃ ১৫৬⇒ এবং মুসা আপন দল হইতে সত্তর জন পুরুষকে আমার অঙ্গীকারের জন্য মনোনীত করিল; অনন্তর যখন তাহাদিগকে কম্প আক্রমণ করিল, সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, যদি তুমি ইহাদিগকে ও আমাকে ইতিপূর্বে হত্যা করিতে ইচ্ছা করিতে (ভাল ছিল) আমাদের নির্বোধ লোকেরা যাহা করিয়াছে, তজ্জন্য কি আমাদিগকে তুমি বধ করিতেছ? ইহা তোমার পরীক্ষা ভিন্ন নহে; এতদ্দারা তুমি যাহাকে ইচ্ছা হয়, বিভ্রান্ত কর, এবং যাহাকে ইচ্ছা হয় পথ প্রদর্শন করিয়া থাক; তুমি আমাদিগের বন্ধু, অতএব আমাদিগকে ক্ষমা কর ও আমাদিগকে দয়া কর, এবং তুমি ক্ষমাশীলদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ১৫৭⇒ এবং আমাদের জন্য তুমি ইহলোকে ও পরলোকে কল্যাণ লিপি কর, নিশয় আমরা তোমার দিকে ফিরিয়া আসিয়াছি।“ তিনি বলিলেন, “আমার শাস্তি আমি যাহাকে ইচ্ছা হয় পহুঁছাইয়া থাকি, এবং আমার দয়া সমুদায় বস্তুকে ঘেরিয়া রহিয়াছে। অনন্তর আমি যাহারা ধর্মভীরু হয় ও জকাত দান করে, এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাহাদের জন্য তাহা (সেই দয়া) অবশ্য লিখিব।

আয়াতঃ ১৫৮⇒ যাহারা সুসংবাদদাতা অশিক্ষিত প্রেরিতপুরুষের অনুসরণ করে, তাহারা আপনাদের নিকটে তওরাত ও ইঞ্জিলে যাহা লিপিবদ্ধ আছে, তাহাই (হযরতের বর্ণনা) প্রাপ্ত হয়। সে তাহাদিগকে বৈধ বিষয়ে আদেশ করে, অবৈধ বিষয় হইতে নিবৃত্ত করে ও তাহাদের জন্য শুদ্ধ বস্তু বৈধ এবং তাহাদের সম্বন্ধে অশুদ্ধ বস্তু অবৈধ করে, অপিচ তাহাদের ভার ও গলাবন্ধন যাহা তাহাদের উপরে আছে, তাহাদিগ হইতে দূর করে, অতএব যাহারা তাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাহাকে সম্মান করে ও তাহাকে সাহায্য দান করে, এবং যাহা তাহার সঙ্গে অবতারিত হইয়াছে, সেই জ্যোতির অনুসরণ করে, ইহারাই তাহারা যে মুক্তি পাইবে।

আয়াতঃ ১৫৯⇒ তুমি বল, হে লোক সকল, স্বর্গ ও পৃথিবী যাঁহার রাজত্ব, সত্যই আমি তোমাদের সকলের নিকটে সেই ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত, তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি প্রান দান ও প্রান হরণ করেন, অতএব তোমরা ঈশ্বরের প্রতি তাঁহার সেই অশিক্ষিত তত্ত্ববাহক প্রেরিতপুরুষের প্রতি যে ঈশ্বরের প্রতি ও তাঁহার বাক্যের প্রতি বিশ্বাস করিতেছে, বিশ্বাস স্থাপন কর ও তাঁহার অনুসরণ কর, তাহাতে তোমরা পথ প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৬০⇒ মুসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এক দল আছে যে, তাহারা সত্যভাবে পথ দেখাইয়া থাকে, তৎসহ বিচার করে।

আয়াতঃ ১৬১⇒ এবং আমি তাহাদিগকে দ্বাদশ বংশ ও দলে বিভক্ত করিয়াছিলাম, এবং আমি মুসার প্রতি যখন তাঁহার নিকটে তাঁহার দল জল প্রার্থনা করিয়াছিল, প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম যে, তুমি প্রস্তরকে স্বীয় দন্ড দ্বারা আঘাত কর। অনন্তর তাহা হইতে দ্বাদশ প্রস্রবন নিঃসৃত হইল, নিশ্চয় প্রত্যেক ব্যক্তি আপনাদের জলাশয় চিনিয়া লইল, এবং তাহাদের উপর আমি বারিবাহকে চন্দ্রাতপ করিয়াছিলাম ও তাহাদের প্রতি মান্না সলওয়াকে অবতারন করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) আমিন যে শুদ্ধবস্তু জীবিকারুপে তোমাদিগকে দান করিলাম, তাহা ভক্ষন কর; তাহারা আমার প্রতি অত্যাচার করে নাই, কিন্তু আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিতেছিল।

আয়াতঃ ১৬২⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তাহাদিগকে বলা হইল যে, এ গ্রামেতে বাস কর ও ইহার যথা ইচ্ছা তোমরা ভক্ষন কর ও বল পাপ নিবৃত্ত হইল, এবং প্রনাম করিতে করিতে দ্বারে প্রবেশ কর, আমি তোমাদের অপরাধ তোমাদের জন্য ক্ষমা করিব, অবশ্য আমি হীতকারীদিগকে অধিক দান করিব।

আয়াতঃ ১৬৩⇒ অনন্তর তাহাদিগের মধ্যে যাহারা অত্যাচার করিয়াছিল, তাহাদের সম্বন্ধে যাহা বলা হয় নাই, তাহারা এরুপ কথার পরিবর্তন করিল, অবশেষে তাহারা যে অত্যাচার করিতেছিল, তজ্জন্য আমি স্বর্গ হইতে তাহাদিগের উপর শাস্তি প্রেরন করিলাম।

আয়াতঃ ১৬৪⇒ এবং তুমি (হে মোহাম্মদ) সেই গ্রামের বিষয়ে যাহা সাগরকূলে ছিল, তাহাদিগকে প্রশ্ন কর, যখন তাহারা শনিবাসরে সীমা লঙ্ঘন করিত, যেদিন তাহাদের শনিবাসর, তখন তাহাদের মৎস্য সকল প্রকাশ্যভাবে তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইত; এবং যেদিন তাহারা শনিবাসর করিত না, তাহাদের নিকটে আসিত না, এইরুপ তাহারা দুষ্কর্ম করিতেছিল বলিয়া আমি তাহাদিগকে পরীক্ষা করিতেছিলাম।

আয়াতঃ ১৬৫⇒ এবং যখন তাহাদিগের একদল বলিল, “কেন তোমরা সেই দলকে উপদেশ দিতেছ? ঈশ্বর তাহাদিগের বিনাশকারী, অথবা তিনি তাহাদিগের কঠিন দন্ডের দন্ডদাতা;” তাহারা বলিল, “তোমাদের প্রতিপালকের নিকটে মিনতি করিবার জন্য (এই উপদেশ) ভরসা যে, তাহারা ধর্মভীরু হইবে।

আয়াতঃ ১৬৬⇒ অনন্তর যখন যে বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হইয়াছিল, তাহারা তাহা বিস্মৃত হইল, যাহারা দুষ্কর্ম হইতে নিবারন করিতেছিল, তাহাদিগকে আমি মুক্তিদান করিলাম, এবং যাহারা অত্যাচার করিয়াছিল, তাহাদিগকে কঠিন শাস্তি দ্বারা আক্রমণ করিলাম, যেহেতু তাহারা কুকর্ম করিতেছিল।

আয়াতঃ ১৬৭⇒ পরে যখন তাহারা যে বিষয়ে নিষেধ প্রাপ্ত হইয়াছিল, সে বিষয়ের (পরিত্যাগে) অবাধ্যতা করিল, তখন আমি তাহাদিগকে বলিলাম, “তোমরা জঘন্য মর্কট হইয়া যাও।

আয়াতঃ ১৬৮⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক জ্ঞাপন করিলেন যে, অবশ্য তাহাদের উপরে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত কোন এক ব্যক্তিকে প্রেরন করিবেন, যেন তাহাদিগকে কঠিন শাস্তি অর্পণ করে, নিশ্চয় তোমার ঈশ্বর সত্বর শাস্তিদাতা; এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী ও দয়াশীল।

আয়াতঃ ১৬৯⇒ এবং আমি ধরাতলে তাহাদিগকে বহু দলে বিভক্ত করিয়াছি, তাহাদিগের (কতক লোক) সাধু ও তাহাদের কতক লোক এতদ্ভিন্ন, এবং তাহাদিগকে আমি শুভাশুভ দ্বারা পরীক্ষা করিয়াছি, যেন তাহারা ফিরিয়া আইসে।

আয়াতঃ ১৭০⇒ অনন্তর তাহাদিগের অন্তে স্থলবর্তী (অর্থাৎ) স্থলাভিষিক্ত হইল, গ্রন্থের স্বত্ব লাভ করিল, তাহারা এই নিকৃষ্ট জীবনের সামগ্রী গ্রহণ করিতেছে, এবং বলিতেছে যে, আমাদের জন্য অবশ্য ক্ষমা আছে, এবং যদি তাহাদের নিকট তৎসদৃশ সামগ্রী উপস্থিত হয়, তাহারা তাহা গ্রহণ করে, তাহাদের প্রতি কি গ্রন্থের অঙ্গীকার গৃহীত হয় নাই যে, ঈশ্বরের সম্বন্ধে সত্য ভিন্ন বলিবে না? তাহাতে যাহা আছে, তাহারা পাঠ করিয়াছে, এবং  ধর্মভীরুদিগের জন্য পারলৌকিক আলয় উৎকৃষ্ট, পরন্তু তাহা কি বুঝিতেছে না?

আয়াতঃ ১৭১⇒ এবং যাহারা গ্রন্থ অবলম্বন করে ও উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখিয়াছে, নিশ্চয় আমি সেই সাধুদিগের পুরস্কার বিনষ্ট করি না।

আয়াতঃ ১৭২⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি তাহাদিগের উপরে পর্বত উঠাইয়াছিলাম, যেন তাহা চন্দ্রাতপ ছিল ও তাহারা মনে করিয়াছিল যে, নিশ্চয় তাহা তাহাদের উপর পতিত হইবে, (আমি বলিয়াছিলাম) তোমাদিগকে যাহা দান করিতেছি, দৃঢ়তাসহকারে গ্রহণ কর, এবং যাহা উহাতে আছে, স্মরণ কর, ভরসা যে রক্ষা পাইবে।

আয়াতঃ ১৭৩⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক আদমের সন্তানগণ হইতে তাহাদের ঔরসজাত, তাহাদের সন্তানগণকে গ্রহণ করিলেন ও তাহাদের জীবন সম্বন্ধে তাহাদিগকে সাক্ষী করিলেন যে, “আমি কি তোমাদিগের প্রতিপালক নহি?” তাহারা বলিল, “সত্য, আমরা সাক্ষী হইলাম;” (ইহা এজন্য) যেন কেয়ামতের দিনে তোমরা না বল যে, “নিশ্চয় আমরা এবিষয়ে উদাসীন ছিলাম।“

আয়াতঃ ১৭৪⇒ অথবা বল যে, “পূর্ব হইতে আমাদের পিতৃপুরুষগণ অংশী স্থাপন করিয়াছেন, তদ্ভিন্ন নহে, এবং আমরা তাহাদের পশ্চাৎবর্তী সন্তান হই, অনন্তর ভ্রষ্টাচারীগন যাহা করিয়াছে, তজ্জন্য কি তুমি আমাদিগকে বিনাশ করিতেছ?”

আয়াতঃ ১৭৫⇒ এবং এই প্রকার আমি নিদর্শন সকল ব্যক্ত করি, এবং ভরসা যে, তাহারা ফিরিয়া আসিবে।

আয়াতঃ ১৭৬⇒ এবং যাহাকে আমি স্বীয় নিদর্শন সকল প্রদান করিয়াছিলাম, পরে তাহা হইতে যে সে বহির্গত হইল, অবশেষে শয়তান তাহার অনুসরণ করিল, পশ্চাৎ পথভ্রান্তদিগের অন্তর্গত হইল, তাহার বৃত্তান্ত তুমি ইহাদের নিকটে পাঠ কর।

আয়াতঃ ১৭৭⇒ এবং আমি যদি ইচ্ছা করিতাম, অবশ্য তাহাকে উহার সঙ্গে উন্নত করিতাম, কিন্তু সে নিন্মদিকে ঝুঁকিয়া পরিল, এবং আপন ইচ্ছা অনুসরণ করিল, অতএব তাহার অবস্থা কুকুরের অবস্থার ন্যায়, যদি তাহার উপরে ভারার্পণ কর, সে লোলজিহব হইবে, কিংবা যদি তাহাকে ছাড়িয়া দেও, সে লোলজিহব হইবে, যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, সেই দলের এই অবস্থা হয়; অনন্তর তুমি এই ইতিহাস বর্ণন কর, তাহাতে তাহারা চিন্তা করিবে।

আয়াতঃ ১৭৮⇒ যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ও আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিতেছে, সেই দল দুরবস্থাপন্ন।

আয়াতঃ ১৭৯⇒ ঈশ্বর যাহাকে পথ প্রদর্শন করেন, সে পরে পথপ্রাপ্ত হয় এবং তিনি যাহাদিগকে বিভ্রান্ত করেন, অনন্তর ইহারা তাহারাই যে ক্ষতিপগ্রস্থ।

আয়াতঃ ১৮০⇒ এবং সত্য সত্যই আমি দানব ও মানবের অধিক সংখ্যককে নরকের জন্য সৃষ্টি করিয়াছি, তাহাদের জন্য অন্তঃকরন আছে, তদ্দারা তাহা বুঝিতে পারে না, তাহাদের জন্য চক্ষু আছে, তদ্দারা দর্শন করিতে পায় না, তাহাদের জন্য কর্ণ আছে, তদ্দারা তাহা শুনিতে পায় না, তাহারা চতুষ্পদ সদৃশ, বরং তাহারা পথভ্রান্ত, ইহারাই তাহারা যে উপেক্ষাকারী।

আয়াতঃ ১৮১⇒ এবং ঈশ্বরের জন্য উত্তম নাম সকল আছে, তোমরা তৎসহকারে তাঁহাকে আহ্বান কর, এবং যাহারা তাঁহার নামেতে কুটিলতা করে, তাহাদিগকে পরিত্যাগ করে, তাহারা যাহা করিতেছে, অবশ্য তদ্বিনিময় প্রদত্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৮২⇒ এবং তাহাদের মধ্য হইতে একদল আমি সৃষ্টি করিয়াছি যে, সত্যসহকারে তাহারা পথ প্রদর্শন করে ও তৎসাহায্যে বিচার করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১৮৩⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, অবশ্য আমি তাহাদিগকে তাহারা যে স্থান দিয়া জানিতে পায় না ক্রমশঃ (বিপথে) আকর্ষণ করিব।

আয়াতঃ ১৮৪⇒ এবং তাহাদিগকে অবকাশ দিব নিশ্চয় আমার চতুরতা দৃঢ়।

আয়াতঃ ১৮৫⇒ তাহারা কি চিন্তা করে না যে, তাহাদের সঙ্গীর জন্য কোন ক্ষিপ্ততা নয়, সে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শক ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১৮৬⇒ স্বর্গ-মর্তের রাজত্বের প্রতি এবং সেই পদার্থ যাহা ঈশ্বর সৃজন করিয়াছেন তৎপ্রতি, এবং নিশ্চয় যে তাহাদের কাল নিকটবর্তী হইল তৎপ্রতি, কি তাহারা দৃষ্টি করে না? অবশেষে ইহার (কোরআনের) পরে কোন বাক্যে তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিবে?

আয়াতঃ ১৮৭⇒ ঈশ্বর যাহাকে পথভ্রান্ত করেন, পরে তাহার জন্য পথপ্রদর্শক নাই, তিনি তাহাদিগকে আপন অবাধ্যতায় ঘূর্ণায়মান হইতে ছাড়িয়া দেয়।

আয়াতঃ ১৮৮⇒ তাহারা তোমাকে কেয়ামতের বিষয় জিজ্ঞাসা করিতেছে যে, তাহা সঙ্ঘটনের কখন সময়? বল, তাহার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকটে, তদ্ভিন্ন নহে, তিনি ভিন্ন যথাসময়ে কেহ তাঁহাকে প্রকাশিত করিবে না; স্বর্গে ও মর্তে তাহা গুরুভার তাহা অকস্মাৎ বৈ তোমাদের নিকটে আসিবে না; তাহারা তোমাকে প্রশ্ন করিতেছে, যেন তুমি তদ্বিষয়ে বিতর্ককারী, তুমি বল যে, তাহার জ্ঞান ঈশ্বরের নিকটে, তদ্ভিন্ন নহে, কিন্তু অধিকাংশ লোক বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১৮৯⇒ বল, ঈশ্বর যাহা চাহেন, তদ্ভিন্ন আমি আপনার জন্য হইত ও অহিত করিতে সুক্ষম নহি, এবং যদি আমি গুপ্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখিতাম, তবে অবশ্য বহুকল্যাণ লাভ করিতাম, এবং আমার প্রতি কোন অমঙ্গল উপস্থিত হইত না, আমি বিশ্বাসী দলের জন্য ভয়প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা বৈ নহি।

আয়াতঃ ১৯০⇒ তিনিই যিনি তোমাদিগকে এক ব্যক্তি হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন, তাহা হইতে তাহার স্ত্রী উৎপাদন করিয়াছেন, যেন সে তাহাতে আরাম প্রাপ্ত হয়; অনন্তর যখন সে তাহাকে সঙ্গম করিল , সে লঘুতর গর্ভে গর্ভবতী হইল, পরে তাহার (স্বামীর) সঙ্গে চলিয়া গেল, অবশেষে যখন গুরুভারাক্রান্ত হইল, তখন উভয়ে আপন প্রতিপালক পরমেশ্বরের নিকটে প্রার্থনা করিল যে, যদি আমাদিগকে তুমি (সাধু) পুত্র দান কর, তবে অবশ্য আমরা কৃতজ্ঞদিগের অন্তর্গত হইব।

আয়াতঃ ১৯১⇒ অনন্তর যখন তিনি তাহাদের উভয়কে সাধু (পুত্র) দান করিলেন, যাহা তাহাদিগকে দেওয়া হইয়াছিল , তদ্বিষয়ে তাহার জন্য তাহারা অংশী নির্ধারণ করিল, পরন্তু যাহাকে তাহারা অংশী স্থাপন করিয়া থাকে, তাহা হইতে ঈশ্বর সমুন্নত।

আয়াতঃ ১৯২⇒ যে কোন বস্তু সৃজন করিতে পারে না, এবং স্বয়ং সৃষ্ট, তাহাকে তাহারা কি অংশী করিতেছে? এবং তাহারা (সেই অংশীগণ) তাহাদিগকে সাহায্য করিতে সুক্ষম নহে ও আত্মজীবনকেও সাহায্য করিতে পারে না।

আয়াতঃ ১৯৩⇒ এবং যদি তোমরা তাহাদিগকে সৎপথের দিকে আহ্বান কর, তাহারা তোমাদের অনুসরণ করিবে না, তাহাদিগকে তোমরা আহ্বান কর, অথবা নীরব থাক, তোমাদের সম্বন্ধে তুল্য।

আয়াতঃ ১৯৪⇒ নিশ্চয় তোমরা ঈশ্বর ব্যতীত যাহাদিগকে আহ্বান কর, তাহারা তোমাদের ন্যায় ভৃত্য; ভাল, তাহাদিগকে আহ্বান কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদিগকে উত্তর দান করা তাহাদের উচিত।

আয়াতঃ ১৯৫⇒ তাহাদের কি পদ আছে যে, তদ্দারা গমন করে, অথবা তাহাদের হস্ত আছে যে, তদ্দারা গ্রহণ করে; কিংবা তাহাদের চক্ষু আছে যে, তদ্দারা দর্শন করে বা তাহাদের কর্ণ আছে যে, তদ্দারা শ্রবন করে? তুমি বল (হে মোহাম্মদ) তোমরা স্বীয় অংশী (প্রতিমা)- দিগকে আহ্বান কর, তৎপর আমার সঙ্গে প্রতারনা করিও, অবশেষে আমাকে অবকাশ দিও না।

আয়াতঃ ১৯৬⇒ যিনি গ্রন্থ অবতারন করিয়াছেন, নিশ্চয় আমার সহায়  সেই ঈশ্বর, এবং তিনি সাধুদিগকে প্রীতি করেন।

আয়াতঃ ১৯৭⇒ এবং ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে তোমরা আহ্বান করিয়া থাক, তাহারা তোমাদিগকে সাহায্য করিতে সুক্ষম নহে, এবং নিজের জীবনকেও সাহায্য করিতে পারে না।

আয়াতঃ ১৯৮⇒ এবং যদি তোমরা তাহাদিগকে সৎপথে আহ্বান কর, তাহাতে শুনিবে ও তুমি (হে দর্শক) তাহাদিগকে দেখিতেছ যে, তোমার প্রতি দৃষ্টি করিতেছে, বস্তুতঃ তাহারা দেখিতেছে না।

আয়াতঃ ১৯৯⇒ ক্ষমাকে স্বীকার কর, এবং বৈধ বিষয়ে আদেশ কর, অজ্ঞানিগণ হইতে বিমুখ হও।

আয়াতঃ ২০০⇒ যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি ঈশ্বরের স্মরণ লইও, নিশ্চয় তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২০১⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মভীরু হয়, যখন তাহাদিগকে শয়তানের প্ররোচনা অভিভূত করে, তখন তাহারা (ঈশ্বরকে) স্মরণ করিয়া থাকে, পরে তাহারা আকস্মাৎ চক্ষুষ্মান হয়।

আয়াতঃ ২০২⇒ এবং তাহাদের ভ্রাতৃগণ তাহাদিগকে বিপথে আকর্ষণ করে, তৎপর তাহারা ক্ষান্ত হয় না।

আয়াতঃ ২০৩⇒ এবং যখন (হে মোহাম্মদ) তাহাদের নিকটে কোন নিদর্শন উপস্থিত না কর, তাহারা বলে, “কেন তুমি তাহা আনয়ন করিলে না?” তুমি বল, আমার প্রতি আমার প্রতিপালক হইতে যাহা প্রত্যাদেশ হয়, আমি তাহার অনুসরণ করি, তদ্ভিন্ন নহে; তোমাদের প্রতিপালক হইতে ইহা (কোরআন) প্রমানপুঞ্জস্বরূপ (অবতীর্ণ) এবং বিশ্বাসীগণের জন্য দয়া ও পথ প্রদর্শন হয়।

আয়াতঃ ২০৪⇒ এবং যখন কোরআন পাঠ হয়, তখন তোমরা তাহা শ্রবন করিও, এবং নীরব থাকিও, ভরসা যে, তোমরা দয়া প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ২০৫⇒ এবং তুমি আপন অন্তরে স্বীয় প্রতিপালককে শঙ্কিত ও কাতরভাবে স্মরণ কর ও অনুচ্চবাক্যে প্রাতঃসন্ধ্যা (স্মরণ কর) এবং উপেক্ষাকারীদের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ ২০৬⇒ নিশ্চয় যাহারা তোমার প্রতিপালকের নিকটে আছে, তাহারা তাহার উপাসনায় অহংকার করে না, তাঁহাকে পবিত্রভাবে স্মরণ করে ও তাঁহাকে নমস্কার করে।