সূরাঃ আনফাল

আয়াতঃ ০১⇒ তাহারা লুন্ঠিত দ্রব্যজাত বিষয়ে তোমাকে (হে মোহাম্মদ) প্রশ্ন করিয়া থাকে; বল, লুন্ঠিত সামগ্রী সকল ঈশ্বরের ও প্রেরিতপুরুষের জন্য; অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় কর ও আপনাদের পরস্পরের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর, এবং যদি তোমরা বিশ্বাসী হইয়া থাক, তবে পরমেশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অনুগত হও।

আয়াতঃ ০২ + ০৩⇒ তাহারা বিশ্বাসী, তদ্ভিন্ন নহে, যখন ঈশ্বর স্মৃত হন, তখন তাহাদের অন্তঃকরন ভীত হইয়া থাকে, এবং যখন তাহাদের নিকটে তাঁহার নিদর্শন সকল পঠিত হয়, তাহাদের বিশ্বাস বৃদ্ধি হয় এবং তাহারা আপন প্রতিপালকের প্রতি নির্ভর করে, তাহারা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে ও তাহাদিগকে যে উপজীবিকা দেওয়া হয়, তাহারা তাহা হইতে ব্যয় করে।

আয়াতঃ ০৪⇒ ইহারাই তাহারা, যে প্রকৃতরুপে বিশ্বাসী, তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে তাহাদের জন্য উন্নত পদ সকল ও ক্ষমা এবং গৌরবান্বিত উপজীবিকা আছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ যেরুপ তোমার প্রতিপালক তোমার আলয় হইতে উচিতরুপে তোমাকে বাহির করিয়াছেন, নিশ্চয় তাহাতে বিশ্বাসীদিগের একদল একান্ত অসন্তুষ্ট।

আয়াতঃ ০৬⇒ সত্য সম্বন্ধে তাহা প্রকাশিত হওয়ার পর, তাহারা তোমার সঙ্গে বিতণ্ডা করিতেছিল, তাহারা যেন মৃত্যুর দিকে চালিত হইতেছে, এবং তাহারা দেখিতেছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন পরমেশ্বর সেই দুই দলের এক দলকে তোমাদের সম্বন্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ করিতেছিলেন, যেন তাহারা তোমাদের জন্য হয়, এবং তোমরা প্রতাপশূণ্য দলকে মনোনীত করিতেছিলে যেন তাহারা তোমাদের নিমিত্ত হয়, ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেছিলেন যে, আপন উক্তি সকল দ্বারা সত্যকে প্রমানিত করেন, এবং ধর্মদ্রোহীদিগের মূল ছিন্ন করেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ তাহাতে সত্যকে সত্য করেন, অসত্যকে অসত্য করেন, যদিচ অপরাধীগণ অসন্তুষ্ট হইয়াছিল।

আয়াতঃ ০৯⇒  (স্মরণ কর) যখন তোমরা আপন প্রতিপালকের নিকটে প্রার্থনা করিতেছিলে, তখন তোমাদের জন্য তিনি (তাহা) গ্রহণ করিয়াছিলেন, নিশ্চয় আমি ক্রমশঃ সহস্র দেবতা দ্বারা তোমাদিগকে সাহায্যদান করিয়াছি।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং পরমেশ্বর তাহা সুসংবাদের জন্য বৈ করেন নাই, যেন তদ্দারা তোমাদের অন্তঃ করন সান্ত্বনা লাভ করে, এবং ঈশ্বরের নিকট হইতে বৈ সাহায্য নাই, সত্যই ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১১⇒  (স্মরণ কর) যখন তিনি আপনার নিকট হইতে বিশ্রামস্বরূপ ইষনিদ্রা দ্বারা তোমাদিগকে আচ্ছন্ন করিলেন ও তোমাদের উপরে আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করিলেন, যেন তোমাদিগকে তদ্দারা পরিষ্কৃত করিয়া লন ও তোমাদিগ হইতে শয়তানের অপবিত্রতা দূর করেন, এবং যেন তোমাদের অন্তঃকরনকে বদ্ধ করেন, অপিচ তদ্দারা চরণকে দৃঢ় করেন।

আয়াতঃ ১২⇒  (স্মরণ কর) এখন তোমার প্রতিপালক দেবতাগণের প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলেন যে, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; অতএব যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে, তাহাদিগকে দৃঢ় কর, যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তাহাদের অন্তরে অবশ্য আমি ভয় স্থাপন করিব, অবশেষে গলদেশের উপর আঘাত কর, এবং তাহাদের প্রত্যেক অঙ্গুলির গ্রন্থি সকলে আঘাত কর।

আয়াতঃ ১৩⇒ ইহা এজন্য যে, তাহারা ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের বিরোধী হইয়াছিল, যাহারা ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের বিরুদ্ধাচরণ করে, পরে নিশ্চয় ঈশ্বর (তাহাদের) কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ১৪⇒ ইহাই, অতএব তাহার আস্বাদ গ্রহণ কর, এবং সত্যই কাফেরদিগের জন্য অগ্নিদন্ড আছে।

আয়াতঃ ১৫⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা দলবদ্ধ ভাবে ধর্মদ্রোহী লোকদিগের সঙ্গে সাক্ষাৎ কর, তখন তাহাদের প্রতি পৃষ্ঠদেশ ফিরাইও না।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং যে ব্যক্তি সেই দিন কোন দলের দিকে স্থানগ্রহণকারী ও কোন যুদ্ধের জন্য সমুদ্যত না হইয়া তাহাদের প্রতি আপন পৃষ্ঠ ফিরায়, পরে নিশ্চয় সে ঈশ্বরের আক্রোশে প্রত্যাবর্তিত হয় ও তাহার স্থান নরকলোক এবং (তাহা) কুৎসিত স্থান।

আয়াতঃ ১৭⇒ পরন্তু তোমরা তাহাদিগকে বধ কর নাই, কিন্তু ঈশ্বর তাহাদিগকে বধ করিয়াছেন, এবং যখন (হে মোহাম্মদ) তুমি (মৃত্তিকা) নিক্ষেপ করিয়াছ, তুমি নিক্ষেপ কর নাই, কিন্তু ঈশ্বর নিক্ষেপ করিয়াছিলেন, এবং তাহাতে উত্তম পরীক্ষায় তিনি বিশ্বাসীদিগকে পরীক্ষিত করেন, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৮⇒ এই (অবস্থা) এবং নিশ্চয় ঈশ্বর কাফেরদিগের চক্রান্তের নিস্তেজকারী।

আয়াতঃ ১৯⇒ যদি তোমরা বিজয়াকাঙ্ক্ষা কর, তবে নিশ্চয় তোমাদের নিকটে বিজয় উপস্থিত হইবে; এবং যদি নিবৃত্ত হও (হে কাফেরগণ) তবে তাহা তোমাদের জন্য মঙ্গল, এবং যদি তোমরা ফিরিয়া আইস, আমিও ফিরিব, কখনো তোমাদের দল যদিচ অধিকও হয়, তোমাদিগকে লাভযুক্ত করিবে না, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের সঙ্গে আছেন।

আয়াতঃ ২০⇒ হে বিশ্বাসীগণ, পরমেশ্বর ও তাহার প্রেরিতপুরুষের অনুগত হও, এবং তাহা হইতে বিমুখ হইও না, বস্তুত তোমরা শ্রবন করিতেছ।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং যাহারা বলিয়াছে যে, আমরা শুনিয়াছি, তাহারা শ্রবন করে না, তোমরা তাহাদের ন্যায় হইও না।

আয়াতঃ ২২⇒ যাহারা বুঝিতেছে না, তাহারা ঈশ্বরের নিকটে নিকৃষ্টতর চতুষ্পদ মূক বধির।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং যদি তাহাদের সম্বন্ধে ঈশ্বর কল্যাণ জানিতেন, অবশ্য তাহাদিগকে শুনাইতেন, এবং যদি তাহাদিগকে শ্রবন করান, তবে অবশ্য তাহারা মুখ ফিরাই প্রস্থান করিবে।

আয়াতঃ ২৪⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমাদিগকে সজীব করিবার জন্য তোমাদিগকে আহ্বান করেন, তখন ঈশ্বরের ও প্রেরিত পুরুষের (আহ্বান) গ্রাহ্য করিও, জানিও, নিশ্চয় ঈশ্বর মনুষ্য ও তাহার মনের মধ্যে অন্তরাল হন, এবং নিশ্চয় সে তাহার দিকে সমুত্থাপিত হইবে।

আয়াতঃ ২৫⇒ তোমাদের মধ্যে যাহারা অত্যাচার করিল, শুদ্ধ তাহাদিগকে বিশেষভাবে যাহা প্রাপ্ত হইবে না, সেই সঙ্কটে সমাধান হইও, এবং জানিও, ঈশ্বর কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং স্মরণ কর, যখন তোমরা ভূমিতে (মক্কানগরে) দুর্বল অল্পসংখ্যক ছিলে, ভয় পাইতেছিলে যে, লোকে তোমাদিগকে বা ধরিয়া লইয়া যায়, তখন তিনি তোমাদিগকে (মদীনায়) স্থান দিলেন ও আপন সাহায্যে তোমাদিগের সহায়তা করিলেন, এবং শুদ্ধ বস্তুযোগে তোমাদিগকে উপজীবিকা দিলেন, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।

আয়াতঃ ২৭⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরের ও প্রেরিতপুরুষের অপচয় করিও না, ও পরস্পরে গচ্ছিত বস্তু সকলের অপচয় করিও না, এবং তোমরা জানিতেছ।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং জানিও যে, তোমাদের সম্পত্তি সকল ও তোমাদের সন্তানগণ পরীক্ষা এতদ্ভিন্ন নহে, এবং এই যে পরমেশ্বর, তাঁহার নিকটে মহাপুরস্কার।

আয়াতঃ ২৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যদি তোমরা ঈশ্বরকে ভয় কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য মীমাংসা করিবেন তোমাদের অপরাধ সকল তোমাদিগ হইতে দূর করিবেন, এবং তোমাদিগকে ক্ষমা করিবেন, ঈশ্বর মহা গৌরবান্বিত।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন (হে মোহাম্মদ) কাফেরগণ তোমার সঙ্গে ছলনা করিতেছিল যেন তোমাকে বন্দি করিয়া রাখে, অথবা তোমাকে বধ করে, কিংবা তোমাকে নির্বাসিত করে, এবং তাহারা ছলনা করিতেছিল ও ঈশ্বরও ছলনা করিতেছিলেন, ঈশ্বর ছলনাকারীদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে আমার নিদর্শন সকল পঠিত হয়, তাহারা বলে, “সত্যই আমরা শুনিলাম, যদি ইচ্ছা করি, অবশ্য আমরা ইহার তুল্য বলিব, উহা পূর্ববর্তী লোকদিগের উপন্যাস ব্যতীত নহে।“

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং যখন তাহারা বলিল, “হে পরমেশ্বর, যদি ইহা (কোরআন) তোমার নিকট হইতে (আগত) সত্য হয়, তবে আমাদিগের উপরে আকাশ হইতে প্রস্তর বর্ষণ কর, অথবা আমাদিগের প্রতি দুঃখজনক শাস্তি উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং ঈশ্বর এরুপ নহেন যে, তাহাদিগকে শাস্তি দান করেন, যেহেতু তুমি তাহাদিগের মধ্যে ছিলে, এবং তাহারা ক্ষমা প্রার্থনা করিলে ঈশ্বর তাহাদের শাস্তিদাতা নহেন।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং তাহাদের জন্য এমন কি আছে যে, ঈশ্বর তাহাদিগকে শাস্তি দান করিবেন না, বস্তুতঃ তাহারা মসজেদোলহরাম হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত রাখে ও তাহারা তাঁহার অধ্যক্ষ নহে, ধর্মভীরু লোক ব্যতীত (কেহ) তাহার অধ্যক্ষ নয়, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশি বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৩৫⇒ মন্দিরের নিকটে শিস ও করতালি দেওয়া ব্যতীত তাহাদের উপাসনা নাই, অতএব ধর্মদ্রোহী হইয়াছ বলিয়া তোমরা শাস্তি আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ৩৬⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তাহারা আপনাদের ধন ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত করিতে ব্যয় করে, অনন্তর অবশ্য তাহারা পরাভূত হইবে, এবং যাহারা কাফের হইয়াছে, নরকের দিকে তাহারা একত্রিত হইবে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তাহাতে তিনি পবিত্র হইতে অপবিত্রকে বিচ্ছিন্ন করিবেন, এক অপবিত্রের উপর অন্য অপবিত্রকে রাখিবেন, তৎপর তাহা একত্রীভূত করিবেন, অবশেষে নরকেতে তাহাদিগকে স্থাপন করিবেন, ইহারাই তাহারা যে ক্ষতিগ্রস্থ।

আয়াতঃ ৩৮⇒ যাহারা কাফের হইয়াছে, তাহাদিগকে বল, “যদি তাহারা ফিরাইয়া আইসে, তবে যাহা কিছু গত হইয়াছে, তাহাদের জন্য তাহা ক্ষমা করা যাইবে, এবং যদি প্রত্যাবর্তন করে, তবে নিশ্চয় পূর্বতনদিগের রীতি গত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং যে পর্যন্ত উপপ্লব না থাকে ও ঈশ্বরের জন্য সমগ্র ধর্ম হয়, সে পর্যন্ত তোমরা তাহাদের সঙ্গে সংগ্রাম কর, অবশেষে যদি তাহারা ফিরিয়া আইসে, তবে তাহারা যাহা করিবে, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৪০⇒ এবং যদি তাহারা বিমুখ হয়, তবে নিশ্চয় জানিও, ঈশ্বর তোমাদের বন্ধু, উত্তম বন্ধু ও উত্তম সাহায্যকারী আছেন।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং জানিও, তোমরা যে কিছু দ্রব্য লুন্ঠন কর, নিশ্চয় তাহার পঞ্চমাংশ ঈশ্বরের জন্য হয়, এবং প্রেরিতপুরুষের জন্য ও স্বগণদিগের জন্য এবং নিরাশ্রয় ও দরিদ্র এবং পথিকদিগের জন্যও (অংশ) হয়, যদি তোমরা ঈশ্বরের প্রতি ও যেদিন দুই সৈন্যদলের সাক্ষাত হয়, সেই সত্যাসত্য মীমাংসার দিনে আমি আপন দাসের প্রতি যাহা অবতারন করিয়াছিলাম, তৎপ্রতি বিশ্বাসী হও, (তবে কল্যাণ) ঈশ্বর সকল পদার্থের উপর ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৪২⇒  (স্মরণ কর) যখন তোমরা (প্রান্তরের) নিকটবর্তী ছিলে ও তাহারা (প্রান্তরের) দূরবর্তী ছিল, এবং (বনিক) আরোহিগণ তোমাদের নিন্মে ছিল, এবং যদি তোমরা (যুদ্ধের) অঙ্গীকারে বদ্ধ হইতে, তবে অবশ্য অঙ্গীকারের বিপরীত আচরণ করিতে, কিন্তু যে কারয করনীয় হয়, ঈশ্বর তাহা তো সম্পাদন করেন, তাহাতে সেই ব্যক্তি বিনষ্ট, যে ব্যক্তি স্পষ্ট নিদর্শন মতে বিনষ্ট হইয়াছে, সেই ব্যক্তি জীবিত থাকে, যে ব্যক্তি স্পষ্ট নিদর্শনমতে জীবিত হইয়াছে, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৪৩⇒  (স্মরণ কর) যখন ঈশ্বর তোমার স্বপ্নে তোমার প্রতি তাহাদিগকে অল্পসংখ্যক প্রদর্শন করিয়াছিলেন, যদি তোমার প্রতি তাহাদিগকে অধিক প্রদর্শন করিতেন, তবে অবশ্য তোমরা ভীরুতা প্রকাশ করিতে এবং অবশ্য কারযেতে তোমরা পরস্পর বিরোধ করিতে, কিন্তু ঈশ্বর শান্তি রক্ষা করিয়াছেন, নিশ্চয় তিনি আন্তরিক বিষয়ে জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং (স্মরণ কর) তোমাদের নেত্রযোগে সাক্ষাৎ করিবার সময় যখন তিনি তোমাদের প্রতি তাহাদিগকে অল্পসংখ্যক ও তোমাদিগকে তাহাদের চক্ষেতে অল্পসংখ্যক প্রদর্শন করিলেন, যাহা করনীয় ছিল, সেই কারয ঈশ্বর সম্পাদন করেন, এবং ঈশ্বরের প্রতিই কারয সকলের প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ৪৫⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা কোন দলের সম্মুখীন হইবে, তখন দৃঢ় থাকিবে, এবং ঈশ্বরকে বহু স্মরণ করিবে, ভরসা যে, তোমরা উদ্ধার পাইবে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং ঈশ্বরের ও তাহার প্রেরিতপুরুষের অনুগত হও ও পরস্পর বিরোধ করিও না, তাহাতে তোমরা দুর্বল হইবে এবং তোমাদের বাতাস চলিয়া যাইবে এবং সহিষ্ণু হও, নিশ্চয় ঈশ্বর সহিষ্ণু লোকদিগের সঙ্গে আছেন।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং যাহারা আপনাদের আলয় হইতে অবাধ্যতা প্রযুক্ত ও লোকপ্রদর্শনের জন্য বাহির হইয়াছে, এবং ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত রাখিতেছে, তোমরা তাহাদের সদৃশ হইও না, এবং তাহারা যাহা করিতেছে, ঈশ্বর তাহার আবেষ্টনকারী।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন শয়তান তাহাদের কারযকে তাহাদের জন্য শোভাযুক্ত করিয়াছিল ও বলিয়াছিল যে, “অদ্য মানবগণের (কেহ) তোমাদের উপর পরাক্রান্ত নহে, এবং নিশ্চয় আমি তোমাদের সাহায্যকারী;” পরে যখন সেই দলের সাক্ষাৎ হইল, সে পশ্চাদপদ হইয়া ফিরিয়া গেল, এবং বলিল, “নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট, যাহা তোমরা দেখিতেছ না, নিশ্চয় আমি তাহা দেখিতেছি, নিশ্চয় আমি ঈশ্বরকে ভয় করি;” এবং ঈশ্বর কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ৪৯⇒ (স্মরণ কর) যখন কপট লোকেরা এবং যাহাদের অন্তরে রোগ আছে, তাহারা বলিতেছিল যে, “ইহাদিগকে ইহাদের ধর্ম প্রতারিত করিয়াছে;” যে ব্যক্তি ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে (তাহদের কল্যাণ) নিশ্চয় ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও মহাজ্ঞানী।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং যদি তোমরা দেখিতে (আশ্চার্যানিত হইতে) যখন দেবগণ কাফেরদিগের প্রান হরণ করে, তখন তাহাদের মুখে ও তাহাদের পৃষ্ঠে আঘাত করিয়া থাকে, এবং (বলে) প্রদাহগণের দন্ড আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ৫১⇒ তোমাদের হস্ত পূর্বে যাহা পাঠাইয়াছিল, তজ্জন্য ইহা হয়, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর দাসদিগের সম্বন্ধে অত্যাচারী নহেন।

আয়াতঃ ৫২⇒ ফেরওনের দলের এবং যাহারা তাহাদের পূর্বে ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের প্রতি বিদ্রোহী হইয়াছিল, পরে ঈশ্বর তাহাদিগকে তাহাদের অপরাধ অনুসারে ধরিয়াছিলেন, তাহাদের রীতির তুল্য, (ইহাদের রীতি) নিশ্চয় ঈশ্বর শক্তিমান কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ৫৩⇒ ইহা এজন্য যে, ঈশ্বর কখনো কোন জাতির প্রতি প্রদত্ত সম্পদের পরিবর্তনকারী নহেন, যে পর্যন্ত তাহারা আপনাদের জীবনে যে ভাব আছে, তাহার পরিবর্তন না করে, যেহেতু ঈশ্বর শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৫৪⇒ ফেরওনীয় দলের এবং যাহারা তাহাদের পূর্বে আপন প্রতিপালকের নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, তাহাদের রীতির ন্যায় (ইহাদের রীতি) পরে আমি তাহাদিগকে তাহাদের অপরাধে বিনাশ করিয়াছিলাম, এবং তাহারা সকলে অত্যাচারী ছিল।

আয়াতঃ ৫৫⇒ সত্যই যাহারা কাফের হইয়াছে, তাহারা ঈশ্বরের নিকটে নিকৃষ্ট জীব, পরে তাহারা বিশ্বাসী হয় না।

আয়াতঃ ৫৬⇒ তাহাদিগের যাহাদের সঙ্গে তুমি (হে মোহাম্মদ) অঙ্গীকারবন্ধন করিয়াছ, তৎপর তাহারা প্রত্যেকবার আপনাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করিতেছে, এবং তাহারা ধর্মভীরু হইতেছে না।

আয়াতঃ ৫৭⇒ অনন্তর যদি তুমি তাহাদিগকে যুদ্ধে প্রাপ্ত হও, তবে যাহারা তাহাদের পশ্চাতে আছে, তাহাদিগকে বিক্ষিপ্ত কর, সম্ভবতঃ তাহারা উপদেশ গ্রহণ করিবে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং যদি কোন দলের বিশ্বাসঘাতকতাকে ভয় কর; তবে (তাহাদের অঙ্গীকার) তাহাদের দিকে তুল্যভাবে ফিরাইয়া দেও; নিশ্চয় ঈশ্বর বিশ্বাসঘাতকদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং বিদ্রোহী লোকেরা মনে করে না যে, তাহারা (বিদ্রোহীতায়) অগ্রবর্তী হইয়াছে, নিশ্চয় তাহারা সংকুচিত হইবে না।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং তাহাদের জন্য (হে মোসলমান) শক্তি অনুসারে যত পার আয়োজন কর, এবং অশ্ব সংগ্রহপূর্বক তদ্দারা ঈশ্বরের শত্রুকে ও তোমাদের শত্রুকে এবং তদ্ভিন্ন অন্য লোককে ভয় প্রদর্শন কর, তোমরা তাহাদিগকে জান না, ঈশ্বর তাহদিগকে জানেন, এবং পরমেশ্বরের পথে তোমরা যে কোন বস্তু ব্যয় কর, তাহা তোমাদের প্রতি পূর্ণ অর্পিত হইবে ও তোমরা অত্যাচারগ্রস্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যদি তাহারা সন্ধির ইচ্ছু হয়, তবে তুমিও তাহার ইচ্ছা করিও, এবং ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করিও, নিশ্চয় তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং যদি তাহারা (হে মোহাম্মদ) তোমাকে প্রতারনা করিতে চাহে, তবে নিশ্চয় পরমেশ্বরই তোমার সম্বন্ধে যথেষ্ট, তিনিই যিনি আপন আনুকূল্য দ্বারা ও বিশ্বাসীদিগের দ্বারা তোমার প্রতি বলবিধান করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৬৩⇒ এবং তিনি তাহাদের পরস্পরের অন্তঃকরনে প্রীতি স্থাপন করিয়াছেন, ধরাতলে যাহা কিছু আছে, যদি তুমি তৎসমগ্র ব্যয় করিতে, তথাপি তাহাদের পরস্পরের অন্তঃকরনে প্রীতি দান করিতে পারিতে না, কিন্তু ঈশ্বর তাহাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করিয়াছেন, নিশ্চয় তিনি পরাক্রান্ত ও বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬৪⇒ হে তত্ত্ববাহক, তোমার ও বিশ্বাসীদিগের যাহারা তোমার অনুসরণ করিয়াছে, তাহাদের ঈশ্বরই যথেষ্ট।

আয়াতঃ ৬৫⇒ হে সংবাদবাহক, তুমি বিশ্বাসীদিগকে সমরে প্রবৃত্তি দান কর, যদি তোমাদের জন্য বিশ জন সহিষ্ণু লোক থাকে, তাহারা দুই শত ব্যক্তির উপর জয়ী হইবে, এবং যদি তোমাদের জন্য এক শত থাকে, যাহারা কাফের হইয়াছে, তাহাদের সহস্র জনের উপর জয়ী হইবে, যেহেতু তাহারা (এমন) এক দল যে, জ্ঞান রাখে না।

আয়াতঃ ৬৬⇒ এক্ষন ঈশ্বর তোমাদিগের (ভার) লঘু করিলেন, এবং জানিলেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে, অনন্তর যদি তোমাদের এক শত সহিষ্ণু লোক হয়, দুই শতের উপর জয়ী হইবে, এবং যদি তোমাদের সহস্র লোক হয়, দুই সহস্রের উপর ঈশ্বরের আজ্ঞায় জয়ী হইবে, এবং ঈশ্বর সহিষ্ণু দিগের সঙ্গী হন।

আয়াতঃ ৬৭⇒ কোন তত্ত্ববাহকের জন্য (উচিত) নয় যে, যে পর্যন্ত সে ভূমিতলে বহু রক্তপাত করে, সে পর্যন্ত তাহার জন্য বন্দি সকল হয়; তোমরা পার্থিব সম্পত্তি ইচ্ছা করিতেছ, এবং ঈশ্বর পরলোক চাহিতেছেন, ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬৮⇒ যদি ঈশ্বরের প্রথম লিপি না হইত, তবে অবশ্য যাহা লইয়াছ, তাহাতে তোমাদিগের গুরুতর দন্ড প্রাপ্তি হইত।

আয়াতঃ ৬৯⇒ অনন্তর তোমরা যাহা লুন্ঠন করিয়াছ, সেই বৈধ ও বিশুদ্ধ সামগ্রী ভক্ষন কর এবং ঈশ্বরকে ভয় কর, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৭০⇒ হে সংবাদবাহক, তোমাদের হস্তে যাহারা বন্দীরুপে আছে, তাহাদিগকে বল, যদি পরমেশ্বর তোমাদের অন্তঃকরণে শুভ (ভাব) জ্ঞাত হন, তবে তোমাদিগ হইতে যাহা গ্রহণ করা হইয়াছে, তদপেক্ষা তোমাদিগকে শুভ প্রদান করিবেন, এবং তোমাদিগকে ক্ষমা করিবেন, ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।“

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং যদি তাহারা তোমার অপচয় করিতে ইচ্ছা করে, তবে নিশ্চয় পূর্বেই ঈশ্বরের অপচয় করিয়াছে, পরে তাহাদের প্রতি সেই ক্ষমতা দেওয়া গিয়াছে, ঈশ্বর জ্ঞাতা ও বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৭২⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও দেশান্তরিত হইয়াছে, এবং ঈশ্বরের পথে আপন জীবন ও আপন সম্পত্তিযোগে সংগ্রাম করিয়াছে, এবং যাহারা আশ্রয় ও সাহায্য দান করিয়াছে, ইহারাই তাহারা, যে পরস্পর পরস্পরের বন্ধু; এবং যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও দেশান্তরিত হয় নাই, যে পর্যন্ত তাহারা দেশান্তরিত না হয়, তাহাদের কোন বন্ধুতা তোমাদের জন্য নহে, এবং যদি তাহারা তোমাদের নিকটে ধর্ম বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে যাহাদের মধ্যে তোমাদের অঙ্গীকার আছে, সেই দলের উপর ব্যতীত সাহায্যদান তোমাদিগের সম্বন্ধে (বিধেয়) এবং যাহা তোমরা করিয়া থাক, ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তাহারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, যদি (হে মোসলমান) তোমরা ইহা না কর, তবে পৃথিবীতে বিপত্তি হইবে ও মহাগোলযোগ ঘটিবে।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও দেশান্তরিত হইয়াছে এবং ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিয়াছে ও যাহারা আশ্রয় ও সাহায্য দান করিয়াছে, এই সকল লোক, ইহারাই প্রকৃত বিশ্বাসী, ইহাদের জন্য ক্ষমা ও উত্তম উপজীবিকা আছে।

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং ইহার পরে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও দেশান্তরিত হইয়াছে, এবং তোমাদের সহযোগী হইয়া যুদ্ধ করিয়াছে, অবশেষে তাহারা তোমাদিগেরই অন্তর্গত, এবং ঐশ্বরিক গ্রন্থ বিষয়ে তাহাদের পরস্পর নিকটবর্তী স্বত্বাধিকারী, তাহারা পরস্পর পরস্পরের অধিকতর নিকটবর্তী, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বজ্ঞ।