সূরাঃ আম্বিয়া

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ মানবমণ্ডলীর জন্য তাহাদের হিসাব সন্নিহিত হইয়াছে ও তাহারা শৈথিল্যে আছে, (এবং) বিমুখ।

আয়াতঃ ০২⇒ তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রতিপালক হইতে কোন নূতন উপদেশ, তাহা শ্রবন করনান্তর তাহারা আমোদ করিয়াছে ব্যতীত উপস্থিত হয় না।

আয়াতঃ ০৩⇒ তাহাদের মন শিথিল হইয়াছে, এবং অত্যাচারিগণ গোপনে মন্ত্রণা করিয়াছে যে, এ তোমাদের ন্যায় মনুষ্য ভিন্ন নহে, অনন্তর তোমরা কি ইন্দ্রজালের নিকটে আসিতেছ? অথচ তোমরা দর্শন করিতেছ।

আয়াতঃ ০৪⇒ সে বলিল, “আমার প্রতিপালক পৃথিবীস্থ ও স্বর্গস্থ বাক্য জানিতেছেন, এবং তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।“

আয়াতঃ ০৫⇒ বরং তাহারা বলিল, “(এই কোরআন) বিক্ষিপ্ত চিন্তা, বরং সে তাহা রচনা করিয়াছে, বরং সে কবি, অনন্তর উচিত যে, সে আমাদের নিকটে কোন নিদর্শন আনয়ন করে যেমন পূর্ববর্তিগণ তৎসহ প্রেরিত হইয়াছিল”।

আয়াতঃ ০৬⇒ তাহাদের পূর্বে (এমন) কোন গ্রাম (গ্রামবাসী) বিশ্বাস স্থাপন করে নাই যাহাকে আমি বিনাশ করিয়াছি, অবশেষে তাহারা কি বিশ্বাস করিবে?

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) যাহাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করিতেছিলাম আমি তাহাদিগকে বৈ প্রেরণ করি নাই, অনন্তর (হে লোক সকল) তোমরা যদি অবগত না থাক তবে গ্রন্থাধিকারীদিগকে জিজ্ঞাসা কর।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং আমি তাহাদিগের (প্রেরিতপুরুষদিগের) এমন শরীর করি নাই যে, তাহারা অন্ন ভক্ষন করিত না; তাহারা চিরস্থায়ী ছিল না।

আয়াতঃ ০৯⇒ তৎপর তাহাদের সম্বন্ধে আমি অঙ্গীকার সপ্রমাণ করিয়াছি, অনন্তর তাহাদিগকে মুক্তি দিয়াছি ও (বিশ্বাসীদিগের) যাহাকে ইচ্ছা করিয়াছি (মুক্তি দিয়াছি) এবং সীমালঙ্ঘনকারীদিগকে বিনাশ করিয়াছি।

আয়াতঃ ১০⇒ সত্যসত্যই আমি তোমাদিগের প্রতি গ্রন্থ অবতারণ করিয়াছি, তন্মধ্যে তোমাদের জন্য উপদেশ আছে, অনন্তর তোমরা কি বুঝিতেছ না?

আয়াতঃ ১১⇒ এবং অত্যাচারী ছিল এমন কত বসতি আমি চূর্ণ করিয়াছি ও তাহার পরে অন্য জাতি সৃষ্টি করিয়াছি।

আয়াতঃ ১২⇒ অনন্তর যখন তাহারা আমার শাস্তি অনুভব করিল, অকস্মাৎ তাহারা তথা হইতে দৌড়িতে লাগিল।

আয়াতঃ ১৩⇒ (বলিলাম) “তোমরা দৌড়িও না ও যাহাতে সুখ দেওয়া গিয়াছে সেই দিকে ও আপন আলয় সকলের দিকে ফিরিয়া আইস, হয় তো তোমরা জিজ্ঞাসিত হইবে”।

আয়াতঃ ১৪⇒ তাহারা বলিল, “হায়! আমাদের প্রতি আক্ষেপ, নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী ছিলাম।

আয়াতঃ ১৫⇒ অনন্তর যে পর্যন্ত আমি শস্য কর্তিত ক্ষেত্র (সদৃশ) করিয়াছিলাম, সে পর্যন্ত সর্বদা তাহাদের এই আর্তনাদ ছিল।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং আমি স্বর্গ-মর্ত এবং এই উভয়ের মধ্যে যাহা আছে তাহা ক্রীড়াকারীরুপে সৃষ্টি করি নাই।

আয়াতঃ ১৭⇒ যদি ইচ্ছা করিতাম যে ক্রীড়ামোদ গ্রহণ করি, তবে অবশ্য আপনা হইতে গ্রহণ করিতাম, যদি কার্যকারক হইতাম।

আয়াতঃ ১৮⇒ বরং আমি সত্যকে অসত্যের উপর নিক্ষেপ করিতেছি, পরে তাহার মস্তক ভগ্ন হইতেছে, অবশেষে উহা অকস্মাৎ বিলুপ্ত হইতেছে, তোমরা যাহা বর্ণন করিতেছ তজ্জন্য তোমাদের প্রতি আক্ষেপ।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং যে কেহ স্বর্গে ও পৃথিবীতে আছে সে তাঁহারই ও যাহারা তাঁহার নিকটে আছে তাহারা তাঁহার অর্চনায় গর্ব করে না ও পরিশ্রান্ত হয় না।

আয়াতঃ ২০⇒ তাহারা দিবা-রাত্রি স্তব করে, শৈথিল্য করে না।

আয়াতঃ ২১⇒ তাহারা কি পৃথিবী হইত ঈশ্বর সকল গ্রহণ করে, তাহারা (মৃতদিগকে) কি জীবিত করিয়া থাকে?

আয়াতঃ ২২⇒ যদি (স্বর্গ-মর্ত) উভয়ের মধ্যে এই ঈশ্বর ব্যতীত অনেক ঈশ্বর থাকিত তবে অবশ্য সেই দুই-ই সঙ্কটাপন্ন হইত, অনন্তর তাহারা যাহা বর্ণনা করিয়া থাকে তদপেক্ষা স্বর্গের প্রতিপালক পরমেশ্বরের পবিত্রতা (অধিক)।

আয়াতঃ ২৩⇒ তিনি যাহা করেন তদ্বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হন না, বরং তাহারা জিজ্ঞাসিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২৪⇒ তাহারা কি তাঁহাকে ব্যতীত (অন্য) ঈশ্বর গ্রহণ করে? তুমি বল, তোমরা আপনাদের প্রমাণ উপস্থিত কর, যাহারা আমার সঙ্গে আছে তাহাদের এই পুস্তক (কোরআন গ্রন্থ) ও যাহারা আমার পূর্বে ছিল তাহাদেরও পুস্তক, বরং তাহাদের অধিকাংশ লোক সত্যকে জানিতেছে না, পরন্তু তাহারা অগ্রাহ্যকারী।

আয়াতঃ ২৫⇒ তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) যাহার প্রতি প্রত্যাদেশ করিতেছিলাম আমি তাহাকে ব্যতীত অন্য কোন প্রেরিতপুরুষ পাঠাই নাই, এই যে আমি ভিন্ন উপাস্য নাই, অনন্তর তোমরা আমাকে অর্চনা কর।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে যে, পরমেশ্বর সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন, পবিত্রতা তাঁহারই, বরং (দেবগণ) সম্মানিত দাস।

আয়াতঃ ২৭⇒ তাহারা কথায় তাঁহাকে অতিক্রম করে না, বরং তাহারা তাঁহার আজ্ঞাক্রমে কার্য করে।

আয়াতঃ ২৮⇒ তাহাদের সম্মুখে যাহা ও তাহাদের পশ্চাতে যাহা আছে তিনি তাহা জানিতেছেন, এবং যে ব্যক্তি মনোনীত হয় তাহার জন্য ব্যতীত তাহারা শফাঅত (ক্ষমার অনুরোধ) করে না, এবং তাহারা তাঁহার ভয়ে ব্যাকুল।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং তাহাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলে যে, “তিনি ভিন্ন নিশ্চয় আমিই ঈশ্বর” অনন্তর এই তাহাকে আমি নরকদন্ড বিধান করি, এই প্রকার অত্যাচারীদিগকে আমি বিনিময় দান করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৩০⇒ ধ্রমদ্রোহিগণ কি দেখে নাই যে, আকাশ ও পৃথিবী বদ্ধ ছিল, পরে আমি উভয়কে উন্মুক্ত করিয়াছি, এবং আমি জল দ্বারা সমুদায় বস্তুকে জীবিত করিয়াছি, অনন্তর তাহারা কি বিশ্বাস করিতেছে না?

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং আমি পৃথিবীতে (এই ভাবে) পর্বত সকল সৃষ্টি করিয়াছি যেন উহা সেই সকলের সঙ্গে বিচলিত না হয়, এবং আমি তথায় প্রশস্ত বর্ত্ম সকল উৎপাদন করিয়াছি, হয় তো তাহারা পথ প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং আমি আকাশকে সংরক্ষিত ছাদ করিয়াছি, এবং তাহারা তাহার নিদর্শন সকল হইতে বিমুখ আছে।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং তিনিই যিনি রাত্রি ও দিবা ও সূর্য ও চন্দ্র সৃজন করিয়াছেন, এবং সকলেই আকাশেতে স্তুতি করিতেছে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) কোন মানুষের জন্য স্থায়িত্ব প্রদান করি নাই, অনন্তর যদি তুমি মরিয়া যাও তবে তাহারা কি স্থায়ী হইবে?

আয়াতঃ ৩৫⇒ প্রত্যেক মনুষ্য মৃত্যু আস্বাদনকারী, এবং আমি তোমাদিগকে সম্পদ বিপদ দ্বারা পরীক্ষানুসারে পরীক্ষা করিয়া থাকি এবং আমার দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ যখন তোমাকে দেখে তখন বিদ্রুপ করে ভিন্ন তোমাকে গ্রহণ করে না, (যথা) “যে ব্যক্তি তোমাদের উপাস্যগণকে (অবজ্ঞা করিয়া) স্মরণ করে এ কি সে?” তাহারা ঈশ্বরের স্মরণেতে বিরুদ্ধাচারী।

আয়াতঃ ৩৭⇒ মনুষ্য সত্বর সৃষ্ট হইয়াছে, অবশ্য তোমাদিগকে আপন নিদর্শন দেখাইব, অনন্তর তোমরা সত্বর চাহিও না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং তাহারা বলে, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই অঙ্গীকার কবে হইবে?”

আয়াতঃ ৩৯⇒ ধর্মদ্রোহীগণ যদি সেই সময়কে জানিত যে-সময়ে আপন মুখমণ্ডল হইতে ও আপন পৃষ্ঠ হইতে অগ্নি নিবারিত করিতে পারিবে না, এবং তাহারা আনুকূল্য প্রাপ্ত হইবে না, (ভাল ছিল)।

আয়াতঃ ৪০⇒ তাহাদের নিকটে অকস্মাৎ (কেয়ামত) উপস্থিত হইবে, অনন্তর তাহাদিগকে অস্থির করিয়া তুলিবে, তাহারা তাহা খন্ডন করিতে পারিবে না, এবং তাহাদিগকে অবকাশ দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং সত্যসত্যই তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) প্রেরিতপুরুষগণকে উপহাস করা হইয়াছে, অনন্তর তাহাদের যাহারা উপহাস করিয়াছিল যদ্দারা উপহাস করিয়াছিল তাহা তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়াছে।

আয়াতঃ ৪২⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, দিবা-রাত্রি ঈশ্বরের (শাস্তি) হইতে কে তোমাদিগকে রক্ষা করিবে? বরং তাহারা স্বীয় প্রতিপালকের প্রসঙ্গ হইতে মুখ ফিরাইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ আমি ভিন্ন তাহাদের জন্য কি উপাস্য সকল আছে যে, তাহাদিগকে রক্ষা করে? তাহারা আপন জীবনকে সাহায্য দান করিতে পারে না ও তাহারা আমার (শাস্তি) হইতে রক্ষিত হইতে পারে না।

আয়াতঃ ৪৪⇒ বরং আমি তাহাদিগকে ও তাহাদের পিতৃপুরুষদিগকে এতদূর ফলভোগী করিয়াছি যে, তাহাদিগের প্রতি জীবন দীর্ঘ হইয়াছে, অনন্তর তাহারা কি দেখিতেছে না যে, আমি পৃথিবীতে তাহার বিভাগ সকল হইতে তাহাকে নষ্ট করিয়া উপস্থিত হইতেছি? অবশেষে তাহারা কি বিজেতা?

আয়াতঃ ৪৫⇒ তুমি বল, প্রত্যাদেশযোগে আমি লোকদিগকে ভয় প্রদর্শন করিতেছি এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যখন কিছু ভয় প্রদর্শন করা হয় বধির লোকেরা (সেই) ধ্বনি শুনিতে পায় না।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং যদি তোমার প্রতিপালকের শাস্তির কিঞ্চিৎ গন্ধ তাহাদিগকে স্পর্শ করে তবে নিশ্চয় তাহারা বলিবে, “হায়! আমাদের প্রতি আক্ষেপ, একান্তই আমরা অত্যাচারী ছিলাম।“

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং কেয়ামতের দিনে আমি ন্যায়ের তুলযন্ত্র স্থাপন করিব, তখন কোন ব্যক্তি কিছুই অত্যাচারগ্রস্থ হইবে না, এবং সর্ষপ কণিকা পরিমাণ (অনুষ্ঠান) হইলেও আমি তাহা আনয়ন করিব, আমি যথেষ্ট হিসাবকারী।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে ও হারুনকে মীমাংসাগ্রন্থ ও জ্যোতি, এবং ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য উপদেশ দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৯⇒ যাহারা গোপনে আপন প্রতিপালককে ভয় করে তাহারা কেয়ামত হইতে ভীত।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং এই উপদেশ (কোরআন) ফলোপদায়ক, ইহাকে আমি অবতরণ করিয়াছি, অনন্তর তোমরা কি ইহার অগ্রাহ্যকারী হইয়াছ?

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি পূর্বে এব্রাহিমকে তাহার পথের আলোক প্রদান করিয়াছি ও তাহার (অবস্থা) সম্বন্ধে আমি জ্ঞানী ছিলাম।

আয়াতঃ ৫২⇒ (স্মরণ কর) যখন সে আপন পিতাকে ও স্বজনদিগকে জিজ্ঞাসা করিল, “এই সকল কি মূর্তি, তোমরা যাহাদিগের সহবাস করিয়া থাক?”

আয়াতঃ ৫৩⇒ তাহারা বলিল, “আমাদের পিতৃপুরুষগণকে ইহাদের অর্চনাকারী প্রাপ্ত হইয়াছি।“

আয়াতঃ ৫৪⇒ সে বলিল, “সত্যসত্যই স্পষ্ট পথভ্রান্তিতে তোমরা (আছ) ও তোমাদের পিতৃপুরুষগণ ছিল।“

আয়াতঃ ৫৫⇒ তাহা বলিল, “তুমি কি আমাদের নিকটে সত্য উপস্থিত করিয়াছ, অথবা তুমি কি আমোদকারীদিগের অন্তর্গত”?

আয়াতঃ ৫৬⇒ সে বলিল, “বরং যিনি স্বর্গ-মর্তের প্রতিপালক ও এ দুইকে সৃজন করিয়াছেন তিনিই তোমাদের প্রতিপালক, এবং আমি এ বিষয়ে সাক্ষীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং ঈশ্বরের শপথ, তোমরা পৃষ্ঠ ভঙ্গ দিয়া ফিরিয়া গেলে পর অবশ্য আমি তোমাদের প্রতিমা সকলের সঙ্গে অসদ্ববহার করিব”।

আয়াতঃ ৫৮⇒ অনন্তর সে তাহাদের প্রধান প্রতিমা ব্যতীত সেই সকলকে খন্ড খন্ড করিল, (এই মনে করিল) হয় তো তাহারা তাহার প্রতি ব্যতীত পুনরুন্মুখ হইবে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ তাহারা বলিল, “কে আমাদের ঈশ্বরগণের প্রতি ইহা করিল, নিশ্চয় সে অত্যাচারীদিগের অন্তর্গত”।

আয়াতঃ ৬০⇒ (পরস্পর) বলিল, “আমরা শুনিয়াছি এক নবযুবক, তাহাকে এব্রাহিম বলিয়া থাকে, সে সেই সকলের প্রসঙ্গ করিত।“

আয়াতঃ ৬১⇒ তাহারা বলিল, “অনন্তর তাহাকে লোকের চক্ষুর নিকটে উপস্থিত কর, হয় তো তাহারা সাক্ষ্য দান করিবে”।

আয়াতঃ ৬২⇒ তাহারা জিজ্ঞাসা করিল, “হে এব্রাহিম, তুমি কি আমাদিগের ঈশ্বরগণের প্রতি ইহা করিয়াছ?”

আয়াতঃ ৬৩⇒ সে বলিল, “বরং ইহাদিগের এই প্রধান (দেব) তাহা করিয়াছে, অনন্তর যদি ইহারা কথা কহিতেছিল তবে ইহাদিগকে প্রশ্ন কর”।

আয়াতঃ ৬৪⇒ অবশেষে তাহারা আপনাদের প্রতি প্রত্যাবর্তিত হইল, পরে (পরস্পর) বলিল, “নিশ্চয় তোমরা অত্যাচারী”।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তৎপর তাহারা আপনাদের মস্তকোপরি উলটিয়া পড়িল। (বলিল) “সত্যসত্যই তুমি জান যে, ইহারা কথা কহে না”।

আয়াতঃ ৬৬⇒ সে বলিল, “অনন্তর তোমরা কি সেই ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তাহার পূজা কর যে তোমাদিগের কিছুই লাভ ও ক্ষতি করে না?”

আয়াতঃ ৬৭⇒ তোমাদের প্রতি ও তোমরা ঈশ্বর ব্যতীত যাহাদিগকে অর্চনা কর তাহাদের প্রতি আক্ষেপ, অনন্তর তোমরা কি বুঝিতেছ না?”

আয়াতঃ ৬৮⇒ তাহারা বলিল, “ইহাকে দগ্ধ কর, যদি তোমরা কার্যকারক হও তবে আপনাদের ঈশ্বরদিগকে সাহায্য কর”।

আয়াতঃ ৬৯⇒ আমি বলিলাম, “হে অগ্নি, তুমি এব্রাহিমের উপর শীতল ও শান্ত হও”।

আয়াতঃ ৭০⇒ এবং তাহারা তাহার সঙ্গে প্রবঞ্চনা করিতে ইচ্ছা করিয়াছিল, অনন্তর আমি তাহাদিগকে ক্ষতিগ্রস্থ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭১⇒ সেই দেশের দিকে আমি তাহাকে ও লুতকে উদ্ধার করিয়া লইয়া গেলাম যে স্থানকে জগদ্বাসীদিগের জন্য গৌরব দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং তৎপ্রতি আমি এসহাককে ও অতিরিক্ত (পৌত্র) ইয়কুবকে দান করিয়াছিলাম ও প্রত্যেককে সাধু করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং আমি তাহাদিগকে অগ্রণী করিয়াছিলাম, তাহারা আমার আজ্ঞানুসারে পথ প্রদর্শন করিত, এবং সৎকার্য করিতে ও উপাসনা প্রতিষ্ঠিত রাখিতে এবং জকাত দান করিতে তাহাদিগকে আমি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম, এবং তাহারা আমার সেবক ছিল।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং আমি লুতকে জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করিয়াছিলাম, এবং যে (গ্রাম) দুষ্কর্ম করিত, সেই গ্রাম হইতে তাহাকে উদ্ধার করিয়াছিলাম, নিশ্চয় তাহারা পাপাচারী দুষ্ট জাতি ছিল।

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং তাহাকে আমি স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাইয়াছিলাম, নিশ্চয় সে সাধুদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং নুহাকে (স্মরণ কর) যখন ইতিপূর্বে সে ডাকিয়াছিল, তখন আমি তাহা গ্রাহ্য করিয়াছিলাম, পরে আমি তাহাকে ও তাহার পরিজনকে গুরুতর ক্লেশ হইতে মুক্ত করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল সেই সম্প্রদায় হইতে আমি তাহাকে সাহায্য করিয়াছিলাম, নিশ্চয় তাহারা দুষ্ট লোক ছিল, অনন্তর আমি তাহাদিগকে একযোগে জলমগ্ন করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং দাউদ ও সোলয়মানকে (স্মরণ কর) যখন শস্যক্ষেত্র বিষয়ে যে সময়ে তাহাতে এক সম্প্রদায়ের ছাগপাল চরিয়াছিল তাহারা আদেশ করিতেছিল, এবং আমি তাহাদের আদেশের সাক্ষী ছিলাম।

আয়াতঃ ৭৯⇒ অনন্তর আমি সোলয়মানকে তাহা বুঝাইয়া দিয়াছিলাম ও প্রত্যেককে জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করিয়াছিলাম, এবং দাউদের সঙ্গে স্তব করিতে পক্ষী ও পর্বত সকলকে বাধ্য করিয়াছিলাম, এবং আমি কর্মকর্তা ছিলাম।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং আমি তোমাদের জন্য তাহাকে আমি পরিচ্ছদ প্রস্তুত করিতে শিক্ষা দিয়াছিলাম, যেন তোমাদিগকে তোমাদের সংগ্রাম-ক্লেশ হইতে রক্ষা করে, অনন্তর তোমরা কি কৃতজ্ঞ হও?

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং মহাবাত্যাকে সোলয়মানের (বাধ্য করিয়াছিলাম) উহা তাহার আদেশক্রমে সেই দেশে প্রবাহিত হইত যাহাকে আমি গৌরব দান করিয়াছিলাম, এবং আমি সমুদায় বস্তু সম্বন্ধে জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং দৈত্যদিগের মধ্যে যাহারা তাহার জন্য জলমগ্ন হইত, এবং এতদ্ভিন্ন কার্য করিত, তাহাদিগকে (বাধ্য করিয়াছিলাম) ও আমি তাহাদের সংরক্ষক ছিলাম।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এবং অয়ুবকে (স্মরণ কর) যখন সে আপন প্রতিপালককে ডাকিল যে, নিশ্চয় আমাকে দুঃখ আক্রমণ করিয়াছে, তুমি দয়ালুদের অপেক্ষা দয়ালু।

আয়াতঃ ৮৪⇒ অনন্তর আমি তাহা গ্রাহ্য করিয়াছিলাম, অবশেষে যে দুঃখ তাহাতে ছিল তাহা আমি দূর করিয়াছিলাম ও আপন সন্নিধানের দয়ালবশতঃ আমি তাহাকে তাহার পরিজন ও তাহাদের সদৃশ তাহাদের অনুচরবর্গ দান করিয়াছিলাম, এবং সাধকদিগের জন্য উপদেশ (দান করিয়াছিলাম)।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং এসমাইল ও এদরিস ও জোলকোহফলকে (স্মরণ কর) প্রত্যেকেই ধৈর্যশীলদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং আমি তাহাদিগকে স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাইয়াছিলাম, নিশ্চয় তাহারা সাধুদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং জোলনুনকে (স্মরণ কর) যখন সে ক্রোধ করিয়া চলিয়া গেল, তখন মনে করিয়াছিল যে, কখনো আমি তাহার প্রতি বাঁধা দিব না ,অনন্তর সে অন্ধকারের মধ্যে শব্দ করিল যে, “তুমি ব্যতীত উপাস্য নাই, পবিত্রতা তোমারই, নিশ্চয় আমি অত্যাচারীদিগের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।

আয়াতঃ ৮৮⇒ পরিশেষে তাহার (মিনতি) আমি গ্রাহ্য করিয়াছিলাম ও শোক হইতে তাহাকে মুক্তি দান করিয়াছিলাম, এবং এই প্রকারে আমি বিশ্বাসীদিগকে মুক্ত করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৮৯⇒ এবং জকরিয়াকে (স্মরণ কর) যখন সে আপন প্রতিপালককে ডাকিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে একাকী (অপুত্রক) পরিত্যাগ করিও না, তুমিই উত্তরাধিকারীদিগের মধ্যে উত্তম।

আয়াতঃ ৯০⇒ অনন্তর আমি তাহার (প্রার্থনা) গ্রাহ্য করিলাম ও তাহাকে ইয়হা (পুত্র) দান করিলাম, এবং তাহার জন্য তাহার ভার্যাকে সাধ্বী করিলাম, নিশ্চয় তাহারা সৎকার্য সকলে ধাবমান হইত, এবং ভয় ও আসাতে আমাকে আহ্বান করিত ও আমার সম্বন্ধে তাহারা বিনীত ছিল।

আয়াতঃ ৯১⇒ এবং সেই (স্ত্রীকে স্মরণ কর) যে, আপন লজ্জাকর ইন্দ্রিয়কে সংরক্ষণ করিয়াছিল, অনন্তর তৎপ্রতি  আমি স্বীয় আত্মা ফুঁৎকার করিয়াছিলাম, এবং আমি তাহাকে ও তাহার পুত্রকে জগতের জন্য নিদর্শন করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৯২⇒ নিশ্চয় তোমাদের এই মণ্ডলী একমাত্র মণ্ডলী, এবং আমি তোমাদের প্রতিপালক, অতএব আমাকে অর্চনা করিতে থাক।

আয়াতঃ ৯৩⇒ এবং তাহারা আপনাদের মধ্যে আপন আপন কার্য বিচ্ছিন্ন করিল, প্রত্যেকে আমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

আয়াতঃ ৯৪⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, পরে তাহার যত্ন অনাদৃত হয় না, এবং নিশ্চয় আমি তাহার (সৎকর্মের) লিপিকারক।

আয়াতঃ ৯৫⇒ যাহাকে আমি সংহার করিয়াছি সেই গ্রামের প্রতি নির্ধারিত হইয়াছে যে, তাহারা ফিরিবে না।

আয়াতঃ ৯৬⇒ যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজ প্রমুক্ত হয়, তাহারা সকলে উচ্চ ভূমি দিয়া দৌড়িতে থাকিবে।

আয়াতঃ ৯৭⇒ এবং সত্য অঙ্গীকার নিকটবর্তী হইবে, অনন্তর তাহাতে অকস্মাৎ ধর্মদ্রোহীদিগের-চক্ষু ঊর্ধ্বদৃষ্টি হইয়া থাকিবে, (বলিবে) আমাদের প্রতি আক্ষেপ, নিশ্চয় আমরা এ-বিষয়ে ঔদাসীন্যে ছিলাম, বরং আমরা অত্যাচারী ছিলাম।

আয়াতঃ ৯৮⇒ নিশ্চয় তোমরা ও ঈশ্বর ব্যতীত তোমরা যাহাদিগকে অর্চনা কর সে সকল নরকের প্রস্তর, তোমরা তাহার প্রতি আগমনকারী।

আয়াতঃ ৯৯⇒ যদি তাহারা ঈশ্বর হইত তবে তথায় উপস্থিত হইত না, এবং সকলে (মূর্তি ও মূর্তিপূজক) তথায় সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ১০০⇒ তথায় তাহাদের আর্তনাদ হইবে, এবং তাহারা তথায় (কিছুই) শুনিতে পাইবে না।

আয়াতঃ ১০১⇒ নিশ্চয় যাহারা প্রথম হইয়া গিয়াছে তাহাদের জন্য আমা হইতে কল্যাণ আছে, তাহারা তাহা হইতে (নরক হইতে) বিদূরিত হইবে।

আয়াতঃ ১০২⇒ তাহারা তাহার শব্দ শুনিতে পাইবে না, এবং তাহারা যাহা চাহিবে তাহাতে তাহাদের জীবন চিরস্থায়ী হইবে।

আয়াতঃ ১০৩⇒ মহাভয় তাহাদিগকে বিষন্ন করিবে না, এবং দেবগণ তাহাদের প্রত্যুদগমন করিবে, (বলিবে) এই তোমাদিগের দিন যাহা তোমাদিগের সম্বন্ধে অঙ্গীকার করা হইয়াছে।

আয়াতঃ ১০৪⇒ (স্মরণ কর) আদেশপত্রকে লিপি করিলে যেমন জড়ান হূ সেই দিন আমি নভোমণ্ডলকে সেই প্রকার জড়াইব, যেরুপ আমি প্রথম সৃষ্টি আরম্ভ করিয়াছিলাম তদ্রূপ পুনর্বার করিব, আমার পক্ষেই অঙ্গীকার, নিশ্চয় আমি কর্তা হই।

আয়াতঃ ১০৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি উপদেশের (তওরাতের) পরে জবুর গ্রন্থে লিপি করিয়াছি যে, আমার সাধু দাসগণ পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হইবে।

আয়াতঃ ১০৬⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে সেবক দলের জন্য মনোরথ সিদ্ধি আছে।

আয়াতঃ ১০৭⇒ আমি তোমাকে (হে মোহম্মদ) জগতের নিমিত্ত দয়া অনুসারে এতদ্ভিন্ন করি নাই।

আয়াতঃ ১০৮⇒ তুমি বল, “আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ প্রেরণ করা হয় ইহা বৈ নহে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র পরমেশ্বর, অনন্তর তোমরা কি মোসলমান?

আয়াতঃ ১০৯⇒ অবশেষে যদি তাহারা ফিরিয়া যায় তবে তুমি তাহাদিগকে বল যে, “আমি সাম্য বিষয়ে তোমাদিগকে সংবাদ দান করিয়াছি, তোমাদিগকে যাহা অঙ্গীকার করা গিয়াছে, আমি জানি না তাহা নিকটবর্তী কি দূরবর্তী”।

আয়াতঃ ১১০⇒ নিশ্চয় তিনি (কাফেরদিগের) কথা স্পষ্ট জানেন, এবং যাহা তোমরা গোপন কর তাহা অবগত হন।

আয়াতঃ ১১১⇒ এবং আমি জানি না হয় তো উহা তোমাদের জন্য পরীক্ষা ও কিয়ৎকাল পর্যন্ত লাভ হইবে।

আয়াতঃ ১১২⇒ তুমি বল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি সত্যভাবে আদেশ করিতে থাক, এবং আমার প্রতিপালক পুনর্জীবন দাতা, তোমরা যাহার বর্ণন করিয়া থাক তদ্বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা গিয়াছে।