সূরাঃ অনকবুত

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ ঈশ্বর সূক্ষ্ম ও মহিমান্বিত।

আয়াতঃ ০২⇒ লোকে কি মনে করে “আমি বিশ্বাস স্থাপন করিলাম” এই যে তাহারা বলিয়া থাকে তাহাতে ছাড়িয়া দেওয়া হইবে, এবং তাহারা পরীক্ষিত হইবে না?

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং সত্যসত্যই তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল আমি তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছি, অনন্তর যাহারা সত্য বলে অবশ্য ঈশ্বর তাহাদিগকে প্রকাশ করিবেন এবং মিথ্যাবাদীদিগকে অবশ্য প্রকাশ করিবেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ যাহারা অধর্ম করিয়া থাকে, তাহারা কি মনে করে যে, মন্দ বিষয়ে তাহারা যে আদেশ করে উহা আমার উপর জয়লাভ করিবে?

আয়াতঃ ০৫⇒ যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সাক্ষাৎকারের আশা রাখে, পরে নিশ্চয় ঈশ্বরের (সম্মিলনের) নির্ধারিত কাল (তাহাদের নিকট) উপস্থিত হইবে, এবং তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং যে ব্যক্তি জ্বেহাদ করে অনন্তর সে আপন জীবনের জন্য জ্বেহাদ করিয়া থাকে এতদ্ভিন্ন নহে, নিশ্চয় ঈশ্বর জগদ্বাসীদিগের (সেবা সম্বন্ধে) নিষ্কাম।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও শুভ কর্ম করিয়াছে অবশ্য আমি তাহাদিগ হইতে তাহাদের অপরাধ সকল দূর করিব, এবং তাহারা যাহা করিতেছিল অবশ্য আমি তাহার অত্যুত্তম পুরস্কার তাহাদিগকে দান করিব।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করিতে আমি মনুষ্যকে আদেশ করিয়াছি, এবং যদি তাহারা তোমার সম্বন্ধে চেষ্টা করে যে, যে বস্তুতে (ঈশ্বরত্বে) তোমার জ্ঞান নাই আমার সঙ্গে তুমি তাহার অংশীত্ব স্থাপন কর তবে তাহাদিগের আজ্ঞা পালন করিও না, আমার দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, অনন্তর তোমরা যাহা করিতেছিলে তদ্বিষয়ে আমি (কেয়ামতে) তোমাদিগকে সংবাদ দান করিব।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে, অবশ্য আমি তাহাদিগকে সাধুমণ্ডলীতে প্রবেশ করাইব।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং মানবমণ্ডলীর মধ্যে কেহ কেহ আছে যে, বলিয়া থাকে, “আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি”, অনন্তর যখন তাহারা ঈশ্বরের পথে উৎপীড়িত হয় তখন লোকের প্রপীড়নকে পরমেশ্বরের শাস্তিস্বরূপ গণ্য করে, এবং যদি তোমার প্রতিপালক হইতে (হে মোহম্মদ) আনুকূল্য উপস্থিত হয়, তবে বলিয়া থাকে, “নিশ্চয় আমরা তোমাদের সঙ্গে ছিলাম” জগদ্বাসীদিগের অন্তরে যাহা আছে ঈশ্বর কি তাহার উত্তম জ্ঞাতা নহেন?

আয়াতঃ ১১⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে অবশ্য পরমেশ্বর তাহাদিগকে জ্ঞাত আছেন, এবং অবশ্য তিনি কপটদিগকে জ্ঞাত আছেন।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং কাফের লোকেরা বিশ্বাসীদিগকে বলিয়াছে যে, “তোমরা আমাদিগের পথের অনুসরণ কর, এবং সম্ভবতঃ আমরা তোমাদের অপরাধ সকল বহন করিব,” এবং তাহারা তাহাদিগের অপরাধের কিঞ্চিন্মাত্র বহনকারী নহে, নিশ্চয় তাহারা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং একান্তই তাহারা আপনাদের ভার ও আপনাদের ভারের সঙ্গে (অন্যের) ভার বহন করিবে, তাহারা যে অসত্য বলিতেছিল কেয়ামতের দিনে অবশ্য তদ্বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হইবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি নুহাকে তাহার মণ্ডলীর প্রতি প্রেরণ করিয়াছিলাম, অনন্তর সে তাহাদিগের মধ্যে নয় শত পঞ্চাশ বৎসর স্থিতি করিয়াছিল, পরে জলপ্লাবন তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়াছিল, এবং তাহারা অত্যাচারী ছিল।

আয়াতঃ ১৫⇒ অবশেষে আমি তাহাকে ও নৌকাধিরুঢ় লোকদিগকে উদ্ধার করিয়াছিলাম, এবং তাহাকে (নৌকাকে) সমস্ত জগতের জন্য এক নিদর্শন করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং এব্রাহিমকে (প্রেরণ করিয়াছিলাম) যখন সে আপন মণ্ডলীকে বলিল, “তোমরা ঈশ্বরকে অর্চনা কর ও তাঁহাকে ভয় করিতে থাক, যদি তোমরা জ্ঞান রাখ তবে ইহাই তোমাদের জন্য কল্যাণ।

আয়াতঃ ১৭⇒ তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া প্রতিমা সকলকে অর্চনা করিতেছ ও অসত্য রচনা করিয়া থাক এতদ্ভিন্ন নহে, নিশ্চয় ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তোমরা যাহাদিগকে অর্চনা কর তাহারা তোমাদিগকে জীবিকাদানে সমর্থ নহে, অনন্তর তোমরা ঈশ্বরের নিকটে জীবিকা অন্বেষণ করিতে থাক ও তাঁহাকে অর্চনা কর, এবং তাঁহাকে ধন্যবাদ দাও, তাঁহার দিকেই তোমরা ফিরিয়া যাইবে।

আয়াতঃ ১৮⇒ যদি তোমরা (হে লোক সকল) অসত্যারোপ কর, তবে (জানিও) নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী মণ্ডলী সকলও অসত্যারোপ করিয়াছিল, এবং প্রেরিতপুরুষের প্রতি স্পষ্ট প্রচার ভিন্ন (অন্য কার্য নহে)।

আয়াতঃ ১৯⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, ঈশ্বর কেমন করিয়া প্রথমে সৃষ্টি করিয়া থাকেন, তৎপর তিনি তাহা পুনর্বার করিবেন? নিশ্চয় ইহা ঈশ্বরের সম্বন্ধে সহজ।

আয়াতঃ ২০⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করিতে থাক, পরে দেখ কেমন করিয়া তিনি প্রথম সৃষ্টি করিয়াছেন, তৎপর ঈশ্বর সেই সৃষ্টিকে পুনর্বার সৃজন করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ২১⇒ তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন শাস্তি দিবেন ও যাহাকে ইচ্ছা করেন দয়া করিবেন, এবং তাঁহার দিকেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তোমরা (হে লোক সকল) পৃথিবীতে ও স্বর্গেতে (ঈশ্বরের) পরাভবকারী নও, এবং ঈশ্বর ভিন্ন তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকল ও তাঁহার সাক্ষাৎকার সম্বন্ধে অবিশ্বাসী হইয়াছে তাহারাই আমার দয়াতে নিরাশ হইয়াছে, এবং তাহারাই, যে তাহাদের জন্য ক্লেশকরী শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর তাহার (এব্রাহিমের) সম্প্রদায়ের “তাহাকে বধ কর অথবা তাহাকে দগ্ধ কর” বলা ভিন্ন উত্তর ছিল না, পরে পরমেশ্বর তাহাকে অগ্নি হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন, বিশ্বাসীদলের জন্য নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং সে বলিয়াছিল, তোমরা পার্থিব জীবনের প্রতি প্রেম থাকাবশতঃ ঈশ্বরকে ছাড়িয়া আপনাদের মধ্যে প্রতিমা সকলকে গ্রহণ করিয়াছ এতদ্ভিন্ন নহে, তৎপর পুনরুত্থানের দিন তোমরা পরস্পর পরস্পরকে অগ্রাহ্য করিবে ও তোমরা পরস্পর পরস্পরকে অভিশাপ দিবে, এবং তোমাদের বাসভূমি অগ্নি হইবে ও তোমাদের জন্য সাহায্যকারী বাই।

আয়াতঃ ২৬⇒ অনন্তর তাহার সম্বন্ধে লুত বিশ্বাস স্থাপন করিল ও বলিল, “নিশ্চয় আমি আপন প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগকারী, নিশ্চয় তিনি বিজেতা ও বিজ্ঞাতা”।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং আমি তাহাকে এসহাক ও ইয়কুব (পুত্রদ্বয়) দান ও তাহার বংশের মধ্যে প্রেরিতত্ত্ব ও গ্রন্থ নির্ধারণ করিয়াছি, এবং ইহলোকে তাহাকে তাহার পুরস্কার দিয়াছি ও নিশ্চয় সে পরলোকে সাধুদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং লুতকে (প্রেরণ করিয়াছিলাম) যখন সে আপন দলকে বলিল, “নিশ্চয় তোমরা এমন দুষ্কর্ম করিতেছ যাহা তোমাদের পূর্বে জগদ্বাসী কোন লোক করে নাই।

আয়াতঃ ২৯⇒ তোমরা কি নিশ্চয় (কামভাবে) পুরুষদিগের নিকটে উপস্থিত হও ও পথে দস্যুবৃত্তি কর, এবং আপনাদের সভাতে তোমরা অবৈধ কর্ম করিয়া থাক? অনন্তর “যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও তবে ঈশ্বরের শাস্তি আমাদের নিকটে আনয়ন কর” বলা ভিন্ন তাহার দলের উত্তর ছিল না।

আয়াতঃ ৩০⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, বিপ্লবকারী দলের উপর আমাকে তুমি সাহায্য দান কর”।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং যখন আমার প্রেরিতপুরুষগণ এব্রাহিমের নিকটে সুসমাচারসহ উপস্থিত হইল, তখন তাহারা বলিল, “নিশ্চয় আমরা সেই গ্রামবাসীদিগের হত্যাকারী, নিশ্চয়ই তাহার অধিবাসীগণ অত্যাচারী হয়”।

আয়াতঃ ৩২⇒ সে বলিল, “নিশ্চয় তথায় লুত আছে; “তাহারা বলিল, “তথায় যাহারা আছে তাহাদিগকে আমরা উত্তম জ্ঞাত, তাহার ভার্যা ব্যতীত তাহাকে ও তাহার পরিজনকে অবশ্য আমরা রক্ষা করিব, সে (নারী) অবশিষ্ট লোকদিগের মধ্যে থাকিবে।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং যখন আমার প্রেরিতপুরুষগণ লুতের নিকটে আগমন করিল, তখন সে আক্রমণের ভয়ে তাহাদের জন্য দুঃখিত হইল ও তাহাদের জন্য অন্তরে সঙ্কুচিত হইল, এবং তাহারা বলিল, “ভয় করিও না ও দুঃখ করিও না, নিশ্চয় আমরা তোমার ও তোমার ভার্যা ব্যতিট তোমার পরিজনের রক্ষক হইব, সে অবশিষ্ট লোকদিগের মধ্যে থাকিবে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ নিশ্চয় আমরা তাহারা যে দুষ্কর্ম করিতেছে, তজ্জন্য এই গ্রামবাসীদিগের উপর আকাশ হইতে শাস্তির অবতারণকারী।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি জ্ঞান রাখে এমন দলের জন্য উহার উজ্জ্বল নিদর্শন রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং মদয়নবাসীদিগের দিকে তাহাদের ভ্রাতা শোঅবকে (প্রেরণ করিয়াছিলাম) অনন্তর সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা ঈশ্বরকে অর্চনা করিতে থাক ও অন্তিম দিবসের প্রতি আশা রাখ, এবং ধরাতলে উপপ্লবকারীরুপে ভ্রমণ করিও না”।

আয়াতঃ ৩৭⇒ পরে তাহারা তাহার প্রতি অসত্যারোপ করিল, অনন্তর তাহাদিগকে ভূমিকম্প আক্রমণ করিল, অবশেষে তাহারা আপনাদের গৃহে প্রত্যূষে জানুর উপর মৃত পড়িয়া রহিল।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং আদ ও সমুদজাতিকে (আমি সংহার করিয়াছিলাম) নিশ্চয় তোমাদের জন্য তাহাদিগের কোন কোন গৃহ প্রকাশিত আছে, এবং শয়তান তাহাদের জন্য তাহাদের জন্য তাহাদের ক্রিয়া সকলকে সজ্জিত করিয়াছিল, অনন্তর তাহাদিগকে (ধর্ম) পথ হইতে নিবৃত্ত রাখিয়ায়ছিল, এবং তাহারা (তৎসমুদায়ের) দর্শক ছিল।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং কারুন ও ফেরওন ও হামানকে (সংহার করিয়াছি) এবং সত্যসত্যই মুসা তাহাদের নিকটে প্রমাণ সকলসহ উপস্থিত হইয়াছিল, অনন্তর তাহারা পৃথিবীতে গর্ব করিল, এবং অগ্রসর হইল না।

আয়াতঃ ৪০⇒ পরিশেষে প্রত্যেককে আমি তাহাদের অপরাধের জন্য ধরিয়াছিলাম, পরে তাহাদের কেহ ছিল যে, তাহার প্রতি আমি প্রস্তরবৃষ্টি প্রেরণ করিয়াছিলাম ও তাহাদের কেহ ছিল যে, তাহাকে ঘোর নিনাদে আক্রমণ করিয়াছিল, এবং তাহাদিগের কেহ ছিল যে, আমি তাহাকে মৃত্তিকায় প্রোথিত করিয়াছিলাম ও তাহাদের কেহ ছিল যে, আমি তাহাকে মৃত্তিকায় প্রোথিত করিয়াছিলাম ও তাহাদের কেহ ছিল যে, আমি তাহাকে জলমগ্ন করিয়াছিলাম, এবং ঈশ্বর তাহাদের প্রতি অত্যাচার করেন (এরুপ) ছিলেন না, কিন্তু তাহারাই স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করিতেছিল।

আয়াতঃ ৪১⇒ যাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া (অন্যকে) বন্ধুরুপে গ্রহণ করিয়াছে তাহাদের অবস্থা উর্ণনাভের আলয়, আলয় সকলের মধ্যে ক্ষীণতর, যদি তাহারা জানিত (উত্তম ছিল)।

আয়াতঃ ৪২⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর, তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া যে কোন পদার্থকে আহ্বান করে, তাহা জানেন, এবং তিনি পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং এই দৃষ্টান্ত সকল, ইহাকে আমি মানবমণ্ডলীর জন্য বর্ণন করিলাম, এবং জ্ঞানী লোকেরা ব্যতীত ইহা বুঝে না।

আয়াতঃ ৪৪⇒ ঈশ্বর সত্যভাবে স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে বিশ্বাসীদিগের জন্য নিদর্শন আছে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) গ্রন্থের যাহা প্রত্যাদেশ করা গিয়াছে তুমি তাহা পাঠ করিতে থাক, এবং নমাজকে প্রতিষ্ঠিত রাখ নিশ্চয় উপাসনা দুষ্ক্রিয়া ও অবৈধ কর্ম হইতে নিবারন করে, এবং অবশ্য ঈশ্বরকে স্মরণ করা মহত্তম কার্য এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং গ্রন্থাধিকারীর সঙ্গে তাহাদের মধ্যে যাহারা অত্যাচার করিয়াছে তাহাদের সঙ্গে ব্যতীত যাহা উত্তম তদ্রূপ (প্রনালী) ভিন্ন তোমরা বিরোধ করিও না, এবং বল, (হে মোসলমান) যাহা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে ও তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তৎপ্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, এবং আমাদের ঈশ্বর ও তোমাদের ঈশ্বর একমাত্র ও আমরা তাঁহারই অনুগত।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এইরুপে আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) গ্রন্থ অবতারণ করিয়াছি, অবশেষে যাহাদিগকে আমি গ্রন্থ দান করিয়াছি তাহারা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়া থাকে, এবং ইহাদিগের কেহ আছে যে, ইহার প্রতি বিশ্বাস রাখে ও ধর্মবিদ্বেষিগণ ব্যতীত (কেহ) আমার নিদর্শন সকলকে অস্বীকার করে না।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তুমি ইহার পূর্বে কোন গ্রন্থ পাঠ করিতেছিলে না ও আপন দক্ষিন হস্তে তাহা লিখিতেছিলে না, তখন অবশ্য মিথ্যাবাদিগণ সন্দিগ্ধ হইয়াছে।

আয়াতঃ ৪৯⇒ বরং যাহাদিগকে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে তাহাদের হৃদয়মধ্যে ইহা (কোরআন) উজ্জ্বল নিদর্শনপুঞ্জ হয়, অত্যাচারিগণ ভিন্ন (কেহ) আমার নিদর্শন সকলকে অস্বীকার করে না।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে, “তাহার প্রতি কেন নিদর্শন সকল (অলৌকিক ক্রিয়া সকল) তাহারা প্রতিপালক হইতে অবতারিত হয় নাই”? তুমি বল, (হে মোহম্মদ) ঈশ্বরের নিকটে নিদর্শনাবলী এতদ্ভিন্ন নহে, এবং আমি স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক ইহা ব্যতীত নহি”।

আয়াতঃ ৫১⇒ আমি তোমার প্রতি যে গ্রন্থ অবতারণ করিয়াছি, তাহাদের নিকটে তাহা পড়া হইয়া থাকে ইহা তাহাদিগকে কি লাভ দর্শায় নাই? নিশ্চয় ইহার মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য দয়া ও উপদেশ আছে।

আয়াতঃ ৫২⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) আমার ও তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরই যথেষ্ট সাক্ষী, স্বর্গে ও পৃথিবীতে যাহা আছে তিনি তাহা জানেন, এবং যাহারা অসত্যের প্রতি  বিশ্বাসী ও ঈশ্বরের বিরোধী হইয়াছে ইহারাই তাহারা যে ক্ষতিগ্রস্থ।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং তাহারা তোমার নিকটে শীঘ্র শাস্তি চাহিতেছে, যদি সময় নির্ধারিত না থাকিত তবে অবশ্য তাহাদের নিকটে শাস্তি উপস্থিত হইত, এবং অবশ্য তাহাদের নিকট (শাস্তি) অকস্মাৎ সমুপস্থিত হইবে ও তাহারা জানিতে পাইবে না।

আয়াতঃ ৫৪⇒ তাহারা তোমার নিকটে শীঘ্র শাস্তি চাহিতেছে, নিশ্চয় নরক ধর্মদ্রোহী লোকদিগের আবেষ্টনকারী।

আয়াতঃ ৫৫⇒ (স্মরণ কর) যে দিন শাস্তি তাহাদিগের উপর হইতে ও তাহাদের পদতল হইতে তাহাদিগকে আচ্ছাদন করিবে, এবং বলিবে, “তোমরা যাহা করিতেছিলে তাহা আস্বাদন কর”।

আয়াতঃ ৫৬⇒ হে আমার বিশ্বাসী দাসগণ, নিশ্চয় আমার ক্ষেত্র প্রশস্ত আছে, অনন্তর আমাকেই অর্চনা করিতে থাক।

আয়াতঃ ৫৭⇒ প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যু রস আস্বাদনকারী, তৎপর তাহারা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ ৫৮+৫৯⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে আমি অবশ্য তাহাদিগকে স্বর্গের প্রাসাদোপরি স্থান দান করিব, তাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হইয়া থাকে, তাহারা তথায় স্থায়ী হইবে, যাহারা ধৈর্যধারন করিয়াছে ও আপন প্রতিপালকের প্রতি নির্ভর করে তাহাদের ও কর্মীদের জন্য উত্তম পুরস্কার হয়।

আয়াতঃ ৬০⇒ কত স্থলচর জন্তু আছে যে, তাহারা আপন জীবিকা বহন করে না, ঈশ্বর তাহাদিগকে ও তোমাদিগকে জীবিকা দান করেন, এবং তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যদি তুমি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর কে ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল সৃজন করিয়াছে, এবং চন্দ্র-সূর্যকে নিয়মিত রাখিয়াছে, অবশ্য তাহারা বলিবে, পরমেশ্বর, অনন্তর তাহারা কোথা হইতে পরিচালিত হইতেছে।

আয়াতঃ ৬২⇒ পরমেশ্বর আপন দাসদিগের মধ্যে যাহার জন্য ইচ্ছা করেন জীবিকা উন্মুক্ত ও যাহার জন্য ইচ্ছা করেন সংকীর্ণ করিয়া থাকেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ৬৩⇒ এবং যদি তুমি তাহাদিগকে প্রশ্ন কর যে, কে আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, অনন্তর তদ্দারা ভূমিকে তাহার মৃত্যুর পর সজীব করিয়া থাকেন? তাহারা বলিবে, ঈশ্বর; তুমি বল, ঈশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা, বরং তাহাদের অধিকাংশই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ভিন্ন নহে, এবং নিশ্চয় পারত্রিক আলয়ই সেই জীবন, যদি তাহারা জানিত (ভাল ছিল)।

আয়াতঃ ৬৫⇒ অনন্তর যখন তাহারা নৌকায় আরোহণ করে তখন ঈশ্বরকে তদুদ্দেশ্যে ধর্ম বিশুদ্ধ রাখিয়া আহ্বান করিয়া থাকে, পরে যখন তাহাদিগকে আমি ভূমির দিকে উদ্ধার করি তখন অকস্মাৎ তাহারা অংশী স্থাপন করে।

আয়াতঃ ৬৬⇒ তাহাতে আমি যাহা দান করিয়াছি তৎপ্রতি কৃতঘ্ন হয় ও তাহাতে (সাংসারিক জীবনের) ফলভোগী হইয়া থাকে, অনন্তর অবশ্য তাহারা জানিতে পাইবে।

আয়াতঃ ৬৭⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, আমি কাবার চতুঃসীমাবর্তী স্থানকে নিরাপদ রাখিয়াছি, এবং লোক সকল তাহাদের পার্শ্বদেশ হইতে অপহৃত হয়? অনন্তর তাহারা কি অসত্যকে বিশ্বাস করিতেছে ও ঈশ্বরের দানের প্রতি অকৃতজ্ঞ হইতেছে?

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি অসত্য বন্ধন করিয়াছে অথবা সত্যের প্রতি যখন তাহা উপস্থিত হইয়াছে অসত্যারোপ করিয়াছে তাহা অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী? নরকলোকে কি ধর্মদ্রোহিগণের জন্য কোন স্থান নাই?

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং যাহারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করিয়াছে অবশ্য আমি তাহাদিগকে স্বীয় পথ প্রদর্শন করিব, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর হিতকারী লোকদিগের সঙ্গে থাকেন।