সূরাঃ আল এমরান

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ আলিফ লাম মীম।

আয়াতঃ ০২⇒ সেই পরমেশ্বর, তিনি ব্যতিত উপাস্য নাই; তিনি জীবন্ত, অটল।

আয়াতঃ ০৩⇒ তিনি তোমার প্রতি (হে মোহাম্মদ) সত্য গ্রন্থ অবতারন করিয়াছেন, যাহা ইহার পুরোবর্তী ইহা তাহার সত্যতার প্রতিপাদক, এবং ইতিপূর্বে লোকদিগকে পথ প্রদর্শন করিবার জন্য তওরাত ও ইঞ্জিল অবতারন করিয়াছেন, এবং অলৌকিকতা অবতারন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় যে সকল লোক ঐশ্বরিক নিদর্শনের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে তাহাদের জন্য কঠিন শাস্তি আছে, এবং পরমেশ্বর পরাক্রান্ত ও প্রতিফলদাতা।

আয়াতঃ ০৫⇒ নিশ্চয় ভূলোকস্থ ও দ্যুলোকস্থ কোন বিষয় ঈশ্বরের নিকট গুপ্ত নহে।

আয়াতঃ ০৬⇒ সেই তিনি যিনি ইচ্ছানুসারে জরায়ুকোষে তোমাদিগকে গঠন করেন, তিনি ব্যতিত উপাস্য নাই, তিনি পরাক্রান্ত ও নিপুণ।

আয়াতঃ ০৭⇒ সেই তিনি যিনি তোমার প্রতি গ্রন্থ (কোরআন) অবতারন করিয়াছেন, তাহার কোন কোন আয়াত সুদৃঢ়, গ্রন্থের মূল সেই সকল ও অপর সকল পরস্পর সাদৃশ্যকারী, পরন্তু যাহাদিগের অন্তরে বক্রভাব আছে তাহারা গোলযোগ করার উদ্দেশ্যে ও তাহার মর্মবোধের উদ্দেশ্যে তাহার সেই সাদৃশ্যাত্মক প্রবচনের অনুসরণ করিয়া থাকে, কিন্তু তাহার মর্ম ঈশ্বর ব্যতিত অন্য কেহ জানে না, জ্ঞান প্রবীন লোকেরা বলিবে যে, যে সকল আমাদের পরমেশ্বরের নিকট হইতে আগত তৎসমুদয়ের প্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, এবং সুবোধ লোক ব্যতিত অন্যে উপদেশ গ্রহণ করে না।

আয়াতঃ ০৮⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করিও না, আমাদিগকে নিজের নিকট হইতে অনুগ্রহ দান কর, নিশ্চয় তুমি দাতা।

আয়াতঃ ০৯⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় তুমি সেই দিনে, (বিচার দিবসে) লোকসংগ্রহকারী, তদ্বিষয়ে নিঃসন্দেহ; নিশ্চয় ঈশ্বর অঙ্গীকারের অন্যথাচরণ করেন না।

আয়াতঃ ১০⇒ যে সকল লোক ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগের ধন ও তাহাদিগের সন্তান ঈশ্বরের নিকটে তাহাদিগের সম্বন্ধে কোন ফলদায়ক হইবে না, এবং ইহারাই তাহারা যে নরকাগ্নির উদ্দীপক।

আয়াতঃ ১১⇒ যেমন ফেরাওয়নীয় লোকদিগের এবং তাহাদের পূর্ববর্তী লোকদিগের রীতি ছিল (ইহাদেরঅ সেইরুপ) তাহারা আমাদের নিদর্শন সকলে অসত্যারোপ করিয়াছিল, অবশেষে ঈশ্বর তাহাদিগকে তাহদিগের অপরাধের জন্য ধরিয়াছিলেন, এবং ঈশ্বর কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ১২⇒ যেসকল লোক ধর্মদ্রোহী তাহাদিগকে বল, “তোমরা পরাভূত হইবে ও নরকের দিকে সমাহৃত হইবে, এবং তাহা কুস্থান।

আয়াতঃ ১৩⇒ নিশ্চয় পরস্পর মিলিত দুই দলে তোমাদের জন্য নিদর্শন সকল আছে, এক দল ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিয়াছিল, এবং অপর দল কাফের ছিল, (মোসলমান সৈন্য) তাহাদিগকে আপনাদের দুই জনের সদৃশ চক্ষুর দর্শনে দর্শন করিতেছিল, এবং পরমেশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন আপন সাহায্যে বল বিধান করিয়া থাকেন, নিশ্চয় এ বিষয়ে চক্ষুষ্মান লোকদিগের নিমিত্ত একান্ত উপদেশ আছে।

আয়াতঃ ১৪⇒ লোকের জন্য নারীর প্রতি সন্তানগণের প্রতি ও পূঞ্জীভূত রজত কাঞ্চনভান্ডারের প্রতি ও চিহ্নিত অশ্ব ও চতুষ্পদ (গবাদিপশু) এবং শস্য ক্ষেত্রের প্রতি শারীরিক প্রেম সজ্জীকৃত, এ সকল পার্থিব জীবনের সম্পত্তি, এবং ঈশ্বরের নিকটে শুভ প্রত্যাগমন।

আয়াতঃ ১৫⇒ বল, (হে মোহাম্মদ) ইহার মধ্যে কি উত্তম তোমাদিগকে জ্ঞাপন করিব? বিষয় নিবৃত্ত লোকদিগের জন্য তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে স্বর্গোদ্যান সকল আছে, তাহার নিন্মে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহারা তাহাতে চিরকাল থাকিবে, এবং (তাহাদের জন্য) পুণ্যবতী ভার্যা সকল ও ঈশ্বরের সন্তোষ থাকিবে, দাসদিগের প্রতি ঈশ্বর দৃষ্টিকারী।

আয়াতঃ ১৬⇒ যাহারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আমরা বিশ্বাসী হইয়াছি, অতএব আমাদিগের অপরাধ তুমি ক্ষমা কর, অগ্নিদ্গদ্ধ হইতে আমাদিগকে রক্ষা কর, (সেই বিষয়নিবৃত্ত লোকদিগের অবস্থা এইরুপ)।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহারা সহিষ্ণু সত্যবাদী, বাধ্য, বদান্য, প্রাতঃকালে ক্ষমা প্রার্থী।

আয়াতঃ ১৮⇒ ঈশ্বর এই সাক্ষ্য দান করিয়াছেন যে, তিনি ব্যতিত উপাস্য নাই, এবং দেবগণ ও পণ্ডিতগণ সাক্ষ্যদান করিয়াছেন যে, তিনি ন্যায়েতে বিদ্যমান, তিনি ব্যতিত উপাস্য নাই, তিনি পরাক্রান্ত নিপুণ।

আয়াতঃ ১৯⇒ নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকটে যে ধর্ম তাহা এসলাম ধর্ম, এবং যাহারা গ্রন্থ লাভ করিয়াছে জ্ঞান তাহাদের নিকটে উপস্থিত হওয়ার পর আপনাদের মধ্যে শত্রুতা ব্যতিত তাহারা তাহা (এসলাম ধর্ম) অগ্রাহ্য করে নাই, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের বিরোধী হইয়াছে নিশ্চয় ঈশ্বর সত্বর তাহার বিচার করিবেন।

আয়াতঃ ২০⇒ অনন্তর যদি তাহারা (হে মোহাম্মদ) তোমার সঙ্গে বিতণ্ডা করে তবে তুমি বলিও আমি ঈশ্বরের জন্য স্বীয় আনন উৎসর্গ করিয়াছি, এবং যাহারা আমার অনুসরণ করিয়াছে, (তাহারা উৎসর্গ করিয়াছে) যাহারা গ্রন্থপ্রাপ্ত তাহাদিগকে ও অশিক্ষিতদিগকে বল, তোমরা কি এসলাম ধর্ম গ্রহণ করিতেছ? অবশেষে তাহারা যদি ধর্মানুগত হয় তবে নিশ্চয় পথ প্রাপ্ত হইবে, এবং যদি বিমুখ হয় তবে সংবাদ প্রচার ভিন্ন তোমার প্রতি অন্য কিছুই নহে, এবং পরমেশ্বর দাসদিগের প্রতি দৃষ্টিকারী।

আয়াতঃ ২১⇒ নিশ্চয় যে সমস্ত লোক ঐশ্বরিক নিদর্শন সকলকে অগ্রাহ্য করে ও সংবাদবাহকদিগকে অযথা বধ করে, এবং মানব মণ্ডলীর মধ্যে যাহারা ন্যায়েতে আদেশ করিয়া থাকে তাহাদিগের বধ করে, তুমি তাহদিগকে দুঃখকর শাস্তির সংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ২২⇒ ইহারা সেই সকল লোক যাহাদিগের ঐহিক-পারত্রিক কারয বিনষ্ট হইয়াছে ও যাহাদিগের কোন সহায় নাই।

আয়াতঃ ২৩⇒ যাহাদিগকে গ্রন্থের একাংশ প্রদত্ত হইয়াছে ও ঐশ্বরিক গ্রন্থের দিকে যাহারা আহূত হইতেছে যেন তাহারা আপনাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করে, তুমি কি তাহাদিগের প্রতি দৃষ্টি কর নাই? তৎপর তাহাদের একদল অগ্রাহ্য করিল, বস্তুতঃ তাহারা অগ্রাহ্যকারী।

আয়াতঃ ২৪⇒ ইহা এজন্য যে, তাহারা বলিয়া থাকে নির্দিষ্ট কিয়দ্দিন ব্যতিত অগ্নি আমাদিগকে স্পর্শ করিবে না, যে সমস্ত আলাপ ক্রিতেছেচতাহাতে যে তাহারা আপন ধর্মেই প্রতারিত।

আয়াতঃ ২৫⇒ অনন্তর সেই দিনে যখন আমি নিঃসন্দেহ তাহাদিগকে একত্রিত করিব তখন কিরুপ হইবে? প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা সম্যক দেওয়া যাইবে ও তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ২৬⇒ তুমি বল, হে রাজ্যাধিপতি ঈশ্বর, তুমি যাহাকে ইচ্ছা হয় রাজ্য দান করিয়া থাক ও যাহা হইতে ইচ্ছা হয় রাজ্য প্রতিগ্রহণ কর, এবং যাহাকে ইচ্ছা হয় উন্নত কর ও যাহাকে ইচ্ছা হয় অবনত কর, তোমার হস্তে কল্যাণ, তুমি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ২৭⇒ তুমি রজনীকে দিবাতে ও দিবাকে রজনীতে আনয়ন কর, এবং মৃত্যু হইতে জীবন, জীবন হইতে মৃত্যু নিষ্ক্রামন কর, এবং তুমি যাহাকে ইচ্ছা অগণ্য জীবিকা দান করিয়া থাক।

আয়াতঃ ২৮⇒ বিশ্বাসীগণ বিশ্বাসী লোক ব্যতিত কাফেরদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিবে না, যাহারা তাহা করে অনন্তর তাহাদিগ হইতে তোমাদের সাবধান হওয়া ভিন্ন ঈশ্বর হইতে কিছুর মধ্যে নহে, ঈশ্বর স্বতঃ তোমাদিগকে ভয় প্রদর্শন করেন, এবং পরমেশ্বরের প্রতিই পরাবৃত্তি।

আয়াতঃ ২৯⇒ বল (হে মোহাম্মদ) আপন অন্তরে তোমরা যাহা গোপন করিয়া থাক, বা যাহা প্রকাশ কর ঈশ্বর তাহা জানেন, এবং পরমেশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৩০⇒ প্রত্যেক ব্যক্তি যে সৎকর্ম করিয়াছে এবং যে অসৎ কর্ম করিয়াছে যেদিন সাক্ষাত তাহা প্রাপ্ত হইবে সে ইচ্ছা করিবে যে যদি তাহার ও উহার (সেই অসৎ কর্মের) মধ্যে দূরতা হইত, (ভাল ছিল) ঈশ্বর স্বতঃ তোমাদিগকে ভয় প্রদর্শন করেন, ও ঈশ্বর দাসগণের প্রতি কৃপালু।

আয়াতঃ ৩১⇒ বল, যদি তোমরা ঈশ্বরকে প্রেম কর তবে আমার অনুসরণ কর, ঈশ্বর তোমাদিগকে প্রেম করিবেন, এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করিবেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৩২⇒ বল পরমেশ্বরের ও প্রেরিত পুরুষের অনুগত হও, অনন্তর যদি তাহারা অগ্রাহ্য করে তবে নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মদ্রোহীদিগকে প্রেম করিবেন না।

আয়াতঃ ৩৩+৩৪⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর আদমকে ও নুহাকে ও এব্রাহিমের সন্তান ও এমরানের সন্তানকে (এক জন হইতে উৎপন্ন অন্য জনকে) সমস্ত লোকের উপর গ্রহণ করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৩৫⇒ (স্মরণ কর) যখন এমরানের ভার্যা বলিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমি নিশ্চয় তোমার জন্য সঙ্কল্প করিয়াছি যে, আমার গর্ভে যাহা (যে সন্তান) আছে সে মুক্ত হইবে অতএব তুমি আমা হইতে (তাহাকে) গ্রহণ কর, নিশ্চয় তুমি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৩৬⇒ অনন্তর যখন সে তাহাকে প্রসব করিল তখন বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি কন্য সন্তান প্রসব করিলাম;” এবং সে যাহা প্রসব করিল ঈশ্বর তাহা উত্তম জ্ঞাত আছেন, (সে বলিল) এই কন্যার তুল্য পুত্র নহে, সত্যই আমি ইহার নাম মরিয়ম রাখিলাম, এবং সত্যই আমি নিষ্ক্রামিত শয়তান হইতে ইহাকে ও ইহার সন্তানগণকে তোমার আশ্রয়ে রাখিতেছি।

আয়াতঃ ৩৭⇒ পরে তাহার প্রতিপালক তাহাকে (সেই কন্যাকে) শুভ গ্রহণে গ্রহণ করিলেন ও শুভ বর্ধনে তাহাকে বর্ধিত করিলেন, এবং জকরিয়ার প্রতি তাহাকে সমর্পণ করিলেন, যখন জকরিয়া মন্দিরে তাহার নিকটে আগমন করিল তখন তাহার সমীপে উপজীবিকা প্রাপ্ত হইল, সে জিজ্ঞাসা করিল, “মরিয়ম, তোমার জন্য ইহা কোথা হইতে হইল?” সে বলিল, “ইহা পরমেশ্বরের নিকট হইতে হইয়াছে;” নিশ্চয় ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় অগণ্য উপজীবিকা দান করেন।

আয়াতঃ ৩৮⇒ সেই স্থানে জকরিয়া স্বীয় প্রতিপালকের নিকটে প্রার্থনা করিল, বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, আপন নিকট হইতে আমাকে পবিত্র সন্তান দান কর, নিশ্চয় তুমি প্রার্থনার শ্রোতা।“

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং সে উপাসনাস্থলে উপাসনাতে দন্ডায়মান ছিল, অবশেষে দেবগণ ডাকিয়া বলিল, “নিশ্চয় ঈশ্বর ইয়হার বিষয়ে তোমাকে সুসংবাদ দিতেছেন, সে ঈশ্বরের এক উক্তির বিশ্বাসী, স্ত্রীবিরাগী, শ্রেষ্ট এবং সাধুগণের মধ্যে সুসংবাদবাহক হইবে।

আয়াতঃ ৪০⇒ সে বলিল, “হে মম প্রতিপালক, কিরুপে আমার সন্তান হইবে, নিশ্চয় আমার বৃদ্ধত্ব লাভ হইয়াছে, এবং আমার পত্নী বন্ধ্যা; তিনি বলিলেন, “এই প্রকার, ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা করেন তাহাই করিয়া থাকেন।“

আয়াতঃ ৪১⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য কোন নিদর্শন নির্ধারণ কর;” তিনি বলিলেন, “তোমার জন্য এই নিদর্শন যে তুমি তিন দিবস ইঙ্গিত করা ভিন্ন কথা কহিতে পারিবে না, তোমার প্রতিপালককে বহু স্মরণ কর, এবং প্রাতঃসন্ধ্যা বন্দনা কর।“

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং তখন দেবগণ বলিল, “অয়ি মরিয়ম, নিশ্চিত ঈশ্বর তোমাকে গ্রহণ করিয়াছেন ও তোমাকে শুদ্ধ করিয়াছেন, এবং তোমাকে জগতের নারীকুলের উপর স্বীকার করিয়াছেন।“

আয়াতঃ ৪৩⇒ “অয়ি মরিয়ম, তুমি আপন প্রতিপালকের অনুগত হইয়া থাক ও প্রণত হও, এবং উপাসনাকারীদিগের সঙ্গে উপাসনা কর।“

আয়াতঃ ৪৪⇒ ইহা (হে মোহাম্মদ) অন্তর্জগতের তত্ত্ব, ইহা তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করিতেছি, এবং যখন আপন লেখনী তাহারা নিক্ষেপ করিতেছিল যে তাহাদিগের মধ্যে কে মরিয়মকে প্রতিপালন করিবে, তখন তুমি তাহাদিগের নিকটে ছিলে না, এবং যখন তাহারা বিতণ্ডা করিতেছিল, তখন তুমি তাহাদিগের নিকটে ছিলে না।

আয়াতঃ ৪৫⇒ (স্মরণ কর, হে মোহাম্মদ) যখন দেবগণ বলিল, “মরিয়ম, নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাকে আপন এক উক্তির সুসংবাদ দান করিতেছেন, তাহার নাম মরিয়ম নন্দন ঈসা মসীহ, তিনি ইহ-পরলোকে মান্য এবং (ঈশ্বরের) নিকটবর্তীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৪৬⇒ “সে দোলারোহনে ও প্রৌঢ়াবস্থায় লোকের সঙ্গে কথা কহিবে, এবং সাধু দিগের অন্তর্গত হইবে”।

আয়াতঃ ৪৭⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, কেমন করিয়া আমার পুত্র হইবে, আমাকে পুরুষ স্পর্শ করে নাই,” তিনি বলিলেন, “ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা করেন সেইরুপ সৃজন করিয়া থাকেন, যখন তিনি কোন কারয সম্পাদন করেন, তাহাকে হও বলিয়া থাকেন, এতদ্ভিন্ন নহে, তাহাতেই হয়।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তিনি তাহাকে গ্রন্থ ও বিজ্ঞান, এবং তওরাত ও বাইবেল শিক্ষা দিবেন।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং এস্রাইল বংশীয় লোকদিগের সম্বন্ধে প্রেরিত করিবেন, সে বলিবে, “নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতিপালকের নিদর্শন সহ তোমাদের নিকটে উপস্থিত, নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য মৃত্তিকা দ্বারা পক্ষীবত মূর্তি প্রস্তুত করিয়া তাহাতে ফুৎকার করি, পরে ঈশ্বরের আজ্ঞায় পক্ষী হয়, এবং আমি ঈশ্বরের আজ্ঞায় জন্মান্ধকে ও কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য দান করি ও মৃতকে জীবিত করিয়া থাকি, এবং তোমরা যাহা আহার কর, আপন গৃহে যাহা সঞ্চয় কর, তাহা তোমাদিগকে বলিয়া থাকি, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে ইহাতে নিশ্চয় তোমাদের জন্য নিদর্শন আছে।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং তোমাদের হস্তে যে তওরাত আছে আমি তাহার সত্যতার প্রতিপাদক ও তাহাতে তোমাদের প্রতি যে কিছু অবৈধ হইয়াছে আমি তোমাদিগের জন্য বৈধ করিব, এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে নিদর্শন সকল সহ তোমাদিগের সমীপে আসিয়াছি, অতএব ঈশ্বরকে ভয় কর, এবং আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ৫১⇒ নিশ্চয় পরমেশ্বর আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তাঁহাকে পূজা কর, ইহাই সরল পথ।

আয়াতঃ ৫২⇒ অনন্তর যখন ঈসা তাহাদের মধ্যে ধর্মদ্রোহিতা বোধ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ঈশ্বরের দিকে আমার সাহায্যকারী কে আছে? তখন ধর্মবন্ধুগণ বলিল, “আমরা ঈশ্বরের সাহায্যকারী, আমরা পরমেশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, তুমি সাক্ষী হও যে, আমরা ঈশ্বরানুগত।

আয়াতঃ ৫৩⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, যাহা তুমি অবতারন করিয়াছ আমরা তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, এবং তোমাদের প্রেরিত পুরুষের অনুবর্তী হইলাম, তুমি আমাদিগকে সাক্ষীদিগের সঙ্গে লিপি কর।

আয়াতঃ ৫৪⇒ তাহারা চতুরতা করিল, এবং ঈশ্বর চতুরতা করিলেন, ঈশ্বর চতুরশ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৫৫⇒ (স্মরণ কর) যখন পরমেশ্বর বলিয়াছিলেন, “হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমার গ্রহণকারী ও আপন অভিমুখে তোমার সমুত্থাপনকারী এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগের মধ্য হইতে তোমার সংশোধনকারী, অপিচ কেয়ামতের দিন পর্যন্ত কাফেরদিগের উপর তোমার অনুবর্তী লোকদিগের স্থাপনকারী, পরে আমার অভিমুখে তোমাদিগের পরাবৃত্তি, অবশেষে তোমরা যে বিষয়ে বিরোধ করিতেছিলে তদ্বিষয়ে আমি তোমাদের মধ্যে বিচার করিব।

আয়াতঃ ৫৬⇒ অনন্তর যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তাহাদিগকে আমি ইহ-পরলোকে কঠিন দন্ডে দন্ডিত করিব, এবং তাহাদের জন্য সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং কিন্তু যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, পরে আমি তাহাদিগের প্রাপ্য তাহাদিগকে পূর্ণ দান করিব, এবং ঈশ্বর অত্যাচারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এই (হে মোহাম্মদ) তোমার নিকটে আমি বিজ্ঞানোপদেশ ও নিদর্শন সকলের ইহা (এই বচন) পাঠ করিতেছি।

আয়াতঃ ৫৯⇒ নিশ্চয় ঈসার অবস্থা ঈশ্বরের নিকটে আদমের অবস্থার তুল্য, তিনি তাঁহাকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছেন, তৎপর তাঁহাকে বলিলেন “হও” তাহাতে সে হইল।

আয়াতঃ ৬০⇒ তোমার প্রতিপালক হইতেই সত্য হয়, অতএব তুমি সংশয়ত্মাদিগের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

আয়াতঃ ৬১⇒ অনন্তর তোমার এতৎ জ্ঞান প্রাপ্তির পরে যাহারা এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করিতে থাকে তখন তুমি বলিও এস নিজের সন্তানদিগকে ও তোমাদের সন্তানদিগকে, এবং নিজের স্ত্রীগণকে ও তোমাদের স্ত্রীগণকে এবং নিজের প্রাণকে ও তোমাদের প্রাণকে আহ্বান করি, অতঃপর কাতর প্রার্থনা করি, পরিশেষে মিথ্যাবাদীর প্রতি পরমেশ্বরের অভিসম্পাত বলি।

আয়াতঃ ৬২⇒ নিশ্চয় ইহা সত্য বৃত্তান্ত, পরমেশ্বর ব্যতিত কোন উপাস্য নাই, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর তিনি পরাক্রান্ত ও বিচক্ষন।

আয়াতঃ ৬৩⇒ অনন্তর যদি তাহারা গ্রাহ্য না করে তবে নিশ্চয় ঈশ্বর দুরাচারদ্গকে অবগত হন।

আয়াতঃ ৬৪⇒ তুমি বল, হে গ্রন্থধারী লোক সকল, তোমরা আমাদিগের ও তোমাদের উভয়ের মধ্যে এক সরল উক্তির দিকে এস যে, ঈশ্বর ব্যতিত অন্যের উপাসনা করিব না, তাঁহার সঙ্গে কোন বস্তুকে অংশীরুপে স্থাপন করিব না, এবং ঈশ্বরকে ছাড়িয়া আমরা কেহ আমাদের কাহাকেও ঈশ্বর গণ্য করিব না, পরে যদি তাহারা অগ্রাহ্য করে তবে তোমরা বল যে, এ বিষয়ে সাক্ষী থাক যে আমরা ঈশ্বরানুগত।

আয়াতঃ ৬৫⇒ হে গ্রন্থধারী লোক সকল, এব্রাহিমের বিষয়ে তোমরা বিতণ্ডা করিও না, তাঁহার পরলোকের পর ব্যতিত তওরাত ও বাইবেল অবতীর্ণ হয় নাই, অনন্তর তোমরা কি জানিতেছ?

আয়াতঃ ৬৬⇒ জানিও তোমরা সেই লোক যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল তদ্বিষয়ে তোমরা বিতর্ক করিয়াছ, পরে যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নাই কেন তদ্বিষয়ে তোমরা বিতর্ক করিতেছ? এবং ঈশ্বর জ্ঞাত আছেন, তোমরা জ্ঞাত নহ।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এব্রাহিম ইহুদী বা ঈসায়ী ছিল না, কিন্তু সে সত্য ধর্মাধীন আজ্ঞাবহ ছিল, এবং অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত ছিল না।

আয়াতঃ ৬৮⇒ নিশ্চয় এব্রাহিমের সম্বন্ধে প্রকৃতপক্ষে তাহারা সুযোগ্য লোক, যাহারা তাঁহার অনুসরণ করিয়াছে এবং এই সংবাদবাহক ও বিশ্বাসীগণ এবং ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের বন্ধু হন।

আয়াতঃ ৬৯⇒ গ্রন্থধারীদিগের একদল তোমাদিগকে বিপথগামী করিতে সমুৎসুক, তাহারা নিজের আত্মাকে বিপথগামী ভিন্ন করিতেছে না ও তাহারা বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৭০⇒ হে গ্রন্থধারী লোক সকল, কেন ঐশ্বরিক নিদর্শন সকল সম্বন্ধে বিদ্রোহী হইতেছ? এবং তোমরাই তো সাক্ষ্যদান করিতেছ।

আয়াত ৭১⇒ হে গ্রন্থধারী লোক সকল, কেন অসত্যের সঙ্গে সত্যকে মিশাইতেছ ও সত্য গোপন করিতেছ, এবং তোমরা জ্ঞাত আছ।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং গ্রন্থধারী লোকদিগের একদল বলিল যে, “প্রথম দিবসে বিশ্বাসী লোকদিগের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তৎপ্রতি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর, তাহার শেষের প্রতি বিরুদ্ধাচারী হও, ভরসা যে তাহারা ফিরিয়া যাইবে।“

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং যাহারা তোমাদের ধর্ম অনুসরণ করে তোমরা তাহাদিগকে ভিন্ন বিশ্বাস করিও না; বল (হে মোহাম্মদ) নিশ্চয়ই ঈশ্বরের উপদেশই উপদেশ, (বিশ্বাস করিও না) তোমাদিগকে যাহা দেওয়া যায় তদ্রুপ কোন এক ব্যক্তিকে প্রদত্ত হয়; অথবা (বিশ্বাস করিও না) (মোসলমানগণ) তাহারা তোমাদের প্রতিপালকের নিকটে তোমাদের সঙ্গে বিরোধ করিবে, বল হে (মোহাম্মদ) নিশ্চয় ঈশ্বরের সম্পত্তি ঈশ্বরের হস্তে, তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় দান করেন, ঈশ্বর প্রমুক্তস্বভাব ও জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৭৪⇒ তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় স্বীয় অনুগ্রহে তাহাকে চিহ্নিত করেন, ঈশ্বর বদান্য ও মহান।

আয়াতঃ ৭৫⇒ গ্রন্থাধিকারীদিগের মধ্যে কেহ আছে যে, যদি তুমি তাহাকে এক কেন্তারের রক্ষক কর সে তোমাকে তাহা পরিশোধ করিবে এবং তাহাদের মধ্যে এমন কেহ আছে যে, যদি তুমি তাহাকে এক দিনারের রক্ষক কর যে পর্যন্ত তুমি তাহার উপর দন্ডায়মান না হও সে তাহা পরিশোধ করিবে না, ইহা এজন্য যে, তাহারা বলিয়া থাকে যে অশিক্ষিতদিগের সম্বন্ধে আমাদের পথ (নীতি) নাই, এবং তাহারা পরমেশ্বরের সম্বন্ধে অসত্য বলে ও তাহারা (ইহা) জ্ঞাত আছে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ হ্যাঁ যে জন স্বীয় অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং বিষয়বিরাগী হয় তবে নিশ্চয় ঈশ্বর সেই বিরাগীদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ৭৭⇒ নিশ্চয় যাহারা ঈশ্বরের অঙ্গীকারের ও আপনাদের শপথের বিনিময়ে কিঞ্চিত মূল্য গ্রহণ করে, তাহারা সেই লোক যাহাদের জন্য পরলোকে কোন লভ্য নাই এবং কেয়মতের দিনে ঈশ্বর তাহাদের সঙ্গে কথা কহিবেন না ও তাহাদিগের প্রতি দৃষ্টি করিবেন না, এবং তাহাদিগকে শুদ্ধ করিবেন না ও তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং নিশ্চয় তাহাদিগের মধ্যে এক দল আছে যে, গ্রন্থে আপনাদের জিহবাকে কুঞ্চিত করিয়া থাকে যেন তোমরা তাহাদিগকে গ্রন্থাধিকারী লোক বলিয়া জানিতে পার, অথচ তাহারা গ্রন্থাধিকারী নহে, এবং তাহারা বলে তাহারা ঈশ্বরের নিকট হইতে (আগত), অথচ তাহারা ঈশ্বরের নিকট হইতে (আগত) নহে, তাহারা ঈশ্বরের সম্বন্ধে অসত্য বলিয়া থাকে, এবং (ইহা) তাহারা জানিতেছে।

আয়াতঃ ৭৯⇒ কোন মনুষ্যের জন্য উপযুক্ত নহে যে, ঈশ্বর তাহাকে গ্রন্থ, প্রত্যাদেশ ও প্রেরিতত্ব প্রদান করেন তৎপর সে লোকদিগকে বলে যে, ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তোমরা আমার সেবক হও; কিন্তু তোমরা যেমন গ্রন্থ শিক্ষা দিতেছিলে ও যেমন তোমরা পড়িতেছিলে তদ্রুপ ঈশ্বরগত হও।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং তোমাদিগকে তাহাদের আদেশ করা সঙ্গত নয় যে, তোমরা দেবগণকে ও ধর্মপ্রবর্তকগণকে ঈশ্বর বলিয়া স্বীকার কর, যখন তোমরা মোসলমান হইয়াছ তাহার পর তোমাদিগকে কি তাহারা কাফের বলিবে?

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং (স্মরণ কর, হে মোহাম্মদ) যখন পরমেশ্বর সংবাদবাহকগণ হইতে অঙ্গীকার লইলেন যে, আমি যে সুবিজ্ঞতা ও গ্রন্থ তোমাদিগকে দান করিয়াছি, অতঃপর তোমাদের সঙ্গে এই যাহা আছে তাহার সত্যতার প্রতিপাদক কোন পেগাম্বর তোমাদের নিকটে উপস্থিত হইবে, একান্তই তোমরা তাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিবে, এবং একান্তই তোমরা তাহাকে সাহায্য দান করিবে, তিনি বলিলেন, তোমরা কি অঙ্গীকার করিলে? ও এ বিষয়ে আমার অঙ্গীকার গ্রাহ্য করিলে? তাহারা বলিল, “আমরা অঙ্গীকার করিলাম,” তিনি বলিলেন, “অনন্তর সাক্ষী থাকিও, এবং আমি তোমাদের সঙ্গে সাক্ষীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৮২⇒ অনন্তর ইহার পর যাহারা ফিরিয়া গিয়াছে, তাহারাই, যাহারা দুষ্ক্রিয়াশীল ছিল।

আয়াতঃ ৮৩⇒ অবশেষে তাহারা কি নিরীশ্বর ধর্ম অন্বেষণ করিতেছে? যাহা কিছু স্বর্গে ও মর্তে আছে সেই সকল ইচ্ছায় অনিচ্ছায় ঈশ্বরের অনুগত, এবং তাহার অভিমুখে প্রত্যাগমনকারী।

আয়াতঃ ৮৪⇒ বল, (হে মোহাম্মদ) আমরা ঈশ্বরের প্রতি ও যাহা আমার প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে, এবং যাহা এব্রাহিমের প্রতি, এসমাইলের প্রতি, এসহাকের প্রতি, ইয়াকুবের প্রতি ও (তাহার) সন্তানগণের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে, এবং যাহা মুসাকে, ঈসাকে ও সংবাদবাহকদিগকে তাহাদের প্রতিপালক কর্তৃক প্রদত্ত হইয়াছে সে সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, তাহাদের কোন ব্যক্তিকে আমরা প্রভেদ করিতেছি না, আমরা তাঁহার অনুগত।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং যে ব্যক্তি এসলাম ধর্ম ভিন্ন অন্য ধর্ম অন্নেষন করে, পরে তাহার (সেই ধর্ম) গৃহীত হইবে না, এবং সে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ৮৬⇒ যে দল আপন বিশ্বাস লাভের ও প্রেরিত পুরুষের সত্যতার সাক্ষীদানের এবং তাহাদের প্রতি প্রমান সকল উপস্থিত হওয়ার পর কাফের হইয়াছে, তাহাদিগকে ঈশ্বর কেমন করিয়া পথ প্রদর্শন করিবেন? এবং ঈশ্বর অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এই সকল লোকে, তাহাদের প্রতিফল এই যে, তাহাদের উপর ঈশ্বরের, দেবগণের ও সমুদয় মনুষ্যের অভিসম্পাত হয়।

আয়াতঃ ৮৮⇒ সর্বদা তাহারা তাহাতে থাকিবে, তাহাদিগ হইতে শাস্তি খর্ব করা হইবে না ও তাহদিগকে অবকাশ দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ৮৯⇒ (কিন্তু) যে সকল লোক ইহার পর অনুতাপ ও সৎকর্ম করিল তাহারা ব্যতিত; অবশেষে নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ৯০⇒ নিশ্চয় যাহারা আপন ধর্ম লাভের পর ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তৎপর তাহারা ধর্মদ্রোহীতায় প্রবল হইয়া উঠিয়াছে, তাহাদের অনুতাপ কখন গৃহীত হয় না, এবং ইহারাই যাহারা পথভ্রান্ত।

আয়াতঃ ৯১⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী ছিল ও ধর্মদ্রোহী অবস্থায় মরিয়াছে, ধরাপূর্ণ সুবর্ণ যদ্যপি তাহারা তাহার বিনিময় স্বরূপ প্রদান করে তাহাদের কোন ব্যক্তি হইতে কখনো গৃহীত হইবে না, সেই এই লোক যে, ইহাদিগের জন্য যন্ত্রনাকর দন্ড আছে, ইহাদিগের সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৯২⇒ যে পর্যন্ত তোমরা যাহা ভালোবাস তাহা ব্যয় না করিবে সে পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করিবে না, এবং যাহা ব্যয় করিয়া থাকো নিশ্চয় ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ৯৩⇒ তওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এস্রায়েল নিজের প্রতি যাহা অবৈধ নির্ধারিত করিয়াছিল তদ্ব্যতীত সমুদয় খাদ্য এস্রায়েল সন্ততিদিগের জন্য বৈধ ছিল, বল (হে মোহাম্মদ) যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তওরাত আনয়ন কর, অবশেষে তাহা পাঠ কর।

আয়াতঃ ৯৪⇒ পরিশেষে ইহার পরে যে ব্যক্তি পরমেশ্বরের উপর অসত্য যোগ করে, ইহারাই যাহারা অত্যাচারী লোক।

আয়াতঃ ৯৫⇒ বল, ঈশ্বর সত্য বলিয়াছেন, অতএব সত্যধর্মানুগত এব্রাহিমের ধর্মের অনুসরণ কর, এবং সে অংশীবাদী ছিল না।

আয়াতঃ ৯৬⇒ নিশ্চয় প্রথমে যে মন্দির লোকের জন্য প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল তাহা মক্কাস্থ কল্যাণযুক্ত ও জগতের পথপ্রদর্শক (মন্দির)।

আয়াতঃ ৯৭⇒ তাহাতে উজ্জল নিদর্শন আছে, (উহা) এব্রাহিমের দন্ডায়মানভূমি; যে কেহ তন্মধ্যে প্রবেশ করে সে নিরাপদ হয়, এবং ঈশ্বরের জন্য সেই মন্দিরে হজ্ব করা তদভিমুখে পথ পাইতে ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তির সম্বন্ধে (বিধি) এবং যে কেহ বিরুদ্ধাচারী হয় নিশ্চয় ঈশ্বর জগতে নিরাকাঙ্ক্ষ।

আয়াতঃ ৯৮⇒ বল, হে গ্রন্থাধিকারীগণ, তোমরা কেন ঐশ্বরিক নিদর্শন সকলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ কর, এবং তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহার সাক্ষী।

আয়াতঃ ৯৯⇒ বল, হে গ্রন্থাধিকারীগণ, যে ব্যক্তি বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাকে কেন ঈশ্বরের পথ হইতে নিবৃত্ত করিতেছ, তাহার জন্য সেই সরল পথের বক্রতা অন্বেষণ করিতেছ ও তোমরাই সাক্ষী আছো, এবং তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহা অজ্ঞাত নহেন।

আয়াতঃ ১০০⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যাহাদিগকে গ্রন্থপ্রদত্ত হইয়াছে যদি তোমরা তাহাদের কোন দলের অনুগত হও তবে তাহারা তোমাদের বিশ্বাস প্রাপ্তির পর তোমাদিগকে অবিশ্বাসী করিবে।

আয়াতঃ ১০১⇒ এবং যখন তোমাদের নিকটে ঈশ্বরের নিদর্শন পাঠ হইতেছে ও তোমাদের মধ্যে তাঁহার প্রেরিত পুরুষ বিদ্যমান, তখন তোমরা কেমন করিয়া কাফের হইবে, অবশেষে যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে দৃঢ়রুপে ধারন করিয়াছে নিশ্চয় সে সরল পথের দিকে উপদিষ্ট হইয়াছে।

আয়াতঃ ১০২⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বর হইতে তাঁহার সম্বন্ধে প্রকৃত ভয়ে ভীত হও, এবং তোমরা বিশ্বাসী না হইয়া মরিও না।

আয়াতঃ ১০৩⇒ এবং তোমরা পরমেশ্বরের রজ্জুকে একযোগে দৃঢ়রুপে ধারন কর, বিচ্ছিন্ন হইও না, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তোমাদের প্রতি তখনকার ঈশ্বরের কৃপা স্মরণ কর, তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করিলেন, তাহাতে তোমরা তাঁহার কৃপায় পরস্পর ভ্রাতা হইলে, এবং তোমরা অগ্নিকুন্ডের পার্শ্বে ছিলে তিনি তাহা হইতে তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়াছেন, এইরুপে ঈশ্বর তোমাদের জন্য আপন নিদর্শন সকল ব্যক্ত করেন যেন তোমরা পথপ্রাপ্ত হও।

আয়াতঃ ১০৪⇒ এবং কল্যাণের দিকে আহ্বান করে বৈধ কারযে বিধি ও অবৈধ কারযে নিষেধ করে এমন এক মণ্ডলী তোমাদের মধ্যে হওয়া উচিত, ইহারা সেই লোক যাহারা মুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ১০৫⇒ যাহারা বিচ্ছিন্ন হইয়া পরিয়াছে ও আপনাদের নিকটে নিদর্শন সকল উপস্থিত হইলে পর পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে তোমরা তাহাদের সদৃশ্য হইও না, এবং ইহারাই যাহাদের জন্য কঠিন শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১০৬⇒ সে দিবস মুখ শুভ্র ও কৃষ্ণবর্ণ হইবে, অনন্তর যাহাদিগের মুখ কৃষ্ণবর্ণ হইবে (তাহাদিগকে বলা হইবে) তোমরা কি বিশ্বাস প্রাপ্তির পর কাফের হইয়াছ? তবে যেমন ধর্মদ্রোহী হইয়াছ তজ্জন্য শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।

আয়াতঃ ১০৭⇒ এবং কিন্তু যাহাদিগের মুখ শূভ্র হইল তাহারা ঈশ্বরের কৃপার মধ্যে আছে, তাহারা তাহাতে সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ১০৮⇒ ঈশ্বরের এই বচন সকল, ইহা তোমাদের নিকটে সত্যভাবে পড়িতেছি, ঈশ্বর লোকের জন্য অত্যাচার ইচ্ছা করেন না।

আয়াতঃ ১০৯⇒ এবং যাহা আকাশে ও যাহা পৃথিবীতে আছে তাহা ঈশ্বরের, এবং ঈশ্বরের দিকে সমুদয় ক্রিয়ার প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ১১০⇒ তোমরা লোকের জন্য নির্বাচিত শুভ মণ্ডলী, বৈধ কারযে বিধি দান ও অবৈধ কারয নিষেধ করিতেছ এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করিতেছ এবং যদি গ্রন্থধারী লোক ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করে তবে নিশ্চয় তাহাদের কল্যাণ হয়, তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ বিশ্বাসী আছে ও তাহাদের অধিকাংশই পাষন্ড।

আয়াতঃ ১১১⇒ তাহারা কখনো তোমাদিগকে কিঞ্চিৎ ক্লেশ বৈ ক্লেশ দিবে না, তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিলে তোমাদের দিকে পৃষ্ঠ দান করিবে, অতঃপর তাহদিগকে সাহায্য দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ১১২⇒ যে স্থলে তাহাদিগকে ঈশ্বরের অবলম্বন ব্যতিত মনুষ্যের অবলম্বনে প্রাপ্ত হইয়া গিয়াছে সেই স্থলে তাহাদিগের প্রতি লাঞ্ছনার প্রয়োগ হইয়াছে, তাহারা ঈশ্বরের আক্রোশে প্রত্যাগত, এবং তাহাদের প্রতি দরিদ্রতার প্রয়োগ হইয়াছে, ইহা এ কারনে হইয়াছে যে, তাহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের বিরোধী হইতেছিল, এবং অযথা তত্ত্ববাহকদিগকে বধ করিতেছিল, ইহা একারনে যে, অপরাধ করিয়াছে ও সীমা লঙ্ঘন করিতেছিল।

আয়াতঃ ১১৩⇒ তাহারা সকলে তুল্য নহে, গ্রন্থাধীকারীদিগের একদল দন্ডায়মান, তাহারা রাত্রিকালে ঈশ্বরের নিদর্শন সকল পড়িয়া থাকে ও তাহারা প্রণত হয়।

আয়াতঃ ১১৪⇒ তাহারা ঈশ্বরকে ও পরকালকে বিশ্বাস করে, এবং বৈধকর্মে বিধি ও অবৈধকর্মে নিষেধ করে, এবং দানেতে সত্বর হয়, এই সকল লোক সাধু।

আয়াতঃ ১১৫⇒ এবং তাহারা যে কিছু শুভ কারয করে পরে কখনো তৎপ্রতি কৃতঘ্নতা করা যাইবে না, এবং ঈশ্বর ধর্মভীরু লোকদিগকে জ্ঞাত আছেন।

আয়াতঃ ১১৬⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগের ধন তাহাদিগের সন্তান কখনো তাহাদিগ হইতে ঈশ্বরের (শাস্তি) কিছুই দূর করিবে না, এবং এই সকল লোক নরকাগ্নির নিবাসী, তথায় তাহারা সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ১১৭⇒ তাহারা এই সাংসারিক জীবনে যাহা ব্যয় করে তাহা, আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছে এমন কোন জাতির শস্যক্ষেত্রে সঞ্চারিত শীতল বায়ুসদৃশ, পরে উহা তাহাকে বিনষ্ট করিল, এবং ঈশ্বর তাহাদের প্রতি অত্যাচার করেন নাই, কিন্তু তাহারাই নিজের প্রতি অত্যাচার করিতেছে।

আয়াতঃ ১১৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, আপনার লোক ব্যতিত অন্যকে তোমরা আন্তরিক বন্ধুরুপে গ্রহণ করিবে না, তাহারা তোমাদের অনিষ্ট করিতে ত্রুটি করে না, তোমাদিগকে ক্লেশ দিতে ভালোবাসে, নিশ্চয় তাহদের মুখ দিয়া শত্রুতা প্রকাশ পায়, এবং নিশ্চয় তাহাদের হৃদয় যাহা গুপ্ত রাখিয়াছে তাহা গুরুতর, যদি তোমরা জ্ঞান রাখো তবে তোমাদের জন্য নিদর্শন সকল ব্যক্ত করিলাম।

আয়াতঃ ১১৯⇒ হে লোক সকল, তোমরা অবগত হও, তোমরা তাহাদিগকে প্রীতি করিতেছ ও তাহারা তোমাদিগকে প্রীতি করে না, এবং তোমরা সমুদয় গ্রন্থকে বিশ্বাস করিয়া থাকো, এবং তাহারা যখন তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে বলিয়া থাকে যে, আমরাও বিশ্বাস করি, এবং যখন নির্জনে থাকে তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশবশতঃ অঙ্গুলি দংশন করে; বল, আপন ক্রোধে তোমরা মরিয়া যাও, নিশ্চয় ঈশ্বর হৃদয়স্থ বিষয়ের জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১২০⇒ এবং যদি তোমাদিগের প্রতি কল্যাণ উপস্থিত হয় তবে তাহারা অসন্তুষ্ট হইবে, এবং যদি তোমাদিগের প্রতি অকল্যাণের সঞ্চার হয় তাহাতে তাহারা সন্তুষ্ট হইবে, যদি তোমরা ধৈর্য ধারন কর ও ঈশ্বরকে ভয় কর তবে তাহাদিগের শঠতা তোমাদের কিছুই পীড়া দিবে না, তাহারা যাহা করিতেছে নিশ্চয় ঈশ্বর তাহা ঘেরিয়া রহিয়াছেন।

আয়াতঃ ১২১⇒ এবং (স্মরণ কর হে মোহাম্মদ) যখন তুমি প্রভাতে স্বীয় পরিজনের নিকট হইতে বহির্গত হইলে ও সংগ্রামোদ্দেশ্যে বিশবাসীদিগকে যথাস্থানে স্থাপন করিলে, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা ছিলেন।

আয়াতঃ ১২২⇒ (স্মরণ কর) যখন তোমাদের দুই দল ভীরুতা প্রকাশে চেষ্টা করিয়াছিল ও ঈশ্বর তাহদিগের সহায় ছিলেন, বিশ্বাসীদিগের উচিত যে ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে।

আয়াতঃ ১২৩⇒ এবং সত্যসত্যই ঈশ্বর তোমাদিগকে বদরে (বদরের যুদ্ধে) সাহায্য দান করিয়াছেন, তোমরা দুর্দশাপন্ন হিয়াছিলে; অতএব ঈশ্বরকে ভয় কর, ভরসা যে, তোমরা ধন্যবাদ করিবে।

আয়াতঃ ১২৪⇒ (স্মরণ কর) যখন তুমি বিশ্বাসীদিগকে বলিতেছিলে, “যদি তোমাদের প্রতিপালক তিন সহস্র অবতীর্ণ দেবতা দ্বারা তোমাদিগকে সাহায্য দান করেন তোমাদের কি লাভ হইবে না?”

আয়াতঃ ১২৫⇒ বরং যদি তোমরা সহিষ্ণু ও ঈশ্বরভীরু হও, এবং তাহারা এই স্বীয় আবেগে তোমাদিগের প্রতি সমাগত হয় তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ সহস্র চিহ্নিত দেবতা দ্বারা তোমাদিগকে সাহায্য দান করিবেন।

আয়াতঃ ১২৬⇒ এবং তোমাদিগের জন্য সুসংবাদ হয়, তদ্দারা তোমাদিগের অন্তর শান্তনা লাভ করিবে এজন্য ব্যতিত ঈশ্বর ইহা করেন নাই, পরাক্রান্ত নিপুণ ঈশ্বরের নিকট ব্যতিরেকে সাহায্য নাই।

আয়াতঃ ১২৭⇒ তাহাতে দেবগণ কাফেরদিগের এক দলকে সংহার করে, কিংবা পরাস্ত করে, পরে তাহারা অকৃতকার্য হইয়া ফিরিয়া যায়।

আয়াতঃ ১২৮⇒ কি তাহাদের দিকে (প্রসন্নভাবে) প্রতিগমন করা কি তাহাদিগকে শাস্তিদান করা এ কারযের কিছুই তোমার জন্য নহে, পরন্তু নিশ্চয় তাহারা দুর্বৃত্ত।

আয়াতঃ ১২৯⇒ এবং দ্যুলোক ও ভূলোকে যাহা আছে তাহা ঈশ্বরের, তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় ক্ষমা করেন ও যাহাকে ইচ্ছা হয় শাস্তি দেন, ঈশ্বর ক্ষমাকারী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৩০⇒ হে বিশ্বাসীগণ দ্বিগুণের পর দ্বিগুণ কুসীদ গ্রহণ করিও না; এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও তবে ভরসা যে তোমরা উদ্ধার পাইবে।

আয়াতঃ ১৩১⇒ সেই অগ্নিকে ভয় করিও যাহা কাফেরদিগের জন্য প্রস্তুত রহিয়াছে।

আয়াতঃ ১৩২⇒ এবং ঈশ্বরের ও প্রেরিতপুরুষের আজ্ঞাবহ হও, তবে ভরসা যে তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৩৩⇒ এবং তোমরা আপনাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে ও স্বর্গলোকের দিকে ধাবমান হও, এবং আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায় তাঁহার বিস্তৃতি, উহা ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য প্রস্তুত।

আয়াতঃ ১৩৪⇒ যাহারা সুখে ও দুঃখে দান করে ও ক্রোধ সম্বরণ করে, এবং লোককে ক্ষমা করে, ঈশ্বর (সেই সকল) সৎকর্মশীল লোককে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ এবং যাহারা কুকর্ম করিয়া কিংবা নিজের জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়া ঈশ্বরকে স্মরণ করে, পরে নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ঈশ্বর ব্যতিত কে তাহাদের পাপ ক্ষমা করিয়া থাকে? এবং তাহারা যাহা (যে পাপ) করিয়াছে তৎপ্রতি জ্ঞাতসারে দৃঢ় হয় না।

আয়াতঃ ১৩৬⇒ এই তাহারাই যাহাদিগের পুরষ্কার তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে ক্ষমা লাভ এবং যাহার ভিতরে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত এমন স্বর্গোদ্যান হয়; সেখানে তাহারা সর্বদা থাকিবে, সৎক্রিয়াশীলদিগের (এই) উত্তম পুরষ্কার।

আয়াতঃ ১৩৭⇒ নিশ্চয় তোমাদের পূর্বে ঘটনীয় সকল হইয়া গিয়াছে, অতএব পৃথিবী ভ্রমণ কর, এবং পরে মিথ্যাবাদীদিগের পরিণাম কিরুপ হইয়াছে দেখ।

আয়াতঃ ১৩৮⇒ লোকের জন্য এই উক্তি এবং ধর্মভীরুদিগের জন্য এই পথপ্রদর্শন ও উপদেশ।

আয়াতঃ ১৩৯⇒ অবসন্ন ও বিষন্ন হইও না, এবং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে তোমরাই উন্নত।

আয়াতঃ ১৪০⇒ যদি তোমরা আঘাতপ্রাপ্ত হও তবে নিশ্চয় সেই দলও (ধর্মদ্রোহী দল) তৎসদৃশ আঘাতপ্রাপ্ত হইবে, আমি লোকের মধ্যে এই দিনের পরিবর্তন করিয়া থাকি, এবং তাহাতে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ঈশ্বর তাহাদিগকে জ্ঞাত হন, এবং তিনি তোমদের মধ্যে হইতে সাক্ষী গ্রহণ করিয়া থাকেন, ঈশ্বর অত্যাচারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ১৪১⇒ এবং তাহাতে ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগকে সংশোধিত ও অবিশ্বাসীদিগকে বিলুপ্ত করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১৪২⇒ তোমরা কি মনে করিতেছ যে, স্বর্গে প্রবেশ করিবে? ও তোমাদের মধ্যে যাহারা ধর্মযুদ্ধ করিয়াছে, এবং যাহারা সহিষ্ণু এক্ষণ ঈশ্বর তাহাদিগকে জ্ঞাত নহেন?

আয়াতঃ ১৪৩⇒ সত্যসত্যই তোমরা মৃত্যুকে তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার পূর্বেই আকাঙ্ক্ষা করিতেছিলে, পরে নিশ্চয় তোমরা তাহাকে দর্শন করিয়াছ ও তোমরা প্রতীক্ষা করিতেছিলে।

আয়াতঃ ১৪৪⇒ এবং মোহাম্মদ প্রেরিত ভিন্ন নহে, নিশ্চয় তাহার পূর্বে প্রেরিতের অন্তর্ধান হইয়াছিল, অবশেষে যদি সে মরিয়া যায় কিংবা হত হয় তোমরা কি পশ্চাৎপদ হইবে? এবং যে ব্যক্তি পশ্চাৎপদ হয় সে তখন কখনো ঈশ্বরকে কিছুই প্রপীড়ন করে না, কৃতজ্ঞ লোকদিগকে ঈশ্বর সত্বর পুরষ্কার দান করেন।

আয়াতঃ ১৪৫⇒ ঈশ্বরের ইচ্ছা ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হয় না, (মৃত্যুর) নির্দিষ্ট সময় লিখিত আছে, এবং যে ব্যক্তি সাংসারিক লাভ আকাঙ্ক্ষা করে আমি তাহা হইতে তাহাকে দান করি ও যে ব্যক্তি পারলৌকিক লাভ আকাঙ্ক্ষা করে আমি তাহা হইতে তাহাকে দান করি, এবং অবশ্য আমি কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদিগকে পুরষ্কার দিব।

আয়াতঃ ১৪৬⇒ এবং অনেক তত্ত্ববাহক ছিল যে, তাহাদের সঙ্গে মিলিত হইয়া বহু ঈশ্বরপরায়ণ লোক যুদ্ধ করিয়াছিল, পরে ঈশ্বরের পথে তাহাদের বিপদ উপস্থিতিবশতঃ তাহারা অবহেলা করে নাই ও দুর্বল হয় নাই, এবং নিরুপায় হইয়া পরে নাই, পরমেশ্বর সহিষ্ণুদিগকে প্রেম করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১৪৭⇒ এবং তাহারা বলিয়াছিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের অপরাধ ও আমাদিগের কারয এবং আমাদের সীমালঙ্ঘন আমাদিগের জন্য ক্ষমা কর ও আমাদিগের চরণকে দৃঢ় কর, এবং ধর্মদ্রোহীদলের উপর আমাদিগকে সাহায্য দান কর, ইহা ব্যতিত তাহাদিগের কথা ছিল না।

আয়াতঃ ১৪৮⇒ পরিশেষে ঈশ্বর তাহাদিগকে ঐহিক পুরষ্কার ও পারত্রিক উত্তম পুরষ্কার দান করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর হিকারীদিগকে প্রীতি করেন।

আয়াতঃ ১৪৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যদি তোমরা কাফেরদিগের আজ্ঞা বহন কর, তবে তাহারা তোমাদিগকে পশ্চাৎপদ করিয়া ফিরাইবে, পরে তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়া ফিরিয়া যাইবে।

আয়াতঃ ১৫০⇒ বরং পরমেশ্বর তোমাদিগের বন্ধু এবং তিনি উত্তম সাহায্যকারী।

আয়াতঃ ১৫১⇒ যাহার সম্বন্ধে কোন নিদর্শন অবতারন করা হয় নাই তাহাকে ঈশ্বরের সঙ্গে অংশী করিয়াছে বলিয়া সত্বর আমি ধর্মদ্রোহীদিগের অন্তরে বিভীষিকা স্থাপন করিব, নরকাগ্নি তাহাদিগের স্থান, এবং (তাহা) অত্যাচারীদিগের জন্য মন্দ বাসস্থান।

আয়াতঃ ১৫২⇒ এবং যখন তোমরা তাঁহার আজ্ঞানুসারে তাহাদিগকে পরাস্ত করিতেছিলে সত্যসত্যই ঈশ্বর তোমাদের সম্বন্ধে সে সময় পর্যন্ত আপন অঙ্গীকার সপ্রমাণ করিয়াছেন; যে সময় হইতে তোমার কারযে কাপুরুষতা ও বিরোধ করিলে এবং যাহা তোমরা ভালোবাসিতেছিলে তাহা তোমাদিগকে প্রদর্শন করিলে পর তোমরা অপরাধ করিলে, তোমাদের মধ্যে কেহ সংসার চাহিতেছিল ও তোমাদের মধ্যে কেহ পরলোক চাহিতেছিল; তৎপর তিনি তোমাদিগকে পরীক্ষা করিবার জন্য তাহাদিগ হইতে তোমাদিগকে বিমুখ করিলেন; এবং সত্যসত্যই তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের প্রতি কৃপাবান।

আয়াতঃ ১৫৩⇒ যখন তোমরা উপরে উঠিতেছিলে ও কাহারও প্রতি মনোযোগ করিতেছিলে না, এবং প্রেরিতপুরুষ তোমাদের পশ্চাতে তোমাদিগকে আহ্বান করিতেছিলেন, তৎপর তিনি তোমাদিগকে শোকের পর শোক পুরষ্কার দিলেন; তবে যাহা তোমাদের ত্রুটি হইয়াছে ও যাহা তোমরা প্রাপ্ত হইয়াছ তৎপ্রতি দুঃখ করিও না, এবং তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৫৪⇒ অতঃপর শোকান্তে তোমাদের প্রতি তিনি বিশ্রাম প্রেরণ করিলেন (সেই বিশ্রাম কি?) তন্দ্রা, উহা তোমাদের এক দলকে আচ্ছাদন করিতেছিল, এবং এক দল যে নিশ্চয় তাহাদের আত্মা তাহাদিগকে চিন্তাযুক্ত করিয়াছিল, তাহারা ঈশ্বর সম্বন্ধে অসত্য কল্পনা, মূর্খতার কল্পনা করিতেছিল, বলিতেছিল, “আমাদের জন্য কি কিছু কারয আছে?” বল তুমি (হে মোহাম্মদ) নিশ্চয় সমুদয় কারয ঈশ্বরের জন্য, কপট লোকেরা তো তোমার নিমিত্ত যাহা প্রকাশ করিতে পারে না তাহা আপন অন্তরে গোপন করিয়া থাকে। তাহারা বলে, “যদি আমাদের নিমিত্ত কোন কারয থাকিত তবে আমরা এস্থানে হত হইতাম না;” তুমি বল, যদি তোমরা আমার গৃহেও থাকিতে নিশ্চয় যাহাদের সম্বন্ধে হত্যা লিখিত হইয়াছে তাহারা অবশ্য আপন হত্যাভূমির দিকে বহির্গত হইত; এবং তাহাতে তোমাদের হৃদয়ে যাহা আছে ঈশ্বর তাহা পরীক্ষা করিতেছিলেন ও তদ্দারা তোমাদের অন্তরে যাহা আছে সংশোধিত করিতেছিলেন; এবং ঈশ্বর হৃদয়ের ভাবের জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৫৫⇒ দুই দলের সাক্ষাৎকারের দিন নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যে সকল লোক প্রস্থান করিয়াছে তাহারা যাহা করিয়াছিল তাহার কিছুর জন্য শয়তান তাহাদিগকে বিচলিত করিয়াছে বৈ নহে, এবং সত্যসত্যই ঈশ্বর তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন, একান্তই ঈশ্বর ক্ষমাশীল, গম্ভীর।

আয়াতঃ ১৫৬⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যাহারা কাফের হইয়াছে তোমরা তাহাদের সদৃশ হইও না, তাহারা আপন ভ্রাতাদিগের সম্বন্ধে যখন তাহারা দেশ ভ্রমণে গেল ও ধর্মযোদ্ধা হইল বলিয়াছিল, যদি তাহারা আমাদের নিকটে থাকিত মরিত না ও হত হইত না, তাহাতে ঈশ্বর তাহাদের অন্তরে এই (ভাবকে) আক্ষেপে পরিণত করিতেছেন, পরমেশ্বর জীবন দান ও প্রান হরণ করেন, এবং তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ১৫৭⇒ এবং যদি ঈশ্বরের পথে তোমরা হত হও বা মরিয়া যাও তবে নিশ্চয় ঈশ্বর হইতে ক্ষমা ও দয়া আছে, তাহারা যাহা সংগ্রহ করে তদপেক্ষা উত্তম।

আয়াতঃ ১৫৮⇒ এবং যদি তোমরা মরিয়া যাও বা নিহত হও তবে অবশ্য তোমরা ঈশ্বরের দিকে সমুত্থিত হইবে।

আয়াতঃ ১৫৯⇒ পরে ঈশ্বরের দয়াবশতঃ তুমি (হে মোহাম্মদ) তাহাদের জন্য কোমল হইলে, যদি তুমি কঠিন প্রকৃতির কঠোর হৃদয়ের হইতে তবে অবশ্য তোমার দিক হইতে তাহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িত, অতএব তাহাদিগকে মার্জনা কর এবং তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, এবং এ কারযে তাহাদের সঙ্গে মন্ত্রণা কর, পরন্তু যখন তুমি উদ্যোগ করিয়াছ তখন ঈশ্বরের উপর নির্ভর কর, নিশ্চয় ঈশ্বর নির্ভরকারীকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ১৬০⇒ যদি ঈশ্বর তোমাদিগকে সাহায্য দান ক্রেন্তবে তোমাদিগের উপর বিজেতা নাই, এবং যদি তিনি তোমাদিগকে পরিত্যাগ করেন তবে তাহার অভাবে সেই ব্যক্তি কে যে তোমাদিগকে সাহায্য দান করিবে? অতএব ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসীদিগের নির্ভর করা আবশ্যক।

আয়াতঃ ১৬১⇒ এবং সংবাদবাহক হইতে অন্যায় হয় না ও যে ব্যক্তি অপচয় করে সে যাহা অপচয় করিল কেয়মতের দিনে তাহা লইবে, তৎপর প্রত্যেক ব্যক্তি যে কারয করিয়াছে তাহা (তাহার ফল) সম্যক প্রদত্ত হইবে, এবং তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ১৬২⇒ পরন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সন্তোষের অনুসরণ করিয়াছে সে কি ঈশ্বরের কোপে প্রত্যাগত ব্যক্তির তুল্য? এবং উহার স্থান নরক ও কুস্থান।

আয়াতঃ ১৬৩⇒ এই লোক ঈশ্বরের নিকটে পদস্থ এবং তাহারা যাহা করিতেছে ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ১৬৪⇒ সত্যসত্যই ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের প্রতি উপকার বিধান করিয়াছেন, যখন তাহাদের মধ্যে তাহাদের জাতি হইতে প্রেরিতপুরুষ প্রেরণ করিয়াছেন, সে তাহাদের নিকটে তাঁহার বচন পাঠ করিতেছে ও তাহাদিগকে শুদ্ধ করিতেছে, এবং তাহাদিগকে গ্রন্থ ও জ্ঞান শিক্ষা দিতেছে, এবং নিশ্চয় তাহারা পূর্বে একান্তই স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে ছিল।

আয়াতঃ ১৬৫⇒ যখন এক বিপদ তোমাদিগকে প্রাপ্ত হইল নিশ্চয় তোমরা কি তাহার প্রাপ্ত হইয়াছ? তোমরা বলিয়াছ, “ইহা কোথা হতে হইল?” বল (হে মোহাম্মদ) ইহা তোমাদের জীবন হইতে হইয়াছে, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ১৬৬+১৬৭⇒ উভয় দলে সাক্ষাতকার দিবসে তোমরা যাহা প্রাপ্ত হইয়াছ তাহা ঈশ্বরের আদেশানুসারে হইয়াছে, বিশ্বাসদিগকে প্রকাশ করিতে এবং যাহারা কপট তাহাদিগকে প্রকাশ করিবার জন্য হইয়াছে, তাহাদিগকে বলা হইয়াছিল এস, এবং ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম কর, কিংবা (কাফেরদিগকে) দূর কর। তাহারা বলিল, “যদি আমরা যুদ্ধ করিতে জানিতাম, নিশ্চয় তোমাদিগের অনুসরণ করিতাম;” তাহারা সেই দিন বিশ্বাসোন্মুখ লোকদিগের অপেক্ষা ধর্মদ্রোহিতার অভিমুখে নিকটতর ছিল; যাহা তাহাদের অন্তরে নাই তাহারা তাহা আপনমুখে বলিয়াছে; তাহারা যাহা গোপন করিতেছিল ঈশ্বর তাহা উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ১৬৮⇒ যাহারা বসিয়া রহিয়াছে ও স্বীয় ভ্রাতাদিগের সম্বন্ধে বলিয়া থাকে, আমাদের কথা মান্য করিলে তাহারা হত হইত না; বল (হে মোহাম্মদ) যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আপনাদের মৃত্যুকে দূর কর।

আয়াতঃ ১৬৯⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের পথে হত হইয়াছে তাহারা মরিয়াছে মনে করিও না, বরং তাহারা তাহার প্রতিপালকের নিকট জীবিত আছে, তাহাদিগকে উপজীবিকা প্রদত্ত হইতেছে।

আয়াতঃ ১৭০⇒ ঈশ্বর নিজ কৃপাগুনে তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তজ্জন্যে তাহারা আনন্দিত, যাহারা তাহাদের পশ্চাতে আছে, (এক্ষণও) তাহাদের সহিত মিলিত হয় নাই, তাহাদের জন্য আনন্দিত, যেহেতু তাহাদের সম্বন্ধে ভয় নাই ও তাহারা শোকপ্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ১৭১⇒ তাহারা ঈশ্বরের দানে ও (তাঁহার) করুণায় আনন্দিত হয়, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের পুরষ্কার নষ্ট করেন না।

আয়াতঃ ১৭২⇒ যাহারা নিজের প্রতি যে আঘাত পৌছিয়াছে তাহার পর ঈশ্বরকে ও প্রেরিতপুরুষকে স্বীকার করিয়াছে, তাহাদের মধ্যে যাহারা সৎকর্ম ও ধৈর্য ধারন করিয়াছে তাহাদের জন্য মহাপুরষ্কার আছে।

আয়াতঃ ১৭৩⇒ এই তাহারা যে তাহাদিগকে লোকে বলিয়াছিল, “নিশ্চয় তোমাদের জন্য লোক সমবেত হইয়াছে, অতএব তাহাদিগকে ভয় কর;” পরে উহা তাহাদিগের বিশ্বাস বৃদ্ধি করিল, এবং তাহারা বলিল, “আমাদের জন্য ঈশ্বরই যথেষ্ট ও তিনি উত্তম কারয সম্পাদক।“

আয়াতঃ ১৭৪⇒ অনন্তর তাহারা ঈশ্বরের দান ও কৃপার সঙ্গে পুনর্মিলিত হইল, অশুভ তাহাদিগকে প্রাপ্ত হয় নাই, তাহারা ঈশ্বরের প্রসন্নতার অনুসরণ করিয়াছিল, ঈশ্বর মহান, পরম কৃপালু।

আয়াতঃ ১৭৫⇒ ইহারা শয়তান ভিন্ন নহে যে, আপন বন্ধুদিগকে ভয় দেখায়, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে তাহাদিগকে ভয় করিও না, আমাকে ভয় করিও।

আয়াতঃ ১৭৬⇒ এবং যাহারা অধর্মে ধাবমান (হে মোহাম্মদ) তোমাকে বিষাদিত করিবে না, নিশ্চয় তাহারা ঈশ্বরের কিছু ক্ষতি করিবে না, ঈশ্বর ইচ্ছা করেন যে, পরলোকে তাহাদিগকে কিছুই লভ্য প্রদান না করেন, এবং তাহাদের জন্য মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৭৭⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মের বিনিময়ে অধর্মকে ক্রয় করিয়াছে তাহারা ঈশ্বরের কিছুই ক্ষতি করিবে না ও তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৭৮⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ যেন মনে করে না যে, তাহাদের জীবনের মঙ্গলের জন্য তাহাদিগকে আমি অবকাশ দিতেছি, অপরাধে বর্ধিত হওয়ার জন্য আমি তাহাদিগকে অবকাশ দিতেছি ইহা ব্যতিত নহে, তাহাদিগের জন্য গ্লানিজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৭৯⇒ যদবস্থায় তোমরা আছো (হে কপটগণ) তদবস্থায় বিশবাসীদিগকে রাখিবেন ঈশ্বর (সেরুপ) নহেন, এত দূর পর্যন্ত যে তিনি পবিত্রতা হইতে অপবিত্রতা ভিন্ন করেন, এবং তোমাদিগকে যে গুপ্ত বিষয়ে জ্ঞাপন করিবেন ঈশ্বর (সেরুপ) নহেন, কিন্তু ইচ্ছা যাহাকে ইচ্ছা নিজের প্রেরিতপুরুষদিগের মধ্যে গ্রহণ করেন, অতএব ঈশ্বরকে ও তাহার প্রেরিতদিগকে তোমরা বিশ্বাস করিও, এবং যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর ও ধর্মভীরু হও তবে তোমাদের জন্য মহাপুরষ্কার আছে।

আয়াতঃ ১৮০⇒ এবং তাহারা যেন মনে না করে যে, ঈশ্বর নিজ কৃপাগুনে তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন, তদ্বিষয়ে যাহা কৃপণতা করে উহা তাহাদের মঙ্গলের জন্য ঘটিবে, বরং উহা তাহাদের অমঙ্গলের জন্য হইবে, তাহারা যে বিষয়ে কৃপণতা করিয়াছে সত্বর কেয়ামতের দিনে উহা তাহাদিগের গ্রীবার বন্ধন করা হইবে; এবং স্বর্গ-মর্তের উত্তরাধিকারিত্ত ঈশ্বরেরই, এবং তোমরা যাহাআ করিতেছ ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৮১⇒ যাহারা বলিয়াছিল যে, ঈশ্বর নির্ধন আমরা ধনী, সত্যসত্যই ঈশ্বর তাহাদিগের কথা শ্রবন করিয়াছেন, তাহারা যাহা বলিয়াছে তাহা এবং তাহাদিগের দ্বারা অন্যায়রুপে প্রেরিতপুরুষগণের হত্যা হওয়া এক্ষণ আমি লিখিব এবং বলিব তোমরা প্রদাহকারিনী শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ কর।

আয়াতঃ ১৮২⇒ তোমাদের হস্ত পূর্বে যাহা প্রেরণ করিয়াছে তাহারই জন্য ইহা, নিশ্চয় ঈশ্বর দাসদিগের প্রতি অত্যাচারী নহেন।

আয়াতঃ ১৮৩⇒ যাহারা বলিয়াছে, “নিশ্চয় ঈশ্বর আমাদের সম্বন্ধে অঙ্গীকার করিয়াছেন যে, আমাদের নিকটে বলি আনীত হইলে তাহা হুতাশন ভক্ষন না করা পর্যন্ত আমরা প্রেরিতকে বিশ্বাস করিব না, (তাহাদিগকে) বল, আমার পূর্বে নিদর্শন সকলসহ প্রেরিতপুরুষগণ নিশ্চয় তোমাদের নিকটে আগমন করিয়াছেন, এবং যাহা তোমরা বলিতেছ যদি সত্যবাদী হও তবে কেন তাহাদিগকে বধ করিলে?

আয়াতঃ ১৮৪⇒ অনন্তর যদি তাহারা তোমার প্রতি (হে মোহাম্মদ) অসত্যারোপ করিয়া থাকে, তবে নিশ্চয় তোমার পূর্বে নিদর্শন সকল ও উজ্জল গ্রন্থ ও ক্ষুদ্র গ্রন্থ সকল সহ সমাগত প্রেরিতদিগের প্রতিও অসত্যারোপ করিয়াছে।

আয়াতঃ ১৮৫⇒ প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যু আস্বাদন করিবে, এবং কেয়ামতের দিনে তোমাদিগকে সম্যক পুরষ্কার দেওয়া যাইবে ইহা ভিন্ন নহে, পরন্তু যে ব্যক্তি নরকাগ্নি হইতে দূরীকৃত এবং স্বর্গে সমানীত, পরে নিশ্চয় সে প্রাপ্তকাম হইল, সাংসারিক জীবন প্রবঞ্চনার সম্পত্তি ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১৮৬⇒ অবশ্য তোমাদিগকে ধন ও জীবন বিষয়ে পরীক্ষা করা হইবে, এবং তোমাদের পূর্বে যাহাদিগকে গ্রন্থ দান করা হইয়াছে তাহাদিগ হইতে ও যাহারা অনেকেশ্বরবাদ প্রবর্তিত করিয়াছে তাহাদিগ হইতে প্রচুর দুঃখ শুনিবে যদি তোমরা সহিষ্ণু ও ধর্মভীরু হও তবে নিশ্চয় ইহা সাহসের কারয হয়।

আয়াতঃ ১৮৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন গ্রন্থ প্রাপ্ত লোকদিগকে ঈশ্বর অঙ্গীকার করাইলেন যে, অবশ্য তোমরা লোকের জন্য তাহা ব্যক্ত করিবে, এবং তাহা গোপন করিবে না, পরে তাহারা তাহা (সেই অঙ্গীকারকে) আপনাদের পৃষ্ঠে নিক্ষেপ করিল ও তৎ পরিবর্তে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করিল, পরন্তু তাহারা যাহা গ্রহণ করিতেছে তাহা নিকৃষ্ট।

আয়াতঃ ১৮৮⇒ তাহাদিগকে কখনো মনে করিও না যে, যাহা প্রদত্ত হইয়াছে তজ্জন্য তাহারা আহ্লাদিত এবং যাহা তাহারা করে নাই তজ্জন্য প্রশংসিত হইতে ভালোবাসে। পরন্তু কখন তাহাদিগকে শাস্তি হইতে রক্ষা পাওয়ার মধ্যে মনে করিও না, তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৮৯⇒ এবং স্বর্গ ও মর্তের রাজত্য ঈশ্বরের ও তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ১৯০⇒ নিশ্চয় স্বর্গ-মর্তের সৃজনে ও দিবা-রজনীর পরিবর্তনে অবশ্য বুদ্ধিমান লোকদিগের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ১৯১⇒ তাহারা শয়নে ও উপবেশনে ও দন্ডায়মানে ঈশ্বরকে স্মরণ করে, এবং ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা করে, (বলে) “হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি ইহা নিরর্থক সৃষ্টি কর নাই, পবিত্রতা তোমারই, অবশেষে তুমি অগ্নিদগ্ধ হইতে আমাদিগকে রক্ষা কর।

আয়াতঃ ১৯২⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি যাহাকে নরকাগ্নিতে প্রবেশ করাইয়াছো, নিশ্চয় তাহাকে লাঞ্চিত করিয়াছ, পরিশেষে নিশ্চয় অত্যাচারীদিগের জন্য সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ১৯৩⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আমরা ঘোষনাকারীকে শ্রবন করিয়াছি, তিনি বিশ্বাসের দিকে ডাকিতেছেন যে, প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাসী হও, পরে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি; হে আমাদের প্রতিপালক, অবশেষে আমাদের অপরাধ আমাদের জন্য ক্ষমা কর, এবং আমাদিগ হইতে মলিনতা সকল দূর কর, এবং আমাদিগকে সাধুতা সহকারে মৃত্যুগ্রস্থ কর।

আয়াতঃ ১৯৪⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, স্বীয় প্রেরিতপুরুষের যোগে তুমি আমাদের সম্বন্ধে যে বিষয়ে অঙ্গীকার করিয়াছ তাহা আমাদিগকে দান কর, কেয়ামতের দিনে আমাদিগকে লাঞ্ছিত করিও না, নিশ্চয় তুমি অঙ্গীকারের অন্যথা কর না।“

আয়াতঃ ১৯৫⇒ অনন্তর তাহাদিগের ঈশ্বর তাহাদিগকে গ্রহণ করিলেন, (বলিলেন) নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে স্ত্রী হউক কিংবা পুরুষ হউক, আমি অন্যষ্ঠান কারীর অনুষ্ঠান বিফল করি না, তোমাদের কতকলোক, কতক লোকের (তুল্য) পরন্তু যাহারা দেশান্তরে গিয়াছে ও আপন গৃহ হইতে বহিষ্কৃত হইয়াছে ও আমার পথে প্রপীড়িত হইয়াছে এবং যুদ্ধ করিয়াছে ও হত হইয়াছে, একান্তই আমি তাহাদিগের অপরাধ তাহাদিগ হইতে দূর করিব, এবং একান্তই আমি তাহাদিগকে স্বর্গে লইয়া যাইবো, যাহার ভিতরে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, ঈশ্বরের নিকট হইতে পুরষ্কার হয়, এবং সেই ঈশ্বর, তাঁহার নিকটে উত্তম পুরষ্কার আছে।

আয়াতঃ ১৯৬⇒ নগর সকলে ধর্মদ্রোহীদিগের গমনাগমন তোমাকে যেন (হে মোহাম্মদ) প্রতারিত না করে।

আয়াতঃ ১৯৭⇒ (এই) ভোগ ক্ষুদ্র, অতঃপর তাহাদের বাসস্থান নরক, এবং (উহা) মন্দ স্থান।

আয়াতঃ ১৯৮⇒ কিন্তু যাহারা আপন ঈশ্বরকে ভয় করিয়াছে, তাহাদের জন্য স্বর্গলোক সকল, যাহার ভিতরে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহাতে তাহারা সর্বদা থাকিবে, ঈশ্বরের আতিথ্য (লাভ করিবে) পরমেশ্বরের নিকটে যাহা মঙ্গল তাহা সাধুদিগের জন্য হয়।

আয়াতঃ ১৯৯⇒ নিশ্চয় গ্রন্থাধীকারীদিগের মধ্যে যাহারা ঈশ্বরে ও তোমাদিগের প্রতি যাহগা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং তাহদিগের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতেছে, তাহারা ঈশ্বর সম্বন্ধে বিনম্র, ঈশ্বরের প্রবচনের বিনিময়ে ক্ষুদ্র মূল্য গ্রহণ করে না, এই তাহারা, যাহাদিগের পুরষ্কার ঈশ্বরের নিকটে তাহাদের জন্য আছে, নিশ্চয় ঈশ্বর বিচারে সত্বর।

আয়াতঃ ২০০⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ধৈর্য ধারন কর, পরস্পরকে দৃঢ় রাখ ও নিবিষ্ট থাক, এবং ঈশ্বরকে ভয় কর, ভরসা যে তোমরা উদ্ধার পাইবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *