সূরাঃ ইয়ুসোফ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ০১⇒ উজ্জল গ্রন্থের এই সকল প্রবচন।

আয়াতঃ০২⇒ নিশ্চয় আমি তাহা আরব্য কোরআন রুপে অবতারন করিয়াছি, ভরসা যে, তোমরা হৃদয়ঙ্গম করিবে।

আয়াতঃ০৩⇒ আমি তোমার নিকটে (হে মোহাম্মদ) অত্যুৎকৃষ্ট আখ্যায়িকা সকলের বর্ণনা করিতেছি, এই প্রকারে আমি তোমার প্রতি এই কোরআন প্রত্যাদেশ করিয়াছি, নিশ্চয় তুমি অজ্ঞদিগের অন্তর্গত ছিলে।

আয়াতঃ০৪⇒ যখন ইয়ুসোফ স্বীয় পিতাকে বলিল, “হে আমার পিতা, নিশ্চয় আমি (স্বপ্নে) একাদশ নক্ষত্র এবং চন্দ্র-সূর্য দর্শন করিয়াছি, তাহাদিগকে দেখিয়াছি যে, আমাকে নমস্কার করিতেছে”।

আয়াতঃ০৫⇒ (তখন) সে বলিল, “হে আমার পুত্র, তুমি স্বীয় ভ্রাতৃগণের নিকটে স্বীয় স্বপ্ন বৃত্তান্ত বিবৃত করিও না, তাহা হইলে তাহারা তোমার সম্বন্ধে কোন ছলে ছলনা করিবে, নিশ্চয় শয়তান মনুষ্যের জন্য স্পষ্ট শত্রু।

আয়াতঃ০৬⇒ এই প্রকারে তোমার প্রতিপালক তোমাকে গ্রহণ করিবেন ও (স্বপ্ন) বৃত্তান্তের ব্যাখ্যা তোমাকে শিক্ষা দিবেন, এবং তোমার প্রতি ও ইয়কুবের সন্তানগণের প্রতি আপন দান পূর্ণ করিবেন, যেমন ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষদ্বয় এব্রাহিম ও এসহাকের প্রতি তাহা পূর্ণ করিয়াছেন, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক জ্ঞাতা প নিপুন”।

আয়াতঃ০৭⇒ সত্যসত্যই ইয়ুসোফে ও তাহার ভ্রাতৃবর্গে জিজ্ঞাসুদিগের জন্য নিদর্শন সকল ছিল।

আয়াতঃ০৮⇒ স্মরণ কর, যখন তাহারা (পরস্পর) বলিল যে, “অবশ্য ইয়ুসোফ ও তাহার (সহোদর) ভ্রাতা আমাদের পিতার নিকটে আমাদের অপেক্ষা প্রিয়তর, এদিকে আমরা বহুলোক, নিশ্চয় আমাদের পিতা স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে আছেন।

আয়াতঃ০৯⇒ ইয়ুসোফকে বধ কর, অথবা তাহাকে কোন স্থলে নিক্ষেপ কর, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের পিতার মনোযোগ মুক্ত হইবে, অতঃপর তোমরা এক উত্তম দল হইবে”।

আয়াতঃ১০⇒ তাহাদের মধ্যে এক বক্তা বলিল, “ইয়ুসোফকে বধ করিও না, তাহাকে গভীর কূপে নিক্ষেপ কর, যদি তোমরা এক কার্যের কারক হও তবে পথিকদিগের কেহ তাহাকে উঠাইয়া লইবে”।

আয়াতঃ১১⇒ তাহারা বলিল, “হে আমাদের পিতা, তোমার কি হইল যে, আমাদিগকে ইয়ুসোফের সম্বন্ধে বিশ্বস্ত মনে করিতেছ না, সত্যই আমরা তাহার শুভাকাঙ্ক্ষী।

আয়াতঃ১২⇒ কল্য তাহাকে আমাদের সঙ্গে প্রেরন করিও, সে পর্যাপ্ত ভোগ করিবে ও ক্রীড়া করিবে, এবং একান্তই আমরা তাহার রক্ষক”।

আয়াতঃ১৩⇒ সে বলিল, “নিশ্চয় আমাকে দুঃখিত করিতেছে যে, তোমরা তাহাকে লইয়া যাইবে, আমি ভয় পাইতেছি যে, তাহাকে ব্যাঘ্রে ভক্ষন করিবে, এবং তোমরা তৎপ্রতি উদাসীন থাকিবে”।

আয়াতঃ১৪⇒ তাহারা বলিল, “আমরা বহু লোক স্বত্বে যদি তাহাকে ব্যাঘ্রে ভক্ষন করে, নিশ্চয় তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হইব।

আয়াতঃ১৫⇒ অনন্তর যখন তাহাকে লইয়া গেল তখন তাহাকে গভীর কূপে নিক্ষেপ করিতে স্থীর করিল, এবং আমি তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম যে, অবশ্য তুমি তাহাদিগকে তাহাদের এই কার্যের সংবাদ দান করিবে, এবং তাহারা চিনিবে না।

আয়াতঃ১৬⇒ তাহারা সন্ধ্যাকালে ক্রন্দন করিয়া আপন পিতার নিকটে উপস্থিত হইল।

আয়াতঃ১৭⇒ বলিল, “হে আমাদের পিতা, নিশ্চয় আমরা সকলে অগ্রসর হইব বলিয়া দৌড়িয়াছিলাম, এবং ইয়ুসোফকে আমাদের বস্তুজাতের নিকটে রাখিয়াছিলাম, অনন্তর তাহাকে ব্যাঘ্রে ভক্ষন করিয়াছে, যদিচ আমরা সত্যবাদী তথাপি তুমি আমাদের সম্বন্ধে বিশ্বাসী নও”।

আয়াতঃ১৮⇒ এবং তাহারা মিথ্যা শোণিতযুক্ত তাহার উপরের অঙ্গাবরণ উপস্থিত করিল, সে বলিল, “বরং তোমাদের জন্য তোমাদের জীবন এক কার্য প্রস্তুত করিয়াছে, অনন্তর (আমার কার্য উত্তম ধৈর্য) এবং তোমরা যাহা ব্যক্ত করিতেছ তজ্জন্য ঈশ্বরের নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করা গিয়াছে”।

আয়াতঃ১৯⇒ এবং এক দল পথিক উপস্থিত হইল। অনন্তর তাহারা স্বীয় জল উত্তোলনকারীকে প্রেরন করিল, পরে সে আপন জলপাত্র (সেই কূপে) নিক্ষেপ করিল, সে বলিল, “ও হে সুসংবাদ, হায়! এই এক বালক, এবং তাহারা তাহাকে মূলধন রুপে লুকাইয়া রাখিল, এবং তাহারা যাহা করিতেছিল ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ২০⇒ তাহারা নির্দিষ্ট নিকৃষ্ট মুদ্রার মূল্যে তাহাকে বিক্রয় করিল, এবং তৎপ্রতি তাহারা বিরাগী ছিল।

আয়াতঃ২১⇒ এবং মেসরের যে ব্যক্তি তাহাকে ক্রয় করিয়াছিল, সে আপন স্ত্রীকে বলিল যে, “তাহার পদকে সম্মানিত করিও, সম্ভব যে, সে আমাদের উপকারে আসিবে, অথবা আমরা তাহাকে পুত্ররুপে গ্রহণ করিব;” এবং এই প্রকারে আমি ইয়ুসোফকে সে দেশে স্থান দিলাম, তাহাতে স্বপ্ন বিবরণ সকলের তাৎপর্য তাহাকে শিক্ষা দান করি, ঈশ্বর আপন কার্যে ক্ষমতাশালী, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য জ্ঞাত নহে।

আয়াতঃ২২⇒ এবং যখন সে স্বীয় যৌবনে উপস্থিত হইল তখন আমি তাহাকে প্রজ্ঞা ও বিদ্যা দান করিলাম, এবং এই প্রকারে আমি হিতকারীদিগকে পুরস্কার দিয়া থাকি।

আয়াতঃ২৩⇒ সে যাহার গৃহে ছিল সেই স্ত্রী তাহার জীবন হইতে (প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য) তাহাকে কামনা করিল ও দ্বার সকল বন্ধ করিল, এবং বলিল, “এস, আমি তোমারি;” সে বলিল, “আমি ঈশ্বরের শরণাপন্ন হই, নিশ্চয় তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি আমার পদ উন্নত করিয়াছেন, সত্যই অন্যায়কারী উদ্ধার পায় না।

আয়াতঃ২৪⇒ সত্যসত্যই সেই স্ত্রী তাহার প্রতি উদ্যত হইয়াছিল, এবং সে সেই স্ত্রীর প্রতি উদ্যত হইয়াছিল, সে যদি আপন প্রতিপালকের নিদর্শন দর্শন করে এরুপ না হইত (তবে সে ব্যভিচার করিত) এই প্রকার (করিলাম) যে তাহাতে তাহা হইতে মন্দভাব ও নির্লজ্জতা দূর করিলাম, নিশ্চয় সে আমার নির্বাপিত ভৃত্যদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ২৫⇒ উভয়ে দ্বারের দিকে অগ্রসর হইয়াছিল, এবং নারী তাহার কামিজ পশ্চাদ্দিকে ছিন্ন করিয়াছিল, এবং উভয়ে আপন স্বামীকে দ্বারের নিকটে প্রাপ্ত হইয়াছিল, নারী বলিয়াছিল, “যে ব্যক্তি তোমার পরিবারের প্রতি মন্দ ইচ্ছা করে, কারারুদ্ধ হওয়া অথবা দুঃখজনক শাস্তি ব্যতীত (তাহার জন্য) বিনিময় কি”?

আয়াতঃ২৬⇒ সে বলিয়াছিল, “এই নারী আমার জীবন হইতে আমার প্রার্থী হইয়াছে,” এবং সেই স্ত্রীর স্বগণ সম্পর্কীয় এক সাক্ষী সাক্ষ্য দান করিল যে, যদি তাহার কামিজ সম্মুখভাগে ছিন্ন হইয়া থাকে তবে নারী সত্য বলিয়াছে, এবং পুরুষ মিথ্যাবাদীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ২৭⇒ এবং যদি তাহার কামিজ পশ্চাদ্দিকে ছিন্ন হইয়া থাকে, তবে নারী মিথ্যা বলিয়াছে, এবং সেই পুরুষ সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ২৮⇒ অনন্তর যখন সে (আজিজ) তাহার কামিজকে পশ্চাদ্দিকে ছিন্ন দেখিল, বলিল যে, “ইহা তোমাদের নারীগণের চক্রান্ত, নিশ্চয় তোমাদের চক্রান্ত প্রবল।

আয়াতঃ২৯⇒ হে ইয়ুসোফ, তুমি ইহা হইতে নিবৃত্ত হও, এবং (হে জোলয়খা) তুমি স্বীয় অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তুমি অপ্রাধিনীদিগের অন্তর্গত।“

আয়াতঃ৩০⇒ এবং নগরে নারীগণ (পরস্পর) বলিল যে, “আজিজের স্ত্রী স্বীয় যুবক (দাসকে) তাহার জীবন হইতে (প্রবৃত্তি চরিতার্থ করিবার জন্য) কামনা করিতেছে, নিশ্চয় তাহার প্রেম গাঢ় হইয়াছে, সত্যই আমরা তাহাকে স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে দেখিতেছি”।

আয়াতঃ৩১⇒ অনন্তর যখন সে তাহাদের চাতুরী শ্রবন করিল তখন তাহাদের নিকট (লোক) পাঠাইল, এবং তাহাদিগের জন্য এক সভার আয়োজন করিল, তাহাদের প্রত্যেককে, এক একটি ছুরিকা দান করিল ও বলিল, “(হে ইয়ূসোফ) তুমি ইহাদের নিকটে বাহির হও। অনন্তর যখন তাহারা তাহাকে দেখিল তখন তাহাকে দেখিল তখন তাহাকে শ্রেষ্ঠ মনে করিল এবং আপন আপন হস্ত ছেদন করিল, এবং বলিল, “ঈশ্বরেরি পবিত্রতা এ মনুষ্য নহে, এ দেবতা ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ৩২⇒ সে (জোলয়খা) বলিল, “এই ব্যক্তিই যাহার সম্বন্ধে তোমরা আমাকে ভৎসনা করিতেছ, সত্যসত্যই আমি তাহার জীবন হইতে (প্রবৃত্তি চরিতার্থ করিবার জন্য) তাহাকে কামনা করিয়াছি, পরন্তু সে পবিত্রতা রক্ষা করিয়াছে, এবং আমি তাহাকে যাহা আজ্ঞা করিয়াছি সে যদি তাহা না করে তবে অবশ্য কারারুদ্ধ করা যাইবে, এবং অবশ্য সে দুর্দশাপন্নদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ৩৩⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তাহারা আমাকে যৎপ্রতি আহ্বান করিতেছে তাহা অপেক্ষা কারাবাস আমার নিকটে প্রিয়তর, এবং যদি তুমি আমা হইতে ইহাদের চক্রান্ত নিবৃত্ত না কর তবে আমি ইহাদের প্রতি উৎসুক হইব, এবং মূর্খদিগের অন্তর্গত হইব”।

আয়াতঃ৩৪⇒ অনন্তর তাহার প্রতিপালক তাহার (প্রার্থনা) গ্রাহ্য করিলেন, অতঃপর তাহাদের চক্রান্ত হইতে নিবৃত্ত করিলেন, তিনি নিশ্চয় শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ৩৫⇒ তখন তাহারা যে সকল নিদর্শন দেখিয়াছিল (তাহাতে বুঝিয়াছিল) যে অবশ্য কিয়ৎকাল তাহাকে কারারুদ্ধ করিবে, পরে তাহা তাহাদের জন্য প্রকাশিত হইল।

আয়াতঃ৩৬⇒ এবং তাহার সঙ্গে দুই যুবক কারাগারে প্রবেশ করিয়াছিল, তাহাদের একজন বলিয়াছিল, “নিশ্চয় আমি আমাক্র (স্বপ্নে) দেখিতেছি যে, আমি সুরা নিঃসারন করিতেছি;” এবং দ্বিতীয় বলিয়াছিল যে, “নিশ্চয় আমি আমাকে দেখিতেছি যে, আমি স্বীয় মস্তকের উপর রুটি বহন করিতেছি, তাহা হইতে পক্ষী ভক্ষন করিতেছে, তুমি আমাদিগকে ইহার ব্যাখ্যা জ্ঞাপন কর, সত্যই আমরা তোমাকে হিতকারীদিগের অন্তর্গত দেখিতেছি।

আয়াতঃ৩৭⇒ সে বলিল, “যে কোন খাদ্য তোমাদিগকে দেওয়া হইয়া থাকে তাহা তোমাদের নিকটে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে তোমাদিগকে আমার তাহা ব্যাখ্যা করা ব্যতীত তোমাদের নিকটে উপস্থিত হইবে না, আমার প্রতিপালক আমাকে যাহা শিক্ষা দান করিয়াছেন ইহা তাহার (অন্তর্গত) যে সম্প্রদায় ঈশ্বরে ও পরলোক বিশ্বাসী নহে, আমি তাহাদের ধর্ম পরিত্যাগ করিয়াছি, তাহারা কাফের।

আয়াতঃ৩৮⇒ এবং আমি আপন পিতৃপুরুষ এব্রাহিম ও এসহাক ও ইয়কুবের ধর্মের অনুসরণ করিয়াছি, কোন বস্তুকে যে আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে অংশী স্থাপন করিব আমাদের নিমিত্ত তাহা নয়, আমাদের প্রতি ও মানবমণ্ডলীর প্রতি ঈশ্বরের কৃপা হইতে ইহা হয়, কিন্তু অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞ হয় না।

আয়াতঃ৩৯⇒ হে কারাগৃহের সঙ্গীদ্বয়, ভিন্ন ভিন্ন বহু ঈশ্বর কি ভাল, না, পরাক্রান্ত এক ঈশ্বর (ভাল)?

আয়াতঃ৪০⇒ তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া কতকগুলি নামের অর্চনা বৈ করিতেছ না, তাহাদের নামকরণ তোমরা করিয়াছ ও তোমাদের পিতৃপুরুষগণ (করিয়াছে) পরমেশ্বর তাহাদের প্রতি (নাম সকলের সত্যতা বিষয়ে) কোন প্রমান প্রেরন করেন নাই, ঈশ্বরের জন্য বৈ আজ্ঞা নাই, তিনি আদেশ করিয়াছেন যে, তাঁহাকে ব্যতীত অর্চনা করিব না, ইহাই সরল ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ লোক বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ৪১⇒ হে কারাগৃহের সঙ্গীদ্বয়, তোমাদের একজন কিন্তু অতঃপর স্বীয় প্রভুকে সুরা পান করাইবে, এবং অন্যজন কিন্তু পরে শূলেতে চড়িবে, তাহার মস্তক হইতে পক্ষী (চক্ষু) ভক্ষন করিবে, তোমরা তদ্বিষয়ে যাহা প্রশ্ন করিতেছ সেই কার্য নির্ধারিত হইয়াছে।

আয়াতঃ৪২⇒ এবং উভয়ের মধ্যে সে (ইয়ুসোফ) যাহাকে মনে করিয়াছিল যে, সে মুক্তি পাইবে, তাঁহাকে বলিল, “তোমার প্রভুর নিকটে আমাকে স্মরণ করিও, অনন্তর শয়তান তাহাকে বিস্মৃত করিল যে স্বীয় প্রভুর নিকটে আমাকে স্মরণ করিও, অনন্তর শয়তান থেকে বিস্মৃত করিল যে স্বীয় প্রভুর নিকটে স্মরণ করে, পরে সে (ইয়ুসোফ) কারাগারে কয়েক বৎসর বাস করিল।

আয়াতঃ৪৩⇒ এবং রাজা বলিল, “সত্যই আমি সাতটি স্থুলাকৃতি গো দেখিতেছি তাহাদিগকে সাতটি কৃশ গো ভক্ষন করিতেছে, এবং সাতটি শস্য সরস (দেখিতেছি) অন্য সাতটি শুষ্ক, হে প্রধান পুরুষগণ, যদি তোমরা স্বপ্নের তাৎপর্য ব্যাখ্যাকারী হও তবে আমার স্বপ্ন বিষয়ে আমাকে উত্তর দান কর”।

আয়াতঃ৪৪⇒ তাহারা বলিল, “এই স্বপ্ন বিক্ষিপ্ত, এবং আমরা বিক্ষিপ্ত স্বপ্নের ব্যাখ্যা অবগত নহি”।

আয়াতঃ৪৫⇒ এবং সেই দুই জনের মধ্যে যে ব্যক্তি মুক্ত হইয়াছিল সে বলিল, এবং কিয়ৎকাল পর স্মরণ করিয়া বলিল, “আমি তোমাদিগকে ইহার ব্যাখ্যা সম্বন্ধে সংবাদ দিব, অতএব তোমরা আমাকে প্রেরন কর”।

আয়াতঃ৪৬⇒ (সে যাইয়া বলিল) “হে ইয়ুসোফ, হে সত্যবাদিন, সাতটি স্থুলাকৃতি গোবিষয়ে যে তাহাদিগকে সাতটি কৃশাঙ্গ গো ভক্ষন করিতেছে, এবং সাতটি শস্য সরস ও অপুর (সাতটি) শুষ্ক, এ বিষয়ে আমাকে উত্তর দান কর, তবে আমি লোকদিগকে নিকটে ফিরিয়া যাই, সম্ভব যে তাহারা জ্ঞান পাইবে।

আয়াতঃ৪৭⇒ সে বলিল, “তোমরা সাত বৎসর যথারীতি শস্যক্ষেত্র করিবে, পরে তোমরা যাহা কর্তন করিবে অবশেষে তাহার শস্যেতে তাহা রাখিয়া দিবে, যাহা ভক্ষন করিয়া থাক তাহা কিয়দংশ বৈ নহে।

আয়াতঃ৪৮⇒ পরিশেষে ইহার পর সাতটি কঠিন (বৎসর) আসিবে তাহাদের জন্য পূর্বে তোমরা যাহা স্থাপন করিয়াছ তাহারা যাহা ভক্ষন করিবে, তোমরা যাহা যত্নপূর্বক রাখিবে তাহা স্থাপন করিয়াছ তাহারা যাহা ভক্ষন করিবে, তোমরা যাহা যত্নপূর্বক রাখিবে তাহা কিয়দংশ বৈ নহে।

আয়াতঃ৪৯⇒ অবশেষে ইহার পর এক বৎসর আসিবে যে, তাহাতে লোক সকলের আর্তনাদ গৃহীত হইবে এবং তাহাতে (দ্রাক্ষারসাদি) নিঃসৃত হইবে”।

আয়াতঃ৫০⇒ এবং রাজা বলিল, “তাহাকে আমার নিকটে লইয়া আইস,” অনন্তর যখন প্রেরিত ব্যক্তি তাহার নিকটে আসিল তখন সে বলিল, “তুমি আপন প্রভুর নিকটে ফিরিয়া যাও, পরে তাহাকে প্রশ্ন কর যে, যাহারা স্ব-স্ব হস্ত ছেদন করিয়াছে সেই স্ত্রীলোকদিগের কি অবস্থা? নিশ্চয় আমার প্রতিপালক তাহাদের প্রতারনা অবগত”।

আয়াতঃ৫১⇒ সে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, “যখন তোমরা ইয়ুসোফকে তাহার জীবন হইতে (প্রবৃত্তি চরিতার্থ করিতে) কামনা করিয়াছিলে তখন তোমাদের কি ভাব ছিল”? তাহারা বলিয়াছিল যে, “ঈশ্বরেরই পবিত্রতা; আমরা তাহাতে কোন কুভাব দেখি নাই;” আজিজের ভার্যা বলিয়াছিল, “এক্ষন সত্য প্রকাশিত হইয়াছে, আমি তাহার জীবন হইতে তাহাকে (প্রবৃত্তি চরিতার্থ করিবার জন্য) কামনা করিয়াছিলাম, নিশ্চয় সে সত্যবাদীদের অন্তর্গত।

আয়াতঃ৫২⇒ (ইয়ুসোফ বলিয়াছিল) “ইহা এজন্য যে (আজিজ) যেন জ্ঞাত হন যে, নিশ্চয় আমি গোপনে তাঁহার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করি নাই, অপিচ (জ্ঞাত হন) যে, ঈশ্বর বিশ্বাসঘাতকদিগের প্রবঞ্চনাকে কুশলে পরিণত করেন না।

আয়াতঃ৫৩⇒ এবং আমি আপন জীবনকে শুদ্ধ বলিতেছি না, আমার প্রতিপালক যখন দয়া করেন সেই সময় ব্যতীত নিশ্চয় জীবন পাপবিষয়ে আজ্ঞাদাতা হয়, সত্যই আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল দয়ালু”।

আয়াতঃ৫৪⇒ এবং রাজা বলিল, “তাহাকে আমার নিকটে উপস্থিত কর, আমি আপন জীবনের জন্য তাহাকে বিশেষত্ব দান করিব;” অনন্তর যখন (রাজা) তাহার সঙ্গে কথোপকথোন করিল, তখন বলিল, (হে ইয়ুসোফ) “নিশ্চয় তুমি অদ্য আমাদের নিকটে পদস্থ বিশ্বস্ত”।

আয়াতঃ৫৫⇒ সে বলিল, “ভূমির ধনভান্ডার সম্বন্ধে আপনি আমাকে নিযুক্ত করুন, নিশ্চয় আমি সংরক্ষক ও বিজ্ঞ”।

আয়াতঃ৫৬⇒ এইরুপে আমি সেই দেশে ইয়ুসোফকে স্থান দান করিলাম, সে সেই স্থানের যথা ইচ্ছা স্থান গ্রহণ করিতেছিল, আমি যাহাকে ইচ্ছা করি তাহার প্রতি আপন কৃপা প্রেরন করিয়া থাকি, আমি সৎকর্মশীলদিগের পুরস্কার বিনষ্ট করি না।

আয়াতঃ৫৭⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও তিতিক্ষু হইয়াছে তাহাদের জন্য অবশ্য পারলৌকিক পুরস্কার উত্তম।

আয়াতঃ৫৮⇒ এবং ইয়ুসোফের ভ্রাতৃবর্গ উপস্থিত হইল, অবশেষে তাহারা তাহার নিকটে প্রবেশ করিল, তখন সে তাহাদিগকে চিনিল, এবং তাহারা তাহার সম্বন্ধে পরিচয় প্রাপ্ত হইল না।

আয়াতঃ৫৯⇒ এবং তাহাদের জন্য যখন সে তাহাদের সামগ্রীর আয়োজন করিল তখন বলিল, “তোমরা তোমাদের পিতা হইতে (উৎপন্ন) আপন (বৈমাত্র) ভ্রাতাকে আমার নিকটে উপস্থিত কর, তোমরা কি দেখিতেছ না যে, আমি (শস্যের) পরিমাণ পূর্ণ করিয়া দিতেছি, আমি আতিথেয় শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ৬০⇒ পরন্তু যদি তাহাকে আমার সমীপে আনয়ন না কর তবে আমার নিকটে তোমাদের জন্য (শস্যের) সেই পরিমাণ নাই ও তোমরা আমার নিকটবর্তী হইও না।

আয়াতঃ৬১⇒ তাহারা বলিল, “সত্বর আমরা তাহার সম্বন্ধে তাহার পিতার নিকটে কথোপকথন করিতেছি, এবং নিশ্চয় আমরা কার্যসম্পাদক”।

আয়াতঃ৬২⇒ এবং সে স্বীয় যুবকদিগকে (দাসদিগকে) বলিল, “যখন তাহারা আপন স্বগণের নিকটে ফিরিয়া যাইয়াবে, সম্ভবতঃ তাহারা ফিরিয়া আসিবে, তোমরা তাহাদের মূলধন তাহাদের দ্রব্যাধারে রাখিয়া দেও, যেন তাহারা তাহা চিনিয়া লয়”।

আয়াতঃ৬৩⇒ অনন্তর যখন তাহারা স্বীয় পিতার নিকটে ফিরিয়া আসিল তখন বলিল, “হে আমাদের পিতা, আমাদের প্রতি (শস্যের) তুল করা নিষিদ্ধ হইয়াছে, অতএব আমাদের সঙ্গে আমাদের ভ্রাতাকে প্রেরণ কর, আমরা তুল করিয়া লইব, এবং নিশ্চয় আমরা তাহার সংরক্ষক”।

আয়াতঃ৬৪⇒ সে বলিল, “কিন্তু আমি পূর্বে যেরুপ ইহার ভ্রাতার সম্বন্ধে তোমাদিগকে বিশ্বাস করিয়াছিলাম তদ্রূপ কি ইহার সম্বন্ধে তোমাদিগকে বিশ্বাস করিব? অনন্তর ঈশ্বরই উত্তম রক্ষক এবং তিনি দয়ালুদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু”।

আয়াতঃ৬৫⇒ এবং যখন তাহারা স্বীয় দ্রব্যজাত উন্মুক্ত করিল তখন আপনাদের মূলধন আপনাদের প্রতি প্রত্যর্পিত প্রাপ্ত হইল, তাহারা বলিল, “হে আমাদের পিতা, আমরা কি চাহিতেছি? এই আমাদের মূলধন আমাদের প্রতি প্রত্যর্পিত হইয়াছে, আমরা আপন আত্মীয়দিগের জন্য খাদ্য আনয়ন করিব, এবং স্বীয় ভ্রাতাকে রক্ষা করিব, এক উষ্ট্রের পরিমাণ অধিক আনিব, এই তুল (যাহা আনয়ন করিয়াছি) সামান্য”।

আয়াতঃ৬৬⇒ সে বলিল, “যে পর্যন্ত তোমরা আমার নিকটে ঈশ্বরের (নামে) প্রতিজ্ঞা না কর যে, তোমরা আবদ্ধ হওয়া ব্যতীত অবশ্য তাহাকে ফিরাইয়া আনিবে, সে পর্যন্ত কখনো আমি তোমাদের সঙ্গে তাহাকে পাঠাইব না।“ অনন্তর যখন তাহারা তাহাকে স্বীয় অঙ্গীকার দান করিল তখন সে বলিল, আমরা যাহা বলি ঈশ্বর তৎপ্রতি দৃষ্টিকারক”।

আয়াতঃ৬৭⇒ এবং বলিল, “হে আমার পুত্রগণ, এক দ্বার দিয়া তোমরা প্রবেশ করিও না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়া প্রবেশ করিও, তোমাদিগ হইতে ঈশ্বরের কিছুই দূর করিতেছি না, ঈশ্বরের জন্য ব্যতীত কর্তৃত্ব নাই, তাঁহার প্রতি আমি নির্ভর করিয়াছি, অনন্তর নির্ভরকারীদিগের উচিত যে, তাহার প্রতি নির্ভর করে।

আয়াতঃ৬৮⇒ এবং যে স্থান দিয়া তাহাদের পিতা তাহদিগকে (প্রবেশ করিতে) আজ্ঞা করিয়াছিল যখন তাহারা সেই স্থান দিয়া প্রবেশ করিল, ইয়কুবের অন্তরে যে এক স্পৃহা নিহিত হইয়াছিল তদ্বতীত তাহাদের হইতে ঈশ্বরের (বিধি) কিছুই অন্তর্হিত করে (এরুপ) হুইল না, আমি যাহা তাহাকে শিক্ষা দিয়াছিলাম সে বিষয়ের নিমিত্ত নিশ্চয় সে জ্ঞানবান ছিল, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য অবগত নহে।

আয়াতঃ৬৯⇒ এবং যখন তাহারা ইয়ুসোফের সন্নিধানে প্রবেশ করিল তখন সে আপনার সমীপে স্বীয় ভ্রাতাকে স্থান দান করিল, বলিল, “সত্যই আমি তোমার ভ্রাতা, অতএব তাহারা যাহা করিতেছিল তজ্জন্য দুঃখিত হইও না”।

আয়াতঃ৭০⇒ অনন্তর যখন সে তাহাদের জন্য তাহাদের সামগ্রীর আয়োজন করিল, তখন স্বীয় ভ্রাতার দ্রব্যাধারে একটি জলপাত্র রাখিয়া দিল, পরে নিনাদকারী নিনাদ করিল যে, “হে বনিকদল, নিশ্চয় তোমরা চোর”।

আয়াতঃ৭১⇒ (ইয়কুবের সন্তানগণ) তাহাদের নিকটে অগ্রসর হইল ও বলিল, “যাহা তোমরা হারাইয়াছ তাহা কি?”

আয়াতঃ৭২⇒ তাহারা বলিল, “আমরা রাজার পরিমাণ পাত্র হারাইয়াছি, এবং যাহাকে এক উষ্ট্রের ভার (শস্য দেওয়া যায়) তাহার জন্য উহা আনয়ন করা হয়,” এবং (নিনাদকারী বলিল) “আমি তদ্বিষয়ে প্রতিভূ”।

আয়াতঃ৭৩⇒ তাহারা বলিল, “ঈশ্বরের শপথ, সত্যসত্যই তোমরা জানিতেছ যে, দেশে আমরা উপদ্রব করিতে আসি নাই, এবং আমরা চোর নহি”।

আয়াতঃ৭৪⇒ সে বলিল, “যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও, তবে ইহার প্রতিফল কি হইবে?”

আয়াতঃ৭৫⇒ তাহারা বলিল, “তাহার বিনিময় (এই) যাহার দ্রব্যাধারে তাহা পাওয়া যাইবে অনন্তর সে-ই তাহার বিনিময়।“ এইরুপে আমি অত্যাচারীদিগকে প্রতিফল দান করি।

আয়াতঃ৭৬⇒ অনন্তর (ইয়ুসোফ) আপন ভ্রাতার দ্রব্যাধার (অনুসন্ধান করার) পূর্বে তাহাদের দ্রব্যাধার (অনুসন্ধানে) প্রবৃত্ত হইল, অতঃপর তাহা স্বীয় ভ্রাতার দ্রব্যাধার হইতে বাহির করিল, এইরুপে আমি ইয়ুসোফের নিমিত্ত ছলনা করিয়াছিলাম, ঈশ্বরের ইচ্ছা হওয়া ব্যতীত স্বীয় ভ্রাতাকে যে রাজবিধিতে গ্রহণ করে (উচিত) হইল না, আমি যাহাকে ইচ্ছা করি তাহাকে পদোন্নত করিয়া থাকি, সকল জ্ঞানবানের উপর একজন জ্ঞানবান আছেন।

আয়াতঃ৭৭⇒ তাহা বলিল, “যদি এ ব্যক্তি চুরি করিল তবে নিশ্চয় ইহার ভ্রাতা পূর্বে চুরি করিয়াছে, অতঃপর ইয়ুসোফ তাহা স্বীয় অন্তরে গুপ্ত রাখিল, এবং তাহাদের নিমিত্ত তাহা প্রকাশ করিল না; বলিল, “পদানুসারে তোমরা দুষ্ট, তোমরা যাহা বর্ণন করিতেছে ঈশ্বর তাহার উত্তম জ্ঞাতা”।

আয়াতঃ৭৮⇒ তাহারা বলিল, “হে আজিজ, সত্যই মহা বৃদ্ধ ইহার এক পিতা আছে, অতএব তাহার স্থানে আমাদের একজনকে গ্রহণ কর, নিশ্চয় আমরা তোমাকে হিতকারীদিগের অন্তর্গত দেখিতেছি”।

আয়াতঃ৭৯⇒ সে বলিল, “যাহার নিকটে আমার আপন দ্রব্য প্রাপ্ত হইয়াছি তাহাকে ব্যতীত (অন্য) ব্যক্তিকে কি গ্রহণ করিব? ঈশ্বরের শরণাপন্ন হই, নিশ্চয় আমরা তখন অত্যাচারী হইব”।

আয়াতঃ৮০⇒ অনন্তর যখন তাহা হইতে তাহারা নিরাশ হইল তখন মন্ত্রণা করিতে একপ্রান্তে গেল, তাহাদের জ্যেষ্ঠ বলিল, “তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের সম্বন্ধে ঈশ্বরের অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছেন, এবং পূর্বে তোমরা ইয়ুসোফের সম্বন্ধে অপরাধ করিয়াছ?” যে পর্যন্ত আমাকে আমার পিতা আদেশ না করেন অথবা ঈশ্বর আমাকে আজ্ঞা না করেন সে পর্যন্ত আমি এ স্থান ছাড়িব না, তিনিই শ্রেষ্ঠ আজ্ঞা প্রচারক।

আয়াতঃ৮১⇒ তোমরা তোমাদের পিতার নিকটে গমন কর, পরে তাঁহাকে বল যে, হে আমাদের পিতা নিশ্চয় তোমার পুত্র চুরি করিয়াছে, এবং আমরা যাহা জানিতেছিলাম তদ্বতীত সাক্ষ্য দান করি নাই ও আমরা গুপ্ত বিষয়ের সাক্ষী নহি।

আয়াতঃ৮২⇒ এবং যে স্থানে আমরা ছিলাম সেই গ্রামকে প্রশ্ন কর ও যাহাদের প্রতি আমরা উপস্থিত হইয়াছিলাম সেই বনিকদলকে (প্রশ্ন কর) নিশ্চয় আমরা সত্যবাদী।

আয়াতঃ৮৩⇒ সে বলিল, “বরং তোমাদের জন্য তোমাদের অন্তর এক কার্য প্রস্তুত করিয়াছে, অনন্তর ধৈর্যই উত্তম, আশা যে পরমেশ্বর সকলকে একযোগে আমার নিকটে উপস্থিত করিবেন, নিশ্চয় তিনি জ্ঞাতা ও নিপুন।

আয়াতঃ৮৪⇒ এবং সে, তাহাদিগ হইতে মুখ ফিরাইল, এবং বলিল, “হায়! ইয়ুসোফের সম্বন্ধে আমার আক্ষেপ;” এদিকে শোকেতে তাহার চক্ষু শুভ্র হইয়া গিয়াছিল ও সে দুঃখপূর্ণ ছিল।

আয়াতঃ৮৫⇒ তাহারা বলিল, “ঈশ্বরের শপথ, তুমি দিবারাত্রি ইয়ুসোফকে এতদূর পর্যন্ত স্মরণ করিতেছ যে, তাহাতে তুমি রোগগ্রস্থ হইবে, অথবা মৃত্যুগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হইবে”।

আয়াতঃ৮৬⇒ সে বলিল, “ঈশ্বরের নিকটে আমি আপন অস্থিরতা ও আপন শোকের কুৎসা করিতেছি এতদ্ভিন্ন নহে, এবং তোমরা যাহা জানিতেছ না, ঈশ্বর দ্বারা তাহা আমি জ্ঞাত আছি।

আয়াতঃ৮৭⇒ হে আমার পুত্রগণ, গমন কর, অনন্তর ইয়ুসোফ ও তাহার ভ্রাতার অনুসন্ধান কর, এবং ঈশ্বরের কৃপায় নিরাশ হইও না, বাস্তবিক ধর্মদ্রোহী সম্প্রদায় ব্যতীত ঈশ্বরের কৃপায় নিরাশ হয় না।

আয়াতঃ৮৮⇒ অনন্তর যখন তাহারা তাহার নিকটে প্রবেশ করিল তখন বলিল, “হে আজিজ, আমাদের প্রতি ও আমাদিগের আত্মীয়দিগের প্রতি দুঃখের সঞ্চার হইয়াছে, এবং আমরা সামান্য মূলধন আনয়ন করিয়াছি, অতএব আমাদিগকে (খাদ্যের) পরিমাণ পূর্ণ করিয়া দেও, আমাদের প্রতি সদকা কর, নিশ্চয় ঈশ্বর সদকাদাতাদিগকে পুরস্কার দান করেন।

আয়াতঃ৮৯⇒ সে বলিল, “যখন তোমরা মূর্খ ছিলে তখন ইয়ুসোফের প্রতি ও তাহার ভ্রাতার প্রতি যাহা করিয়াছিলে তাহা কি জ্ঞাত আছ?”

আয়াতঃ৯০⇒ তাহারা বলিল, “সত্যই তুমি কি ইয়ুসোফ?” সে বলিল, “আমিই ইয়ুসোফ এবং এই আমার ভ্রাতা, একান্তই পরমেশ্বর আমাদের প্রতি কল্যাণ বিধান করিয়াছেন, বস্তুতঃ যে ব্যক্তি ধর্মভীরু হয় ও ধৈর্য ধারন করে, পরে নিশ্চয়ই ঈশ্বর সেই হিতকারীর পুরস্কার নষ্ট করেন না”।

আয়াতঃ৯১⇒ তাহারা বলিল, “ঈশ্বরের শপথ, সত্যসত্যই ঈশ্বর আমাদের উপর তোমাকে মনোনীত করিয়াছেন, এবং নিশ্চয় আমরা অপরাধী ছিলাম।

আয়াতঃ৯২⇒ সে বলিল, “অদ্য তোমাদের প্রতি অনুযোগ নাই, তোমাদিগকে পরমেশ্বর ক্ষমা করিবেন, তিনি দয়ালুদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

আয়াতঃ৯৩⇒ তোমরা আমার এই কামিজ লইয়া যাও, পরে ইহা আমার পিতার মুখের উপর নিক্ষেপ কর, তিনি চক্ষুষ্মান হইবেন, এবং তোমরা আপন স্বগণদিগকে একযোগে আমার নিকটে আনয়ন কর।“

আয়াতঃ৯৪⇒ এবং যখন সেই বনিকদল (মেসর হইতে) প্রস্থান করিল তখন তাহাদের পিতা বলিল, “যদি তোমরা আমাকে বুদ্ধিভ্রষ্ট মনে না কর তবে নিশ্চয় আমি ইয়ুসোফের গন্ধ প্রাপ্ত হইতেছি।

আয়াতঃ৯৫⇒ (উপস্থিত লোকেরা) বলিল, “ঈশ্বরের শপথ, সত্যই তুমি স্বীয় পুরাতন ভ্রান্তিতে আছ”।

আয়াতঃ৯৬⇒ অনন্তর যখন সুসংবাদ উপস্থিত হইল তখন তাহার মুখের উপর তাহা নিক্ষেপ করিল, তৎপর সে চক্ষুষ্মান হইল। সে বলিল, “আমি কি তোমাদিগকে বলি নাই যে, তোমরা যাহা জানিতেছ না নিশ্চয় আমি ঈশ্বর দ্বারা তাহা জানিতেছি”।

আয়াতঃ৯৭⇒ তাহারা বলিল, “হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্য আমাদের অপরাধ ক্ষমা প্রার্থনা কর, সত্যই আমরা অপরাধী হইয়াছি”।

আয়াতঃ৯৮⇒ সে বলিল, “অবশ্য আপন প্রতিপালকের নিকটে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিব, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু”।

আয়াতঃ৯৯⇒ অনন্তর যখন তাহারা ইয়ুসোফের নিকটে প্রবেশ করিল, তখন সে স্বীয় পিতা-মাতাকে আপন সন্নিধানে স্থান দান করিল, এবং বলিল, “যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করিয়াছেন তবে তোমরা শান্তিযুক্ত হইয়া মেসরে প্রবেশ কর”।

আয়াতঃ১০০⇒ এবং সে আপন পিতা ও  মাতাকে সিংহাসনের উপর বসাইল, এবং তাহার উদ্দেশ্যে তাহারা নমস্কার করিয়া পতিত হইল, সে বলিল, “হে আমার পিতা, আমার পূর্বতন স্বপ্নের ইহাই ব্যাখ্যা, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক তাহা সত্য করিয়াছেন, এবং যখন আমাকে তিনি কারাগার হইতে বাহির করিলেন, নিশ্চয় তখন আমার প্রতি উপকার বিধান করিলেন, এবং অরণ্যে আমার ও আমার ভ্রাতৃগণের মধ্যে শয়তান বিরোধ উপস্থিত করিয়াছিল তাহার পর তথা হইতে তোমাদিগকে লইয়া আসিলেন, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক যাহাকে ইচ্ছা করেন তৎপ্রতি কোমল ব্যবহারকারী হন, নিশ্চয় তিনি জ্ঞাতা ও নিপুন।

আয়াতঃ১০১⇒ হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে রাজ্য দান করিয়াছ, এবং বৃত্তান্তের ব্যাখ্যা করিতে শিক্ষা দিয়াছ, তুমি স্বর্গ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা ও তুমি ইহলোক ও পরলোকে বন্ধু, আমাকে বিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুগ্রস্থ করিও, এবং সাধুদিগের সঙ্গে আমাকে মিলিত করিও।“

আয়াতঃ১০২⇒ (হে মোহাম্মদ) ইহা অব্যক্ত সংবাদাবলী, আমি তোমার প্রতি ইহা প্রত্যাদেশ করিতেছি, এবং যখন তাহারা আপন কার্যের যোজনা করিয়াছিল ও তাহারা ছলনা করিতেছিল তখন তুমি তাহাদের নিকটে ছিলে না।

আয়াতঃ১০৩⇒ এবং যদি তুমি বিশ্বাসী হইবার জন্য উত্তেজনা কর, অধিকাংশ লোক (তাহাতে সম্মত) নয়।

আয়াতঃ১০৪⇒ তুমি তাহাদের নিকটে ইহার জন্য (কোরআন প্রচারের জন্য) কোন পুরস্কার প্রার্থনা করিতেছ না, ইহা জগদ্বাসীদিগের জন্য উপদেশ ব্যতীত নহে।

আয়াতঃ১০৫⇒ এবং আকাশে ও পৃথিবীতে (এমন) কত নিদর্শন আছে যাহার উপর তাহারা সঞ্চারণ করিতেছে, এবং তাহারা তাহা হইতে মুখ ফিরাইতেছে।

আয়াতঃ১০৬⇒ এবং তাহাদের অধিকাংশেই ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস করে না, কিন্তু তাহারা অংশী নির্ধারণকারী।

আয়াতঃ১০৭⇒ অনন্তর তাহাদের নিকটে যে ঐশ্বরিক আবেষ্টনকারী দন্ড আসিয়া পড়িবে, কিংবা অকস্মাৎ কেয়ামত তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইবে তাহা হইতে কি তাহারা নির্ভয় হইয়াছে? বস্তুতঃ তাহারা জানিতেছে না।

আয়াতঃ১০৮⇒ তুমি বল, “ইহাই আমার পন্থা, আমি ঈশ্বরের দিকে আহ্বান করিতেছি, আমি ও যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করে, সে চক্ষুষ্মান; ঈশ্বরেরই পবিত্রতা, আমি অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত নহি।

আয়াতঃ১০৯⇒ এবং গ্রাম্বাসীদিগের যাহাদের প্রতি আমি প্রত্যাদেশ করিয়াছি তাহারা ভিন্ন (অন্য) পুরুষদিগকে তোমার পূর্বে আমি প্রেরণ করি নাই, অনন্তর তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই? তাহা হইলে তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদের কিরুপ পরিণাম হইয়াছে তাহারা দেখিত, এবং যাহারা ধর্মভীরু হইয়াছে নিশ্চয় তাহাদের জন্য পারলৌকিক আলয় উত্তম, পরন্তু তোমরা কি বুঝিতেছ না?

আয়াতঃ১১০⇒ যদবিধি প্রেরিতপুরুষগণ নিরাশ হইল, এবং মনে করিল যে, তাহারা মিথ্যা বলিতেছে, তদবিধি তাহাদের নিকটে আমার সাহায্য উপস্থিত হইল, অনন্তর যাহাকে আমি ইচ্ছা করিলাম তাহাকে মুক্তি দেওয়া গেল, অপরাধী দল হইতে আমার শাস্তি প্রতিরোধ করা যায় না।

আয়াতঃ১১১⇒ সত্যসত্যই বুদ্ধিমান লোকদিগের জন্য তাহাদের আখ্যায়িকা সকলেতে উপদেশ আছে, আমার কথা এরুপ নহে যে (অসত্যে) বদ্ধ হইবে, কিন্তু যাহা তাহার সম্মুখে আছে উহা তাহার প্রমান ও সকল বিষয়ের বর্ণনা এবং বিশ্বাসী দলের জন্য দয়া ও পথ প্রদর্শন।