শুরু করার পূর্বে কিছু কথা…


হ্যাকিং শব্দটি শুনলেই অনলাইন ক্রাইমের কথাই মনে আসে বেশি। কারন, আজকাল মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে ব্যাংক ডাকাতির মত ঘটনাও ঘটে এই হ্যাকিং এর মাধ্যমে। হ্যাকিং মানেই যে অনলাইন ক্রাইম, ব্যাপারটি মোটেও সেরকম নয়। মনে করুন, চাকু আবিষ্কার করা হয়েছে জটিল অপারেশনের কাজে ডাক্তারদের ব্যবহারের জন্য। এখন সেই চাকু দিয়ে আপনি যদি মানুষ খুন করা শুরু করেন, সেটা নিশ্চয় চাকুর অপরাধ নয়। সেটা চাকু ব্যবহারকারীর অপরাধ। বিশ্বের কোন টেকনোলজীই মানুষের ক্ষতির জন্য আবিষ্কার করা হয় নি, এখন আপনি যদি সেই টেকনোলজীর ভুল ব্যবহার করেন, তাহলে নিশ্চয় সে দায়ভার টেকনোলজীর উপর বর্তায় না।

বর্তমান সময়ের দৈনন্দিন কাজের প্রায় পুরোটাই অনলাইনের আওতায় চলে গিয়েছে। আপনার ফোন, আপনার কম্পিউটার, আপনার ব্যাংকিং একাউন্ট, আপনার পারসোনাল কিংবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, আপনার ওয়াইফাই রাউটার, এসব আপনার নিত্য ব্যবহার্য টেকনোলজি। এখন আপনার মোবাইল আছে আপনার হাতে, কিন্তু নিয়ন্ত্রন চলে গিয়েছে অন্যের হাতে, বলুন তো ব্যাপারটা কেমন হয়? অথবা, আপনার পারসোনাল কম্পিউটার আছে আপনার ঘরে, অথচ আপনার পারসোনাল কম্পিউটারের পারসোনাল ফাইলের উপর লুকিয়ে নজরদারি করছে অন্য কেউ, অথবা আপনার ব্যাংকিং একাউন্টে আপনি লগইন করছেন, অথচ আপনি যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, তা চলে গেল কোন হ্যাকারের হাতে, নিমিষেই হয়ে গেল আপনার একাউন্ট ফাঁকা, এবার ভাবুন তো ব্যাপারটা কেমন হবে? অথবা আপনি দামী ওয়াইফাই রাউটার কিনেছেন ভালো নেট স্পীড পাওয়ার আশায়, অথচ পাচ্ছেন না, কারন অন্য আরো দুচারজন আপনার ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আরামসে ফ্রিতে আপনার নেট ব্যবহার করছে, ব্যাপারটি কেমন লাগবে তখন?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এরকম ঘটনা ঘটা মোটেই অসম্ভব নয়। কাজেই নিজের সাইবার নিরাপত্তার জন্য হলেও নিজেকে হ্যাকার হিসেবে তৈরি করা উচিত। আপনার জানা উচিত, আপনার রাউটারের পাসওয়ার্ড কেউ চুরি করে ব্যবহার করছে কিনা, কিংবা আপনার ফোন কোন হ্যাকারের নিয়ন্ত্রনে থেকে আপনাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে কিনা, কিংবা আপনার ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড চুরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে না।

আমাদের অনেকেরই কম্পিউটার কি ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য নেই, তাই আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। আমি আপনাদের সেই হতাশার পুরোটা হয়তো শেষ করতে পারবো না, তবে তবে অনেকটাই সেই হতাশা দূর করার চেষ্টা করবো। আমাদের ঘরে ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার না থাকলেও হাতে একটি স্মার্ট ফোন নিশ্চয় আছে। তবে এটা দিয়েই শুরু করা যাক। মোবাইল দিয়ে আপনি হয়তো হ্যাকার হতে পারবেন না, তবে হ্যাকিং সম্বন্ধে যে ধারনা আপনি পাবেন, এতে যেমন আপনার হ্যাকিং এর প্রতি আগ্রহ জন্মাবে, তদ্রূপ আপনি মোবাইল দিয়েই আপনার সাইবার নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত করতে পারবেন।

তবে শুরু করা যাক…। শুরুতেই আপনার ফোনের প্লে স্টোর থেকে দুটি সফটওয়্যার ইন্সটল করে ফেলুন। প্লে স্টোরের সার্চবারে টাইপ করুন Termux এবং ইন্সটল করুন। নিচের পিকচার ফলো করুনঃ
এরপর Hackers Keyboad টাইপ করুন এবং ইন্সটল করে সেটাপ করে নিন। নিচের পিকচার ফলো করুনঃ মনে রাখবেন, Hackers keyboard ব্যতীত আপনার ফোনের অন্য যে কোন কিবোর্ড Termux সফটওয়্যারে কাজ করবে না, কিংবা যদি করেও থাকে, সেক্ষত্রে আপনি অনেক সমস্যা ফেস করবেন, সেজন্য আপনাকে এই কিবোর্ড অবশ্যই ইন্সটল করে সেটাপ করতেই হবে।

এরপর আমি Termux সফটওয়্যারটি ওপেন করুন, তাহলে নিচের পিকচারের মত দেখাবে। মজার বিষয় হল, আপনার ফোনের অন্যান্য সফটওয়্যারে যেমন অপশন পূর্ব থেকেই সেটাপ করা থাকে, সেই সেটাপকৃত অপশনে ক্লিক করলেই কাজ করে, Termux এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি মোটেও সেরকম নয়। এখানে পূর্ব থেকে কোন অপশনই দেওয়া থাকে না। Termux মূলত একটি ফাঁকা ব্লাক বোর্ডের মত। এখানে আপনি যা কিছুই লিখবেন, সেটা কমান্ড আকারে প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ আপনি যে কাজ করতে চান, তা এখানে টাইপ করে বুঝাতে হবে। আরো মজার ব্যাপার হল, আপনার ফোনে যে সফটওয়্যারই ব্যবহার করেন না কেন, আপনি কোন অপশনে ক্লিক করলে, আপনাকে সেই অপশনের কাজ শেষে ডাইরেক্ট কাজের ফলাফল দেখাবে, কিন্তু Termux এর ফলাফল এর সাথে কাজটি কিভাবে সে সম্পন্ন করল, সেই প্রক্রিয়াটিও দেখিয়ে দিবে। যদি কোন কাজ করতে সমস্যা ফেস করে, তবে সেই সমস্যাটি আসলে কোথায় হচ্ছে তা যেমন দেখিয়ে দিবে, তদ্রূপ কি করলে সেই সমস্যার সমাধান হবে, সেটি পর্যন্ত আপনাকে দেখিয়ে দিবে। মোটকথা, Termux ব্যবহারের সাথে সাথে আপনি সম্পূর্ণ নতুন একটি জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। Termux- ওপেন করলে নিচের পিকচারের মত দেখাবে।   আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, Termux এ টাইপ করার জন্য কেন Hackers keyboard-ই ব্যবহার করতে হবে? এর উত্তর হল, আপনি আপনার ফোনের যে কিবোর্ড ব্যবহার করছেন, তা হয়তো Bijoy কিংবা Ridmik কিংবা অন্য যে কোন, সেখানে Termux এ ব্যবহার করার জন্য অনেক বাটন খুঁজে পাবেন না, যেমন Ctrl, Alt, Shipt ইত্যাদি। অথচ এগুলো আপনার অবশ্যই প্রয়োজন Termux এর জন্য। এবার আগামী পর্বে দেখাবো, কিভাবে termux-কে আপডেট এবং আপগ্রেড এর মাধ্যমে Termux-কে সম্পূর্ণভাবে কাজ উপযোগী করে তোলা হয় এবং কিভাবে Termux-এ টাইপ এর মাধ্যমে কমান্ড দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যায়।