সূরাঃ আহকাফ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম

আয়াতঃ ০২⇒ পরাক্রান্ত বিজ্ঞানময় পরমেশ্বর হইতে গ্রন্থের অবতরণ।

আয়াতঃ ০৩⇒ আমি নির্দিষ্টকাল ও সত্যভাবে ব্যতীত নিখিল সব্রগো পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যে যে কিছু আছে তাহা সৃজন করি নাই, যে (কেয়ামত) বিষয়ে ভয় প্রদর্শিত হইয়াছে, কাফেরগণ তাহার অগ্রাহ্যকারী।

আয়াতঃ ০৪⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) “ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তোমরা যাহাদিগকে আহ্বান করিয়া থাক তাহাদিগকে কি দেখিয়াছ? আমাকে প্রদর্শন কর যে, তাহারা পৃথিবীর কি সৃষ্টি করিয়াছে, স্বর্গনিচয়ে তাহাদের কি অংশ আছে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও (প্রমাণসূচক) ইহার পূর্বতন কোন গ্রন্থ অথবা জ্ঞানের কোন প্রসঙ্গ আমার নিকটে উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া এমন ব্যক্তিদিগকে আহ্বান করে যে, কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাহাদিগকে উত্তর দান করে না, এবং তাহারা তাহাদের প্রার্থনায় উদাসীন, তাহাদিগ অপেক্ষা কে সমধিক পথভ্রান্ত?

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং যখন লোক সকল (কেয়ামতে) একত্রীকৃত হইবে, তখন (সেই উপাস্যগণ) তাহাদের শত্রু হইবে ও তাহাদের ভজনার অগ্রাহ্যকারী হইবে।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং যখন তাহাদের নিকট আমার উজ্জ্বল বচন সকল পঠিত হয় তখন যাহারা সত্যের বিরোধী হইয়াছে তাহারা তাহাদের নিকটে (উহা) উপস্থিত হইলে বলে যে, “ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ০৮⇒ তাহারা কি বলে, “তাহা রচনা করিয়াছে”? তুমি বল, “যদিও আমি তাহা রচনা করিয়া থাকি, অনন্তর ঈশ্বরের পক্ষ হইতে তোমরা আমার সম্বন্ধে কিছুই করিতে পার না, তোমরা যে-বিষয়ে (কথা) উপস্থিত করিয়া থাক তিনি তাহার সুবিজ্ঞাতা, আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরই যথেষ্ট সাক্ষী, এবং তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু”।

আয়াতঃ ০৯⇒ তুমি বল, “আমি প্রেরিতপুরুষদিগের মধ্যে নূতন নহি, এবং আমি জানি না যে, আমার সম্বন্ধে ও তোমাদের সম্বন্ধে কি করা যাইবে, আমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করা হয় আমি তাহার অনুসরণ ভিন্ন করি না, এবং আমি স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক ভিন্ন নহি”।

আয়াতঃ ১০⇒ তুমি বল, “তোমরা কি দেখিয়াছ? যদি ঈশ্বরের নিকট হইতে কোরআন হয় ও তোমরা তৎপ্রতি বিরুদ্ধাচরণ কর, (তাহাতে কি?) তাহার সদৃশ (গ্রন্থে) এস্রায়িল বংশের একজন সাক্ষ্য দান করিয়াছে, অনন্তর সে বিশ্বাসী হইয়াছে, এবং তোমরা গর্ব করিয়াছ, নিশ্চয় পরমেশ্বর অত্যাচারীদলকে পথ প্রদর্শন করেন না”।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বিশ্বাসীদিগকে বলিয়াছে, “(এই ধর্ম) যদি শ্রেষ্ঠ হইত তবে তাহারা ইহার দিকে আমাদিগকে অতিক্রম করিত না,” এবং যখন তৎসম্বন্ধে তাহারা পথ প্রাপ্ত হয় নাই তখন অবশ্য বলিবে যে, ইহা পুরাতন অসত্য।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং ইহার পূর্বে মুসার গ্রন্থ অগ্রণী ও অনুগ্রহস্বরূপ হয়, এবং অত্যাচারীদিগকে ভয় প্রদর্শন ও হিতকারী লোকদিগকে সুসংবাদ দান করিতে আরব্য ভাষায় এই গ্রন্থ (মুসার গ্রন্থের) প্রমাণপ্রদ।

আয়াতঃ ১৩⇒ নিশ্চয় যাহারা বলিয়াছে, “আমাদের প্রতিপালক ঈশ্বর,” তৎপর (ধর্মে) স্থির রহিয়াছে, পরে তাহাদের সম্বন্ধে কোন ভয় নাই, এবং তাহারা শোক করিবে না।

আয়াতঃ ১৪⇒ ইহারাই স্বর্গনিবাসী, তথায় নিত্যস্থায়ী, ইহারা যাহা করিতেছিল তদনুরুপ বিনিময় আছে।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং আমি মনুষ্যকে তাহার পিতা-মাতা সম্বন্ধে হিতানুষ্ঠান করিতে উপদেশ দিয়াছি, তাহাকে তাহার মাতা কষ্টে গর্ভে ধারন করিয়াছে ও কষ্টে তাহাকে প্রসব করিয়াছে, এবং তাহার গর্ভে স্থিতি ও তাহার স্তন্যত্যাগ ত্রিশ মাস হয়, এ পর্যন্ত, যখন সে স্বীয় বয়ঃপূর্ণতায় উপনীত হইল ও চল্লিশ বৎসরে উপস্থিত হইল, তখন বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে সাহায্য দান কর যেন তোমার দাতব্যের যাহা তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি দান করিয়াছ তাহার কৃতজ্ঞতা অর্পণ করি, এবং এমন সৎকর্ম করি যে, তুমি তাহা অনুমোদন কর, এবং আমার জন্য আমার সন্তানবর্গকে সংশোধন কর, নিশ্চয় আমি তোমার দিকে পুনর্মিলিত হইয়াছি, এবং আমি মোসলমানদিগের অন্তর্গত হই।

আয়াতঃ ১৬⇒ ইহারাই তাহারা, তাহারা যে অনুষ্ঠান করে আমি তাহাদিগ হইতে তাহার অত্যুৎকৃষ্ট গ্রহণ করিয়া থাকি ও তাহাদিগের অশুভ পুঞ্জ পরিহার করি, স্বর্গনিবাসীদিগের ভিতরে তাহারা থাকিবে, তাহারা যে অঙ্গীকার প্রাপ্ত হইয়াছে সেই অঙ্গীকার সত্য।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং যে ব্যক্তি স্বীয় জনক-জননীকে বলিল, “তোমাদের প্রতি আমি অসন্তুষ্ট, তোমরা কি আমাকে নিশ্চিত বলিতেছ যে, আমি (কবর হইতে) বাহির হইব, এবং নিশ্চয় আমার পূর্বে বহু যুগ গত হইয়াছে, (কেহই নির্গত হয় নাই) এবং উভয়ে ঈশ্বরের নিকটে আর্তনাদ করিতে লাগিল, (বলিতে লাগিল) “তোর প্রতি আক্ষেপ, তুই বিশ্বাসী হ, নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য;” পরে সে বলে, “ইহা পূর্বতন কাহিনী ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ১৮⇒ ইহারাই তাহারা যাহাদের উপর মণ্ডলী সকলের প্রতি (শাস্তির) বাক্য প্রমানিত হইয়াছে, নিশ্চয় তাহাদের পূর্বে দেব-দানব গত হইয়াছে, নিশ্চয় তাহারা ক্ষতিগ্রস্থ ছিল।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং যাহাআ করিয়াছে, তদনুরুপ প্রত্যেকের জন্য (উচ্চ-নীচ) শ্রেণী সকল আছে, এবং তাহাদের কার্য (কর্মফল) তাহাদিগকে পূর্ণ দেওয়া হইবে, এবং তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং যে দিবস ধর্মদ্রোহীদিগকে অগ্নিতে উপস্থিত করা হইবে, (বলা হইবে) স্বীয় পার্থিব জীবনে তোমরা আপনাদের সুখ সামগ্রী সকল লইয়াছ ও তদ্দারা তোমরা ফল ভোগ করিয়াছ, অনন্তর অদ্য দুর্গতির শাস্তি তোমাদিগকে বিনিময় দেওয়া যাইবে, যেহেতু তোমরা পৃথিবীতে অনুচিত গর্ব করিতেছিলে, এবং যেহেতু তোমরা দুষ্ক্রিয়া করিতেছিলে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং আদ জাতির ভ্রাতাকে স্মরণ কর, যখন সে আহকাফ ভূমিযোগে আপন সম্প্রদায়কে ভয় প্রদর্শন করিয়াছিল, এবং নিশ্চয় তাহাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ দিয়া ভয়প্রদর্শকগণ (এই বলিয়া) চলিয়া গিয়াছিল যে, “ঈশ্বরকে ভিন্ন অর্চনা করিও না, নিশ্চয় আমি তোমাদের সম্বন্ধে মহাদিনের শাস্তিকে ভয় করি”।

আয়াতঃ ২২⇒ তাহারা বলিয়াছিল, “তুমি কি আমাদের নিকটে আসিয়াছ যে, আমাদিগকে স্বীয় উপাস্য দেবগণ হইতে নিবৃত্ত রাখিবে? যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও, তবে যাহা (যে শাস্তি) আমাদের প্রতি অঙ্গীকার করিতেছ তাহা আমাদের নিকটে আনয়ন কর”।

আয়াতঃ ২৩⇒ সে বলিল, “(কখন শাস্তি হইবে) ঈশ্বরের নিকটে তাহার জ্ঞান এতদ্ভিন্ন নহে, এবং আমি যৎসহ প্রেরিত হইয়াছি তাহা তোমাদিগের প্রতি প্রচার করিব, কিন্তু আমি তোমাদিগকে এমন দল দেখিতেছি যে, মূর্খতা করিতেছ”।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর যখন তাহারা তাহাকে (শাস্তিকে) প্রকান্ড বারিবাহকরুপে তাহাদের প্রান্তরে সম্মুখীন দর্শন করিল, তখন পরস্পর বলিল, “ইহা আমাদিগের প্রতি বর্ষণকারী বারিবাহ,” (প্রেরিতপুরুষ আদ বলিল) “বরং তোমরা যাহা শীঘ্র চাহিতেছিলে তাহাই ইহা, ইহার মধ্যে প্রভঞ্জন আছে, দুঃখকারী শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ২৫⇒ এ আপন প্রতিপালকের আদেশক্রমে সমুদায় বস্তু বিনাশ করিবে, “অনন্তর তাহারা (এরুপ) হইল যে, তাহাদের আলয় ব্যতীত (অন্য কিছু) দৃষ্ট হইতেছিল না, এই প্রকার আমি অপরাধীদলকে বিনিময় দান করি।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং সত্য-সত্যই আমি তাহাদিগকে (আদজাতিকে) যে বিষয়ে ক্ষমতা দান করিয়াছি তদ্বিষয়ে তোমাদিগকে ক্ষমতা দান করি নাই, এবং তাহাদের জন্য চক্ষু ও কর্ণ এবং মন সৃজন করিয়াছিলাম, যখন তাহারা ঐশ্বরিক নিদর্শনাবলীকে অগ্রাহ্য করিতেছিল ও যে বিষয়ে উপহাস করিতেছিল তাহা তাহাদিগকে ঘেরিল, তখন তাহাদের শ্রোত্র ও তাহাদের নেত্র এবং তাহাদের চিত্ত তাহাদিগ হইতে কোন (শাস্তি) নিবারণ করিল না।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি (হে মক্কাবাসিগণ) তোমাদের পার্শ্বস্থ যে কোন গ্রাম ছিল তাহা ধ্বংস করিয়াছি, এবং নানা প্রকার নিদর্শনাবলী প্রত্যানয়ন করিয়াছি যেন তাহারা ফিরিয়া আইসে।

আয়াতঃ ২৮⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে তাহারা (ঈশ্বরের) সান্নিধ্য জন্য উপাস্যরুপে গ্রহণ করিয়াছিল তাহারা কেন তাহাদিগকে সাহায্য দান করিল না? বরং তাহাদিগ হইতে অন্তর্হিত হইল, এবং ইহাই তাহাদিগের অসত্যাচরণ ও যাহা তাহারা রচনা করিতেছিল।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতি একদল দৈত্যকে কোরআন শ্রবন করিতে প্রত্যানয়ন করিয়াছিলাম; অনন্তর যখন তাহারা তাহার নিকটে উপস্থিত হইল, তখন পরস্পর বলিল, চুপ কর, পরে যখন পাঠ সমাপ্ত হইল তখন তাহারা (বিশ্বাসী হইয়া) স্বীয় সম্প্রদায়ের দিকে ভয় প্রদর্শকরুপে চলিয়া গেল।

আয়াতঃ ৩০⇒ তাহারা বলিল, “হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এক গ্রন্থ শ্রবন করিয়াছি যে, মুসার পরে তাহার পূর্বে যাহা আছে তাহার প্রমাণকারীরুপে অবতারিত হইয়াছে, তাহা সত্যের প্রতি ও সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করে।

আয়াতঃ ৩১⇒ হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা ঈশ্বরের আহ্বান স্বীকার কর ও তৎপ্রতি বিশ্বাসী হও, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপ ক্ষমা করিবেন, এবং ক্লেশকর দন্ড হইতে তোমাদিগকে আশ্রয় দিবেন”।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের আহ্বান গ্রহণ করে না, পরে সে ধরাতলে (তাঁহার) পরাভবকারী নহে, এবং তিনি ব্যতীত তাহার বন্ধু নাই, ইহারাই স্পষ্ট বিপথে আছে।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, সেই ঈশ্বর যিনি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল সৃজন করিয়াছেন, এবং উভয়ের সৃষ্টিতে শ্রান্ত হন নাই, তিনি মৃতকে জীবিত করার বিষয়ে ক্ষমতাবান, হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং যে দিবস ধর্মদ্রোহীদিগকে অগ্নিতে উপস্থিত করা হইবে, (বলা হইবে) “ইহা কি সত্য নহে”? তাহারা বলিবে, “হ্যাঁ, আমাদের প্রতিপালকের শপথ, (সত্য)” তিনি বলিবেন, “পরে তোমরা যে বিরুদ্ধাচরণ করিতেছিলে তজ্জন্য শাস্তি আস্বাদন কর”।

আয়াতঃ ৩৫⇒ অনন্তর যেমন উদ্যমশীল প্রেরিতপুরুষগণ ধৈর্য ধারন করিয়াছিল তুমি তদ্রূপ ধৈর্য ধারন কর, এবং তাহাদের জন্য ব্যস্ত হইও না, (কেয়ামতের বিষয়) যাহা অঙ্গীকার করা হইয়াছে, যে দিন তাহারা তাহা দেখিবে, (তাহারা মনে করিবে) যেন দিবসের এক দন্ড ভিন্ন (পৃথিবীতে) স্থিতি করে নাই, (ইহাই) প্রচার, অনন্তর দুষ্ক্রিয়াশীল লোকেরা ভিন্ন সংহার প্রাপ্ত হইবে না।