সূরাঃ ইয়ূনস

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ০১⇒ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থের এই আয়াত অটল।

আয়াতঃ০২⇒ মনুষ্যের পক্ষে ইহা কি আশ্চর্য হয় যে, আমি তাহাদের মধ্যে এক ব্যক্তির প্রতি (এই) প্রত্যাদেশ করি যে, তুমি লোকদিগকে ভয় প্রদর্শন কর, এবং যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদিগকে সুসংবাদ দান কর যে, তাহাদের জন্য তাহাদিগের প্রভুর নিকটে সমুচিত পদোন্নতি আছে, কাফেরগণ বলিল যে, নিশ্চয় এ স্পষ্ট ঐন্দ্রজালিক।

আয়াতঃ০৩⇒ সত্যই তোমাদের প্রতিপালক সেই পরমেশ্বর যিনি ছয় দিনে স্বর্গমর্ত সৃজন করিয়াছেন, তদনন্তর কার্য নির্বাহ করিতে সিংহাসনের উপর স্থিতি করিতেছেন তাঁহার আদেশ হওয়ার পরে ব্যতীত কোন শাফি (মুক্তির অনুরোধকারী) নহে, ইনিই তোমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বর, অতএব ইহাকে অর্চনা কর, পরন্তু তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ০৪⇒ তাঁহার দিকে তোমাদের সকলের পুনর্গমন; ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, নিশ্চয় তিনি প্রথম বারে সৃষ্টি করেন, অতঃপর যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও ন্যায়ানুসারে সৎকর্ম করিয়াছে তাহাদিগকে পুরস্কার দান করিতে দ্বিতীয়বার তাহা করিয়া থাকেন, এবং যাহারা বিদ্রোহীচরণ করিয়াছে তাহাদের নিমিত্ত তাহারা বিদ্রোহী ছিল বলিয়া উষ্ণ জল ও দঃখকর শাস্তি আছে।

আয়াতঃ০৫⇒ তিনিই যিনি সূর্যকে জ্যোতির্ময় ও চন্দ্রকে উজ্জল করিয়াছেন, এবং তাহার (চন্দ্রের) জন্য স্থান সকল নিরুপিত করিয়াছেন, যেন তোমরা বৎসরের গণনা ও হিসাব জানিতে পার, পরমেশ্বর সত্যরুপে ব্যতীত ইহাকে সৃজন করেন নাই, জ্ঞানবান লোকদিগের জন্য তিনি নিদর্শন সকল বর্ণনা করেন।

আয়াতঃ০৬⇒ নিশ্চয় দিবা-রজনীর গমনাগমনে এবং ঈশ্বর ভূমণ্ডলে ও নভোমণ্ডলে যাহা সৃজন করিয়াছেন তাহাতে, ধর্মভীরুদলের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ০৭+০৮⇒ নিশ্চয় যাহারা আমার সাক্ষাৎকারের আশা রাখে না ও পার্থিব জীবনে সন্তুষ্ট এবং তদ্দারা সুখবোধ করিয়াছে, এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি উদাসীন, এই সকলেই, ইহারা যাহা করিয়াছে তজ্জন্য ইহাদের স্থান নরকাগ্নি হয়।

আয়াতঃ০৯⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে, তাহাদের বিশ্বাসের নিমিত্ত তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করেন, সম্পদের স্বর্গদ্যান সকলে যাহাদের নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়।

আয়াতঃ১০⇒ তথায় তাহাদের ধ্বনি “হে ঈশ্বর, তোমারই পবিত্রতা”; তথায় তাহাদের পরস্পর কুশলাশীর্বাদ সেলাম হয়, এবং তাহাদের শেষ ধ্বনি এই যে, “বিশ্বপালক পরমেশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা”।

আয়াতঃ১১⇒ যদি পরমেশ্বর মানবমণ্ডলীর জন্য তাহারা যেমন সত্বর কল্যাণ চাহে, তদ্রূপ সত্বর দুর্গতি প্রেরন করেন, তবে অবশ্য তাহাদের প্রতি তাহাদিগের বিধি সম্পাদিত হয়; অবশেষে যাহারা আমার সাক্ষাৎকারের আশা রাখে না, আমি তাহাদিগকে তাহাদিগের অবাধ্যতাতে ঘূর্ণায়মান হইতে ছাড়িয়া দি।

আয়াতঃ১২⇒ যখন মনুষ্যকে দুঃখ আক্রমণ করে তখন যে পার্শ্বশায়ী হইয়া অথবা বসিয়া কিংবা দন্ডায়মান হইয়া আমাকে আহ্বান করে, অনন্তর যখন আমি তাহা হইতে তাহার দুঃখ উন্মোচন করি তখন সে চলিয়া যায়, তাহাকে যে দুঃখ প্রাপ্ত হইয়াছিল তাহাতে সে যেন আমাকে ডাকে নাই; এইরুপ সীমালঙ্ঘনকারীদিগের জন্য তাহারা যাহা করিতেছিল তাহা সজ্জিত হইয়াছে।

আয়াতঃ১৩⇒ এবং নিশ্চয় আমি তোমাদের পূর্বে যখন অত্যাচার করিয়াছিল তখন বহু গ্রামকে (গ্রামবাসীদিগকে) বিনাশ করিয়াছি, নিদর্শন সকল সহ তাহাদের প্রেরিত পুরুষ তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইয়াছিল ও তাহারা (এরুপ) ছিল না যে, বিশ্বাস স্থাপন করে; এই প্রকারে আমি অপরাধী দলকে প্রতিফল দান করি।

আয়াতঃ১৪⇒ তদনন্তর আমি তাহাদিগের পরে ধরাতলে তোমাদিগকে স্থলাভিষিক্ত করিয়াছি, তাহাতে দেখিব তোমরা কি প্রকার কার্য কর।

আয়াতঃ১৫⇒ এবং যখন আমার উজ্জল প্রবচন সকল তাহাদের নিকটে পঠিত হয় তখন যাহারা আমার সাক্ষাৎকারের আশা রাখে না, তাহারা বলে, “ইহা ব্যতীত অন্য কোরআন উপস্থিত কর, অথবা ইহার পরিবর্তন কর;” তুমি বলিও, (হে মোহাম্মদ) আমার (ক্ষমতা) নাই যে নিজের পক্ষ হইতে ইহার পরিবর্তন করি, আমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ হয় তদ্ভিন্ন আমি অনুসরণ করি না, নিশ্চয় আমি আপন প্রতিপালকের বিরুদ্ধাচরণ করিতে মহাদিনের শাস্তিকে ভয় করি।

আয়াতঃ১৬⇒ তুমি বল, যদি ঈশ্বর চাহিতেন আমি তোমাদের নিকটে যাহা পাঠ করিতাম না, এবং তিনি তৎসম্বন্ধে তোমাদিগকে জ্ঞাপন করিতেন না, পরন্তু নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে ইহার পূর্বে এক জীবন স্থিতি করিয়াছি, পরন্তু তোমরা কি জানিতেছ না?

আয়াতঃ১৭⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি অসত্য বন্ধন করিয়াছে, এবং তাঁহার নিদর্শন সকলকে অসত্য বলিয়াছে, তাহা অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী কে? নিঃসন্দেহ অপ্রাধিগণ উদ্ধার পায় না।

আয়াতঃ১৮⇒ এবং তাহারা ঈশ্বর ব্যতীত সেই বস্তুর অর্চনা করে যাহা তাহাদিগের অপকার ও তাহাদিগের উপকার করে না, এবং তাহারা বলে, “ইহারাই ঈশ্বরের নিকটে আমাদিগের মুক্তির জন্য অনুরোধকারী;” তুমি বল, তোমরা কি পরমেশ্বরকে তাহা জ্ঞাপন করিতেছ যাহা তিনি স্বর্গ-মর্তে অবগত নহেন? পবিত্রতা তাঁহারই ও তাহারা যাহাদিগকে অংশীস্থাপন করে তিনি তদপেক্ষা উন্নত।

আয়াতঃ১৯⇒ এবং মনুষ্য একমাত্র সম্প্রদায় ভিন্ন ছিল না, পরে বিভিন্ন হইয়াছে, এবং যদি সেই এক উক্তি যাহা তোমার প্রতিপালক হইতে পূর্বে হইয়াছে তাহা না হইত, তবে যে বিষয়ে তাহারা বিভিন্ন হইয়াছে তদ্বিষয়ে তাহাদের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যাইত।

আয়াতঃ২০⇒ এবং তাহারা বলে, “কেন তাহার প্রতি তাহার প্রতিপালক হইতে কোন নিদর্শন (অলৌকিকতা) অবতীর্ণ হইল না;” অতঃপর তুমি বল যে, অন্তর্জগৎ ঈশ্বরের বৈ নহে; তবে তোমরা প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষাকারীদিগের একজন।

আয়াতঃ২১⇒ যখন আমি লোকদিগকে তাহাদিগের দুঃখ প্রাপ্তির পর অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তখন অকস্মাৎ আমার নিদর্শন সকল সম্বন্ধে তাহাদিগের চক্রান্ত হয়; বল, ঈশ্বর দ্রুত চক্রান্তকারী; নিশ্চয় তোমরা যে চক্রান্ত করিতেছ আমার প্রেরিতগণ তাহা লিখিতেছে।

আয়াতঃ২২⇒ তিনিই যিনি তোমাদিগকে স্থলপথে ও সমুদ্রে পরিচালিত করেন, যে পর্যন্ত নৌকা সকলের মধ্যে তোমরা থাক, এবং অনুকুল বায়ুযোগে তাহাদের সঙ্গে (নৌকা) চলিতে থাকে ও তদ্দারা তাহারা আহ্লাদিত, (অকস্মাৎ) এমন অবস্থায় প্রতিকুল বায়ু সংক্রামিত হয় ও সকল স্থান হইতে তরঙ্গ তাহাদের প্রতি উপস্থিত হয়, এবং যখন তাহারা জানে যে তাহাদিগকে (বিপদ) ঘেরিয়াছে, তখন তাহারা ঈশ্বরকে তাঁহার জন্য ধর্ম বিশোধিত করিয়া আহ্বান করে যে, “যদি তুমি আমাদিগকে ইহা হইতে উদ্ধার কর অবশ্য আমরা ধন্যবাদকারী হইব।“

আয়াতঃ২৩⇒ পরে যখন তিনি তাহাদিগকে উদ্ধার করেন তখন অকস্মাৎ তাহারা পৃথিবীতে অন্যায়রুপে অবাধ্যতাচরণ করে; হে লোক সকল, তোমাদের অবাধ্যতা তোমাদিগের জীবন সম্বন্ধে ভিন্ন নহে, পার্থিব জীবনের ভোগ গ্রহণ করিতে থাক, তৎপর আমার দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, অনন্তর তোমরা যাহা করিতেছিলে আমি তাহা তোমাদিগকে জ্ঞাপন করিব।

আয়াতঃ২৪⇒ পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত; – যেমন বারি এতদ্ভিন্ন নহে, আমি তাহা আকাশ হইতে অবতারন করি, পরে যাহা হইতে মনুষ্য ও চতুষ্পদগণ ভক্ষন করে, পৃথিবীর সেই উদ্ভিদ তাহার সঙ্গে মিশ্রিত হয়, যতক্ষন পর্যন্ত ভূমি আপন সৌন্দর্য আনয়ন করে ও সজ্জিত হয়, এবং তন্নিবাসীগণ মনে করে যে, তাহারা তাহার উপর ক্ষমতাশালী; ততক্ষণ তৎপ্রতি আমার আজ্ঞা অহর্নিশি উপস্থিত হয়, অনন্তর তাহাকে আমি ছিন্নমূল ক্ষেত্র করি, যেন তাহা পূর্ব দিবস ছিল না; যাহারা চিন্তা করে তাহাদের জন্য আমি এইরুপ নিদর্শন স্ক বর্ণন করিয়া থাকি।

আয়াতঃ২৫⇒ এবং ঈশ্বর শান্তিনিকেতনের দিকে আহ্বান করেন ও তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় সরল পথের দিকে আলোকদান করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ২৬⇒ যাহারা সৎকর্ম করিয়াছে তাহাদেরই কল্যাণ ও উন্নতি; কালিমা ও দুর্গতি তাহাদের আননকে আচ্ছাদন করে না, এই সকল স্বর্গলোকনিবাসী, ইহারা তথাকার নিত্যনিবাসী।

আয়াতঃ২৭⇒ যাহারা মলিনতা উপার্জন করিয়াছে তাহাদের বিনিময়ও তৎসদৃশ মলিনতা, এবং দুর্গতি তাহাদিগকে আচ্ছাদন করে, ঈশ্বর হইতে তাহাদিগের আশ্রয় দানকারী কেহ নাই, তাহাদের মুখ যেন তিমিরাবৃত রজনীখন্ডে আচ্ছাদিত হইয়াছে, এই সকল নরকলোকনিবাসী, ইহারা তথাকার চিরনিবাসী।

আয়াতঃ২৮⇒ যে দিবস আমি তাহাদের সকলকে সমুত্থাপন করিব (সেই দিনকে ভয় করিও) তৎপর অংশীবাদীদিগকে বলিব যে, তোমাদের অংশীগণ ও তোমরা স্বস্থানে দন্ডায়মান হও, অনন্তর তাহাদিগের মধ্যে বিচ্ছেদ আনয়ন করিব, এবং তাহাদের অংশীগণ বলিবে যে, “তোমরা আমাদিগকে পূজা করিতে না।

আয়াতঃ২৯⇒ অনন্তর তোমাদের ও আমাদের মধ্যে ঈশ্বরই যথেষ্ট সাক্ষী, নিশ্চয় তোমাদের পূজা বিষয়ে আমরা অজ্ঞাত।

আয়াতঃ৩০⇒ তথায় প্রত্যেক ব্যক্তি যাহা পূর্বে করিয়াছিল পরীক্ষা করিয়া লইবে, এবং ঈশ্বরের দিকে তাহাদের প্রকৃত প্রভু প্রত্যাবর্তিত হইবে, এবং তাহারা যে (অসত্য) বাঁধিতেছিল তাহাদিগ হইতে তাহা বিলুপ্ত হইবে।

আয়াতঃ৩১⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর যে, কে তোমাদিগকে আকাশ ও পৃথিবী হইতে উপজীবিকা দান করে? অথবা কে চক্ষু কর্ণের অধিপতি? ও কে মৃত হইতে জীবিতকে এবং জীবিত হইতে মৃতকে বাহির করে, এবং কে কার্য সাধন করে? অনন্তর অবশ্য তাহারা বলিবে যে, ঈশ্বর, পরে তুমি বলিও, অবশেষে তোমরা কি ভয় পাইতেছ না?

আয়াতঃ৩২⇒ অতএব ইনিত তোমাদের প্রতিপালক সত্য পরমেশ্বর, অনন্তর সত্যের পশ্চাৎ পথভ্রান্তি ব্যতীত কি আছে? অবশেষে কোথা হইতে তোমরা ফিরিয়া যাইতেছ?

আয়াতঃ৩৩⇒ এইরুপে যাহারা দূরাচারী হইয়াছে তাহাদের প্রতি (হে মোহাম্মদ) তোমার প্রতিপালকের বাক্য প্রমানিত হইয়াছে যে, তাহারা বিশ্বাস করে না।

আয়াতঃ৩৪⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, তোমাদের অংশীদিগের কেহ কি আছে যে, সে নূতন সৃজন করে, তৎপর তাহা দ্বিতীয়বার করিবে? বলিও যে ঈশ্বরই নূতন সৃজন করেন, তৎপর তাহা দ্বিতীয়বার করিয়া থাকেন, অবশেষে তোমরা কোথা হইতে ফিরিয়া যাইতেছ?

আয়াতঃ৩৫⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, তোমাদের অংশীদিগের মধ্যে কে হ কি আছে যে, সত্যের দিকে পথ প্রদর্শন করে, বল, ঈশ্বরই সত্যের দিকে পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন, অনন্তর যিনি সত্যের দিকে পথ প্রদর্শন করেন তিনি অনুসৃত হইতে সমধিক উপযুক্ত, না যে ব্যক্তি পথ প্রদর্শন ব্যতীত পথ প্রাপ্ত হয় না সে? পরন্তু তোমাদের জন্য কি আছে? তোমরা কিরুপ আদেশ করিতেছ?

আয়াতঃ৩৬⇒ তাহাদের অধিকাংশ লোকে অনুমান ব্যতীত অনুসরণ করে না, নিশ্চয় অনুমানে সত্যের কিছুই লাভ হয় না, তাহারা যাহা করিতেছে সত্যই ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ৩৭⇒ এবং এই কোরআন (এরুপ) নহে যে, ঈশ্বর ব্যতীত অন্যে রচনা করে, কিন্তু যাহা (বাইবেলাদি) ইহার সাক্ষাতে আছে এ তাহার প্রমানকারী, এবং এ-বিষয়ে নিঃসন্দেহ যে, বিশ্বপালক হইতে এই গ্রন্থের বিবৃতি।

আয়াতঃ৩৮⇒ তাহারা কি বলিতেছে যে, তাহা রচনা করিয়াছে? বল, তবে ইহার সদৃশ একটি সূরা উপস্থিত কর, এবং যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে ঈশ্বর ব্যতীত যাহাকে ক্ষমতা হয় আহ্বান কর।

আয়াতঃ৩৯⇒ বরং যাহা তাহাদের জ্ঞানের বিষয়ীভূত হয় না তাহারা তাহাকে মিথ্যা বলিয়াছে, এবং তাহাদের নিকটে তাহার ব্যাখ্যা সমাগত হয় নাই, এইরুপ তাহাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও অসত্যারোপ করিয়াছে, তৎপর দেখ অতযাচারীদিগের পরিণাম কিরুপ হইয়াছে।

আয়াতঃ৪০⇒ এবং তাহাদের মধ্যে কেহ আছে যে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাহাদের মধ্যে কেহ আছে যে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, এবং তোমার প্রতিপালক অত্যাচারীদিগকে উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ৪১⇒ এবং যদি তাহারা তোমার প্রতি অসত্যারোপ করে তবে তুমি বলিও আমার জন্য আমার কার্য ও তোমাদের জন্য তোমাদের কার্য, আমি যাহা করি তাহা হইতে তোমরা বিমুক্ত ও তোমরা যাহা কর তাহা হইতে আমি বিমুক্ত।

আয়াতঃ৪২⇒ এবং তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ আছে যে, তোমার প্রতি কর্ণপাত করে, তাহারা যদিচ বুঝিতেছে না তথাপি তুমি কি বধিরকে শুনাইতেছ?

আয়াতঃ৪৩⇒ এবং তাহাদের মধ্যে কেহ আছে যে, তোমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে, এবং যদিচ তাহারা দর্শন করিতেছে না তথাপি তুমি কি অন্ধকে পথ প্রদর্শন করিতেছ?

আয়াতঃ৪৪⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর মনুষ্যের প্রতি কিছুই অত্যাচার করেন না, কিন্তু মনুষ্য আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করে।

আয়াতঃ৪৫⇒ এবং যে দিবস তিনি তাহাদিগকে সমুত্থাপন করিবেন তখন তাহারা যেন দিবসের এক ঘণ্টা বৈ বিলম্ব করে নাই, তাহারা পরস্পরকে চিনিবে, যাহারা পরমেশ্বরের সাক্ষাৎকারের বিষয়ে অসত্যারোপ করিয়াছে নিশ্চয় তাহারা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছে, তাহারা পথপ্রাপ্ত হয় নাই।

আয়াতঃ৪৬⇒ এবং আমি তাহাদের সঙ্গে যে অঙ্গীকার করিয়াছি তাহার কিছু যদি তোমাকে প্রদর্শন করি, কিংবা তোমার প্রাণ হরণ করি, পরে আমার দিকেই তাহাদিগের প্রত্যাবর্তন, অনন্তর তাহারা যাহা করিতেছে, তৎসম্বন্ধে ঈশ্বর সাক্ষী।

আয়াতঃ৪৭⇒ প্রত্যেক ধর্মসম্প্রদায়ের জন্য এক জন প্রেরিত পুরুষ আছেন, তাহাদের প্রেরিতপুরুষ যখন উপস্থিত হয় তখন তাহাদের মধ্যে ন্যায়ানুসারে বিচার নিষ্পত্তি করা হইয়া থাকে, এবং তাহারা অত্যাচারগ্রস্থ হয় না।

আয়াতঃ৪৮⇒ তাহারা বলে, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে (বল ত কবে এই অঙ্গীকার পূর্ণ হইবে)।

আয়াতঃ৪৯⇒ তুমি বল যে, ঈশ্বরের ইচ্ছা ব্যতীত আমি আপন জীবনের জন্যক্ষতি বৃদ্ধি করিতে সুক্ষম নহি, প্রত্যেক ধর্মসম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কাল আছে, যখন তাহাদের নির্ধারিত কাল উপস্থিত হয় তখন তাহারা এক ঘণ্টা বিলম্ব করে না ও অগ্রবর্তীও হয় না।

আয়াতঃ৫০⇒ তুমি বল, তোমরা কি দেখিলে, যদি দিবা বা রজনীতে তাঁহার শাস্তি তোমাদের নিকটে উপস্থিত হয়, পাপিগণ তাহার কোনটিকে সত্বর চাহিবে?

আয়াতঃ৫১⇒ পরে যখন তাহা উপস্থিত হইবে তখন কি তোমরা তৎপ্রতি বিশ্বাসী হইবে? (তৎকালে বলা হইবে) এক্ষন (কি তোমরা বিশ্বাসী হইতেছ) এবং বস্তুতঃ তোমরা (উপহাস পূর্বক) তাহা সত্বর চাহিতেছিলে?

আয়াতঃ৫২⇒ তদনন্তর যাহারা অত্যাচার করিয়াছে তাহাদিগকে বলা হইবে তোমরা নিত্যশাস্তি আস্বাদন কর, যাহা তোমরা উপার্জন করিয়াছ তদ্ভিন্ন তোমাদিগকে বিনিময় দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ৫৩⇒ তোমাকে তাহারা জিজ্ঞাসা করিবে, ইহা কি সত্য? তুমি বলিও, হ্যাঁ আমার প্রতিপালকের শপথ, নিশ্চয় ইহা সত্য, এবং তোমরা (ঈশ্বরের) পরাভবকারী নও।

আয়াতঃ৫৪⇒ এবং যদি পৃথিবীতে যাহা আছে তাহা প্রত্যেক অত্যাচারী ব্যক্তির হয় তবে অবশ্য তাহারা তাহা “ফদিয়া” (শাস্তির বিনিময়) স্বরূপ প্রদান করিবে, যখন তাহারা শাস্তি দর্শন করিবে তখন (লজ্জাপ্রযুক্ত বন্ধুগণ হইতে) অনুতাপ গোপন করিবে, ন্যায়ানুসারে তাহাদের মধ্যে বিচারনিষ্পত্তি হইবে ও তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ৫৫⇒ জানিও, নিশ্চয় স্বর্গে ও মর্তে যাহা আছে তাহা ঈশ্বরের, জানিও নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ অবগত নহে।

আয়াতঃ৫৬⇒ তিনি প্রাণ দান করেন ও প্রাণ হরণ করেন, এবং তাহার প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ⇒ ৫৭ হে লোক সকল, সত্যই তোমাদের প্রতিপালক হইতে উপদেশ ও যাহা তোমাদের অন্তরে আছে তাহার আরোগ্য উপস্থিত হইয়াছে, পথপ্রদর্শন ও অনুগ্রহ বিশ্বাসীদিগের জন্য।

আয়াতঃ৫৮⇒ বল, (হে মোহাম্মদ) ঈশ্বরের অনুকম্পায় ও তাঁহার অনুগ্রহেই (উপদেশাদি অবতীর্ণ) অতএব ইহা দ্বারা আনন্দিত হওয়া বিধেয়, যাহা তোমরা সঞ্চয় করিতেছ তদপেক্ষা ইহা যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ৫৯⇒ বল, ঈশ্বর তোমাদের জন্য উপজীবিকার যাহা কিছু অবতারন করিয়াছেন তাহা হইতে তোমরা কি দেখিয়া (কতক) বৈধ ও (কতক) অবৈধ করিয়াছ? তুমি জিজ্ঞাসা কর যে, ঈশ্বর কি তোমাদিগকে (এরুপ) আজ্ঞা করিয়াছেন, কিংবা তাহারা ঈশ্বরের প্রতি অসত্য বন্ধন করে, কেয়ামতের দিনে তাহাদের অনুমান কি? নিশ্চয় ঈশ্বর মানবমণ্ডলীর প্রতি কৃপাবান, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা দান করে না।

আয়াতঃ৬০⇒ বলো, তোমরা আমাকে বল, আল্লাহ তোমাদেরকে জীবনের যে উপকরণ দিয়েছেন, তোমরা যে তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম করেছ আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেছ?

আয়াতঃ৬১⇒ তুমি (হে মোহাম্মদ) এমন কোন ভাবে থাক না ও তাঁহা হইতে (ঈশ্বর হইতে) কোরআনের কিছু অধ্যায়ন কর না, এবং তোমরা (হে লোক সকল) এমন কোন কার্যানুষ্ঠান কর না, যখন তাহাতে প্রবৃত্ত হও, তোমাদের নিকটে আমি সাক্ষী থাকি না, স্বর্গ ও পৃথিবীতে বিন্দু পরিমাণ কিছুই তোমার প্রতিপালক হইতে প্রচ্ছন্ন হয় না, এবং উজ্জল গ্রন্থে (লিপি) ব্যতীত ইহার ক্ষুদ্রতর ও বৃহত্তর কিছুই নাই।

আয়াতঃ৬২⇒ জানিও, ঈশ্বরের প্রেমিকগণের উপর কোন ভয় নাই, তাহারা শোকগ্রস্থ হইবে না।

আয়াতঃ৬৩+৬৪⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও ধর্মভীরু হইয়াছে পার্থিব জীবনে পরলোকে তাহাদের জন্য সুসংবাদ; ঈশ্বরের বাক্যে পরিবর্তন নাই, ইহাই মহা ফললাভ।

আয়াতঃ৬৫⇒ এবং তাহাদের (কাফেরদের) বাক্য তোমাকে (হে মোহাম্মদ) দুঃখিত না করুক, নিশ্চয় ঈশ্বরেরই সম্পূর্ণ প্রভাব, তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ৬৬⇒ জানিও, নিশ্চয় স্বর্গে যে কেহ আছে ও পৃথিবীতে যে কেহ আছে সে ঈশ্বরের, এবং যাহারা অংশীদিগকে আহ্বান করে তাহারা (ঈশ্বরের) অনুবর্তন করে না, তাহারা কল্পনার অনুসরণ বৈ করে না, এবং তাহারা মিথ্যাবাদী ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ৬৭⇒ তিনিই যিনি তোমাদের জন্য রজনীকে সৃজন করিয়াছেন যেন তোমরা তাহাতে বিশ্রাম লাভ কর, এবং দিবাভাগকে আলোকময় করিয়াছেন, নিশ্চয় শ্রবন করে এমন দলের জন্য ইহাতে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ৬৮⇒ তাহারা বলে যে, “ঈশ্বর পুত্র গ্রহণ করিয়াছেন;” পবিত্রতা তাঁহার, তিনি নিষ্কাম, পৃথিবীতে যে কিছু আছে ও স্বর্গেতে যে কিছু আছে তাহা তাঁহারাই, সেই বিষয়ে তোমাদের নিকটে কোন প্রমান নাই, ঈশ্বর সম্বন্ধে তোমরা যাহা জ্ঞাত নহ তাহা কি বলিতেছ?

আয়াতঃ৬৯⇒ বল, নিশ্চয় যাহারা ঈশ্বরের প্রতি অসত্য আরোপ করে তাহারা উদ্ধার পাইবে না।

আয়াতঃ৭০⇒ পৃথিবীতে (তাহাদের) ভোগ, তৎপর আমার প্রতি তাহাদিগের প্রত্যাবর্তন হইবে, তদনন্তর তাহারা যে ধর্মদ্রোহীতা করিতেছিল তজ্জন্য আমি তাহাদিগকে গুরুতর শাস্তি আস্বাদন করাইব।

আয়াতঃ৭১⇒ এবং তুমি তাহাদিগের নিকটে নূহার সংবাদ পাঠ কর, যখন সে আপন সম্প্রদায়কে বলিল যে, “হে আমার সম্প্রদায়, যদি আমার (উপদেশদানার্থ) অবস্থান এবং ঈশ্বরের নিদর্শন সকল সম্বন্ধে আমার উপদেশ দান তোমাদিগের প্রতি কঠিন হয় তবে আমি ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করিলাম, অবশেষে তোমরা আপনাদের কার্য সকল ও আপনাদের অংশী সকলকে সমবেত কর, তদনন্তর তোমাদের কার্য তোমাদের সম্বন্ধে গুপ্ত না থাকুক, তৎপর আমার প্রতি (সেই কার্য) সম্পাদন কর, এবং আমাকে অবকাশ দান করিও না।

আয়াতঃ৭২⇒ অনন্তর যদি তোমরা (উপদেশ) অগ্রাহ্য কর, তবে আমি তোমাদের নিকট কিছুই পারিশ্রমিক চাহি না, ঈশ্বরের নিকটে ভিন্ন আমার পারিশ্রমিক নাই, আমি মোসলমানদিগের অন্তর্গত হইতে আদিষ্ট হইয়াছি।

আয়াতঃ৭৩⇒ অনন্তর তাহারা তাঁহার প্রতি অসত্যারোপ করিল, পশ্চাৎ আমি তাহাকে  ও তাঁহার সঙ্গে যাহারা ছিল তাহাদিগকে নৌকাতে রক্ষা করিলাম, এবং আমি তাহাদিগকে স্থলাভিষিক্ত করিলাম ও যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, তাহাদিগকে জলমগ্ন করিলাম। তদনন্তর দেখ ভয়প্রাপ্তলোকদিগের পরিণাম কীদৃশ হইল।

আয়াতঃ৭৪⇒ অবশেষে আমি তাহার (মৃত্যুর) পর প্রেরিতপুরুষগণকে তাহাদের স্বজাতির নিকটে প্রেরন করিলাম, পরে তাহারা তাহাদের নিকটে নিদর্শন সকল উপস্থিত হইল, পূর্বে তৎপ্রতি তাহারা অসত্যারোপ করিয়াছিল তজ্জন্য বিশ্বাসী হইল না; এইরুপে আমি সেই সীমালঙ্ঘনকারীদিগের অন্তরে মোহর (বন্ধন) স্থাপন করিয়া থাকি।

আয়াতঃ৭৫⇒ তদনন্তর তাহাদিগের পরে আমি মুসা ও হারুনকে আমার নিদর্শন সহ  ফেরওন ও তাহার পরিষদদিগের নিকটে প্রেরন করিলাম, পরে তাহারা অহংকার করিল ও তাহারা অপরাধী দল ছিল।

আয়াতঃ৭৬⇒ অনন্তর যখন তাহাদের নিকটে আমার নিকট হইতে সত্য উপস্থিত হইল, তাহারা বলিল, “নিশ্চয় ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল।

আয়াতঃ৭৭⇒ মুসা বলিল, “তোমরা কি সত্যের সম্বন্ধে যখন (তাহা) তোমাদের নিকটে উপস্থিত হইল বলিতেছ ইহা কি ইন্দ্রজাল? ঐন্দ্রজালিকগণ উদ্ধার প্রাপ্ত হয় না”।

আয়াতঃ৭৮⇒ তাহারা বলিল, “আমাদের পিতৃগণ যাহা প্রাপ্ত হইয়াছে তাহা হইতে আমাদিগকে নিবৃত্ত করিবে ও পৃথিবীতে তোমাদের জনের জন্য আধিপত্য হইবে এজন্য কি তোমরা আমাদের নিকট আসিয়াছ? আমরা তোমাদের প্রতি বিশ্বাসী নহি”।

আয়াতঃ৭৯⇒ ফেরওন বলিল, “আমার নিকটে প্রত্যেক জ্ঞানী ঐন্দ্রজালিককে উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ৮০⇒অনন্তর যখন অঈন্দ্রজালিকগণ উপস্থিত হইল, মুসা তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা যাহার নিক্ষেপকারী তাহা নিক্ষেপ কর”।

আয়াতঃ৮১⇒ পরে যখন তাহারা নিক্ষেপ করিল তখন মুসা বলিল, “তোমরা যাহা আনয়ন করিয়াছ তাহা তো ইন্দ্রজাল, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহা অবশ্য অসত্য করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর প্রতারকদিগের কার্যকে সংশোধন করেন না।

আয়াতঃ৮২⇒ এবং পরমেশ্বর সত্যকে যদিচ পাপিগণ তাহা ভালোবাসে না তথাপি স্বীয় আজ্ঞায় প্রমানিত করিবেন।

আয়াতঃ৮৩⇒ অনন্তর মুসার প্রতি তাহার দলের সন্তানগণ ব্যতীত অন্য কেহ, ফেরওন ও তাহাদের প্রধান পুরুষগণ তাহাদিগকে শাস্তি দান করিবে ভয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে নাই, নিশ্চয় ফেরওন পৃথিবীতে গর্বিত এবং নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘনকারী ছিল।

আয়াতঃ৮৪⇒ এবং মুসা বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়া থাক, যদি আজ্ঞানুবর্তী হইয়া থাক, তবে তাহার প্রতি নির্ভর কর”।

আয়াতঃ৮৫⇒ অনন্তর তাহারা বলিয়াছিল, “ঈশ্বরের প্রতি আমরা নির্ভর স্থাপন করিলাম, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি উৎপীড়ক দলের জন্য আমাদিগকে উৎপীড়নভূমি করিও না।

আয়াতঃ৮৬⇒ এবং আপন দয়াগুনে ধর্মদ্রোহীদল হইতে আমাদিগকে রক্ষা কর”।

আয়াতঃ৮৭⇒ এবং আমি মুসার প্রতি ও তাহার ভ্রাতার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম যে, আপন দলের জন্য তোমরা মেসরে আলয় নির্মাণ কর, এবং আপনাদের গৃহকে কেবলা কর ও উপাসনাকে প্রতিষ্টিত রাখ, এবং বিশ্বাসীদিগকে সুসংবাদ দান কর।

আয়াতঃ৮৮⇒ এবং মুসা বলিয়াছিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় তুমি ফেরওনকে ও তাহার প্রধান পুরুষদিগকে পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পত্তি দান করিয়াছ, হে আমাদের প্রতিপালক, তাহাতে তাহারা তোমার পথ হইতে (লোকদিগকে) বিভ্রান্ত করে, হে আমাদের প্রতিপালক, তাহাদিগের সম্পত্তি বিলোপ কর ও তাহাদের মনের উপর কাঠিন্য স্থাপন কর, অনন্তর যে পর্যন্ত তাহারা দুঃখকর শাস্তি দর্শন (না) করে বিশ্বাসী হইবে না”।

আয়াতঃ৮৯⇒ তিনি বলিলেন, “নিশ্চয় তোমাদিগের প্রার্থনা গৃহীত হইল, অতপর তোমরা দৃঢ় থাক, যাহারা জ্ঞান রাখে না তাহাদের পথের অনুসরণ করিও না”।

আয়াতঃ৯০⇒ এবং আমি এস্রায়েল সন্ততিদিগকে সমুদ্র পার করিলাম, তৎপরে ফেরওন তাহার সৈন্যগণ অত্যাচার ও শত্রুতারুপে তাহাদের অনুসরণ করিল, এ পর্যন্ত যে, যখন তাহার প্রতি নিমজ্জন হওয়া ব্যাপার উপস্থিত হইল তখন সে বলিল, “এস্রায়েল সন্তানগণ যাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে আমি তাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, এবং আমি আজ্ঞানুবর্তীদিগের অন্তর্গত”।

আয়াতঃ৯১⇒ (বলা হইল) এক্ষন (কি তুমি বিশ্বাসী হইতেছ?) নিশ্চয় পূর্বে তুমি বিদ্রোহীতা করিয়াছ ও উপদ্রবকারী ছিলে।

আয়াতঃ৯২⇒ পরন্তু আমি অদ্য তোমাকে তোমার শরীরের সঙ্গে উদ্ধার করিব, তাহাতে যাহারা তোমার পশ্চাতে আছে তুমি সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন হইবে, নিশ্চয় মানবমণ্ডলীর অধিকাংশ আমার নিদর্শন সকলে উদাসীন।

আয়াতঃ৯৩⇒ এবং সত্যসত্যই আমি এস্রায়েল সন্তানগণকে উপযুক্ত স্থানদানরুপে স্থান দিয়াছি ও তাহাদিগকে বিশুদ্ধ বস্তু হইতে উপজীবিকা দান করিয়াছি। অনন্তর যে পর্যন্ত তাহাদের নিকটে (তওরাতের) জ্ঞান উপস্থিত ছিল সে পর্যন্ত তাহারা বিরুদ্ধাচরণ করে নাই, নিশ্চয় (হে মোহাম্মদ) তদ্বিষয়ে (এক্ষন) তাহারা বিরুদ্ধাচরণ করিতেছে, কেয়ামতের দিনে তাহাদের মধ্যে তোমার প্রতিপালক তাহার বিচার নিষ্পত্তি করিবেন।

আয়াতঃ৯৪⇒ তোমার প্রতি যাহা অবতারন করিয়াছি তৎপ্রতি যদি তুমি সন্দিগ্ধ হও তবে তোমার পূর্ব হইতে যাহারা গ্রন্থ অধ্যায়ণ করিতেছে তাহাদিগকে প্রশ্ন কর, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি সত্য উপস্থিত হইয়াছে, অতএব তুমি সংশয়ীদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ৯৫⇒ যাহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে  তুমি তাহাদিগের হইও না, তবে ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ৯৬⇒ নিশ্চয় যাহাদিগের প্রতি তোমার প্রতিপালকের বাক্য প্রমানিত হইয়াছে তাহারা বিশ্বাস করে না।

আয়াতঃ৯৭⇒ এবং যদিচ তাহাদের নিকটে সমুদায় নিদর্শন উপস্থিত হয় যে পর্যন্ত না দুঃখকর শাস্তি দর্শন করে সে পর্যন্ত তাহারা (বিশ্বাস করে না)।

আয়াতঃ৯৮⇒ অবশেষে কোন গ্রাম কেন এরুপ হইল না যে (পূর্বে) বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে ইয়ুনসের সম্প্রদায় ব্যতীত তাহার বিশ্বাস তাহাকে লাভমান করিত, যখন তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল, তখন আমি পার্থিব জীবনে অপমানজনক শাস্তিকে তাহাদিগ হইতে উন্মোচন করিয়াছিলাম, এবং তাহাদিগকে কিছুকাল ফলভোগী করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ৯৯⇒ এবং যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিতেন তবে অবশ্য পৃথিবীতে যাহারা আছে একযোগে তাহারা সকলে বিশ্বাসী হইত, পরন্তু তুমি কি লোকের প্রতি যে পর্যন্ত না বিশ্বাসী হয় বল প্রয়োগ করিতেছ?

আয়াতঃ১০০⇒ এবং ঈশ্বরের আদেশ ভিন্ন কাহারও পক্ষে বিশ্বাসী হওয়া (সাধ্য) নহে, যাহারা জ্ঞান রাখে না তাহাদের প্রতি তিনি দুর্গতি প্রেরন করেন।

আয়াতঃ১০১⇒ তুমি বল, (হে মোহাম্মদ) নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে কি আছে তোমরা দৃষ্টি কর, নিদর্শন সকল ও ভয় প্রদর্শকগণ অবিশ্বাসী দলের উপকার করে না।

আয়াতঃ১০২⇒ অনন্তর তাহাদের পূর্বে যাহারা চলিয়া গিয়াছে তাহাদের কালের (শাস্তি দুর্ঘটনার কালের) সদৃশ ব্যতীত ইহারা প্রতীক্ষা করে না, তুমি বল, তবে তোমরা প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্গত।

আয়াতঃ১০৩⇒ অতঃপর আমি আপন প্রেরিতপুরুষদিগকে ও যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদিগকে এইরুপে উদ্ধার করি, বিশ্বাসীদিগকে উদ্ধার করা আমার প্রতি প্রমানিত হইয়াছে।

আয়াতঃ১০৪⇒ তুমি বল, হে লোক সকল, যদি তোমরা আমার ধর্ম সম্বন্ধে সন্দিগ্ধ হও, তবে (শ্রবন কর) তোমরা ঈশ্বর ভিন্ন যাহাদিগকে অর্চনা কর, আমি তাহাদিগকে অর্চনা করি না, কিন্তু সেই ঈশ্বরকে অর্চনা করি যিনি তোমাদিগকে প্রাণ হরণ করেন, এবং আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, আমি বিশবাসীদিগের অন্তর্গত হইব।

আয়াতঃ১০৫⇒ এবং (আদিষ্ট হইয়াছি) যে, “স্বীয় আননকে তুমি সত্য ধর্মের প্রতি স্থাপন কর ও অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ১০৬⇒ এবং ঈশ্বর ব্যতীত যাহা তোমার উপকার ও তোমার অপকার করে না তাহাকে আহ্বান করিও না, পরে যদি তুমি তাহা কর, তবে তখন নিশ্চয় তুমি অত্যাচারী দলভুক্ত হইবে।

আয়াতঃ১০৭⇒ এবং যদি পরমেশ্বর তোমাকে দুঃখ দান করেন তবে তাহার উন্মোচনকারী তিনি ব্যতীত কেহ নাই, এবং যদি তোমার সম্বন্ধে তিনি কল্যাণ ইচ্ছা করেন তবে তাঁহার দানের প্রতিরোধকারী কেহ নাই, তিনি আপন দাসদিগের যাহাকে ইচ্ছা হয় তাঁহার প্রতি তাহা প্রেরন করেন, এবং তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ১০৮⇒ তুমি বল, হে লোক সকল, নিশ্চয় তোমাদের নিকটে তোমাদের প্রতিপালক হইতে সত্য উপস্থিত হইয়াছে, অনন্তর যাহারা পথপ্রাপ্ত হইয়াছে, তাহারা (তাহাতে নিজের সম্বন্ধে) পথভ্রান্ত হইয়াছে বৈ নহে, এবং আমি তোমাদের সম্বন্ধে রক্ষক নহি।

আয়াতঃ১০৯⇒ এবং ঈহে মোহাম্মদ) তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করা যায়, তুমি তাহার অনুসরণ কর ও ঈশ্বরের আদেশ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারন কর, তিনি আজ্ঞাদাতাদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।