সূরাঃ এনাম

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ সেই পরমেশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা যিনি স্বর্গলোক ও ভূলোক সৃজন করিয়াছেন, এবং অন্ধকার ও আলোক উৎপাদন করিয়াছেন। অতঃপর কাফেরগণ স্বীয় প্রতিপালকের সহিত সমকক্ষতা করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ০২⇒ তিনিই যিনি তোমাদিগকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছেন, তৎপর মৃত্যু নির্ধারণ করিয়াছেন, এবং এক কাল তাঁহার নিকটে নির্ধারিত আছে, তৎপর তোমরা সন্দেহ করিতেছ।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং তিনিই ঈশ্বর যিনি স্বর্গে ও পৃথিবীতে আছেন, তিনি তোমাদের অন্তর ও তোমাদের বাহ্য জানিতেছেন, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাকো তাহা জ্ঞাত আছেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং তাহাদের প্রতিপালক হইতে নিদর্শন সকলের (এমন) কোন নিদর্শন তাহাদিগের নিকটে উপস্থিত হইতেছে না যে, তাহারা তাহার অগ্রাহ্যকারী নহে।

আয়াতঃ ০৫⇒ অনন্তর নিশ্চয় তাহারা সত্যের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে যখন তাহাদের নিকটে তাহা উপস্থিত হইয়াছে, যাহা লইয়া তাহারা উপহাস করিয়া থাকে অবশেষে অবশ্য তাহার সংবাদ তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইবে।

আয়াতঃ ০৬⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, তাহাদের পূর্ববর্তী দলের কতক লোককে আমি বিনাশ করিয়াছি? আমি পৃথিবীতে তাহাদিগকে যেরুপ ক্ষমতাদান করিয়াছিলাম তোমাদিগকে সেরুপ দান করি নাই, এবং আমি তাহাদের উপর বর্ষণকারী মেঘ প্রেরণ ও তাহাদের নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত করিয়াছিলাম, অনন্তর তাহাদের অপরাধের জন্য তাহাদিগকে বিনাশ করিয়াছি, এবং যাহাদের পরে অপর এক সম্প্রদায় উৎপাদন করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং যদি আমি তোমার প্রতি কাগজে লিখিত গ্রন্থ অবতারন করিতাম তাহারা আপন হস্তে তাহা মর্দন করিত, কাফের লোকেরা অবশ্যই বলিবে যে, ইহা স্পষ্ট চক্রান্ত ব্যতিত নহে।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং তাহারা বলিল, “কেন তাহার (প্রেরিতপুরুষের) প্রতি দেবতা অবতারিত হইল না?” যদি আমি দেবতা অবতারিত করিতাম তবে একান্তই কার্যশেষ হইত, তৎপর অবকাশ দেওয়া যাইত না।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং যদি আমি তাহাকে (প্রেরিতকে) দেবতা করিতাম তবে অবশ্যই আমি তাহাকে (আকৃতিতে) মনুষ্য করিতাম, এবং তাহারা যেমন (এক্ষণ) সন্দেহ করিতেছে, একান্তই তাহাদের প্রতি সেরুপ সন্দেহ স্থাপন করিত।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং সত্যসত্যই তাহারা তোমার পূর্ববর্তী প্রেরিতগণের প্রতি বিদ্রুপ করিতেছিল, যাহা লইয়া উপহাস করিতেছিল পরে উহা তাহাদিগ হইতে সেই উপহাসকারীগণকে আসিয়া ঘেরিল।

আয়াতঃ ১১⇒ তুমি বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, তৎপর দেখ অসত্যবাদীদিগের পরিণাম কেমন হইয়াছে।

আয়াতঃ ১২⇒ বল, স্বর্গলোকে ও ভূলোকে যাহা আছে তাহা কাহার? বল, ঈশ্বরের, তিনি স্বীয় অন্তরেতে দয়া লিখিয়াছেন, অবশ্যই তিনি তোমাদিগকে কেয়ামতের দিনে সংগ্রহ করিবেন, তাহাতে সন্দেহ নাই; যাহারা আপন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করিয়াছে পরিশেষে তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিতেছে না।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং দিবা রজনীতে যাহা স্থিতি করিতেছে তাহা তাঁহারই হয়; তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৪⇒ বল, স্বর্গ মর্তের স্রষ্টা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া কি অন্য বন্ধু গ্রহণ করিতেছ? তিনি অন্ন দান করেন ও অন্যগ্রহীতা নহেন, বল, নিশ্চয় আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, মোসলমান হইয়াছে এমন এক প্রথম ব্যক্তি হইব, এবং (আদেশ হইয়াছে) তুমি অংশীবাদীদিগের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

আয়াতঃ ১৫⇒ বল, যদি আমি স্বীয় প্রতিপালকের সম্বন্ধে অবাধ্যতাচরণ করি তবে নিশ্চয় মহাদিনের শাস্তিকে ভয় করি।

আয়াতঃ ১৬⇒ সে দিবস যাহা হইতে (শাস্তি) নিবৃত্ত রাখা হইবে নিশ্চয় তিনি তাহার প্রতি অনুগ্রহ করিলেন, এবং ইহাই স্পষ্ট মনোরথ সিদ্ধি।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং যদি ঈশ্বর তোমাকে ক্লেশ দান করেন তবে তিনি ব্যতিত তাহার নিবারনকারী নাই; এবং যদি তিনি তোমার প্রতি কল্যাণ বিধান করেন তবে তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং তিনি স্বীয় দাসদিগের উপর পরাক্রান্ত  ও তিনি নিপুণ ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৯⇒ জিজ্ঞাসা কর, কোন বস্তু সাক্ষ্যদান বিষয়ে শ্রেষ্ঠ? তুমি বল, “তোমাদের ও আমার মধ্যে ঈশ্বরই সাক্ষী; তিনি এই কোরআন আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছেন যেন এতদ্দারা আমি তোমাদিগকে ও যাহারা পথপ্রাপ্ত হইয়াছে তাহাদিগকে সাবধান করি, তোমরা কি সাক্ষ্যদান করিতেছ যে, পরমেশ্বরের সঙ্গে অপর পরমেশ্বর সকল আছে?” তুমি বল, “আমি সাক্ষ্যদান করি না” বল, “তিনি একমাত্র পরমেশ্বর ইহা ভিন্ন নহেন, এবং তোমরা যে অংশী নির্ধারণ করিয়া থাকো নিশ্চয় আমি তাহা হইতে বিমুখ আছি।“

আয়াতঃ ২০⇒ যাহাদিগকে আমি গ্রন্থ দান করিয়াছি তাহারা আপন সন্তানদিগকে যেরুপ জ্ঞাত তদ্রুপ ইহা জ্ঞাত, যাহারা আপন জীবনের অনিষ্ট করিয়াছে তাহারা বিশ্বাস করে না।

আয়াতঃ ২১⇒ যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে অথবা তাঁহার নিদর্শন সকলকে অসত্য বলিয়াছে তাহা অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী? নিশ্চয় অত্যাচারীগণ উদ্ধার পাইবে না।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং (স্মরণ কর) যেদিন আমি একযোগে তাহাদিগকে সমুত্থান করিব, তৎপর অংশীবাদীদিগকে জিজ্ঞাসা করিব যে, তোমাদের সেই অংশীগণ কোথায়, তোমরা যাহাদের বিষয়ে স্পর্ধা করিতে?

আয়াতঃ ২৩⇒ তৎপর তাহারা এই বলিবে যে, “আমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বরের শপথ, আমরা অংশীবাদী ছিলাম না,” এতদ্ভিন্ন তাহাদের জন্য ছলনা থাকিবে ন।

আয়াতঃ ২৪⇒ দেখ, তাহারা, আপন জীবন সম্বন্ধে কেমন অসত্য বলে ও যাহা কিছু (তাহারা অংশীত্ব বিষয়ে) আরোপ করিতেছিল তাহাদিগ হইতে উহা দূরীভূত হইয়াছে।

আয়াতঃ ২৫⇒ তাহারা কেহ কেহ তোমার (কথার) প্রতি কর্ণ স্থাপন করে, আমি তাহাদের মনের উপর আবরণ ও তাহাদের কর্ণেতে গুরুভার স্থাপন করিয়াছি যেন তাহারা তাহা বুঝিতে না পারে, এবং যদিচ তাহারা সমুদায় অলৌকিক ক্রিয়া দর্শন করে তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, এতদূর যে যখন তাহারা তোমার নিকটে উপস্থিত হয় তোমার সঙ্গে বিরোধ করে, কাফের লোকেরা বলে, “ইহা পূর্বতন উপন্যাস ভিন্ন নহে।“

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং তাহারা তাহা হইতে (প্রেরিত পুরুষের আনুগত্য হইতে) সকলকে নিবৃত্ত করিতেছে ও তাহা হইতে নিজেরাও দূরে পরিতেছে, তাহারা স্বীয় জীবন বৈ বিনাশ করিতেছে না, এবং বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং যখন তাহাদিগকে অগ্নির উপর দন্ডায়মান করা হইবে, যদি তুমি দেখ (আশ্চর্যান্বিত হইবে) তখন তাহারা বলিবে, “হায়! যদি আমরা ফিরিয়া যাই তবে স্বীয় প্রতিপালকের নিদর্শন সকলের প্রতি আর অসত্যারোপ করিব না ও বিশ্বাসীদিগের অন্তর্ভুক্ত হইব”।

আয়াতঃ ২৮⇒ তাহারা পূর্বে যাহা গোপন করিতেছিল বরং তাহাদের জন্য তাহা প্রকাশিত হইল, এবং যদি তাহারা ফিরিয়া যায় যাহা নিষেধ করা হইয়াছে অবশ্যই তাহাতে পুনঃপ্রবৃত্ত হইবে ও নিশ্চয় তাহারা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে যে, ইহা পার্থিব জিবন ভিন্ন নহে, আমরা সমুত্থাপিত হইব না।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং যখন তাহাদিগকে তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে দন্ডায়মান করা হইবে, যদি দেখ (বিস্মিত হইবে) তিনি জিজ্ঞাসা করিবেন, “ইহা কি সত্য নহে?” তাহারা বলিবে, “আমাদের প্রতিপালকের শপথ, অবশ্য;” তিনি বলিবেন, “ধর্মদ্রোহী ছিলে বলিয়া অনন্তর শাস্তিরস আস্বাদন কর।“

আয়াতঃ ৩১⇒ ঈশ্বরের সঙ্গে সম্মিলনবিষয়ে যাহারা মিথ্যা বলিয়াছে, নিশ্চয় তাহারা অনিষ্ট করিয়াছে, এতদূর যে, যখন তাহাদের নিকটে অকস্মাৎ কেয়ামত উপস্থিত হইবে তখন তাহারা বলিবে, “হায়! ইহাতে আমরা যে ত্রুটি করিয়াছি তজ্জন্য আমাদের প্রতি আক্ষেপ,” এবং তাহারা আপন পৃষ্ঠে আপনাদের ভার বহন করিবে। জানিও যাহা তাহারা বহন করিবে তাহা অশুভ।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং পার্থিব জীবন ক্রিড়া আমোদ ভিন্ন নয়, অবশ্য ধর্মগুরু লোকদিগের জন্য পরলোক কল্যাণের আলয়, তোমরা কি বুঝিতেছ না?

আয়াতঃ ৩৩⇒ নিশ্চয় আমি জানিতেছি যে, তাহারা যাহা বলিতেছে একান্তই তোমাকে তাহা দুঃখিত করিতেছে, অবশেষে নিশ্চয় তাহারা তোমার প্রতি কেবল অসত্যারোপ করিতেছে না, বরং অত্যাচারী লোকেরা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলকে অস্বীকার করিতেছে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং সত্যসত্যই তোমার পূর্ববর্তী প্রেরিতগণের প্রতি অসত্যারোপিত হইয়াছিল, অবশেষে যেসকল অসত্যারোপ ও ক্লেশ দান করা হইয়াছিল আমার আনুকুল্য তাহাদের প্রতি উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত তাহাতে তাহারা ধৈর্যধারন করিয়াছিল, অপিচ ঈশ্বরের বাক্য সকলের পরিবর্তনকারী কেহই নয়, এবং সত্যসত্যই প্রেরিতপুরুষদিগের অনেক সংবাদ তোমার নিকট উপস্থিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ যদি তাহাদিগের উপেক্ষা তোমার সম্বন্ধে কঠিন হইয়া থাকে তবে যদি পার ভূমিতে ছিদ্র অথবা আকাশে সোপান অন্বেষণ করিবে, পরে তাহাদের নিকটে কোন অলৌকিক নিদর্শন উপস্থিত করিবে, ঈশ্বর যদি ইচ্ছা করিতেন তবে অবশ্যই তিনি তাহাদিগকে সৎপথ প্রদর্শনে একত্রিত করিতেন, অবশেষ কখনো তুমি মূর্খদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ ৩৬⇒ যাহারা শ্রবন করে, তাহারা গ্রাহ্য করে, ইহা ভিন্ন নহে, এবং মরিলে ঈশ্বর তাহাদিগকে জীবিত করেন, তৎপর তাঁহার দিকে তাহারা প্রত্যাগত হইবে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং তাহারা বলিল, “কেন তাহার প্রতি তাহার ঈশ্বর হইতে কোন নিদর্শন অবতারিত হইল না?” তুমি বল, নিশ্চয় ঈশ্বর কোণ নিদর্শন অবতারনে সুক্ষম, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ লোকেই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ পৃথিবীতে কোন জীব এবং আপন পক্ষপুটযোগে উড্ডীন হয় কোন পক্ষী তোমাদের সদৃশ মণ্ডলী ভিন্ন নহে, আমি গ্রন্থে কোন বিষয়ে ত্রুটি করি নাই, তৎপর স্বীয় প্রতিপালকের দিকে সকলে সমবেত হইবে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলে অসত্য বলিয়াছে তাহারা মহা অন্ধকারে বধির ও মূক; ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন বিভ্রান্ত করিয়া থাকেন, এবং যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহাকে সরল পথে স্থাপন করেন।

আয়াতঃ ৪০⇒ জিজ্ঞাসা কর, তোমরা দেখিয়াছ কি? যদি তোমাদের নিকটে ঈশ্বরের শাস্তি উপস্থিত হয় অথবা তোমাদের নিকটে কেয়ামত উপস্থিত হয়, তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া কি (অন্য জনকে) ডাকিবে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও (বল)।

আয়াতঃ ৪১⇒ বরং তাঁহাকেই ডাকিবে, তাঁহার নিকটে তোমরা যে বিষয়ের (মুক্তির জন্য) প্রার্থনা করিবে তিনি ইচ্ছা করিলে পরে তাহা মোচন করিবেন, তোমরা যাহা অংশী নির্ধারিত করিয়াছ তাহা ভুলিয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং সত্যসত্যই তোমার পূর্ববর্তী সম্প্রদায় সকলের প্রতি আমি (তত্ত্ববাহক) প্রেরণ করিয়াছি, পরে তাহাদিগকে আমি রোগ ও দরিদ্রতা দ্বারা আক্রান্ত করিয়াছি যেন তাহারা সকাতরে প্রার্থনা করে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ অবশেষে যখন তাহাদের প্রতি আমার শাস্তি উপস্থিত হইল তখন কেন তাহারা সকাতরে প্রার্থনা করিল না? কিন্তু তাহাদের মন কঠিন হইয়া গিয়াছিল, এবং তাহারা যাহা করিতেছিল শয়তান তাহাদের জন্য তাহা শোভাযুক্ত করিয়াছিল।

আয়াতঃ ৪৪⇒ পরন্তু তাহারা যাহা উপদিষ্ট হইয়াছিল যখন তাহা বিস্মৃত হইল তখন আমি তাহাদিগের প্রতি প্রত্যেক বস্তুর দ্বার উন্মুক্ত করিলাম, এ পর্যন্ত যাহা প্রদত্ত হইয়াছিল যখন তাহাতে তাহারা আনন্দিত হইয়া উঠিল, আমি একবারে আতাদিগকে আক্রমণ করিলাম, তখন অকস্মাৎ তাহারা নিরাশ হইল।

আয়াতঃ ৪৫⇒ অনন্তর যাহারা অত্যাচার করিতেছিল সেই দলের মূল ছিন্ন হিল, বিশ্বপালক পরমেশ্বরেরি সম্যক প্রশংসা।

আয়াতঃ ৪৬⇒ জিজ্ঞাসা কর, দেখিয়াছ কি? যদি ঈশ্বর তোমাদের কর্ণ ও তোমাদের চক্ষু প্রত্যাহার করেন, এবং তোমাদের মনের উপর মোহর (মন বন্ধ) করেন সেই ঈশ্বর ব্যতিত কোন ঈশ্বর আছে যে, তোমাদিগকে তাহা আনিয়া দেয়? তুমি দেখ (হে মোহাম্মদ) কেমন বিবিধ নিদর্শন সকল আমি ব্যক্ত করিতেছি, অতঃপর তাহারা অগ্রাহ্য করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ বল, তোমরা কি দেখিয়াছ যদি ঈশ্বরের শাস্তি অকস্মাৎ অথবা প্রকাশ্যরুপে তোমাদের নিকটে উপস্থিত হয়, অত্যাচারী দল ব্যতিরেকে কে বিনষ্ট হইবে?

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং আমি সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শক ব্যতিত তত্ত্ববাহক প্রেরণ করি নাই, তবে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে পরিশেষে তাহাদের প্রতি ভয় নাই, এবং তাহারা শোকার্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলকে মিথ্যা বলিয়াছে, অসদাচারী ছিল বলিয়া তাহাদিগকে শাস্তি পাইতে হইবে।

আয়াতঃ ৫০⇒ তুমি বল যে, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি না যে আমার নিকটে ঈশ্বরের ভান্ডার রহিয়াছে ও আমি গুপ্ত বিষয় জানিতেছি, এবং আমি তোমাদিগকে বলিতেছি না যে আমি দেবতা, আমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করা হয় তদ্ব্যতিরেকে (অন্য কিছুর) আমি অনুসরণ করি না; তুমি বল অন্ধ ও চক্ষুস্মান কি তুল্য? অনন্তর তোমরা কি ভাবিতেছ না?

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং যাহারা ভীত আছে যে, আপন প্রতিপালকের অভিমুখে একত্রীকৃত হইতে হইবে, তুমি তাহাদিগকে ইহা দ্বারা (কোরআন দ্বারা) ভয় প্রদর্শন কর, তাহাদের তিনি ব্যতিত বন্ধু নাই, শুভাকাঙ্ক্ষী নাই, তাহাতে তাহারা ধর্মভীরু হইবে।

আয়াতঃ ৫২⇒

আয়াতঃ ৫৩⇒

আয়াতঃ ৫৪⇒

আয়াতঃ ৫৫⇒

আয়াতঃ ৫৬⇒

আয়াতঃ ৫৭⇒

আয়াতঃ ৫৮⇒

আয়াতঃ ৫৯⇒

আয়াতঃ ৬০⇒

আয়াতঃ ৬১⇒

আয়াতঃ ৬২⇒

আয়াতঃ ৬৩⇒

আয়াতঃ ৬৪⇒

আয়াতঃ ৬৫⇒

আয়াতঃ ৬৬⇒

আয়াতঃ ৬৭⇒

আয়াতঃ ৬৮⇒

আয়াতঃ ৬৯⇒

আয়াতঃ ৭০⇒

আয়াতঃ ৭১⇒ বল, আমরা কি ঈশ্বরকে ছাড়িয়া সেই বস্তুকে আহ্বান করিব যাহা আমাদের কল্যাণ ও অকল্যাণ করিতে পারে না? এবং ঈশ্বর যখন আমাদিগকে সৎপথ প্রদর্শন করিয়াছেন তাহার পরে কি আমরা শয়তান যাহাকে পৃথিবীতে অস্থীর করিয়া বিপথে ফেলিয়াছে তাহার ন্যায় পশ্চাৎপদ হইয়া প্রত্যাবর্তিত হইব? তাহার জন্য বন্ধুগণ আছে তাহারা তাহাকে সৎপথের দিকে আহ্বান করিয়া থাকে যে, আমাদের নিকটে আগমন কর; বল, নিশ্চয় ঈশ্বরের উপদেশ সেই উপদেশ, এবং বিশ্বপালকের অনুগত হইতে আমরা আদিষ্ট হইয়াছি।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং (আদেশ হইয়াছে) যে, তোমরা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ও তাঁহাকে ভয় কর, এবং তিনিই যাঁহার দিকে তোমরা সমবেত হইবে।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং তিনিই যিনি বস্তুতঃ স্বর্গ-মর্ত সৃজন করিয়াছেন, যে দিন বলেন “হও” তাহাতেই হয়।

আয়াতঃ ৭৪⇒ তাঁহার বাক্য সত্য এবং যেদিন সুরবাদ্যের ধ্বনি হইবে সেই দিনে তাঁহারই রাজত্ব, তিনি অন্তরবাহ্যদাতা এবং তিনি নিপুণ ও তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ৭৫⇒ অপিচ (স্মরণ কর) যখন এব্রাহিম স্বীয় পিতা আজরকে বলিল, “তুমি কি পুত্তলিকাকে ঈশ্বররুপে গ্রহণ করিতেছ? নিশ্চয় আমি তোমাকে ও তোমার সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বিপথগামী দেখিতেছি।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং এইরুপে আমি এব্রাহিমকে পৃথিবী ও স্বর্গ রাজ্য প্রদর্শন করিয়াছিলাম যেন সে বিশ্বাসীদিগের অন্তর্গত হয়।

আয়াতঃ ৭৭⇒ অনন্তর পরে যখন তাঁহার সম্বন্ধে রাত্রি অন্ধকারাচ্ছন্ন হইল সে একটি নক্ষত্রকে দেখিয়া বলিল, “ইহাই আমার প্রতিপালক”; পরে যখন তাহা অস্তমিত হইল তখন বলিল, “আমি অস্তগামী বস্তু সকলকে প্রেম করি না।“

আয়াতঃ ৭৮⇒ অনন্তর যখন চন্দ্রমাকে সমুদিত দেখিল, সে বলিল, “যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ প্রদর্শন না করেন তবে আমি বিপথগামী দলের অন্তর্গত অবশ্যই হই”।

আয়াতঃ ৭৯⇒ অনন্তর যখন সূর্যকে সমুদিত দেখিল, সে বলিল; “ইহাই আমার প্রতিপালক, ইহাই শ্রেষ্ঠ;” পরে যখন তাহা অস্তমিত হইল সে বলিল, “হে আমার জ্ঞাতিগণ, তোমরা যে অংশী স্থাপন কর নিশ্চয় আমি তাহা হইতে বিমুখ আছি।“

আয়াতঃ ৮০⇒ যিনি দ্যুলোক ভূলোক সৃজন করিয়াছেন তাঁহার দিকে নিশ্চয় আমি সত্যধর্মাবলম্বীরুপে স্বীয় আনন সমুদ্যত রাখিয়াছি, এবং আমি অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত নহি।

আয়াতঃ ৮১⇒ তাঁহার স্বগণ তাহার সঙ্গে বিবাদ করিল, সে বলিল, “ঈশ্বরের বিষয়ে কি তোমরা আমার সঙ্গে বিরোধ করিতেছ? এবং নিশ্চয় তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, আমার প্রতিপালক যাহা কিছু ইচ্ছা করিতেছেন তাহা ব্যতিত তোমরা তাঁহার সঙ্গে যাহাকে অংশীরুপে স্থাপন করিতেছ আমি তাহাকে ভয় করি না, আমার প্রতিপালক জ্ঞানযোগে সমুদায় পদার্থকে ঘেরিয়া রহিয়াছেন, অনন্তর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ ৮২⇒ “তোমরা যাহাকে অংশী কর তাঁহাকে আমি কেমন করিয়া ভয় করিব, এবং যাহার সম্বন্ধে তোমাদের প্রতি কোন প্রমান উপস্থিত নাই তাঁহাকে ঈশ্বরের অংশী করিতে তোমরা ভয় পাইতেছ না; অনন্তর যদি তোমরা জ্ঞাত আছ (তবে বল) এই দুই দলের মধ্যে কোন দল শান্তি লাভে যোগ্যতর”।

আয়াতঃ ৮৩⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও আপন বিশ্বাসকে অন্যায়ের সঙ্গে মিশ্রিত করে নাই, তাহাদের জন্যই শান্তি এবং তাহারা পথ প্রাপ্ত”।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এবং ইহাই আমার প্রমান, আমি এব্রাহিমকে তাঁহার স্বগণ অতিক্রম করিয়া দান করিয়াছি, আমি যাহাকে ইচ্ছা করি তাহাকে মর্যাদায় উন্নত করিয়া থাকি, নিশ্চয় তোমার ঈশ্বর (হে মোহাম্মদ) দক্ষ ও জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং আমি তাহাকে এসহাক ও ইয়াকুব (পুত্রদ্বয়) দান করিয়াছি, প্রত্যেককে আমি সৎপথ প্রদর্শন করিয়াছি, এবং পূর্বে নুহাকে ও তাহার (এব্রাহিমের) বংশী দাউদ, সোলয়মান, আয়ুব, ইয়ুসেফ ও মুসা এবং হারুনকে পথ দেখাইয়াছি এবং এইরুপ আমি হিতকারীদিগকে পুরস্কৃত করি।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং জকরিয়া, ইয়হা ও ঈসা এবং এলিয়াসকে (পথ দেখাইয়াছি) সকলেই সাধুদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং এসমাইল ও অলিয়াস ও ইউনুস এবং লুতকে (পথ প্রদর্শন করিয়াছি) এবং মানব মণ্ডলীর উপর তাহাদের প্রত্যেককে আমি গৌরবান্বিত করিয়াছি।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং তাহাদের পিতৃপুরুষগণ, তাহাদের সন্তানগণ ও তাহাদের ভ্রাতৃগণকে (গৌরবান্বিত করিয়াছি) ও তাহাদিগকে গ্রহণ করিয়াছি, এবং তাহাদিগকে সরল পথ সম্বন্ধে উপদেশ দিয়াছি।

আয়াতঃ ৮৯⇒ ইহাই ঈশ্বরের উপদেশ, এতদ্দারা তিনি স্বীয় দাসদিগের যাহাকে ইচ্ছা প্রদর্শন করিয়া থাকেন, এবং যদি তাহারা বংশী স্থাপন করিত তবে যাহা তাহারা করিত তাহাদিগ হইতে তাহা অবশ্য বিলুপ্ত হইত।

আয়াতঃ ৯০⇒ সেই তাহারা যাহাদিগকে আমি গ্রন্থ ও জ্ঞান এবং প্রেরিতত্ব প্রদান করিয়াছি, অনন্তর যদি ইহারা ইহার (কোরআনের) প্রতি বিদ্রোহাচরণ করে তবে নিশ্চয় আমি ইহার প্রতি বিদ্রোহাচারী নহে এমন এক দল নিযুক্ত করিব।

আয়াতঃ ৯১⇒ সেই তাহারা যাহাদিগকে ঈশ্বর পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, অতএব তুমি তাহাদিগের পথ অনুসরণ কর, বল, এতৎ (কোরআন) সম্বন্ধে কোন পুরষ্কার তোমাদের নিকট প্রার্থনা করিতেছি না, ইহা মানবমণ্ডলীর উপদেশ ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৯২⇒ এবং যখন তাহারা বলিল যে, “ঈশ্বর কোন মনুষ্যের প্রতি কিছুই অবতারন করেন নাই, তখন তাহারা ঈশ্বরকে তাঁহার প্রকৃত মর্যাদায় মর্যাদা করিল না; বল, কে সেই গ্রন্থ অবতারন করিয়াছে, যাহাকে মানবমণ্ডলীর জন্য মুসা জ্যোতি ও উপদেশরুপে আনয়ন করিয়াছিল? তোমরা তাঁহার পত্র সকল দুই ভাগ করিতেছ ও অধিকাংশ গুপ্ত রাখিতেছ, এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণ ও তোমরা যাহা জানিতে না (তদ্দারা) তাঁহার শিক্ষা পাইয়াছ; বল, ঈশ্বর (তাহা অবতারন করিয়াছেন) তৎপর তিনি তাহাদিগকে আপনাদের বাগবিতণ্ডায় ক্রীড়া করিতে ছাড়িয়া দিয়াছেন।

আয়াতঃ ৯৩⇒ এবং এই গ্রন্থ, ইহাকে আমি কল্যাণজনকরুপে ও ইহার পূর্বে যাহা (যে গ্রন্থ) ছিল তাহার সপ্রমানকারীরূপে অবতারন করিয়াছি, এবং ইহা দ্বারা তুমি মক্কাবাসীদিগকে ও তাহার চতুষ্পার্শবর্তী লোকদিগকে ভয় প্রদর্শন করিবে, যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে তাহারা ইহাকেও বিশ্বাস করে এবং তাহারা স্বীয় উপাসনাকে রক্ষা করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৯৪⇒ এবং ঈশ্বরের প্রতি যে ব্যক্তি অসত্যারোপ করে, অথবা যে ব্যক্তি বলে যে, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছে, পরন্তু তাহার প্রতি কিছুই প্রত্যাদেশ হয় নাই, এবং যে ব্যক্তি বলে ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তদ্রুপ আমিও অবতারন করিব, তাহার অপেক্ষা অত্যাচারী কে? এবং যখন অত্যাচারী লোকেরা মৃত্যু সঙ্কটে পতিত হইয়াছে ও দেবগণ আপন হস্ত প্রসারন করিয়াছে তখন তুমি যদি দেখ (বিস্মিত হইবে) (দেবতারা বলে) “তোমরা স্বীয় প্রান বাহির কর, তোমরা যে পরমেশ্বরের প্রতি অসত্য বলিতেছিলে, এবং তাঁহার নিদর্শন সকলকে অবজ্ঞা করিতেছিলে তজ্জন্য অদ্য দুর্গতির শাস্তি তোমরা বিনিময় স্বরূপ প্রাপ্ত হইবে”।

আয়াতঃ ৯৫⇒ এবং (ঈশ্বর বলিবেন) “যদ্রুপ আমি তোমাদিগকে প্রথমবার সৃজন করিয়াছি, সত্যসত্যই তদ্রুপ তোমরা আমার নিকটে নিঃসহায় আসিয়াছ, আমি তোমাদিগকে যাহা দান করিয়াছিলাম তোমরা তাহা আপন পশ্চাদ্ভাগে পরিত্যাগ করিয়াছ, তোমরা যাহাদিগকে ভাবিয়াছিলে যে নিশ্চয় তাহারা তোমাদের মধ্যে অংশী, তোমাদিগের সঙ্গে তোমাদের সহায়রূপে তাহাদিগকে ত দেখিতেছি না, সত্যসত্যই তোমাদের পরস্পর সম্বন্ধ ছিন্ন হইয়াছে, যাহা তোমরা মনে করিতেছিলে তোমাদিগ হইতে তাহা বিলুপ্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৯৬⇒ এবং নিশ্চয় ঈশ্বর শস্যকণিকা ও বৃক্ষবীজের বিদারক, তিনি মৃত হইতে জীবিতকে ও জীবিত হইতে মৃতকে বাহির করেন, ইনিই ঈশ্বর তবে কোথা হইতে তোমরা ফিরিয়া যাও।

আয়াতঃ ৯৭⇒ ইনি উষাকালে উদ্ভেদক এবং ইনি রজনীকে বিশ্রাম ও চন্দ্র-সূর্যকে গণনার (কাল গণনার নিদর্শন) করিয়াছেন, পরাক্রান্ত জ্ঞানী (ঈশ্বরের) এই নিরূপণ।

আয়াতঃ ৯৮⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদিগের জন্য নক্ষত্রাবলী সৃজন করিয়াছেন যেন তদ্দারা সমুদ্র ও প্রান্তরের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও, যাহারা বুঝিতেছে সেই দলের জন্য নিশ্চয় আমি নিদর্শন সকল বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করিলাম।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এবং তিনিই যিনি এক ব্যক্তি হইতে তোমাদিগকে উৎপাদন করিয়াছেন, পরে (তোমাদের জন্য) অবস্থানভূমি ও প্রত্যর্পণভূমি আছে, যাহারা বুঝিতেছে সেই দলের জন্য নিশ্চয় আমি বিস্তারিতরূপে নিদর্শন সকল বর্ণনা করিলাম।

আয়াতঃ ১০০⇒ এবং তিনিই যিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, পরে আমি তাহা দ্বারা প্রত্যেক উৎপাদ্য বস্তু বাহির করি, অনন্তর সেই জল হইতে  হরিৎ পদার্থনিচয় নিষ্ক্রামিত করি, তাহা হইতে পরস্পর সম্মিলিত বীজ নিঃসারন করি, এবং খোর্মাতরু হইতে তাহার কোরকযুক্ত পরস্পর সন্নিহিত শাখাবলী (বাহির করি) এবং দ্রাক্ষালতা হইতে উদ্যান সকল এবং জয়তুন ও পরস্পর সদৃশ ও অসদৃশ দাড়িম্ব (নির্গত করি) যখন ফল জন্মে ও তাহার পরিপক্কতা হয়, দৃষ্টি কর তাহার ফলের দিকে, যে সম্প্রদায় বিশ্বাস করিতেছে তাহাদের জন্য নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ১০১⇒ এবং তাহারা অসুরকে ঈশ্বরের অংশী করিয়াছে, প্রকৃতপক্ষে তাহাদিগকে তিনি সৃজন করিয়াছেন, তাহারা অজ্ঞানতা প্রযুক্ত তাঁহার জন্য পুত্র ও কন্যাগণ সঙ্ঘটন করিয়াছে, তিনি পবিত্র ও যাহা বর্ণনা হয় তদপেক্ষা উন্নত।

আয়াতঃ ১০২⇒ তিনি স্বর্গ-মর্ত্যের স্রষ্টা, তাঁহার সন্তান কেমন করিয়া হইবে; প্রকৃতপক্ষে তাঁহার ভার্যা নাই, এবং তিনি সমুদায় বস্তু সৃজন করিয়াছেন, এবং তিনি সর্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ১০৩⇒ এই পরমেশ্বরই তোমাদের প্রতিপালক, তিনি ব্যতিত উপাস্য নাই, তিনি সমুদায় পদার্থের সৃষ্টিকর্তা, অতএব তাঁহাকে অর্চনা কর, এবং তিনি সকল পদার্থের উপর কার-সম্পাদক।

আয়াতঃ ১০৪⇒ চক্ষু তাঁহাকে অবধারণ করে না, তিনি চক্ষুকে অবধারণ করেন, এবং তিনি কৃপালু ও দাতা।

আয়াতঃ ১০৫⇒ সত্যই তোমাদের নিকটে তোমাদের প্রতিপালক হইতে প্রমান সকল আসিয়াছে, পরন্তু যে ব্যক্তি দর্শক, সে তাঁহার আত্মার জন্য (দর্শক) এবং যে ব্যক্তি অন্ধ সে তাহার আত্মার সম্বন্ধে (অন্ধ); (বল, হে মোহাম্মদ) আমি তোমাদিগের সম্বন্ধে রক্ষক নহি।

আয়াতঃ ১০৬⇒ এবং এই প্রকার আমি নিদর্শন সকল ব্যক্ত করিতেছি, এবং তাহাতে তাহারা বলে, “তুমি পাঠ করিয়াছ,” এবং তাহাতে জ্ঞান রাখে এমন দলের জন্য আমি তাহা ব্যক্রত করিব।

আয়াতঃ ১০৭⇒ তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ হইয়াছে তুমি তাহার অনুসরণ কর, তিনি ব্যতিত উপাস্য নাই, এবং অংশীবাদীগণ হইতে বিমুখ হও।

আয়াতঃ ১০৮⇒ এবং যদি ঈশ্বর চাহিতেন তাহারা অংশী স্থাপন করিত না, আমি তোমাকে তাহাদের সম্বন্ধে রক্ষক করি নাই, এবং তুমি তাহাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নও।

আয়াতঃ ১০৯⇒ যাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া (অন্য দেবতাকে) আহ্বান করে তাহাদিগকে (হে মোসলমানগণ) কুবাক্য বলিও না, যেহেতু তাহারা অজ্ঞানতাবশতঃ ঈশ্বরকে অধিক কুবাক্য বলিবে; এই প্রকার আমি প্রত্যেক মণ্ডলীর জন্য তাহাদের ক্রিয়া সজ্জিত করিয়াছি, অতঃপর তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে তাহাদের প্রতিগমন হইবে, তাহারা যাহা করিতেছে পরে তিনি তাহাদিগকে জ্ঞাপন করিবেন।

আয়াতঃ ১১০⇒ এবং তাহারা ঈশ্বরসহকারে স্বীয় কঠিন শপথে শপথ করে যে, যদি কোন নিদর্শন তাহাদের নিকটে উপস্থিত হয় তবে অবশ্য তাহারা তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিবে; বল (হে মোহাম্মদ) নিদর্শন সকল পরমেশ্বরের নিকট ইহা ভিন্ন নহে, এবং কিসে তোমাদিগকে জ্ঞাপন করিতেছে (হে মোসলমান) যখন তাহা উপস্থিত হইবে নিশ্চয় তাহারা বিশ্বাস করিবে না?

আয়াতঃ ১১১⇒ এবং যেমন প্রথম বারে তাহারা ইহার (কোরআনের) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে নাই তদ্রুপ আমি তাহাদের অন্তর ও তাহাদের চক্ষুকে ফিরাইব, এবং আপন অবাধ্যতাচরণে ঘূর্ণায়মান হইতে ছাড়িয়া দিব।

আয়াতঃ ১১২⇒ এবং যদি আমি তাহাদিগের নিকটে দেবতাদিগকে অবতারন করিতাম ও তাহাদের সঙ্গে মৃত ব্যক্তিরা কথা কহিত, এবং আমি তাহাদের নিকটে দলে দলে সমুদায় বস্তু একত্রিত করিতাম, ঈশ্বর ইচ্ছা না করিলে কখনো তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিত না, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই মূর্খতা প্রকাশ করিতেছে।

আয়াতঃ ১১৩⇒ কিন্তু এই প্রকার আমি প্রত্যেক তত্ত্ববাহকের জন্য শয়তানরপী মনুষ্যকে ও দানবকে শত্রু করিয়াছি, তাহাদের কেহ কেহ প্রতারিত করিবার জন্য কাহারও প্রতি সুললিত বাক্য বলিয়া থাকে, যদি তোমাদের প্রতিপালক চাহিতেন, তাহারা তাহা করিত না, অতএব তাহারা যাহা বন্ধন করিতেছে তাহাতে তাহাদিগকে ছাড়িয়া দেও।

আয়াতঃ ১১৪⇒ এবং যাহারা পরলোকে বিশ্বাসী নয় তাহাদের মন তজ্জন্য তৎপ্রতি অনুরাগী হয়, তখন তাহারা তাহা মনোনীত করে ও তাহাতে উহারা যাহার অনুষ্ঠাতা তাহা করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১১৫⇒ (বল) অনন্তর “আমি কি ঈশ্বরকে ছাড়িয়া (অন্য) আজ্ঞা প্রচারক অন্বেষণ করিব? তিনিই (ঈশ্বর) যিনি তোমাদের নিকটে বিস্তৃত গ্রন্থ অবতারন করিয়াছেন,” যাহাদিগকে গ্রন্থ প্রদত্ত হইয়াছে তাহারা জানে যে ইহা সত্যতঃ তোমার প্রতিপালক হইতে অবতারিত, অতএব তুমি সন্দেহকারীদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ ১১৬⇒ এবং তোমার প্রতিপালকের বাক্য সত্য ও ন্যায়েতে পূর্ণ, তাঁহার বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নাই, তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১১৭⇒ অপিচ যদি তুমি পৃথিবীস্থ অধিকাংশ লোকের আজ্ঞানুসরন কর তবে তাহারা তোমাকে ঈশ্বরের পথ হইতে বিচ্যুত করিবে, তাহারা অনুমানের অনুসরণ বৈ করে না ও মিথ্যা ভিন্ন বলে না।

আয়াতঃ ১১৮⇒ নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক উত্তম জ্ঞাত যে কোন ব্যক্তি তাঁহার পথ হইতে দূরে যাইতেছে, এবং তিনি পথপ্রাপ্তকে উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ১১৯⇒ যদি তোমরা তাঁহার নিদর্শন সকলে বিশ্বাসী হও তবে যাহার উপর ঈশ্বরের নাম উচ্চারিত হইয়াছে তাহা ভক্ষন কর।

আয়াতঃ ১২০⇒ এবং তোমাদের কি হইয়াছে যে, যাহার উপর ঈশ্বরের নাম উচ্চারিত হইয়াছে তোমরা তাহা ভক্ষন করিবে না, এবং তোমাদের সম্বন্ধে যাহা তদ্বিষয়ে নিরুপায় হওয়া ব্যতিরেকে অবৈধ, নিশ্চয় তাহা তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করিয়াছেন, এবং একান্তই বহু লোক অজ্ঞানতাবশতঃ স্বেচ্ছানুসারে পথভ্রান্ত হইয়াছে, নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীদিগকে উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ১২১⇒ এবং তোমরা পাপের বাহির ও তাহার অন্তরকে পরিত্যাগ কর, নিশ্চয় যাহারা পাপ উপার্জন করে তাহারা যাহা করিতেছে অবশ্য আমি তদনুরুপ প্রতিফল দান করিব।

আয়াতঃ ১২২⇒ এবং যাহার উপর ঈশ্বরের নাম উচ্চারিত হয় নাই তোমরা তাহা ভক্ষন করিও না, নিতান্তই উহা অধর্ম, নিশ্চয় শয়তান তাহার বন্ধুদিগের প্রতি আদেশ করিয়া থাকে যেন তাহারা তোমাদের সঙ্গে বিরোধ করে, যদি তোমরা তাহাদের অনুগামী হও তবে একান্তই তোমরা অংশীবাদী হইবে।

আয়াতঃ ১২৩⇒ ভাল, যে ব্যক্তি মরিয়াছিল পরে তাহাকে আমি জীবন দিয়াছি, এবং তাহার জন্য জ্যোতি উৎপাদন করিয়াছি, মহা অন্ধকারে ও তৎসাহায্যে তাহা হইতে বহির্গামী হয় না যে ব্যক্তি তাহার সদৃশ লোকের মধ্যে যে বিচরণ করে, এইরুপ কাফেরদিগের জন্য তাহারা যাহা করিতেছিল তাহা সজ্জিত করা হইয়াছে।

আয়াতঃ ১২৪⇒ এবং এইরুপ আমি প্রত্যেক গ্রামে তথাকার প্রধান পাপাচারীদিগকে সৃজন করিয়াছি যেন তথায় তাহারা প্রবঞ্চনা করিতে থাকে, কিন্তু নিজের জীবনের প্রতি প্রবঞ্চনা বৈ করে না, এবং (তাহা) বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১২৫⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে কোন নিদর্শন উপস্থিত হয় তাহারা বলে যে, ঈশ্বরের প্রেরিতদিগকে যাহা প্রদত্ত হইয়াছে যে পর্যন্ত আমাদিগকে তৎসদৃশ প্রদত্ত না হয় আমরা কখনো বিশ্বাস স্থাপন করিব না; কোন স্থানে স্বীয় প্রেরিতত্ব স্থাপন করিতে  হয় পরমেশ্বর তাহা উত্তম জ্ঞাত আছেন, যাহারা পাপ করিয়াছে অবশ্য তাহারা ঈশ্বরের নিকটে অপমানিত, এবং প্রতারনা করিতেছে বলিয়া কঠিন শাস্তিগ্রস্থ হইবে।

আয়াতঃ ১২৬⇒ পরন্তু পরমেশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় তাহাকে পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন, এসলাম ধর্মের জন্য তাহার হৃদয়কে প্রশস্ত করেন, এবং যাহাকে ইচ্ছা হয় তাহাকে বিভ্রান্ত করিয়া থাকেন, তাহার হৃদয়কে অতি সংকীর্ণ করেন, তাহারা যেমন আকাশে উঠিতে থাকে। এই প্রকার ঈশ্বর অবিশ্বাসীদিগের প্রতি অশুদ্ধতা স্থাপন করেন।

আয়াতঃ ১২৭⇒ এই (এসলাম ধর্ম) তোমার প্রতিপালকের সরল পথ, নিশ্চয় আমি উপদেশ গ্রহণ করে এমন সম্প্রদায়ের জন্য আয়াত সকল বিস্তৃতভাবে ব্যক্ত করিয়াছি।

আয়াতঃ ১২৮⇒ তাহাদের নিমিত্ত তাহাদের প্রতিপালকের সন্নিধানে শান্তিনিকেতন আছে, এবং তাহারা যাহা করিতেছে তাহার জন্য তিনি তাহাদিগের বন্ধু হন।

আয়াতঃ ১২৯⇒ এবং যে দিবস তিনি তাহাদের সকলকে একত্র করিবেন (বলিবেন) “হে দৈত্যদল, নিশ্চয় তোমরা বহু লোককে প্রাপ্ত হইয়াছ,” এবং তাহাদের বন্ধু মানবগণ বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা এক অন্যজন হইতে পরস্পর ফলভোগ করিয়াছি, এবং যাহা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারিত করিয়াছ আমরা নিজের সেই নির্দিষ্ট কালে উপনীত হইয়াছি;” তিনি বলিবেন, “ঈশ্বর যাহা চাহেন তাহা ব্যতিত তোমাদের স্থান অগ্নিতে, তাহাতে চিরকাল থাকিবে।“ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক নিপুণ ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৩০⇒ এবং এইরুপে আমি অত্যাচারীদিগের একজনকে অপর জনের উপর তাহারা যাহা করিতেছিল তজ্জন্য প্রবল করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ১৩১⇒ হে দানব ও মানবদল, তোমাদের নিকটে আমার নিদর্শন সকল ব্যক্ত করিতে এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎকারসম্বন্ধে তোমাদিগকে ভয় প্রদর্শন করিতে তোমাদিগের মধ্য হইতে কি তোমাদের সমীপে প্রেরিতপুরুষ আগমন করে নাই? তাহারা বলিবে, “আপন জীবন সম্বন্ধে আমরা সাক্ষ্য দান করিয়াছি;” এবং তাহাদিগকে পার্থিব জীবন প্রতারিত করিয়াছিল ও তাহারা স্বীয় জীবন সম্বন্ধে সাক্ষ্য দান করিয়াছিল যে, তাহারা কাফের ছিল।

আয়াতঃ ১৩২⇒ ইহা (ধর্ম প্রবর্তকপ্রেরণ) এইজন্য যে কখনো তোমার প্রতিপালক অত্যাচার দ্বারা গ্রাম সকলের ও তন্নিবাসীদিগের ঔদাসিন্যাবস্থায় বিনাশক নহেন।

আয়াতঃ ১৩৩⇒ প্রত্যেকের জন্য তাহারা যাহা করিয়াছে তন্নিমিত্র উন্নত পদ সকল আছে ও তাহারা যাহা করিয়া থাকে তদ্বিষয়ে তোমার প্রতিপালক উদাসীন নহেন।

আয়াতঃ ১৩৪⇒ এবং তোমার প্রতিপালক ঐশ্চরযবান, ও দয়াবান, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদিগকে দূর করিবেন, এবং যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে তোমাদের পরে স্থলবর্তী করিবেন, যেমন অন্য সম্প্রদায়ের সন্তানগণ হইতে তোমাদিগকে উৎপাদন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ নিশ্চয় যাহা তোমাদিগকে অঙ্গীকার করা যাইতেছে তাহা অবশ্য উপস্থিত হইবে, এবং তোমরা (ঈশ্বরের) পরাভবকারী নও।

আয়াতঃ ১৩৬⇒ তুমি বল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বীয় অবস্থানুযায়ী কারয করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও কারযকারক, অবশেষে অবশ্য তোমরা জানিতে পাইবে কোন ব্যক্তি যে তাহার জন্য পারলৌকিক নিকেতন হইবে, নিশ্চয় অত্যাচারীগণ মুক্ত হইবে না।

আয়াতঃ ১৩৭⇒ এবং তাহারা গ্রাম্য পশু হইতে যাহা উৎপাদন করিয়াছে তাহার অংশ পরমেশ্বরের জন্য রাখিয়াছে, পরে আপন মনে মনে বলিয়াছে যে, ইহা ঈশ্বরের জন্য এবং ইহা আমাদের অংশীদিগের (প্রতিমাদিগের) জন্য, পরন্তু যাহা অংশীদিগের জন্য হইয়াছে পরে তাহা ঈশ্বরের প্রতি প্রবর্তিত হয় না, এবং যাহা ঈশ্বরের নিমিত্ত পরে তাহা তাহাদের অংশীদিগের প্রতি প্রবর্তিত হয়; তাহারা যাহা নিষ্পত্তি করে তাহা অকল্যাণ।

আয়াতঃ ১৩৮⇒ এবং এইরুপ অংশীবাদীদিগের অধিক সংখ্যকের জন্য তাহাদের অংশীগণ তাহাদের সন্তানগণের হত্যা সজ্জিত করিয়াছিল, তাহাতে তাহাদিগকে বিনাশ করে এবং তাহাতে তাহাদের ধর্ম তাহাদের সম্বন্ধে মিশ্রিত করে, এবং যদি ঈশ্বর চাহিতেন তাহারা তাহা করিত না, অতএব তাহাদিগকে ও তাহারা যাহা প্রবর্তন করিতেছে তাহা পরিত্যাগ করে।

আয়াতঃ ১৩৯⇒ এবং তাহারা বলে যে, “এই চতুষ্পদ সকল ও ক্ষেত্র নিষিদ্ধ, যাহা আমরা আপন অন্তরে ইচ্ছা করি তাহা ব্যতীত ভক্ষন করি না;” কিন্তু এক চতুষ্পদ (আরোহণের জন্য) যাহার পৃষ্ঠ ও (কোরবানীর) চতুষ্পদ যাহার উপর ঈশ্বরের নাম উচ্চারিত হয় নাই, যদ্যপি অসত্যারোপ হইয়াছে বলিয়া নিষিদ্ধ, তাহারা যে অসত্যারপ করিতেছে তজ্জন্য অবশ্য তাহাদিগকে প্রতিফল প্রদান করা হইবে।

আয়াতঃ ১৪০⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে যে, “এই চতুষ্পদের গর্ভে যাহা আছে তাহা আমাদের পুরুষদিগের জন্য বৈধ, এবং আমাদের নারীগনের সম্বন্ধে অবৈধ,” কিন্তু যদি মরিয়া যায় তবে তাহারা তাহাতে অংশী, অবশ্য তিনি তাহাদের কথার প্রতিফল তাহাদিগকে দিবেন , নিশ্চয় তিনি নিপুন ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৪১⇒ যাহারা নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞানতাবশতঃ আপন সন্তানদিগকে হত্যা করিয়াছে সত্যই তাহারা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছে, এবং তাহারা ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করত ঈশ্বর তাহাদিগকে যাহা উপজীবিকা দিয়েছেন তাহা অবৈধ করিয়াছে, সত্যই তাহারা বিপথগামী হইয়াছে ও সৎপথগামী হয় নাই।

আয়াতঃ ১৪২⇒ এবং তিনিই যিনি সমুত্থাপিত ও অসমুত্থাপিত উদ্যান সকল এবং খোর্মাতরু ও শস্যক্ষেত্র যাহার খাদ্য বিভিন্ন এবং জয়তুন ও পরস্পর সদৃশ ও অসদৃশ দাড়িম্ব সৃষ্টি করিয়াছেন, তাহা যখন ফলবান হয় তাহার ফল ভোগ কর, এবং তাহার (শস্যের) কর্তন করিবার দিন তাহার স্বত্ব (সেদকা বা জকাত) প্রদান কর, এবং অনুচিত ব্যয় করিও না, নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ১৪৩⇒ এবং তিনি ভারবাহক ও ভূমিশায়ী চতুষ্পদদিগকে (সৃজন করিয়াছেন) ঈশ্বর তোমাদিগকে যাহা উপজীবিকারুপে দিয়াছেন তাহা ভক্ষন কর ও শয়তানের পদের অনুসরণ করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদের স্পষ্টশত্রু।

আয়াতঃ ১৪৪⇒ আট জোড়া (পশু সৃজন করিয়াছেন) দুই জোড়া মেষ এবং দুই জোড়া ছাগ; ব্ল (হে মোহাম্মদ) তিনি কি এই দুই পুংপশুকে বা এই দুই স্ত্রী পশুকে কিংবা এই দুই স্ত্রীপশুর জরায়ু যাহার উপর সংলগ্ন হইয়াছে তাহাকে অবৈধ করিয়াছেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও জ্ঞানানুসারে আমাকে সংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ১৪৫⇒ এবং দুই উষ্ট্র ও দুই গো (সৃজন করিয়াছেন) বল তিনি কি এই পুংপশুদ্বয়কে বা এই স্ত্রীপশুদ্বয়কে অথবা এই স্ত্রীপশুদ্বয়ের জরায়ু যাহার উপর সংলগ্ন হইয়াছে তাহাকে অবৈধ করিয়াছেন? যখন ঈশ্বর এ বিষয়ে তোমাদিগকে অনুশাসন করিয়াছিলেন তখন তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? অবশেষে অজ্ঞানতাপ্রযুক্ত মনুষ্যদিগকে বিপথগামী করিতে যে ব্যক্তি ঈশ্বর সম্বন্ধে অসত্য বন্ধন করে তাহা অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী কে? নিঃসন্দেহ ঈশ্বর অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ১৪৬⇒ বল, (হে মোহাম্মদ) যে বস্তু সম্বন্ধে আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছে তাহা শব অথবা নির্গত শোনিত কিংবা বরাহ মাংশ এতদ্বতীত যাহা, তদ্ভক্ষনে কোন ভক্ষকের প্রতি আমি নিষেধ প্রাপ্ত হই নাই; পরন্তু নিশ্চয় তাহা (শবাদি) মন্দ দ্রব্য, কিংবা যাহার উপর ঈশ্বর ব্যতীত (অন্যের) নাম গৃহীত হইয়াছে, তাহা অশুদ্ধ, কিন্তু যে ব্যক্তি (ক্ষুধায়) অবসন্ন হইয়া পরে, অমিতাচারী ও অত্যাচারী নয়, (তাহার পক্ষে বিধি) পরন্তু নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ১৪৭⇒ এবং ইহুদীদিগের প্রতি সমুদায় নখযুক্ত জন্তুকে আমি অবৈধ করিয়াছি, এবং গো ছাগের বসা যাহা ইহাদের পৃষ্ঠ বা অন্ত্র বহন করিতেছে কিংবা যাহা অস্থির সঙ্গে সংযুক্ত তদ্বতীত তাহাদের প্রতি অবৈধ করিয়াছি, ইহা আমি তাহাদের অবাধ্যতার জন্য তাহাদিগকে প্রতিফল দান করিয়াছি এবং নিশ্চয় আমি সত্যবাদী।

আয়াতঃ ১৪৮⇒ অনন্তর যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে বল, তোমাদের প্রতিপালক পরম দয়ালু, কিন্তু অপরাধী দল হইতে তাহার দন্ড নিবারিত হয় না।

আয়াতঃ ১৪৯⇒ অবশ্য অংশীবাদীগণ বলিবে যে, “ঈশ্বর যদি ইচ্ছা করিতেন আমরা অংশী নির্ধারণ করিতাম না ও আমাদের পিতৃপুরুষগণও করিত না, এবং আমরা কিছুই অবৈধাচরণ করিতাম না;” এইরুপ তাহাদের পূর্ববর্তী লোকেরা আমার শাস্তির আস্বাদ গ্রহন করা পর্যন্ত অসত্যারোপ করিয়াছে, তুমি বল, তোমাদের নিকটে কি কোন জ্ঞান আছে? তবে আমাদের জন্য প্রকাশ কর, তোমরা অনুমান ব্যতীত অনুসরণ কর নাও তোমরা মিথ্যাবাদী ভিন্ন নও।

আয়াতঃ ১৫০⇒ বল, অবশেষে ঈশ্বরের জন্য পূর্ণ প্রমান আছে, পরন্তু যদি ঈশ্বর চাহিতেন তোমাদিগকে একত্র পথ প্রদর্শন করিতেন।

আয়াতঃ ১৫১⇒ যাহারা সাক্ষ্য দান করিতেছে যে, ঈশ্বর ইহা অবৈধ করিয়াছেন, তাহাদিগকে বল, তোমরা আপন সাক্ষ্য উপস্থিত কর, অতঃপর (হে মোহাম্মদ) যদি তাহারা সাক্ষ্য দান করে, তুমি তাহাদের সঙ্গে সাক্ষ্য দান করিও না ও যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, এবং যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে না, তুমি তাহাদের ইচ্ছার অনুসরণ করিও না, তাহারা স্বীয় প্রতিপালকের সঙ্গে অংশী স্থাপন করে।

আয়াতঃ ১৫২⇒ বল, তোমরা এস, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি যাহা অবৈধ করিয়াছেন পাঠ কর, যথা; – “তাঁহার সঙ্গে কোন বস্তুকে অংশী নির্ধারণ করিও না ও পিতামাতার প্রতি সদাচারন করিও, এবং দরিদ্রতা প্রযুক্ত আপন সন্তানদিগকে বধ করিও না; আমি তোমাদিগকে ও তাহাদিগকে জীবিকা দান করিতেছি; এবং যাহা প্রকাশ্য কুক্রিয়া ও যাহা গুপ্ত তাহার নিকটবর্তী হইও না, ন্যায়ের অনুরোধ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করিও না;” ঈশ্বর যাহা অবৈধ করিয়াছেন ইহাই, এতদ্দারা তিনি তোমাদিগকে উপদেশ দিয়াছেন, ভরসা যে তোমরা হৃদয়ঙ্গম করিবে।

আয়াতঃ ১৫৩⇒ যে পর্যন্ত স্বীয় যৌবন অবস্থা প্রাপ্ত নহে, সে পর্যন্ত যাহাতে উপকার হইয়া থাকে সেই ভাবে ভিন্ন নিরাশ্রয়ের সম্পত্তির নিকটবর্তী হইও না; এবং ন্যায়ানুসারে তুল ও পরিমাণ পূর্ণ করিও; আমি কোন ব্যক্তিকে তাহার ক্ষমতার অতীত ক্লেশ দান করি না, এবং যখন তোমরা কথা বলিবে স্বগণ হইলেও (তাহার পক্ষে) ন্যায়াচরন করিও, এবং ঈশ্বরের অঙ্গীকারকে পূর্ণ করিও; ইহাই, এতদ্দারা তিনি তোমাদিগকে উপদেশ দিয়াছেন, ভরসা যে, তোমরা উপদেশ গ্রাহ্য করিবে।

আয়াতঃ ১৫৪⇒ এবং (বলিয়াছেন) ইহাই আমার সরল পথ, অতএব ইহার অনুসরণ কর, বহুপথের অনুসরণ করিও না, তবে তাহা তোমাদিগকে তাঁহার পথ হইতে বিচ্ছিন্ন করিবে; ইহাই, এতদ্দারা তিনি তোমাদিগকে উপদেশ দিয়াছেন, ভরসা যে তোমরা ধর্মভীরু হইবে।

আয়াতঃ ১৫৫⇒ অতঃপর (বলিতেছি) যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদের প্রতি (সম্পদ) পূর্ণ করিতে ও সমুদায় বিষয় এবং উপদেশ ও করুণা বিস্তারিত ব্যক্ত করিতে আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি, ভরসা যে, তাহারা আপন পরমেশ্বরের সঙ্গে সম্মিলনবিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করিবে।

আয়াতঃ ১৫৬⇒ এবং এই এক গ্রন্থ (কোরআন) ইহাকে আমি উন্নতিবিধায়করুপে অবতারন করিয়াছি, অতএব ইহার অনুসরণ কর ও ধর্মভীরু হও, ভরসা যে, তোমরা দয়া প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৫৭⇒ (হে আরবীয় লোক, এরুপ না হউক) তোমরা যে বলিবে আমাদের পূর্ববর্তী দুই সম্প্রদায়ের প্রতি ভিন্ন গ্রন্থ অবতারিত হয় নাই, বস্তুতঃ তাহাদের অধ্যায়নে আমরা অনুগত ছিলাম।

আয়াতঃ ১৫৮⇒ অথবা যে বলিবে যদি আমাদের প্রতি গ্রন্থ অবতারিত হইত তবে অবশ্য তাহাদিগের অপেক্ষা আমরা সৎপথগামী হইতাম; পরন্তু সত্যই তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের প্রতি প্রমান, উপদেশ ও দয়া উপস্থিত হইয়াছে, যে ব্যক্তি ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ও তাহা হইতে বিমুখ হইতেছে, অবশেষে কে তাহা অপেক্ষা অধিকতর অত্যাচারী? অবশ্য যাহারা আমার নিদর্শন সকলকে অগ্রাহ্য করিতেছে, অগ্রাহ্য করিতেছে হেতু আমি তাহাদিগকে কুৎসিত শাস্তি দান করিব।

আয়াতঃ ১৫৯⇒ দেবতাগণ তাহাদের নিকটে আগমন করুন, কিংবা তোমার প্রতিপালকের অপর কোন নিদর্শন উপস্থিত হউক ইহা ব্যতীত তাহারা প্রতীক্ষা করে না, যে দিবস তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন উপস্থিত হইবে সে দিবস কোন ব্যক্তিকে যে পূর্বে বিশ্বাস স্থাপন করে নাই, অথবা যে আপন বিশ্বাসেতে কল্যাণ উপার্জন করে নাই তাহার বিশ্বাস উপকৃত করিব না, তুমি বল, প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় আমরাও প্রতীক্ষা করিতেছি।

আয়াতঃ ১৬০⇒ নিশ্চয় যাহারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড খন্ড করে ও দলে দলে বিভক্ত হয় কোন বিষয়ে তুমি তাহাদিগের নও, তাহাদের কারয পরমেশ্বরের প্রতি (অর্পিত) বৈ নহে, তাহারা যাহা করিতেছে তৎপর তিনি তাহাদিগকে জ্ঞাপন করিবেন।

আয়াতঃ ১৬১⇒ যে ব্যক্তি সাধুতা আনয়ন করিয়াছে পরে তাঁহার জন্য উহার অনুরুপ দশ গুন (পুরস্কার) এবং যে ব্যক্তি অসাধুতা আনয়ন করিয়াছে পরে তাহাকে তদনুরুপ ব্যতীত বিনিময় দেওয়া যাইবে না, এবং তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ১৬২⇒ বল, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সরল পথের দিকে আমাকে পথ দেখাইয়াছেন, (বল) প্রকৃত ধর্ম – সত্যে প্রতিষ্ঠিত এব্রাহিমের ধর্ম (পালন করিতেছি) তিনি অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত ছিলেন না।

আয়াতঃ ১৬৩⇒ বল, নিশ্চয় আমার নমাজ ও আমার সাধনা এবং আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্বপালক ঈশ্বরের জন্য।

আয়াতঃ ১৬৪⇒ এবং তাঁহার অংশী নাই, এবং এ বিষয়ে আমি আদিষ্ট হইয়াছি ও আমি প্রথম মোসলমান।

আয়াতঃ ১৬৫⇒ বল, আমি কি পরমেশ্বরকে ছাড়িয়া অন্য প্রতিপালক অন্বেষণ করিব? তিনি সমুদায় পদার্থের প্রতিপালক, কোন ব্যক্তি আপনার সম্বন্ধে ভিন্ন কারয করে না, কোন ভারবাহক অন্যের ভার বহন করে না; অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের দিকে তোমাদের প্রতিগমন হইবে, অনন্তর তোমরা তৎপ্রতি যে অন্যথাচরণ করিয়াছ তোমাদিগকে তাহার সংবাদ দেওয়া যাইবে।

আয়াতঃ ১৬৬⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদিগকে পৃথিবীর অধিপতি করিয়াছেন তোমাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তদ্বিষয়ে তোমাদিগকে পরীক্ষা করিতে কাহার উপরে তোমাদের কাহাকে পদোন্নত করিয়াছেন, নিশ্চয় (হে মোহাম্মদ) তোমার প্রতিপালক শাস্তিদানে সত্বর, এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *