সূরাঃ আজহাব

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে সংবাদ প্রচারক, তুমি ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, এবং ধর্মদ্রোহী ও কপট লোকদিগের অনুগত হইও না, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানময় কৌশলময়।

আয়াতঃ ০২⇒ এবং তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয়, তুমি তাহার অনুসরণ কর, নিশয় ঈশ্বর তোমরা যাহা করিয়া থাক তাহার তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং ঈশ্বরের প্রতি তুমি নির্ভর কর ও ঈশ্বরই যথেষ্ট কার্য সম্পাদক।

আয়াতঃ ০৪⇒ ঈশ্বর কোন ব্যক্তির জন্য তাহার উদরে সুইট হৃদয় উৎপন্ন করেন নাই, এবং তোমাদের ভার্যাগণকে সৃজন করেন নাই যে, তাহাদিগ হইতে তোমরা তোমাদের মাতৃগণকে প্রকাশ করিবে, এবং তোমাদের (পুত্র) সম্বোধনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদিগকে তোমাদের পুত্র সকল করেন নাই, ইহা তোমাদিগের নিজ মুখের কথা, এবং ঈশ্বর সত্য বলেন ও তিনি পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ০৫⇒ তোমরা তাহাদের পিতৃ সম্বন্ধে তাহাদিগকে সম্বোধন করিতে থাক, ইহা ঈশ্বরের নিকটে সমুচিত, অনন্তর যদি তোমরা তাহাদের পিতৃগণকে অজ্ঞাত থাক তাহারা ধর্ম সম্বন্ধে তোমাদের ভ্রাতা ও তোমাদের অনুচর এবং তোমরা তাহাতে যাহা ভুল করিয়াছ তদ্বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নাই, কিন্তু তোমাদের অন্তঃকরণ যাহা চেষ্টা করে তাহাতেই (দোষ) এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।

আয়াতঃ ০৬⇒ সংবাদবাহক বিশ্বাসীদিগের সম্বন্ধে তাহাদের জীবন অপেক্ষা নিকটবর্তী ও তাহার পত্নীগণ তাহাদের জননী; এবং তোমরা যে বন্ধুদিগের প্রতি বিহিত অনুষ্ঠান করিয়া থাক (সে বিষয়ে) ঐশ্বরিক গ্রন্থে বিশ্বাসীগণ ও ধর্মার্থ দেশত্যাসিগণ অপেক্ষা ঘনিষ্ট স্বজনবর্গ পরস্পর পরস্পরের সন্নিহিত, ইহা গ্রন্থে লিখিত আছে।

আয়াতঃ ০৭+০৮⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি সংবাদ প্রচারকগণ হইতে তাহাদিগের অঙ্গীকার ও তোমা হইতে ও নুহা এবং এব্রাহিম ও মুসা এবং মরয়মের পুত্র ঈসা হইতে গ্রহণ করিয়াছিলাম, এবং আমি তাহাদিগ হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম যে, সত্যবাদীদিগের (প্রেরিতপুরুষদিগের) নিকটে তাহাদের সত্যবাদিতা বিষয়ে প্রশ্ন করিবেন, এবং তিনি ধর্মদ্রোহীদিগের জন্য ক্লেশকর দন্ড সজ্জিত রাখিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আপনাদের সম্বন্ধে ঈশ্বরের দান স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতি সৈন্য উপস্থিত হইয়াছিল তখন আমি তাহাদিগের উপর বাত্যা ও সেনাবৃন্দ (দেবসৈন্য) প্রেরণ করিয়াছিলাম, তোমরা তাহা দেখ নাই, এবং তোমরা যাহা করিতে থাক ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ১০⇒ (স্মরণ কর) যখন তোমাদের উপর হইতে ও তোমাদের নিম্ন হইতে (সৈন্য সকল) তোমাদিগের নিকটে উপস্থিত হইল, এবং যখন (তোমাদের) চক্ষু সকল বক্র হইয়া গেল, এবং প্রাণ কন্ঠাগত হইল ও তোমরা ঈশ্বরের সম্বন্ধে নানা কল্পনায় কল্পনা করিতেছিলে।

আয়াতঃ ১১⇒ সেই স্থানে বিশ্বাসীগণ পরীক্ষিত হইয়াছিল ও কঠিন সঞ্চালনে সঞ্চালিত হইয়াছিল।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন কপট লোকেরা ও যাহাদের অন্তরে রোগ আছে তাহারা বলিতেছিল যে, ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ আমাদের নিকটে প্রবঞ্চনা করা ভিন্ন কোন অঙ্গীকার করেন নাই।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তাহাদের এক দল বলিল, “হে  মদীনাবাসীগণ, তোমাদের জন্য স্থান নাই, অতএব তোমরা ফিরিয়া যাও;” এবং তাহাদেরে এক দল সংবাদবাহকের নিকটে অনুমতি চাহিত, বলিতে লাগিল, “নিশ্চয় আমাদের গৃহ শূন্য আছে,” বস্তুতঃ তাহা শূন্য ছিল না, তাহারা পলায়ন করা ভিন্ন ইচ্ছা করিতেছিল না।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যদি (কাফের সৈন্য) তাহার (মদীনার) প্রান্ত হইতে তাহাদের (কপটদিগের) প্রতি (মদীনায়) প্রবেশ করে, তৎপর বিপ্লব প্রার্থী হয়, তবে অবশ্য তাহারা তাহা দিবে, এবং তৎসম্বন্ধে অল্প লোকে ভিন্ন বিলম্ব করিবে না।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং সত্যসত্যই তাহারা ইতিপূর্বে ঈশ্বর সম্বন্ধীয় অঙ্গীকারে বদ্ধ হইয়াছে যে পিঠ ফিরাইবে না, এবং ঈশ্বর কর্তৃক অঙ্গীকার জিজ্ঞাসিত হয়।

আয়াতঃ ১৬⇒ তুমি বল (হে মোহম্মদ) যদি তোমরা হত্যা ও মৃত্যু হইতে পলায়ন কর সেই পলায়ন তোমাদিগকে লাভমান করিবে না, এবং তখন অল্প ভিন্ন তোমাদিগকে ফলভোগী করা হইবে না।

আয়াতঃ ১৭⇒ তুমি বল, সে কে যে, তোমাদিগকে ঈশ্বর হইতে রক্ষা করিবে, যদি তিনি তোমাদের সম্বন্ধে অকল্যাণ বিধান করেন, অথবা তোমাদের সম্বন্ধে কৃপা করিতে চাহেন? ঈশ্বর ব্যতীত তাহারা নিজের জন্য সহায় ও বন্ধু পাইবে না।

আয়াতঃ ১৮⇒ নিশ্চয় পরমেশ্বর তোমাদিগের নিবৃত্তকারীদিগকে ও “আমাদের নিকটে এস” (বলিয়া) আপন “ভাই” সম্বোধনকারীদিগকে জ্ঞাত আছেন, এবং তাহারা অল্প ভিন্ন যুদ্ধে উপস্থিত হয় না।

আয়াতঃ ১৯⇒ তাহারা তোমাদের সম্বন্ধে (সাহায্যদানে) কৃপণ, অনন্তর যখন ভয় উপস্থিত হইবে তখন তুমি তাহাদিগকে দেখিবে যে, তাহারা তোমার প্রতি দৃষ্টি করিতেছে, যাহার উপর মৃত্যুর মূর্ছা সঞ্চারিত হইয়াছে তাহার ন্যায় তাহাদের চক্ষু ঘুরিতেছে, পরে যখন ভয় চলিয়া যাইবে তখন তাহারা কল্যাণ সম্বন্ধে সহজ হয়।

আয়াতঃ ২০⇒ তাহারা মনে করে যে, (কাফের) সৈন্যদল চলিয়া যায় নাই, এবং যদি সেই সৈন্যদল উপস্থিত হয় তখন তাহারা (এই) অনুরাগ প্রকাশ করে যে, যদি তাহারা প্রান্তরে বাস করিত ও তোমাদের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিত তবে (ভাল ছিল) এবং যদি তোমাদের মধ্যে থাকে তবে তাহারা অল্প ভিন্ন সংগ্রাম করে না।

আয়াতঃ ২১⇒ সত্যসত্যই তোমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষের অনুসরণই কল্যাণ হয়, যাহারা ঈশ্বরকে ও অন্তিম দিবসকে আশা করে, এবং প্রচুররুপে ঈশ্বরকে স্মরণ করিয়াছে, তাহাদের পক্ষে (ইহা কল্যাণ হয়)।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যখন বিশ্বাসীগণ (কাফের) সৈন্যদলকে দেখিল তখন বলিল, “যাহা পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ অঙ্গীকার করিয়াছিলেন ইহাই তাহা, এবং পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ সত্য বলিয়াছেন,” এবং (ইহা) তাহাদের বিশ্বাস ও আনুগত্য বৈ বৃদ্ধি করে নাই।

আয়াতঃ ২৩⇒ বিশ্বাসীদিগের মধ্যে কতক লোক ঈশ্বরের সঙ্গে যে বিষয়ে অঙ্গীকার করিয়াছিল তাহা প্রমানিত করিল, পুনশ্চ তাহাদের কেহ আপন সঙ্কল্প পূর্ণ করিল ও তাহাদের কেহ প্রতীক্ষা করিতে লাগিল, এবং কোন পরিবর্তনে পরিবর্তন করিল না।

আয়াতঃ ২৪⇒ তাহাতেই ঈশ্বর সত্যাবলম্বীদিগকে তাহাদের সত্যের অনুরোধে পুরস্কার বিধান করেন, এবং যদি তিনি ইচ্ছা করেন কপটলোকদিগকে শাস্তি দেন, অথবা তাহাদের প্রতি (অনুগ্রহপূর্বক) ফিরিয়া আইসেন, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দুয়ালু।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং ধর্মদ্বেষীদিগকে পরমেশ্বর তাহাদের ক্রোধ সহকারে ফিরাইয়া দিলেন, তাহারা কোন কল্যাণ প্রাপ্ত হইল না, পরমেশ্বর বিশ্বাসীদিগের পক্ষে যুদ্ধে লাভ দেখাইলেন; এবং ঈশ্বর শক্তিশালী পরাক্রান্ত হন।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং গ্রন্থাধিকারীদিগের যাহারা তাহাদিগকে সাহায্য দান করিয়াছিল তিনি তাহাদিগকে তাহাদের দুর্গ সকল হইতে নামাইলেন ও তাহাদের অন্তরে ভয় নিক্ষেপ করিলেন, তোমরা তাহাদের এক দলকে হত্যা এক দলকে বন্দী করিতেছিলে।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং তিনি তোমাদিগে তাহাদের ভূমি ও তাহাদের আলয় ও তাহাদের সম্পত্তি সকলের উত্তরাধিকারী করিলেন, (পরিশেষে) সেই ভূমি দিলেন, যথায় তোমরা পদার্পণ কর নাই, এবং ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ২৮⇒ হে সংবাদবাহক, তুমি স্বীয় ভার্যাদিগকে বল, যদি তোমরা পার্থিব জীবন ও তাহার শোভা অভিলাষ করিয়া থাক তবে এস, তোমাদিগকে (তাহার) ফলভোগ করাইব, এবং তোমাদিগকে উত্তম বিদায়ে বিদায় দান করিব।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং যদি তোমরা ঈশ্বরকে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষকে এবং পারলৌকিক আলয়কে কামনা কর, তবে নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদের মধ্যে সাধ্বী নারীদিগের জন্য মহা পুরস্কার সঞ্চিত রাখিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩০⇒ হে সংবাদবাহকের পত্নীগণ, তোমাদের মধ্যে যে কেহ স্পষ্ট দুষ্ক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হইবে তাহার জন্য দ্বিগুণ শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে, এবং ইহা ঈশ্বরের নিকটে সহজ হয়।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের আজ্ঞাবাহিকা হইবে ও সৎকর্ম করিবে, তাহাকে আমি দুইবার তাহার পুরস্কার দান করিব, এবং তাহার জন্য আমি উৎকৃষ্ট জীবিকা সঞ্চয় রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ৩২⇒ হে সংবাদবাহকের সহধর্মিণীগণ, যেমন অন্য প্রত্যেক নারী তোমরা সেরুপ নও, যদি তোমরা সাধুতা রক্ষা কর তবে কথায় নম্র হইও না, তাহা হইলে যাহার অন্তরে রোগ আছে সে (তোমাদের প্রতি) লোভ করিবে, এবং তোমরা বৈধ বাক্য বলিও।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং তোমরা আপন আপন গৃহ সকলে স্থিতি করিতে থাক ও পূর্বতন মূর্খতার বেশ-বিন্যাসের (ন্যায়) বেশ-বিন্যাস করিও না, এবং উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ, ও জকাত দান কর, এবং ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের আনুগত্য কর; হে নিকেতননিবাসিগণ, তাহা হইলে ঈশ্বর তোমাদিগ হইতে অশুদ্ধতা দূর করিতে চাহেন এতদ্ভিন্ন নহে, বরং তিনি শুদ্ধতায় তোমাদিগকে শুদ্ধ করিবেন।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং তোমাদের নিকেতন সম্বন্ধে বিশুদ্ধ জ্ঞান ও ঈশ্বরের নিদর্শন সকল যাহা কিছু পড়া হয় তাহা তোমরা স্মরণ করিতে থাক, নিশ্চয় ঈশ্বর কোমল ও জ্ঞানবান হন।

আয়াতঃ ৩৫⇒ নিশ্চয় মোসলমান পুরুষগণ ও মোসলমান নারীগণ এবং বিশ্বাসী পুরুষগণ ও বিশ্বাসিনী নারীগণ এবং অনুগত পুরুষগণ ও অনুগতা নারীগণ এবং সত্যবাদিগণ ও সত্যবাদিনীগণ এবং ধৈর্যশীলগণ ও ধৈর্যশীলাগণ এবং বিনম্র পুরুষগণ ও বিনম্রা নারীগণ, এবং ধর্মার্থ দাতা ও দাত্রীগণ এবং উপবাসব্রতধারী ও উপবাসব্রতধারিনীগণ এবং স্বীয় ইন্দ্রিয়সংযমকারী ও সংযমকারিনীগণ এবং ঈশ্বরকে প্রচুর স্মরণকারী ও স্মরণকারিনীগণ তাহাদের জন্য ঈশ্বর ক্ষমা ও মহা পুরস্কার সঞ্চিত রাখিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং যখন পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ কোন কার্যের আদেশ করেন তখন কোন বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসিনী নারীর পক্ষে উচিত নয় যে, তাহাদের জন্য আপন কার্যের আদেশ করেন তখন কোন বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসিনী নারীর পক্ষে উচিত নয় যে, তাহাদের জন্য আপন কার্যের ক্ষমতা থাকে; এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষকে অগ্রাহ্য করে পরে সে নিশ্চয় স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত হয়।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যাহার প্রতি ঈশ্বর সম্পদ বিধান করিয়াছেন ও যাহার প্রতি তুমি সম্পদ বিধান করিয়াছ, তাহাকে যখন তুমি বলিলে যে, “আপন স্ত্রীকে তুমি আপনার নিকটে রক্ষা কর ও ঈশ্বর হইতে ভীত হও;” এবং ঈশ্বর যাহার প্রকাশক তুমি তাহাকে স্বীয় অন্তরে লুকাইয়া রাখিতেছিলে ও লোকদিগকে ভয় করিতেছিলে; এবং ঈশ্বরই সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত যে, তুমি তাঁহাকে ভয় করিবে; অনন্তর যখন জয়দ তাহা হইতে (জয়নব হইতে) প্রয়োজন সিদ্ধ করিল, তখন আমি তাঁহাকে তোমার ভার্যা করিয়া দিলাম, তাহাতে বিশ্বাসীদিগের সম্বন্ধে আপন (পুত্র) সম্বোধন প্রাপ্ত ব্যক্তিদিগের ভার্যাগণের বিবাহের সম্বন্ধে যখন তাহারা তাহাদিগ হইতে প্রয়োজন সিদ্ধ করে তখন অন্যায় হইবে না, এবং ঈশ্বরের আজ্ঞাই সম্পাদিত হয়।

আয়াতঃ ৩৮⇒ তত্ত্ববাহকের সম্বন্ধে, ঈশ্বর তাঁহার জন্য যাহা বিধি করিয়াছেন তদ্বিষয়ে কোন অন্যায় নয়, (বরং) পূর্বে যাহারা চলিয়া গিয়াছে সেই (প্রেরিতপুরুষদিগের) প্রতি ঈশ্বরের বিধি (এইরুপ হইয়াছে) এবং ঈশ্বরের কার্য পরিমাণে নির্ধারিত হয়।

আয়াতঃ ৩৯⇒ যাহারা ঈশ্বরের সংবাদ সকল প্রচার করে, এবং তাঁহাকে ভয় করিয়া থাকে ও ঈশ্বরকে ভিন্ন কোন ব্যক্তিকে ভয় করে না (তাহাদের সম্বন্ধে ঈশ্বরের কার্য পরিমাণে নিরুপিত হয়) ঈশ্বরই যথেষ্ট হিসাবকারী।

আয়াতঃ ৪০⇒ মোহম্মদ তোমাদের পুরুষদিগের কাহারও পিতা নহে, কিন্তু সে ঈশ্বরের প্রেরিত ও সংবাদবাহকদিগের শেষ, এবং ঈশ্বর সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী হন।

আয়াতঃ ৪১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা প্রচুর স্মরণে ঈশ্বরকে স্মরণ কর।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং প্রাতঃ-সন্ধ্যা তাঁহাকে স্তুতি করিতে থাক।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তিনিই যিনি তোমাদিগের প্রতি আশীর্বাদ করেন ও তাঁহার দেবগণ করিয়া থাকে, যেন তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে জ্যোতির দিকে আনয়ন করেন, এবং তিনি বিশ্বাসীগণের প্রতি দয়ালু হন।

আয়াতঃ ৪৪⇒ যে দিবস তাহারা তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে সেই দিবস (তাঁহা হইতে) তাহাদের প্রতি শুভাশীর্বাদ সলাম (শান্তি) হইবে, এবং তাহাদের জন্য তিনি উত্তম পুরস্কার সঞ্চিত করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ হে সংবাদবাহক, নিশ্চয় আমি তোমাকে সাক্ষ্যদাতা ও সুসংবাদ প্রচারক ও ভয়প্রদর্শক এবং ঈশ্বরের দিকে তাঁহার আদেশক্রমে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল দীপস্বরূপ প্রেরণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং তুমি বিশ্বাসীদিগকে এই সুসংবাদ দান কর যে, তাহাদের জন্য পরমেশ্বর হইতে মহা অনুগ্রহ আছে।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তুমি ধর্মবিদ্বেষীদিগের ও কপট লোকদিগের অনুগত হইও না ও তাহাদিগকে যন্ত্রনাদানে বিরত থাক, এবং ঈশ্বরের উপর নির্ভর কর, ঈশ্বরই যথেষ্ট কার্যসম্পাদক।

আয়াতঃ ৪৯⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, যখন তোমরা বিশ্বাসিনী নারীদিগকে বিবাহ কর, তৎপর তাহাদের প্রতি হস্ত পহুঁছিবার পূর্বে তাহাদিগকে বর্জন কর, তখন তাহাদের সম্বন্ধে তোমাদের দিন গণনা নয় যে, এবং তাহাদিগকে উত্তম বিদায়ে বিদায় দান করিও।

আয়াতঃ ৫০⇒ হে তত্ত্ববাহক, যাহাদিগকে তুমি তাহাদের (প্রাপ্য) স্ত্রীধন দান করিয়াছ, নিশ্চয় আমি তোমার সেই ভার্যাদিগকে এবং (কাফেরদিগের সম্পত্তি হইতে) ঈশ্বর যাহা তোমার প্রতি প্রত্যর্পণ করিয়াছেন তাহা হইতে তোমার হস্ত যাহাকে অধিকার করিয়াছে সেই (দাসীকে) এবং তোমার পিতৃব্যের কন্যাগণকে ও তোমার পিতৃব্যপত্নীর কন্যাগণকে এবং তোমার মাতৃকুলের কন্যাগণকে ও তোমার মতুলপত্নীর কন্যাগণকে যাহারা তোমার সঙ্গে দেশান্তরিত হইয়াছে, এবং যদি বিশ্বাসিনী নারী তত্ত্ববাহকের জন্য আপন জীবন দান করে, যদি তাঁহাকে বিবাহ করিতে তত্ত্ববাহক ইচ্ছা করে, (তাহাকে) তোমার জন্য বৈধ করিয়াছি; (অন্য) বিশ্বাসীগণ ব্যতীত, (ইহা) তোমার জন্য বিশেষ হইয়াছে; নিশ্চয় আমি তাহাদের ভার্যাগণের সম্বন্ধে ও তাহাদের হস্ত যাহাকে অধিকার করিয়াছে তাহার সম্বন্ধে তাহাদিগের প্রতি যাহা ব্যবস্থা করিয়াছি জ্ঞাত আছি, (ইহা সহজ করিলাম) যেন তোমার সম্বন্ধে কোন সঙ্কট না হয়, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।

আয়াতঃ ৫১⇒ সেই (ভার্যাদের) মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা কর তুমি দূরে রাখিবে ও যাহাকে ইচ্ছা কর নিকটে স্থান দিবে, যাহাদিগকে তুমি দূরে রাখিয়াছ (যদি) তাহাদের মধ্যে তুমি কাহাকে অভিলাষ কর তবে তোমার সম্বন্ধে দোষ নাই, ইহাতে (এই অবকাশদানে) তাহাদের নয়ন শীতল হইবে ও তাহারা শোক করিবে না, এবং তুমি তাহাদের প্রত্যেককে যাহা দান করিবে তাহাতে তাহারা সন্তুষ্ট থাকিবে, তাহারই উপক্রম হয়, তোমাদের অন্তরে যাহা আছে ঈশ্বর জানিতেছেন, এবং ঈশ্বর গম্ভীর প্রকৃতি জ্ঞাতা হন।

আয়াতঃ ৫২⇒ ইহা ব্যতীত নারীগণ তোমার জন্য বৈধ নহে, তাহাদের সঙ্গে যাহাকে তোমার দক্ষিন হস্ত অধিকার করিয়াছে সে ব্যতীত (অন্য) স্ত্রীগণকে তাহাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করিলেও পরিবর্তন করিবে না, এবং ঈশ্বর সর্ববিষয়ে দৃষ্টিকারী।

আয়াতঃ ৫৩⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ভোজন সম্বন্ধে তোমাদের জন্য নিমন্ত্রণ হওয়া ব্যতীত (নিমন্ত্রণ হইলেও) তাহার (খাদ্যদ্রব্যের) রন্ধনের প্রতীক্ষাকারী না হইয়া তোমরা সংবাদবাহকের আলয়ে প্রবেশ করিও না, কিন্তু যখন তোমাদিগকে আহ্বান করা হয় তখন প্রবেশ করিও, পরে ভোজন করিও, অবশেষে চলিয়া যাইও, কোন কথার জন্য অবস্থিতি করিও না, নিশ্চয় ইহা সংবাদবাহককে কষ্ট দান করে, পরন্তু সে তোমাদিগ হইতে লজ্জিত হয়, এবং পরমেশ্বর সত্য বিষয়ে লজ্জা করেন না, এবং যখন তোমরা কোন সামগ্রী তাহাদের (প্রেরিতপুরুষের পত্নীদিগের) নিকটে প্রার্থনা করিবে তখন যবনিকার অন্তরাল হইতে তাহাদের নিকটে প্রার্থনা করিও, ইহা তোমাদের হৃদয়ের জন্য ও তাহাদের হৃদয়ের জন্য বিশুদ্ধ হয়, এবং ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষকে ক্লেশ দান করা ও তাহার অভাবে কখনো তাহার পত্নীদিগকে বিবাহ করা তোমাদের পক্ষে (উচিত) নয়, নিশ্চয় ইহা ঈশ্বরের নিকটে গুরুতর হয়।

আয়াতঃ ৫৪⇒ যদি তোমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর বা তাহা গোপন রাখ তবে নিশ্চয় (জানিও) ঈশ্বর সকল বিষয়ে জ্ঞানী হন।

আয়াতঃ ৫৫⇒ আপন পিতৃগণের ও আপন পুত্রদিগের ও আপন ভ্রাতাদিগের এবং আপন ভ্রাতুষ্পুত্রদিগের ও আপন ভাগিনেয়দিগের ও স্বজাতি নারীদিগের ও তাহাদের হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে তাহাদের নিকটে (অনাবৃত হওয়া) তাহাদিগের পক্ষে দোষ নহে, এবং তোমরা (হে নারীগণ) ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, নিশ্চয়, ঈশ্বর সর্ববিষয়ে সাক্ষী হন।

আয়াতঃ ৫৬⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর ও তাঁহার দেবগণ সংবাদবাহককে আশীর্বাদ করিয়া থাকেন, হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা তাঁহার নিকটে অনুগ্রহ প্রার্থনা কর ও সলাম করণে সলাম কর।

আয়াতঃ ৫৭⇒ নিশয় যাহারা ঈশ্বরকে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষকে ক্লেশ দান করে ইহলোকে ও পরলোকে তাহাদের উপর ঈশ্বরের অভিসম্পাত হইয়া থাকে ও তাহাদের জন্য তিনি গ্লানিজনক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছেন।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং যাহারা বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসিনী নারীদিগকে যে (অপরাধ) করিয়াছে তদ্বতীত যন্ত্রনা দান করিত, পরে সত্যই তাহারা অপবাদের ও স্পষ্ট অপরাধের ভার বহন করিয়াছে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ হে সংবাদবাহক, তুমি স্বীয় ভার্যাদিগকে ও স্বীয় কন্যাদিগকে এবং মোসলমানদিগের স্ত্রীগণকে বল, যেন তাহারা আপনাদের উপর আমাদের চাদর সকল সংলগ্ন করে, তাহারা পরিচিত হওয়ার পক্ষে ইহা (এই উপায়) নিকটতম, পরে তাহারা উৎপীড়িত হইবে না, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।

আয়াতঃ ৬০⇒ যদি কপট লোকেরা ও যাহাদের অন্তরে রোগ আছে তাহারা এবং নগরে অপযশ রটনাকারীগণ নিবৃত্ত না হয় তবে অবশ্য আমি তাহাদের প্রতি তোমাকে প্রেরণ করিব, তৎপর অল্প লোক ব্যতীত তাহারা তথায় তোমার প্রতিবেশী থাকিবে না।

আয়াতঃ ৬১⇒ অভিশপ্ত লোকগণ যে স্থানে পাওয়া যাইবে ধৃত হইবে ও প্রচুর হত্যায় হত হইবে।

আয়াতঃ ৬২⇒ যাহারা পূর্বে চলিয়া গিয়াছে তাহাদের প্রতিও ঈশ্বরের (ঈদ্রিশ) নীতি ছিল, ঈশ্বরের নীতিতে তুমি পরিবর্তন পাইবে না।

আয়াতঃ ৬৩⇒ লোক সকল (উপহাসক্রমে) তোমাকে কেয়ামতের কথা জিজ্ঞাসা করিতেছে, তুমি বল, “তাহার জ্ঞান ঈশ্বরের নিকটে এতদ্ভিন্ন নহে,” কিসে তোমাকে জানাইবে যে, সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটে হইবে?

আয়াতঃ ৬৪⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মবিদ্বেষীদিগকে অভিস্পমাত করিয়াছেন ও তাহাদের জন্য নরক প্রস্তুত রাখিয়াছেন।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তথায় তাহারা সর্বদা বাস করিবে, কোন সাহায্যকারী ও বন্ধু পাইবে না।

আয়াতঃ ৬৬⇒ যে দিবস অগ্নির দিকে তাহাদের মুখ ফিরান হইবে তাহারা বলিবে, হায়! যদি ঈশ্বরের অনুগত হইতাম ও প্রেরিতপুরুষের অনুগত হইতাম”।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আমরা আপন দলপতিদিগের ও আপন প্রধান পুরুষদিগের আনুগত্য করিয়াছি, পরে তাহারা আমাদিগকে পথহারা করিয়াছে।

আয়াতঃ ৬৮⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি তাহাদিগকে দ্বিগুণ শাস্তি দান কর, এবং মহা অভিশাপে তাহাদিগকে অভিশপ্ত কর।

আয়াতঃ ৬৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যাহারা মুসাকে যন্ত্রনা দান করিয়াছিল তোমরা তাহাদের ন্যায় হইও না, তাহারা যাহা বলিয়াছিল ঈশ্বর তাহা হইতে তাহাকে বিশুদ্ধ রাখিয়াছিলেন এবং সে ঈশ্বরের নিকটে সম্মানিত ছিল।

আয়াতঃ ৭০⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, এবং দৃঢ় কথা বলিতে থাক।

আয়াতঃ ৭১⇒ তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কার্য সকলকে শুভজনক করিবেন ও তোমাদের অপরাধ সকল তোমাদের জন্য ক্ষমা করিবেন, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের আনুগত্য করে পরে নিশ্চয় সে মহা চরিতার্থতায় চরিতার্থ হয়।

আয়াতঃ ৭২⇒ নিশ্চয় আমি স্বর্গ ও মর্ত ও পর্বত সকলের নিকটে “আমানত” (বিষয়বিশেষের রক্ষার ভার) উপস্থিত করি, তখন তাহারা তাহা বহনে অসম্মত হয় ও তাহাতে ভয় পায়, এবং মনুষ্য তাহা বহন করে, নিশ্চয় সে অত্যাচারী অজ্ঞান ছিল।

আয়াতঃ ৭৩⇒ তাহাতে (আমানতের ক্ষতির জন্য) ঈশ্বর কপট পুরুষ ও কপট নারীগণকে এবং অংশিবাদী ও অংশীবাদিনীদিগকে শাস্তি দান করেন, এবং বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসিনী নারীদিগের প্রতি ঈশ্বর প্রত্যাবর্তিত হন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।