সূরাঃ এব্রাহিম

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১+০২⇒ এই গ্রন্থ, ইহাকে আমি তোমার প্রতি অবতারণ করিয়াছি যেন তুমি মানবমণ্ডলীকে অন্ধকার হইতে জ্যোতির দিকে, তাহাদের প্রতিপালকের আজ্ঞাক্রমে স্বর্গে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে যাঁহারই, সেই প্রশংসিত গৌরবান্বিত ঈশ্বরের পথের দিকে বাহির কর, গুরুতর শাস্তিবশতঃ কাফেরদিগের জন্য আক্ষেপ।

আয়াতঃ ০৩⇒ যাহারা পারলৌকিক জীবন অপেক্ষা পার্থিব জীবনকে প্রেম করে, এবং ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবারন করে ও তৎপ্রতি কুটিলতা অন্বেষণ করে তাহারা দূরতর পথভ্রান্তির মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং আমি কোন প্রেরিতপুরুষকে স্বজাতীয় ভাষায় তাহাদের নিমিত্ত প্রচার করিতে ভিন্ন প্রেরণ করি নাই, অনন্তর ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় বিভ্রান্ত করেন ও যাহাকে ইচ্ছা হয় পথ-প্রদর্শন করিয়া থাকেন, তিনি পরাক্রান্ত ও নিপুন।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি স্বীয় নিদর্শনসহ মুসাকে প্রেরণ করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) যে স্বজাতিকে অন্ধকার হইতে জ্যোতির দিকে বাহির কর, এবং ঐশ্বরিক দিবস সম্বন্ধে তাহাদিগকে উপদেশ দাও, নিশ্চয় তাহাতে প্রত্যেক সহিষ্ণু ও কৃতজ্ঞ লোকদিগের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ০৬⇒ (স্মরণ কর) যখন মুসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বলিল, “তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের সেই দান স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদিগকে ফেরওনের স্বগণ হইতে উদ্ধার করিলেন, তাহারা তোমাদের প্রতি কুৎসিত শাস্তি প্রয়োগ করিতেছিল ও তোমাদের পুত্রদিগকে বধ করিতেছিল, এবং তোমাদের কন্যাদিগকে জীবিত রাখিতেছিল, এবং ইহার মধ্যে তোমাদের প্রতিপালক হইতে মহা পরীক্ষা ছিল।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক জ্ঞাপন করিয়াছিলেন যে, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও তবে অবশ্য তোমাদিগকে অধিক দিব, এবং যদি তোমরা বিদ্রোহীতা কর তবে নিশ্চয় আমার শাস্তি কঠিন”।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং মুসা বলিয়াছিল যে, “যদি তোমরা ধর্মদ্রোহী হও ও যাহারা পৃথিবীতে আছে তাহারা সকলে (ধর্মদ্রোহী হয়) তথাপি নিশ্চয় ঈশ্বর প্রশংসিত, নিশ্চিন্ত।

আয়াতঃ ০৯⇒ নুহীয় ও আদীয় সমুদীয় সম্প্রদায়ের যাহারা তোমাদের পূর্বে ছিল, এবং তাহাদের পরে যাহারা ছিল তাহাদের সংবাদ কি তোমাদিগের নিকটে উপস্থিত হয় নাই? পরমেশ্বর ব্যতীত (কেহ) তাহাদিগকে জানে না, তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রেরিতপুরুষগণ প্রমান সকলসহ উপস্থিত হইয়াছিল, পরে তাহারা (ক্রোধ বা বিস্ময়বশত) স্ব-স্ব মুখে স্ব-স্ব হস্ত অর্পণ করিয়াছিল, এবং বলিয়াছিল যে, “নিশ্চয় তোমরা যৎসহ প্রেরিত হইয়াছ আমরা তাহার বিরোধী, তোমরা যে সন্দিগ্ধ বিষয়ের প্রতি আমাদিগকে আহ্বান করিতেছ নিশ্চয় আমরা তৎপ্রতি সন্দিগ্ধ”।

আয়াতঃ ১০⇒ তাহাদের প্রেরিতপুরুষগণ বলিয়াছিল, “ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের প্রতি কি সন্দেহ? তিনি তোমাদিগকে আহ্বান করিতেছেন যেন তোমাদের নিমিত্ত তোমাদের পাপ ক্ষমা করেন, এবং এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদিগকে অবকাশ দেন,” তাহারা বলিয়াছিল যে, “তোমরা আমাদের ন্যায় মনুষ্য বৈ নহ, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাহাকে অর্চনা করিতেন আমাদিগকে তাহা হইতে নিবৃত্ত করিতে তোমরা ইচ্ছা করিতেছ, অবশেষে আমাদের নিকটে উজ্জল প্রমাণ উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ১১⇒ তাহাদের প্রেরিতপুরুষগণ তাহাদিগকে বলিয়াছিল যে, “আমরা তোমাদের ন্যায় মনুষ্য বৈ নহি, কিন্তু ঈশ্বর আপন দাসদিগের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা হয় হিত সাধন করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বরের আদেশ ব্যতীত যে আমরা তোমাদের নিকটে কোন প্রমাণ উপস্থিত করিব আমাদের জন্য তাহা নহে, অতঃপর বিশ্বাসীদিগের উচিত যে, ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং আমাদের জন্য কি আছে যে, আমরা ঈশ্বরের উপর ব্যতীত নির্ভর করি, নিশ্চয় তিনি আমাদিগকে আমাদের পথ সকল প্রদর্শন করিয়াছেন, এবং তোমরা আমাদের প্রতি যে উৎপীড়ন কর তদ্বিষয়ে অবশ্য আমরা ধৈর্য ধারন করিব, অনন্তর নির্ভরশীল লোকদিগের উচিত যে, ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে”।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ আপনাদের প্রেরিতপুরুষদিগকে বলিয়াছিল যে, “অবশ্য আমরা তোমাদিগকে আমাদের দেশ হইতে বহিষ্কৃত করিব, অথবা অবশ্য তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরিয়া আসিবে;” তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলেন যে, “অবশ্য আমি অত্যাচারীদিগকে বিনাশ করিব।“

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং অবশ্য তাহাদের অন্তে আমি তোমাদিগকে দেশে স্থাপন করিব, যে ব্যক্তি আমার উপস্থিতিকে ভয় পায় ও আমার দন্ডাংগীকারকে ভয় করে, তাহার জন্য ইহা।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তাহারা (প্রেরিতপুরুষগণ) বিজয়প্রার্থী হইল ও সমুদায় বিরোধী দুর্দান্ত লোক নিরাশ হইল।

আয়াতঃ ১৬⇒ তাহাদের সম্মুখে নরক রহিয়াছে, এবং পীতবর্ণ সলিল (তাহাদিগকে) পান করান যাইবে।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহারা অল্প অল্প করিয়া তাহা পান করিবে ও প্রায় তাহা অধঃ করণ করিতে পারিবে না, এবং সকল স্থান হইতে তাহাদের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হইবে ও তাহারা মৃত্যুগ্রস্থ হইবে না, এবং তাহাদের সম্মুখে কঠিন শাস্তি রহিয়াছে।

আয়াতঃ ১৮⇒ যথা, আপন প্রতিপালকের প্রতি যাহারা বিরুদ্ধাচারী হইয়াছে তাহাদের ক্রিয়া সকল ভস্মের ন্যায়; ঝড়ের দিনে তাহাতে বায়ু প্রবল আঘাত করিবে, তাহারা যাহা উপার্জন করিয়াছে তাহা হইতে কোন বিষয়ে ক্ষমতা পাইবে না, ইহাই সেই দূরতর পথভ্রান্তি।

আয়াতঃ ১৯⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, ঈশ্বর সত্যরুপে ভূলোক ও দ্যুলোক সৃজন করিয়াছেন? যদি তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদিগকে দূর করিবেন, এবং নূতন সৃষ্টি আনয়ন করিবেন।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং ইহা ঈশ্বরের সম্বন্ধে কঠিন নহে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তাহারা একযোগে ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত হইবে, তৎপর যাহারা অহংকার করিতেছিল তাহাদিগকে দুর্বলগণ বলিবে, “নিশ্চয় আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম, অবশেষে তোমরা আমাদিগ হইতে ঈশ্বরের কিছু শাস্তির নিবারনকারী কি হও?” তাহারা বলিবে, “যদি ঈশ্বর আমাদিগকে পথ প্রদর্শন করিতেন তবে অবশ্য আমরা তোমাদিগকে পথ দেখাইতাম, আমরা অধৈর্য হই বা ধৈর্য ধারন করি আমাদের প্রতি তুল্য, আমাদের জন্য উদ্ধার নাই”।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যখন কার্য নিষ্পত্তি হইবে তখন শয়তান বলিবে যে, “নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদিগের সঙ্গে সত্য অঙ্গীকার করিয়াছেন, এবং আমি তোমাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছি, পরে তোমাদের সঙ্গে তাহার অন্যথা করিয়াছি, এবং তোমাদিগকে আহ্বান করা ব্যতীত তোমাদের উপর আমার কোন প্রভাব ছিল না, অনন্তর তোমরা আমার (বাক্য) গ্রাহ্য করিয়াছ, পরে তোমরা আমাকে ভৎসনা করিও না, আপন জীবনকে ভৎসনা কর, আমি তোমাদিগকে আর্তনাদ শ্রবনকারী নহি, এবং তোমরা আমার আর্তনাদ শ্রবনকারী নহ, পূর্বে তোমরা আমাকে যে অংশী করিয়াছ, তদ্বিষয়ে সত্যই আমি বিরোধী হইয়াছি, নিশ্চয় অত্যাচারিগণের জন্য দুঃখকর শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ২৩⇒ যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে, ও সৎক্রিয়া সকল করিয়াছে তাহাদিগকে সেই স্বর্গোদ্যান সকলে প্রবেশ করান যাইবে, যাহার নিম্ন দিয়া পয়প্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, তাহারা তথায় আপন প্রতিপালকের আজ্ঞাক্রমে নিত্যবাস করিবে, এবং তথায় তাহাদের পরস্পর শুভ সম্ভাষণ সেলাম হইবে।

আয়াতঃ ২৪⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, ঈশ্বর উত্তম বাক্যের উদাহরণ কেমন ব্যক্ত করিয়াছেন? তাহা উত্তম বৃক্ষ সদৃশ, তাহার মূল দৃঢ়, তাহার শাখা আকাশে (বিস্তৃত)।

আয়াতঃ ২৫⇒ সর্বদা সে স্বীয় প্রতিপালকের আজ্ঞাক্রমে আপন ফলপুঞ্জ প্রদান করে; এবং ঈশ্বর মানবমণ্ডলীর জন্য দৃষ্টান্ত সকল ব্যক্ত করেন যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং মন্দ বাক্য মন্দ বৃক্ষ সদৃশ, তাহা মৃত্তিকার উপর হইতে উন্মুলিত হয়, তাহার নিমিত্ত কোন স্থিতি নাই।

আয়াতঃ ২৭⇒ যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদিগকে পরমেশ্বর সত্য বাক্য দ্বারা ঐহিক ও পারত্রিক জীবনে দৃঢ় করেন, এবং পরমেশ্বর অত্যাচারীদিগকে বিভ্রান্ত করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা হয় তাহা করেন।

আয়াতঃ ২৮+২৯⇒ যাহারা ধর্মদ্রোহীতা দ্বারা ঈশ্বরের দানের পরিবর্তন করিয়াছে ও স্বজাতিকে মৃত্যুর আলয়ে অবতারিত করিয়াছে তাহাদের প্রতি তুমি কি দৃষ্টি কর নাই? যাহা নরক তাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে ও (তাহা) মন্দ নিবাস।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং তাহারা ঈশ্বরের জন্য সদৃশ সকল (পুত্তলিকা সকল) নির্ধারিত করিয়াছে, এবং (লোকদিগকে) তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত করে, তুমি বল, তোমরা ফলভোগী হইতে থাক, অতঃপর নিশ্চয় অনলের দিকে তোমাদের প্রতিগমন।

আয়াতঃ ৩১⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখিয়াছে, এবং আমি যে উপজীবিকা প্রকাশ্যে ও গোপনে যাহাদিগকে দান করিয়াছি যে দিবসে ক্রয়-বিক্রয় ও বন্ধুতা হইবে না তাহা আসিবার পূর্বে তাহারা তাহা ব্যয় করে, আমার সেই দাসদিগকে তুমি বল।

আয়াতঃ ৩২⇒ সেই পরমেশ্বরই যিনি স্বর্গ ও পৃথিবী সৃজন করিয়াছেন ও আকাশ হইতে জল অবতারিত করিয়াছেন, অনন্তর তোমাদিগের নিমিত্ত তাহা দ্বারা ফল সকল উপজীবিকারুপে বাহির করিয়াছেন ও তোমাদের নিমিত্ত নৌকা সকলকে অধিকৃত করিয়াছেন যেন তাঁহার আজ্ঞাক্রমে সমুদ্রে চলিয়া যায়, এবং তোমাদের নিমিত্ত জল প্রনালী সকলকে অধিকৃত করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং তোমাদের নিমিত্ত নিত্য গতিশীল সূর্য-চন্দ্রকে অধিকৃত করিয়াছেন এবং তোমাদের নিমিত্ত দিবা-রাত্রিকে অধিকৃত করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩৪⇒ তোমরা যাহা তাঁহার নিকটে প্রার্থনা করিয়াছিলে তিনি সেই সমুদায় তোমাদিগকে দিয়াছেন, এবং যদি তোমরা ঈশ্বরের দান গণনা কর তাহা আয়ত্ত করিতে পারিবে না, নিশ্চয় মনুষ্য ধর্মদ্রোহী অত্যাচারী।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন এব্রাহিম বলিয়াছিল যে, “হে আমার প্রতিপালক, এই নগরকে তুমি শান্তির আলয় কর ও আমাকে ও আমার সন্তানগণকে প্রতিমা সকলের পূজা করা হইতে নিবৃত্ত রাখ।

আয়াতঃ ৩৬⇒ হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় এ সকল অধিকাংশ মনুষ্যকে পথভ্রান্ত করিয়া থাকে, অনন্তর যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করে অবশেষে নিশ্চয় সে আমারই, এবং যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হইল পরে তুমি নিশ্চয় (তাহার পক্ষে) ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ৩৭⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি আমার কোন কোন সন্তানকে তোমার সম্মানিত নিকেতনের নিকটে শস্যক্ষেত্রশূন্য প্রান্তরে স্থাপন করিয়াছি, হে আমাদের প্রতিপালক, তাহারা উপাসনাকে যেন প্রতিষ্ঠিত রাখে, অনন্তর কতক মনুষ্যের অন্তরকে তাহাদের প্রতি অনুরাগী কর, এবং তাহাদিগকে ফলপুঞ্জ উপজীবিকা দাও, ভরসা যে তাহারা কৃতজ্ঞতা দান করিবে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা যাহা গোপন করি, এবং যাহা প্রকাশ করি, নিশ্চয় তুমি তাহা জানিতেছ; স্বর্গে ও পৃথিবীতে ঈশ্বরের নিকটে কিছুই গোপন নহে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ সেই ঈশ্বরেরই প্রশংসা যিনি বৃদ্ধাবস্থায় আমাকে এসমায়িল ও এসহাক (পুত্রদ্বয়) দান করিয়াছেন, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক প্রার্থনা শ্রবনকারী।

আয়াতঃ ৪০⇒ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ও আমার সন্তানকে উপাসনার প্রতিষ্ঠাতা কর, হে আমাদের প্রতিপালক, আমার প্রার্থনা গ্রাহ্য কর।

আয়াতঃ ৪১⇒ হে আমার প্রতিপালক, যে দিবস বিচার প্রতিষ্ঠিত হইবে সেই দিবস আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে ও বিশ্বাসীদিগকে ক্ষমা করিও”।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং অত্যাচারীরা যাহা করিতেছে তদ্বিষয়ে তোমরা ঈশ্বরকে কখনো উদাসীন মনে করিও না, সেই দিবসের নিমিত্ত যাহাদের দৃষ্টি সকল ঊর্ধ্বদিকে থাকিবে তিনি তাহাদিগকে অবকাশ দিতেছেন, এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তাহারা মস্তক উত্তোলন করিয়া ধাবমান হইবে, তাহাদের দিকে তাহাদের চক্ষু ফিরিয়া আসিবে না ও তাহাদের অন্তঃকরণ শূন্য থাকিবে।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং লোকদিগকে তুমি ভয় প্রদর্শন কর যে, যে দিবস তাহাদের প্রতি শাস্তি উপস্থিত হইবে যাহারা অত্যাচার করিয়াছিল তাহারা তখন বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, নির্দিষ্ট অল্প সময় পর্যন্ত তুমি আমাদিগকে অবকাশ দান কর, আমরা তোমার আহ্বান গ্রাহ্য করিব, এবং প্রেরিতপুরুষদিগের অনুবর্তী হইব;” (তখন বলা হইবে) “পূর্বে তোমরা কি প্রতিজ্ঞা করিয়া বলিতেছিলে না যে, তোমাদের জন্য কোনরুপ বিনাশ হইবে না?

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং যাহারা আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছিল তোমরা তাহাদের স্থানে স্থিতি করিয়াছ, এবং আমি তাহাদের সঙ্গে কিরুপ আচরণ করিয়াছি তোমাদিগের নিমিত্ত তাহা প্রকাশিত হইয়াছে ও আমি তোমাদের নিমিত্ত দৃষ্টান্ত সকল ব্যক্ত করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা আপন ছলনাতে ছলনা করিয়াছে, তাহাদের ছলনা ঈশ্বরের নিকটে (ব্যক্ত) আছে, তাহাদের ছলনা (এরুপ) নয় যে, তদ্দারা তাহারা পর্বতকে বিচলিত করে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ পরে তোমরা ঈশ্বরকে মনে করিও না যে, তিনি স্বীয় প্রেরিতপুরুষগণের সঙ্গে অঙ্গীকারের অন্যথাকারী, নিশ্চয় ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও প্রতিশোধদাতা।

আয়াতঃ ৪৮⇒ সেই দিবস পৃথিবী শূন্যতাতে ও আকাশ পরিবর্তিত হইবে, এবং একমাত্র পরাক্রান্ত ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে (সকলে) অগ্রসর হইবে।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং তুমি সেই দিবস পাপীদিগকে শৃঙ্খলে বদ্ধ দেখিবে।

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহাদের অলকতরার বস্ত্র হইবে ও অগ্নি তাহাদের মুখ আচ্ছাদন করিবে।

আয়াতঃ ৫১⇒ তখন ঈশ্বর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহারা যাহা করিয়াছে তাহার বিনিময় দিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর বিচারে সত্বর।

আয়াতঃ ৫২⇒ ইহা মানবমণ্ডলীর জন্য প্রচার করা হয় ও তাহাতে ইহা দ্বারা তাহারা ত্রাসযুক্ত হইবে, এবং তাহাতে জানিবে যে, তিনি একমাত্র ঈশ্বর, ইহা ব্যতীত নহে, এবং তাহাতে বুদ্ধিমান লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করিবে।