সূরাঃ ইয়াস

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ ইয়াস।

আয়াতঃ ০২+০৩+০৪⇒ সুদৃঢ় কোরআনের শপথ, নিশ্চয় তুমি সরল পথে স্থিত প্রেরিতপুরুষদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ০৫+০৬⇒ করুণাময় পরাক্রান্ত (ঈশ্বর কর্তৃকই) অবতারণ যেন তুমি সেই দলকে ভয় প্রদর্শন কর যাহাদের পিতৃপুরুষগণকে (শীঘ্র) ভয় প্রদর্শন করা হয় নাই, পরন্তু ইহারা অজ্ঞাত।

আয়াতঃ ০৭⇒ সত্যসত্যই (শাস্তির) কথা তাহাদের অধিকাংশের সম্বন্ধে নিশ্চিত, এবং তাহারা বিশ্বাস করিতেছে না।

আয়াতঃ ০৮⇒ নিশ্চয় আমি তাহাদের গলদেশে গলবন্ধন রাখিয়াছি, অনন্তর উহা চিবুক পর্যন্ত রহিয়াছে, অবশেষে তাহারা ঊর্ধ্বশীর্ষ হইয়া আছে।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং আমি তাহাদের সম্মুখভাগে এক প্রাচীর ও তাহাদের পশ্চাদ্ভাগে এক প্রাচীর স্থাপন করিয়া তাহাদিগকে আচ্ছাদন করিয়াছি, পরন্তু তাহারা দেখিতেছে না।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং তুমি তাহাদিগকে ভয় প্রদর্শন কর বা না কর তাহাদের প্রতি তুল্য, তাহারা বিশ্বাস করে না।

আয়াতঃ ১১⇒ যে ব্যক্তি উপদেশের অনুসরণ করে ও পরমেশ্বরকে অন্তরে ভয় করিয়া থাকে তাহাকে তুমি ভয় প্রদর্শন কর এতদ্ভিন্ন নহে, অনন্তর ক্ষমা ও মহা পুরস্কার বিষয়ে তাহাকে তুমি সুসংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ১২⇒ নিশ্চয় আমি মৃতকে জীবিত করি, এবং তাহারা যাহা পূর্বে পাঠাইয়াছে তাহা ও তাহাদের পদচিহ্ন লিপি করিয়া থাকি, এবং উজ্জ্বল গ্রন্থে সমুদায় বিষয় আয়ত্ব করিয়াছি।

আয়াতঃ ১৩+১৪⇒ এবং তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদের জন্য সেই গ্রামবাসীদিগের দৃষ্টান্ত বর্ণন কর, যখন তথায় প্রেরিতপুরুষগণ উপস্থিত হইল; (স্মরণ কর) যখন আমি তাহাদের নিকটে দুই ব্যক্তিকে প্রেরণ করিলাম, তখন তাহারা তাহাদিগকে মিথ্যাবাদী বলিল, পরে আমি তৃতীয় ব্যক্তি দ্বারা (তাহাদিগের) পুষ্টি বর্ধন করিলাম, অবশেষে তাহারা বলিল যে, “নিশ্চয় আমরা তোমাদের নিকটে প্রেরিত”।

আয়াতঃ ১৫⇒ তাহারা বলিল, “তোমরা আমাদের ন্যায় মনুষ্য ভিন্ন নও, এবং ঈশ্বর কোন বিষয় অবতারণ করেন নাই, তোমরা মিথ্যাবাদী ভিন্ন নও”।

আয়াতঃ ১৬⇒ তাহারা বলিল, “আমাদের প্রতিপালক জ্ঞাত আছেন যে, নিশ্চয় আমরা তোমাদের নিকটে প্রেরিত।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং আমাদের প্রতি স্পষ্ট প্রচার কার্য ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ১৮⇒ তাহারা বলিল, “একান্তই আমরা তোমাদের (আগমন) সম্বন্ধে কুভাব পোষণ করিতেছি, যদি তোমরা নিবৃত্ত না হও তবে অবশ্য আমরা তোমাদিগকে চূর্ণ করিব, এবং অবশ্য আমাদিগ হইতে তোমাদের প্রতি ক্লেশজনক শাস্তি পহুঁছিবে”।

আয়াতঃ ১৯⇒ তাহারা বলিল, “তোমাদের মন্দভাব তোমাদের সঙ্গে আছে, তোমরা কি উপদিষ্ট হইতেছ? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি”।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং নগরের দূরদেশ হইতে এক ব্যক্তি দ্রুতগতি উপস্থিত হইল, বলিল, “হে আহার দলস্থ লোক, তোমরা প্রেরিতপুরুষদিগের অনুসরণ কর।

আয়াতঃ ২১⇒ যাঁহারা তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করেন না তাঁহাদিগের অনুসরণ কর, তাহারা (সৎ) পথপ্রাপ্ত।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যিনি আমাকে সৃজন করিয়াছেন ও যাঁহার দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে তাঁহাকে আমি পূজা করিব না আমার সম্বন্ধে (এই) কি?

আয়াতঃ ২৩⇒ তাঁহাকে ছাড়িয়া কি আমি (অন্য) ঈশ্বরকে গ্রহণ করিব? যদি ঈশ্বর আমার অপকার করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহাদিগের (পুত্তলিকাদের) শফাঅত আমার কিছুই উপকার করিবে না, এবং তাহারা আমাকে উদ্ধার করিবে না।

আয়াতঃ ২৪⇒ নিশ্চয় আমি তখন স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে থাকিব।

আয়াতঃ ২৫⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, অনন্তর তোমরা আমা হইতে শ্রবন কর”।

আয়াতঃ ২৬+২৭⇒ বলা হইল, “তুমি স্বর্গলোকে প্রবেশ কর,” সে বলিল, “হায়! আমার স্বজাতি যদি জানিত যে, আমার প্রতিপালক কিজন্য আমাকে ক্ষমা করিলেন ও আমাকে অনুগৃহীত লোকদিগের অন্তর্গত করিলেন”।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তাহার অন্তে তাহার দলের উপর আমি কোন সৈন্য স্বর্গ হইতে অবতারণ করি নাই, এবং আমি অবতারণাকারী ছিলাম না।

আয়াতঃ ২৯⇒ এক ধ্বনি ব্যতীত (তাহাদের শাস্তি) ছিল না, পরে তখনই তাহারা নির্বাপিত হইল।

আয়াতঃ ৩০⇒ হায়! দাসদিগের প্রতি আক্ষেপ, এমন কোন প্রেরিতপুরুষ তাহাদ্রে নিকটে উপস্থিত হইল না যে, তাহারা তাহাকে বিদ্রুপ করে নাই।

আয়াতঃ ৩১⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, আমি তাহাদের পূর্ব সম্প্রদায় সকলের কত লোককে বিনাশ করিয়াছি যে, তাহারা তাহাদের দিকে ফিরিয়া আসিতেছে না?

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং আমার নিকটে সমুদায় দল একযোগে উপস্থাপিত করা হইবে ভিন্ন নয়।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং তাহাদের জন্য নির্জীব ভূমি নিদর্শন, আমি তাহা জীবিত করিয়াছি ও তাহা হইতে শস্যকণা বাহির করিয়াছি, পরে তাহারা তাহা ভক্ষন করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং আমি তথায় দ্রাক্ষা ও খোর্মাতরুর উদ্যান সকল উৎপাদন করিয়াছি, পরে তন্মধ্যে প্রস্রবন করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৫⇒ তাহাতে তাহারা তাহার ফল ভক্ষন করিয়া থাকে, এবং তাহাদের হস্ত তাহা রচনা করে নাই, অনন্তর তাহারা কি ধন্যবাদ করিতেছে না?

আয়াতঃ ৩৬⇒ তিনি পবিত্র হন যিনি যুগল পদার্থ সমুদায় সৃজন করিয়াছেন, যদ্দারা পৃথিবী সমুর্বর হইতেছে এবং তাহাদের জাতি হইতেও তাহারা যাহা জানিতেছেন না তাহা (সৃজন করিয়াছেন)।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং তাহাদের জন্য রজনী নিদর্শন, আমি তাহা হইতে দিবা টানিয়া লই, পরে অকস্মাৎ তাহারা অন্ধকারাবৃত হয়।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং দিবাকর তাহার অবস্থিতি স্থানের জন্য চলিতে থাকে, ইহা পরাক্রমশালী জ্ঞানী (ঈশ্বরের) নিরূপণ।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং চন্দ্রমা, তাহার জন্য আমি স্থান সকল নিরূপণ করিয়াছি, এ পর্যন্ত যে, সে (খোর্মাতরুর) পুরাতন শাখার ন্যায় পরিণত হয়।

আয়াতঃ ৪০⇒ সূর্যের জন্য উপযুক্ত হয় না যে, সে চন্দ্রকে প্রাপ্ত হয়, এবং রজনী দিবার অগ্রগামী নয়, গগনমণ্ডলে সমুদায়ই চলিতেছে।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং তাহাদের জন্য নিদর্শন এই যে, আমি তাহাদের পিতৃপুরুষদিগকে নৌকাতে পূর্ণ করিয়া উঠাইয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং তাহাদের জন্য তৎসদৃশ যে সকলের উপর তাহারা আরোহণ করিয়া থাকে সে সমস্ত সৃজন করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৩+৪৪⇒ এবং আমি ইচ্ছা করিলে তাহাদিগকে জলমগ্ন করিব, অনন্তর তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই, এবং তাহারা আমার অনুগ্রহ ব্যতীত উদ্ধার পাইবে না, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই ভোগ হয়।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইল, “তোমাদের সম্মুখে ও তোমাদের পশ্চাতে যে (শাস্তি) আছে তাহাকে ভয় করিতে থাক, সম্ভব যে তোমরা অনুগৃহীত হইবে, (তাহারা অগ্রাহ্য করিল)”।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং তাহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর (এমন) কোন নিদর্শন তাহাদের নিকটে উপস্থিত হয় নাই যে, তাহারা তাহা হইতে বিমুখ হয় নাই।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হয়, পরমেশ্বর তোমাদিগকে যে উপজীবিকা দিয়াছেন তোমরা তাহা হইতে ব্যয় কর, তখন ধর্মদ্রোহিগণ ধর্মপরায়ণ লোকদিগকে বলে, “আমরা কি সেই ব্যক্তিকে আহার দিব ঈশ্বর যদি তাহাকে আহার দিতে ইচ্ছা করেন? তোমরা স্পষ্ট পথভ্রান্তিতে ভিন্ন নও”।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তাহারা বলে, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে কবে এই (শাস্তির) অঙ্গীকার (পূর্ণ) হইবে”?

আয়াতঃ ৪৯⇒ এক মহা নিনাদ যে তাহাদিগকে আক্রমণ করিবে তাহারা তাহার প্রতীক্ষা ব্যতীত করিতেছে না, এবং তাহারা পরস্পর কলহ করে।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর তাহারা অন্তিম বাক্য বলিতে পারিবে না এবং স্বীয় পরিবারের দিকে ফিরিয়া চাহিবে না।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং সুরবাদ্যে (প্রলয়কালে) ফুঁৎকার করা যাইবে, তখন অকস্মাৎ তাহারা কবর হইতে আপন প্রতিপালকের দিকে ধাবমান হইবে।

আয়াতঃ ৫২⇒ বলিবে যে, “আমাদিগের প্রতি আক্ষেপ, কে আমাদিগকে আমাদের শয়নাগার হইতে উঠাইল”? ঈশ্বর যাহা অঙ্গীকার করিয়াছেন তাহাই ইহা, এবং প্রেরিতপুরুষগণ যথার্থ বলিয়াছেন।

আয়াতঃ ৫৩⇒ একমাত্র ধ্বনি ভিন্ন (এই ব্যাপারে) হইবে না, তখন পরে অকস্মাৎ তাহারা একত্র আমার নিকটে আনীত হইবে।

আয়াতঃ ৫৪⇒ অনন্তর এই দিবস কোন ব্যক্তি কিছুই উৎপীড়িত হইবে না, তোমরা যাহা করিতেছিলে তদনুরুপ ভিন্ন বিনিময় দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ৫৫⇒ নিশ্চয় এই দিবস স্বর্গাধিকারীগণ কার্যবিশেষে আনন্দিত হইবে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ তাহারা ও তাহাদের ভার্যাগণ ছায়ার নিম্নে সিংহাসন সকলের উপর ভর দিয়া উপবিষ্ট হইবে।

আয়াতঃ ৫৭⇒ তথায় তাহাদের জন্য ফলপুঞ্জ থাকিবে ও তাহারা যাহা চাহিবে তাহাদের জন্য হইবে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ কৃপালু প্রতিপালক হইতে “সালাম” উক্তি হইবে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং (আমি বলিব) “হে অপরাধীগণ, অদ্য তোমরা বিচ্ছিন্ন হও।

আয়াতঃ ৬০+৬১⇒ হে আদমের সন্তানগণ, তোমাদের সম্বন্ধে কি আমি নিশ্চিত বাক্য বলি নাই যে, তোমরা শয়তানকে অর্চনা করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদের স্পষ্ট শত্রু, এবং আমাকে পূজা কর, ইহাই সরল পথ?

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং সত্যসত্যই সে তোমাদিগের বহু লোককে পথহারা করিয়াছে, অনন্তর তোমরা কি বুঝিতেছ না?

আয়াতঃ ৬৩⇒ এই নরক, যাহাতে তোমরা অঙ্গীকৃত হইয়াছ।

আয়াতঃ ৬৪⇒ তোমরা যে ধর্মদ্রোহী হইয়াছিলে তন্নিমিত্ত অদ্য ইহার মধ্যে প্রবেশ কর”।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এই দিবস আমি তাহাদের মুখের উপর মোহর (বন্ধন) স্থাপন করিব, এবং আমার সঙ্গে তাহাদের হস্ত কথা কহিবে ও তাহারা যাহা করিতেছিল তদ্বিষয়ে তাহাদের চরণ সাক্ষ্যদান করিবে।

আয়াতঃ ৬৬⇒ এবং আমি ইচ্ছা করিলে অবশ্য তাহাদের চক্ষুর উপর প্রচ্ছন্নতা রাখিয়া দিব, অনন্তর তাহারা এক পথ অবলম্বন করিবে, পরে কোথা হইতে দেখিতে পাইবে।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং আমি ইচ্ছা করিলে অবশ্য তাহাদের স্থানে তাহাদিগকে বিরুপ করিয়া রাখিব, অনন্তর তাহারা চলিতে পারিবে না, ফিরিতে পারিবে না।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং যাহাকে আমি দীর্ঘজীবন দান করি তাহাকে সৃষ্টিতে অবনত করিয়া থাকি, অনন্তর তাহারা কি বুঝিতেছে না?

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং আমি তাহাকে (মোহম্মদকে) কবিতা শিক্ষা দেই নাই, এবং সে তাহার উপযুক্ত নয়, উহা উপদেশ ও উজ্জ্বল কোরআন ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৭০⇒ তাহাতে যে ব্যক্তি জীবিত আছে তাহাকে সে ভয় প্রদর্শন করে, এবং কাফেরদিগের প্রতি বাক্য প্রমানিত হয়।

আয়াতঃ ৭১⇒ তাহারা কি দেখিতেছে না যে, তাহাদের জন্য আমি সেই চতুষ্পদ যাহা আমার হস্ত করিয়াছে, সৃজন করিয়াছি, অনন্তর তাহারা তাহার স্বামী হইয়াছে।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং উহাকে তাহাদের অনুগত করিয়াছি, পরে উহার কোনটি তাহাদের বাহন হইয়াছে, এবং উহার কোনটি তাহারা ভক্ষন করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৭৩⇒ উহার মধ্যে তাহাদের লাভ সকল আছে ও (দুগ্ধ) পান হয়, অনন্তর তাহারা কি ধন্যবাদ করিতেছে না?

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং তাহারা সেই ঈশ্বরকে ছাড়িয়া (অন্য) ঈশ্বর গ্রহণ করিয়াছে, ভরসা এই যে, তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ৭৫⇒ তাহার (পুত্তলিকাগণ) তাহাদিগকে সাহায্য দান করিতে সুক্ষম হইবে না, তাহারা (পুত্তলিকাগণ) তাহাদের জন্য সৈন্যরুপে উপস্থাপিত হইবে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ অনন্তর তাহাদের কথা যেন তোমাকে (হে মোহম্মদ) দুঃখিত না করে, নিশ্চয় আমি তাহারা যাহা গুপ্ত করিতেছে ও যাহা ব্যক্ত করিয়াছে জানিতেছি।

আয়াতঃ ৭৭⇒ মনুষ্য কি দেখে নাই যে, নিশ্চয় আমি তাহাকে শুক্র হইতে সৃজন করিয়াছি? পরে সে হঠাত স্পষ্ট বিরোধকারী হইল।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং সে আমার জন্য সদৃশ প্রকাশ করিল ও নিজের সৃষ্টি ভুলিয়া গেল, বলিল, “কে অস্থিকে জীবিত করিবে? বস্তুতঃ তাহা গলিত হইয়াছে”।

আয়াতঃ ৭৯⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) যিনি প্রথমবার তাহাকে সৃজন করিয়াছেন তিনিই তাহা করিবেন, তিনি সমুদায় সৃষ্টি সম্বন্ধে জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৮০⇒ যিনি তোমাদের জন্য হরিৎবর্ণ বৃক্ষ হইতে অগ্নি উৎপাদন করিয়াছেন, পরে তোমরা তাহা হইতে অগ্নি উদ্দীপন কর।

আয়াতঃ ৮১⇒ যিনি স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছেন তিনি কি তাহাদের অনুরুপ সৃষ্টি করিতে সমর্থ নহেন? হ্যাঁ, (সমর্থ) এবং তিনি জ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা।

আয়াতঃ ৮২⇒ যখন তিনি কিছু ইচ্ছা করেন তখন তাঁহার আদেশ এতদ্ভিন্ন নহে যে, তিনি তাহাকে বলেন, হৌক, পরে হয়।

আয়াতঃ ৮৩⇒ অনন্তর যাহার হস্তে সমুদায় পদার্থের কর্তৃত্ব তাঁহারই পবিত্রতা, তাঁহার দিকেই তোমরা পুনর্মিলিত হইবে।