যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়া পড়সির ঘুম নাই

ছোটকাল থেকেই শুনে আসা গ্রাম অঞ্চলের বহুল প্রচলিত কিছু প্রবাদ বাস্তব জীবনের সঙ্গে ক্ষেত্র বিশেষে এতো নিখুত ভাবে মিলে যায় যে, তখন হতবিহ্বল হওয়া ব্যতীত আর কিছুই করার থাকে না। তখন চিন্তা হয়, বাস্তব জীবনের কতটা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করলে এমন একেকটা প্রবাদ বাক্য তৈরি হতে পারে। আমাদের সোনার দেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটা ঘটনা থেকে উক্ত প্রবাদটি বড্ড বেশি মনে পরে গেল।

ইমেজ সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকা, ১৯-১০-২০২১

আমরা জানি, বাংলাদেশ মুসলিম গরিষ্ঠ দেশ হওয়ার সুবাদে এদেশের রাষ্ট্রধর্মকে ইসলাম করা হয়েছে। কাজেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশে হিন্দু বা অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মের অনুসারীদের অবস্থা যে দুই টাকার নোটের মত, তা আর ঘটা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কারনেই দেখবেন, হিন্দুদের পূজার সময় যদি মুসলমানদের ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠানের সময় হয়, তবে আপনি তাদের ঘণ্টা ধ্বনি বা শঙ্খধ্বনি কিংবা উলুধ্বনি শুনতে পাবেন না। সেটা হোক কোন পূজা কিংবা প্রতিদিনের সন্ধ্যা আরতির মত ব্যাপার। অথচ বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা রয়েছে, যেখানে হিন্দুদের পূজার সময় তাদের পূজার ব্যাঘাত ঘটবে চিন্তা করে মসজিদের মাইকের আওয়াজ কমিয়ে আজান দেওয়া হয়েছে? আছে কি এমন কোন জেলা, থানা, কিংবা ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কিংবা ছোট্র একটি গ্রাম? হাতে হারিকেন দিয়ে খুঁজলেও খুঁজে পাবেন না। কিন্তু আপনি কি কখনো শুনেছেন, হিন্দুদের সন্ধ্যা আরতির সময় যখন মুসলিমদের মাগরিবের আজানের সময় হয়, তখন তারা খুব জোরে উলুধ্বনি কিংবা শঙ্খ বাজিয়েছে?

ইমেজ সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকা, ১৯-১০-২০২১

এমনটা কখনোই হয় না। এর কারন কি? এর কারন কি তাদের মানবিকতা? মোটেও তা নয়। এর কারন তাদের সংখ্যালঘুতা। এথেকে অন্তত এটা স্পষ্ট হয়েই যায় যে, হিন্দুরা সর্বদায়ই মুসলিমদের ভয়ে নিজেদেরকে তাদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর থেকে ১০০ গজ দূরে অবস্থান করে। আর সেই দেশেই কিনা প্রকাশ্য পূজা মণ্ডপে তাদের দেবতার পায়ের উপর মুসলিমদের মূল ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ রাখবে, এটাও কি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার হতে পারে? ব্যাপারটা যদি ইন্ডিয়াতে হত, তাহলে না হয় বিশ্বাস করা যেত। তাহলে এমন ঘটনা কেন ঘটানো হতে পারে, আর কারা ঘটাতে পারে, সেটা বুঝতে কি আর বাঁকি থাকে? তবুও একদল মানুষ রয়েছে, যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারপিট, ভাংচুর এমনকি হত্যাযজ্ঞ পর্যন্ত ঘটিয়ে চলেছে। এরা আসলে কারা? এরা দেশের কি চায়? ইসলাম কি এভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করে? শুনেছি এদেশের মুসলিমরা নাকি নবীজীকে তাদের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে। আমি শুনেছি নবীজীকে যখন তায়েফের ময়দানে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তখনও নবী তাদের উদ্দেশ্যে কোন অভিশাপ বর্ষণ করেন নি। অথচ সেই নবীরই উম্মতেরা আজ ভ্রান্ত একটা বিশ্বাসে দেশের মধ্যে এমন অশান্তি তৈরি করছে। এরা বিশ্ববাসীর নিকটে বুঝিয়ে দিচ্ছে ইসলাম কেমন, আর ইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলিমরাই বা কেমন।

 

ধর্মটা মূলত কার? আপনি যদি মুসলিম হোন, তাহলে বলবেন আল্লাহর, হিন্দু হলে বলবেন ভগবানের। আপনারা কেবল তার বাহন মাত্র। এখন কোন মানুষ হিন্দুদের দেবতার পায়ে কোরআন রাখল, আর কোন ব্যক্তি ক্বাবা ঘরে গীতা রাখল, তা নিয়ে আপনাদের খুন খারাবী করার অধিকার কে দিয়েছে? আপনারা কি আল্লাহ কিংবা ভগবানের নিকট থেকে লাইসেন্স পেয়েছেন ধর্মের নামে হত্যা করার? আপনারা ধর্ম পালনকারী এবং বাহন হিসাবে আপনারা সদুপদেশ দিতে পারেন, নয়তো যার যার স্রষ্টার নিকট বিচার প্রার্থনা করতে পারেন। ধর্ম আল্লাহ কিংবা ভগবানের, সেই ধর্ম নিয়ে কে কি করল, তা দেখবে আল্লাহ কিংবা ভগবান নিজে। বিচারও করবেন উনি নিজেই। মাঝখানে আপনি কে ফাল দেয়ার? আপনি কোন ধর্মের জন্য ফাল দেন না, আপনি দেন দেশে অশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে সেই গদিতে নিজে বসে রাজত্ব করার। সরকার আম জনতার মত ব্রেন ওয়াশ হওয়া হাঁটুতে বুদ্ধি রাখা পাবলিক নয়। এমন হলে দেশ চালাতে পারতেন না। আপনারা সেই সকল লোক, যারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়াতে নারাজ, হতে চেয়েছিলেন পাকিস্থানের দালাল। আপনি দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্র বলাৎকারের ব্যাপারে কোনদিনই কথা বলেন না। আপনি সেই ব্যক্তি, যিনি ব্যাংকের টাকাকে হারাম ঘোষনা করেন, কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের টাকাকে আরাম মনে করেন। আপনি সেই ব্যক্তি, যিনি দিনের বেলায় মসজিদের ইমাম, আর রাতের বেলায় মাদ্রাসার ছাত্র বলাৎকারকার। আপনি সেই ব্যক্তি, যিনি দিনের বেলায় দাঁড়ি টুপি ওয়ালা আল্লাহর বান্দার ভাব ধরা পাবলিক, আর গোপনে মাফলার কিংবা গামছায় দাঁড়ি পেঁচিয়ে নিষিদ্ধপ্ললীতে যাওয়া লোক।

 

বাংলাদেশ সরকারের নিকট আকুল আবেদন এই যে, দেশের মধ্যে এমন বাজে ঘটনা ঘটিয়ে যারা দেশটাকে অশান্ত করে তুলছে, তারা কি চায়, তা আপনি অনেক ভালো বুঝেন। দেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে আপনার উচিত, বিষয়টাকে শক্ত হাতে দমন করে সঠিক অপরাধীকে খুঁজে বের করে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি প্রদান করা। এরা ইসলামের শত্রু, এরা জাতির শত্রু এরা দেশেরও শত্রু। এদের নূন্যতম জ্ঞান মগজে রাখে না যে, এদেশে হিন্দুদের উপর যে এমন নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছি, যদি ভারতে প্রতিশোধমূলক ভাবে মুসলিমদের উপরে একই রকম নির্যাতন চালানো হয়, তবে তাদের অবস্থাটা কি হবে? ভারতে কি পরিমাণ মুসলিমের বাস, তা মনে হয় এই ছাগুদের আইডিয়াই নাই। যদি রোহিঙ্গাদের মত ভারত থেকে মুসলিমদের বের করে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের অবস্থা দাঁড়াবে কি? বাংলাদেশে হাতে গোনা যেসব হিন্দুদের বাস, ইন্ডিয়ার মত মহারাষ্ট্রে সেটুকু জনগনকে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে ঠাই দিলে, বোঝাই যাবে না। আর ইন্ডিয়া থেকে মুসলিমদের যদি বের করে দেওয়া হয়, আর তারা যদি রোহিঙ্গাদের মত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, তাহলে এদেশের মানুষের খাওয়া চলা তো দূর, হাগু দেওয়ার মত জায়গাও অবশিষ্ট থাকবে না। এরা আসলে চায় কি? এরা সেই সব ব্যক্তি, যারা রোহিঙ্গাদেরকে এদেশে ঠাই দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে দেশে অশান্তি তৈরির মাধ্যমে তাদেরকে ঠাই দেওয়াতে বাধ্য করে, কিন্তু রোহিঙ্গারা যখন এদেশে শক্তভাবে আসন গেঁড়ে তাদের আসল রুপ দেখাতে শুরু করেছে, তখন আন্দোলনকারী বাহিনী নীরব। এরা সমস্যা তৈরি করতে পারে, কিন্তু তার সমাধান করতে অক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *