তৃতীয় পারাজিকা

[মনুষ্য হত্যা সম্পর্কিত শিক্ষাপদ বর্ণনা]

[স্থান – বৈশালী]

(১৬২)⇒ সে সময়ে ভগবান বুদ্ধ বৈশালীর মহাবনে কূটাগারশালায় অবস্থান করছিলেন। তখন ভগবান ভিক্ষুদেরকে অনেক প্রকারে দেহের অশুচি সম্বন্ধে দেশনা করছিলেন, দেহের অশুচি অংশের বর্ণনা করছিলেন, অশুভ ভাবনার গুণ বর্ণনা করছিলেন এবং এই নশ্বর দেহ যে, অশুচি- অশুভ সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য পুনঃপুন পদনির্দেশ করতঃ তার সুফল বর্ণনা করছিলেন। অতঃপর ভগবান একদিন ভিক্ষুসঙ্ঘকে আহ্বান করে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! আমি ইচ্ছা করছি যে, অর্ধমাস বিবেক স্থানে নিঃসঙ্গ অবস্থায় অবস্থান করতে। আমার কাছে শুধু আহার নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যেতে পারবে না।“ “হ্যাঁ ভান্তে” বলে সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে প্রত্যুত্তর দিলেন এবং অর্ধমাস ভগবানের জন্য আহার নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ গেলেন না। এ’দিকে ভিক্ষুগণ “ভগবান অনেক প্রকারে কায়ের অশুচি-অশুভ সম্পর্কে বলেছেন, অশুচি অংশের বর্ণনা করেছেন, অশুভ ভাবনায় আত্মনিয়োগের জন্য তার গুণ বর্ণনা করেছেন এবং এই অনিত্য দেহ যে অশুচি-অশুভ সে সম্পর্কে জ্ঞান উৎপত্তির জন্য উনঃপুন পদনির্দেশ করতঃ তার সুফল বর্ণনা করেছেন” এ’বলে সবাই স্বীয় দেহের বিভিন্ন অংশের আকার-আকৃতি নিয়ে অশুভ ভাবনায় মনসংযোগ করতঃ অবস্থান করতে লাগলেন। তখন তারা ভগবানের নির্দেশ মতে অশুভ ভাবনা করার ফলে নিজেদের দেহকে অত্যন্ত ঘৃণা করতে লাগলেন এবং অতিশয় কুৎসিত, কদাকার দেখতে লাগলেন। যেমন কোন স্ত্রী বা পুরুষ, যুবক বা যুবতী স্নাত ও অলংকৃত হলে কন্ঠে ঝুলন্ত অহি, কুকুর কিংবা মানুষের গলিত, পচিত শব ঘৃণা করে এবং অত্যন্ত কুৎসিত, কদাকার দেখে, সেরূপও সেই ভিক্ষুগণ নিজেদের দেহকে ঘৃণা করতে লাগলেন এবং অতিশয় কুৎসিত, কদাকার দেখতে লাগলেন। এ’রূপ দর্শন হেতু তাদের মধ্যে কেউ কেউ আত্ম হত্যা করলেন এবং পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করতে লাগলেন। আবার কেউ কেউ উচ্ছিষ্ট ভোজী মৃগলন্ডিক নামক শ্রমণবেশধারীর নিকট এসে এ’রূপ বললেন- ‘আবুসো! আমরা তোমাকে পাত্র-চীবর দিব, যদি তুমি আমাদেরকে হত্যা কর’। তখন শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিক পাত্র-চীবরের লোভে পড়ে কিছু সংখ্যক ভিক্ষুকে হত্যা করে যেখানে বজ্ঞমুদা(1) নদী সেখানে রক্তাক্ত অসি নিয়ে উপস্থিত হল।

(1)বজ্জী রাজ্যের একটি নদী। এই নদীর তীরে ‘যসোজ’ এবং তার পঞ্চশত শিষ্যসহ অধিষ্ঠান করতেন।

 

(১৬৩)⇒ অতঃপর শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিক সেই রক্তাক্ত অসি নদীতে ধোবার সময় তার মনে এরূপ সংশয় ও অনুশোচনা উদয় হল যে- “আমার অনেক অলভিই হয়েছে, লাভ নহে; বহু অলব্ধ হয়েছে, সুলব্ধ নহে। আমার দ্বারা অনেক শীলবান, কল্যাণ ধর্মপরায়ণ ভিক্ষুকে হত্যা করা হয়েছে, আমার বহু অপুণ্য সঞ্চয় হয়েছে।“ তখন অন্যতর বলতে লাগল- “সাধু! সাধু! সৎপুরুষ তোমার অনেক লাভ হয়েছে, তোমার বহু সুলব্ধ হয়েছে। তোমার দ্বারা অনেক পুণ্য সঞ্চিত হয়েছে, কারণ তুমি অতীর্ণদেরকে তীরে পার করে দিয়েছ, দুঃখ হতে নিষ্কৃতি দিয়েছ।“

অতঃপর মৃগলন্ডিক- “আমার নাকি অনেক সুলাভ হয়েছে, আমার নাকি বহু পুণ্য সঞ্চয় হয়েছে, আমি অনেককে মুক্ত করে দিয়েছি, অতীর্ণদেরকে তীরে পার করে দিয়েছি।“ এ’রূপ ভেবে সে তার সংশয় ও অনুশোচনা দূরীভূত করে সেই তীক্ষ্ম অসি নিয়ে বিহার হতে বিহারে; পরিবেণ হতে পরিবেণে উপস্থিত হয়ে এ’রূপ বলতে লাগল- “কে মুক্তি চাই; কে পার হতে চাই? আমি তাকে মুক্তি দেব; পার করে দেব।“ তখন সেস্থানে যে সকল ভিক্ষু অবীতরাগী, তৃষ্ণাযুক্ত ছিলেন, তারা মৃগলন্ডিকের কথা শুনে ভয়ে, ত্রাসে ভীত, শঙ্কিত হওতঃ রোমাঞ্চিত হলেন। আর যারা বীতরাগী, তৃষ্ণামুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিন্দু মাত্রও ভয়, ভীত, শঙ্কিত কিংবা রোমাঞ্চিত হলেন না। অতঃপর শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিক একদিনে একজন ভিক্ষুকে হত্যা করতে লাগল, আর একদিন দুইজন ভিক্ষুকে হত্যা করতে পাগল, এ’রুপে সে তিনজন, চারজন, পাঁচজন, দশজন, বিশজন, ত্রিশজন, চল্লিশজন, পঞ্চাশজন, এমনকি ষাটজন ভিক্ষু পর্যন্ত একদিনে হত্যা করল।

 

(১৬৪)⇒ অনন্তর ভগবান সেই অর্ধমাস নীরবতা সমাপ্ত করে আয়ুষ্মান আনন্দকে আহ্বান করে বললেন- “হে আনন্দ! ভিক্ষুসঙ্ঘ কি কারণে ক্রমে ক্রমে কমে যাচ্ছে?”

তখন আনন্দ স্থবির উত্তর দিলেন-

“ভান্তে! ভগবান কর্তৃক ভিক্ষুসঙ্ঘকে এরূপে অনেক প্রকারে দেহের অশুভ-অশুচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, অশুভ অংশের বর্ণনা করা হয়েছে, অশুভ ভাবনায় আত্ম নিয়োগের জন্য তার সুফল বর্ণনা করা হয়েছে এবং অশুচি-অশুভ জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য পুনঃপুন উপায় নির্দেশ করতঃ তার ফল বর্ণনা করা হয়েছে, এ’বলে সবাই নিজেদের দেহের বিভিন্ন অংশের আকার-আকৃতি নিয়ে অশুভ ভাবনায় মনসংযোগ করতঃ অবস্থান করতে লাগলেন। তখন তারা ভগবানের নির্দেশ মতে অশুভ ভাবনা করার ফলে নিজেদের দেহকে অত্যন্ত ঘৃণা করতে লাগলেন এবং অতিশয় কুৎসিত, কদাকার দেখতে লাগলেন। যেমন কোন স্ত্রী বা পুরুষ, যুবক বা যুবতী স্নাত ও অলংকৃত হলে কন্ঠে ঝুলন্ত অহি, কুকুর কিংবা মানুষের গলিত, পচিত শব ঘৃণা করে এবং অত্যন্ত কুৎসিত, কদাকার দেখে, সেরূপও সেই ভিক্ষুগণ নিজেদের দেহকে ঘৃণা করতে লাগলেন এবং অতিশয় কুৎসিত, কদাকার দেখতে লাগলেন। এ’রূপ দর্শন হেতু তাদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মহত্যা করলেন এবং পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করলেন। আবার কেউ কেউ উচ্ছিষ্ট ভোজী মৃগলন্ডিক নামক শ্রমণবেশধারীর নিকট এসে এ’রূপ বললেন- ‘আবুসো! আমরা তোমাকে পাত্র চীবর দিব, যদি তুমি আমাদেরকে হত্যা কর’। তখন শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিক পাত্র-চীবরের লোভে পড়ে কিছু সংখ্যক ভিক্ষুকে হত্যা যেখানে বজ্ঞমুদা নামক নদী সেখানে রক্তাক্ত অসি নিয়ে উপস্থিত হল।

 

(১৬৫)⇒ অতঃপর শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিক সেই রক্তাক্ত অসি নদীতে ধোয়ার সময় তার মনে এরূপ সংশয় ও অনুশোচনা উদয় হল যে- “আমরা অনেক অলাভই হয়েছে, লাভ নহে; বহু অলব্ধ হয়েছে, সুলব্ধ নহে। আমার দ্বারা অনেক শীলবান, কল্যাণ ধর্মপরায়ণ ভিক্ষুকে হত্যা করা হয়েছে, আমার বহু অপুণ্য সঞ্চয় হয়েছে।“ তখন অন্যতর মিথ্যাদৃষ্টিকে মার পক্ষপাতী দেবতা জল হতে উঠে এসে মৃগলন্ডিককে এ’রূপ বলল- “সাধু! সাধু! সৎপুরুষ তোমার অনেক লাভ হয়েছে, তোমার বহু সুলব্ধ হয়েছে। তোমার দ্বারা অনেক পুণ্য সঞ্চিত হয়েছে, কারণ তুমি অবতীর্ণদেরকে তীরে পার করে দিয়েছ, দুঃখ হতে নিষ্কৃতি দিয়েছ।“

অতঃপর মৃগলন্ডিক “আমার নাকি অনেক সুলাভ হয়েছে, আমার নাকি বহু পুণ্য সঞ্চয় হয়েছে, আমি অনেককে মুক্ত করে দিয়েছি, অতীর্ণদেরকে তীরে পার করে দিয়েছি।“ এ’রূপ ভেবে সে তার সংশয় ও অনুশোচনা দূরীভূত করে সেই তীক্ষ্ম অসি নিয়ে বিহারে; পরিবেণ হতে পরিবেণে উপস্থিত হয়ে এ’রূপ বলতে লাগল- “কে মুক্তি চাই; কে পার হতে চাই? আমি তাকে মুক্তি দেব; পার করে দেব।“ তখন সেস্থানে যে সকল ভিক্ষু অবীতরাগী, তৃষ্ণাযুক্ত ছিলেন, তারা মৃগলন্ডিকের কথা শুনে ভয়ে, ত্রাসে ভীত, শঙ্কিত হওতঃ রোমাঞ্চিত হলেন। আর যারা বীতরাগী, তৃষ্ণা মুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিন্দু মাত্রও ভয়, ভীত, শঙ্কিত কিংবা রোমাঞ্চিত হলেন না। অতঃপর শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিক একদিনে একজন ভিক্ষুকে হত্যা করতে লাগল, আর একদিন দুইজন ভিক্ষুকে হত্যা করতে লাগল, এ’রূপে সে তিনজন, চারজন, পাঁচজন, দশজন, বিশজন, ত্রিশজন, চল্লিশজন, পঞ্চাশজন, এমনকি ষাটজন পর্যন্ত ভিক্ষু নির্দ্বিধায় হত্যা করেছে। ভান্তে! এ’কারণে অনেক ভিক্ষু কমে গেছে।“

“ভান্তে! উত্তম হবে যদি ভগবান কর্তৃক অন্য কোন উপায়ে ভিক্ষুসঙ্ঘকে শিক্ষা দেওয়া যায় কিংবা নিয়ন্ত্রন করা যায়।“ “তাহলে আনন্দ! বৈশালীকে আশ্রয় করে যে সকল ভিক্ষু অবস্থান করতেছে তাদেরকে ধর্মশালায় সমবেত হওয়ার জন্য আহ্বান কর।“ “হ্যাঁ ভান্তে’ বলে আয়ষ্মান আনন্দ ভগবানের কথায় প্রত্যুত্তর দিয়ে বৈশালীর সকল ভিক্ষুকে ধর্মশালায় সমবেত করে যেখানে ভগবান সেখানে উপস্থিত হয়ে ভগবানকে এ’রূপ নিবেদন করলেন- “ভান্তে! সকল ভিক্ষুসঙ্ঘ সমবেত হয়েছে; এখন ভগবান যা সময় মনে করেন।“

 

(১৬৫)⇒অতঃপর ভগবান ধর্মশালায় উপস্থিত হয়ে প্রজ্ঞাপ্ত আসনে উপবেশন করলেন। উপবিষ্ট ভগবান ভিক্ষুদেরকে আহ্বান করে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! এই আনাপানস্মৃতি সমাধি চিত্তে ভাবিত(1), বহুলীকৃত(2), প্রণীত হলে পবিত্রতা, সুখ ও নির্মল চিত্ত নিয়ে অবস্থানের জন্য সহায়তা করে। উৎপন্ন-অনুৎপন্ন পাপ, অকুশল ধর্ম এক নিমিষে অন্তর্ধানের জন্যে এবং মনের সকল প্রশান্তি আনয়নের জন্য সহায়তা করে থাকে। যেমন- ভিক্ষুগণ! গ্রীষ্মের শেষ মাসে মহা অকাল মেঘ উঠে অপবিত্র, অশুচি ময়লা, আবর্জনা এক নিমিষে নিয়ে গিয়ে পবিত্র করে, পরিষ্কার করে; তদ্রুপ ভিক্ষুগণ! এই অনাপানস্মৃতি, সমাধি ভাবিত হলে, বহুলীকৃত হলে শান্ত, প্রণীত, পবিত্র, সুখে অবস্থানের সহায়তা করে। উৎপন্ন-অনুৎপন্ন পাপ-অকুশলধর্ম এক নিমিষে তিরোধানের জন্য এবং মনের সকল প্রকার প্রশান্তি আনয়নের জন্যে খুবই উপযোগী।“

“হে ভিক্ষুগণ! কিরূপে আনাপানস্মৃতি, সমাধি ভাবিত, বহুলীকৃত হলে শান্ত, প্রণীত, পবিত্রতা ও সুখে অবস্থানের জন্য সহায়তা করে? আর কিরূপে ভাবিত, বহুলীকৃত হলে উৎপন্ন-অনুৎপন্ন পাপ-অকুশল ধর্ম এক নিমিষে তিরোধান হয় ও চিত্তের সকল প্রকার প্রশান্তি আনয়নে সহায়তা করে?”

“হে ভিক্ষুগণ! এখানে ভিক্ষু অরণ্য, বৃক্ষমূল, অথবা কোন নির্জন গৃহে গিয়ে পদ্মাসনে উপবেশন করতঃ দেহকে সোজাভাবে রেখে নির্বাণ অভিমুখী হয়ে স্মৃতি উপস্থাপন করে। সেই অবস্থায় সেই ভিক্ষু স্মৃতিমান হয়ে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করে; সে দীর্ঘ আশ্বাস গ্রহণ করলে বিশেষরূপে জানে যে, সে দীর্ঘ-আশ্বাস গ্রহণ করছে; দীর্ঘ-আশ্বাস ত্যাগ করলে, সে বিশেষরূপে জানে যে, সে দীর্ঘ-আশ্বাস ত্যাগ করছে। সে হ্রস্ব প্রশ্বাস গ্রহণ করলে, বিষেশরূপে জানে যে, সে হ্রস্ব প্রশ্বাস গ্রহণ করছে; হ্রস্ব প্রশ্বাস ত্যাগ করলে, সে বিশেষরূপে জানে যে, সে হ্রস্ব প্রশ্বাস ত্যাগ করছে। এ’রূপে সেই ভিক্ষু, সর্বকায়ে স্পন্দন অনুভূতি হয় মত সেরূপ আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস পরিত্যাগ করতে শিক্ষা করে, কায়িক ক্রিয়ায় প্রশান্তি অনুভূতি হয় মত সেরূপ আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস পরিত্যাগ করতে শিক্ষা করে। এ’ভাবে সেই ভিক্ষু চিত্তে প্রীতি অনুভূতি হয় মত সেরূপ আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। এ’রূপে সেই ভিক্ষু চিত্তে সংস্কারানুভূতি হয় মত সেরূপ আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। চিত্তে সংস্কারানুভূতি পরিহার করতঃ প্রশান্তি আনয়নের জন্য সে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস পরিত্যাগ করতে শিক্ষা করে। চিত্ত আছে এরূপ অনুভূতি হওয়ার জন্য সে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস পরিত্যাগ করতে শিক্ষা করে। এ’রূপে সেই ভিক্ষু চিত্তে উৎফুল্ল আনয়নের জন্য আশ্বাস ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। চিত্তে একাগ্রতা আনয়নের জন্য সে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। চিত্তকে বন্ধন হতে মুক্ত করার জন্য সে আশ্বাস গ্রহণ প্রশ্বাস পরিত্যাগ করতে শিক্ষা করে। এ’রূপে সেই ভিক্ষু অনিত্যানুদর্শী হয়ে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। বিরাগানুদর্শী হয়ে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। নিরোধানুদর্শী হয়ে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে। এ’রূপে সেই ভিক্ষু সকল প্রকার অকুশল পরিত্যাগানুদর্শী হয়ে আশ্বাস গ্রহণ ও প্রশ্বাস ত্যাগ করতে শিক্ষা করে।

হে ভিক্ষুগণ! এ’রূপে আনাপানস্মৃতি, সমাধি ভাবিত, বহুলীকৃত হলে চিত্ত শান্ত, প্রণীত, পবিত্র হয় ও সুখে অবস্থানের জন্য উপযোগী হয়। উৎপন্ন-অনুৎপন্ন পাপ, অকুশলধর্ম এক নিমিষে তিরোধান হয় এক মনে প্রশান্তি আসে।“

 

(১৬৬)⇒ অতঃপর ভগবান এই নিদানে, এই কারণে ভিক্ষু সঙ্ঘকে সমবেত করায়ে ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘সত্যই কি হে ভিক্ষুগণ! ভিক্ষুরা নিজে নিজে আত্মহত্যা করছে; পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করছে? উচ্ছিষ্ট ভোজী শ্রমণবেশধারী মৃগলন্ডিকের নিকট উপস্থিত হয়ে এরূপ বলতেছে- “আবুসো! আমরা তোমাকে পাত্র-চীবর দিব, যদি তুমি আমাদেরকে হত্যা কর।“

“হ্যাঁ ভগবান! তা সত্য বটে।“

ভগবান বুদ্ধ ইহা বড়ই গর্হিত বলে সেই ভিক্ষুদেরকে নিন্দা ও ভৎসনা করে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! ইহা তাদের পক্ষে অত্যন্ত অনুপযুক্ত, অবিধেয়, অশোভনীয়, অগ্রহণযোগ্য, অশ্রমণোচিত এবং অকরণীয় কার্য হয়েছে। হে ভিক্ষুগণ! কেন সেই ভিক্ষুরা নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে, পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করেছে? এবং কেনই বা শ্রমণবেশধারী মৃগলিন্ডককে পাত্র-চীবরের লোভ দেখিয়ে এ’রূপ বলছে- ‘আবুসো! আমরা তোমাকে পাত্র-চীবর দিব, যদি তুমি আমাদেরকে হত্যা কর’ তাদের এ’কার্যে অশ্রদ্ধাবানদের মধ্যে শ্রদ্ধা উৎপন্ন কিংবা শ্রদ্ধাবানদের মধ্যে শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করতে পারবে না, বরঞ্চ ইহা অশ্রদ্ধাবানদের মধ্যে অধিক অশ্রদ্ধা উৎপন্ন এবং কোন কোন শ্রদ্ধাবানদের মধ্যে অন্যথাভাব সৃষ্টি করবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি ভিক্ষুদের জন্য এই শিক্ষাপদ নির্দেশ করছি।“

 

(১৬৭)⇒ “যদি কোন ভিক্ষু সজ্ঞানে মনুষ্যদেহ হতে মনুষ্যপ্রাণ বিচ্ছিন্ন করে বা নরহত্যা করে এবং যদি বিবিধ অস্ত্র-শস্ত্রাদি দ্বারা মারার উপায়াবলম্বন করে, তাহলে সেই ভিক্ষু ভিক্ষুজীবন হতে চ্যুত হবে এবং সঙ্ঘের সহিত একত্রে বসবাসের অযোগ্য হবে।“

 

(১৬৮)⇒ সে সময়ে অন্যতর উপাসক অসুস্থ ছিলেন। তার স্ত্রী দেখতে অভিরূপা, দর্শনীয়া ও মনহারিনী ছিল। ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ সেই স্ত্রীর প্রতি আসক্তি পরায়ণ হল। অতঃপর ষড়বর্গীয় ভিক্ষুরা এ’রূপ চিন্তা করে পরামর্শ করল যে- “আবুসোগণ! যদি সেই উপাসক জীবিত থাকে, তাহলে আমরা সেই স্ত্রীকে লাভ করতে পারবো না। আবুসোগণ! শুনুন, এখন আমরা সেই উপাসককে মৃত্যু বর্ণনা কিংবা মৃত্যুর জন্য প্রশংসা করব।“ এ’রূপ পরামর্শ করে সেই ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ যেখানে সেই উপাসক সেখানে উপস্থিত হয়ে উক্ত উপাসককে এ’রূপ বলতে লাগল- “হে উপাসক! আপনি কতই ধার্মিক, পুণ্যবান, শীলবান, নিষ্পাপ, পরম দয়ালু ও সৌভাগ্যবান যে, আপনার দ্বারা কল্যাণময় কার্যই করা হয়েছে, কখনো পাপময়, অকল্যাণময় কার্য করা হয় নাই। কিন্তু, হে উপাসক! কি প্রয়োজন রোগগ্রস্থ, ব্যাধিগ্রস্থ এই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার? তার চেয়ে এই দুঃখময় জীবনে বেঁচে না থেকে মৃত্যুই শ্রেয় বলে আমরা মনে করি। অধিকন্তু আপনি এখান হতে দেহ ত্যাগে মৃত্যুর পর সুগতি ভূমি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হবেন। সেখানে আপনি দিব্য পঞ্চকামগুনের দ্বারা পরিচালিত হবেন। দিব্য পঞ্চকামগুন লাভে সমর্থ হবেন, অধিকারী হবেন।“

 

(১৬৯)⇒ অনন্তর সেই উপাসক এরূপ চিন্তা করতে লাগলেন- “আর্যগণ সত্যই বলেছেন। আমি কতই ধার্মিক, শীলবান, পুণ্যবান, নিষ্পাপ পরম দয়ালু ও সৌভাগ্যবান যে, আমার দ্বারা শুধু পুণ্যময় কর্মই সম্পাদন করা হয়েছে; কখনো পাপময় কর্ম সম্পাদন করা হয় নাই। আমার কি প্রয়োজন রোগগ্রস্থ, ব্যাধিগ্রস্থ, তুচ্ছ এ’জীবনে বেঁচে থাকার? এই দুঃখময় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। আমি এখান হতে দেহ ত্যাগে মৃত্যুর পর সুগতি ভূমি স্বর্গলোকে জন্ম হব। সেখানে আমি দিব্য পঞ্চকামগুনের দ্বারা পরিচালিত হব, সমর্থিত ও অধিকারী হব।“ সেই উপাসক এ’রূপ চিন্তা করে অনিষ্টকর আহার ভোজন করলেন, অনিষ্টকর পানীয় পান করলেন। এতে করে উক্ত উপাসক সেই অনিষ্টকর আহার ভোজন করে, অনিষ্টকর খাদ্য গ্রহণ করে, অনিষ্টকর ভোগদ্রব্য উপভোগ করে, অনিষ্টকর পানীয় পান করতঃ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলেন। উক্ত উপাসকের মৃত্যু হওয়ায় তার স্ত্রী এ’বলে আন্দোলন, নিন্দা ও প্রকাশ্যে দুর্নাম করতে লাগলেন যে- “এই শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ লজ্জাহীন, দুঃশীল, মিথ্যাবাদী। আমরা এদেরকে ধর্মচারী, শান্তচারী, ব্রক্ষ্মচারী, সত্যবাদী, শীলবান, কল্যাণধর্মপরায়ণ বলে জানতাম। এখন দেখছি এদের শ্রামণ্যত্ব নাই, ব্রক্ষ্মচর্য নাই; এদের শ্রামণ্যত্ব নষ্ট, এদের ব্রক্ষ্মচর্য নষ্ট; কোথায় এদের শ্রামণ্যত্ব। কোথায় এদের ব্রক্ষ্মচর্য? নিপাত যাক এদের শ্রামণ্যত্ব, নিপাত যাক এদের ব্রক্ষ্মচর্য। এরাই আমার স্বামীকে মৃত্যু বর্ণনা করেছে, মৃত্যুর জন্য প্রশংসা করেছে; আমার স্বামীকে এরাই মেরেছে।“

তখন এ’বিষয়ে অন্যান্য জনগণ জানতে পেরে তারাও নিন্দা, আন্দোলন ও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলেন- “এই শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ লজ্জাহীন, দুঃশীল, মিথ্যাবাদী। আমরা তো এদেরকে ধর্মচারী, শান্তচারী, ব্রক্ষ্মচারী, সত্যবাদী, শীলবান, কল্যাণবাদী, ধর্মপরায়ণ বলে জানতাম। এখন দেখছি এদের শ্রামণ্যত্ব নাই, ব্রক্ষ্মচর্য নাই, এদের শ্রামণত্ব নষ্ট, এদের ব্রক্ষ্মচর্য নষ্ট; কোথায় এদের শ্রমণত্ব, কোথায় এদের ব্রক্ষ্মচর্য? নিপাত যাক এদের ব্রক্ষ্মচর্য। এরাই সেই উপাসককে মৃত্যু বর্ণনা করেছে, নিপাত যাক এদের শ্রামণ্যত্ব; এদের দ্বারাই সেই উপাসক মরেছে।“

ভিক্ষুগণ সেই জনগণের আন্দোলন, নিন্দা ও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ শুনলেন। যে সব ভিক্ষু অল্পেচ্ছুক, লজ্জাশীল, সন্তুষ্টি পরায়ণ, অনুসন্ধিৎসু ও শিক্ষাকামী, তাঁরাও এ’ব্যাপারে জানতে পেরে আন্দোলন, নিন্দা ও প্রকাশ্যে বদনাম করতে লাগলেন যে- ‘ইহা কেমন হীন আচরণ যে- ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ উপাসককে মরণ বর্ণনা করেছে কিংবা মরণের জন্য প্রশংসা করেছে?”

 

(১৭০)⇒ অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদেরকে বহু প্রকারে নিন্দা ও ভৎসনা করে ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলেন, ভগবান সকল ভিক্ষুকে একস্থানে সমবেত করায়ে সেই ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “সত্যই কি ভিক্ষুগণ! তোমরা সেই উপাসককে মৃত্যু বর্ণনা বা মৃত্যু প্রশংসা করেছ?”

“হ্যাঁ ভগবান, তা সত্য।“

তখন ভগবান বললেন- “তোমাদের পক্ষে ইহা নিতান্ত অন্যায়, অনুপযুক্ত, অননুরূপ, অশোভনীয়, অগ্রহণযোগ্য, অশ্রমণোচিত এবং অকরণীয় কার্য হয়েছে।“

“হে মোঘপুরুষগণ! কেন তোমরা সেই উপাসককে মৃত্যু বর্ণনা কিংবা মৃত্যু প্রশংসা করেছ? তোমাদের এই আচরণে শ্রদ্ধাহীনদের মধ্যে শ্রদ্ধা উৎপন্ন কিংবা শ্রদ্ধাবানদের মধ্যে বৃদ্ধি করতে পারে না। অধিকন্তু শ্রদ্ধাহীনদের মধ্যে অধিক অশ্রদ্ধা উৎপন্ন এবং কিছু কিছু শ্রদ্ধাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মনে অন্যথাভাব আনয়ন করবে।“

‘হে ভিক্ষুগণ! আমি তোমাদের জন্য এই শিক্ষাপদ নির্দেশ করছি-

 

(১৭১)⇒ “যো পন ভিক্ষু সঞ্চিচ্চ মনুস্পবিজ্ঞহং জীবিতা বোরোপেয্য সথহারকং বাম্প পরিযেসেয্য মরণবন্নং বা সংবন্নেয্য মরণায বা সমাদপেয্য- ‘অম্ভো পুরিস, কিং তুযহিমনা পাপকেন দুজ্জবিতেন মতং তে জীবিতা সেয্যো’তি ইতি চিত্তমনো চিত্তসঙ্কপ্পো অনেকপরিযাযেন মরণবন্নং বা সংবন্নেয্য মরণায বা সমাদপেয্য, অযম্পি পারাজিকো হোতি অসংবাসো’তি।“

অনুবাদঃ- “যদি কোন ভিক্ষু সজ্ঞানে মনুষ্যদেহ হতে মনুষ্যজীবন বিচ্ছিন্ন করে বা নর-নারীর মধ্যে যেও কোনটি হত্যা করে এবং অসি, পাথর, মুগুর, দড়ি ইত্যাদি অস্ত্র শস্ত্র দ্বারা মারার জন্য উপায়াবলম্বন করে, মৃত্যুর সুফল বর্ণনা বা মৃত্যুর জন্য প্রশংসা করে অথবা মারার জন্য এ’রূপ বলে যে- ‘হে পুরুষ! তোমার কি প্রয়োজন এই পাপময়, দুঃখময় জীবনে বেঁচে থাকার? বরং মৃত্যুই তোমার শ্রেয়’ এ’রূপে মনচিত্তে সঙ্কল্প করতঃ অনেক প্রকারে মৃত্যুফল বর্ণনা কিংবা মৃত্যুর জন্য প্রশংসা করে, যদি সেরূপ ফল বর্ণনায় বা প্রশংসায় সেই ব্যক্তি মরে; তাহলে উক্ত ভিক্ষু ভিক্ষুত্ব জীবন হতে চ্যুত হয় এবং ভিক্ষুসঙ্ঘের সহিত একত্রে বসবাসের অযোগ্য হয়।“

 

(১৭২)⇒ ‘যো পনাতি’ অর্থে যা যেরূপ, যথাযুক্ত, যেই জাতি, যেই নাম, যেই গোত্র, যেই শীল, যেরূপ বসবাসকারী, যথা গোচর, স্থবির, নবীন অথবা মধ্যম ইত্যাদি ভিক্ষুকে বুঝায়।

‘ভিক্ষুতি’ বলতে ভিক্ষান্নজীবী ভিক্ষু, ভিক্ষাচর্যে উপনীত ভিক্ষু, ছিন্নবস্ত্রধারী ভিক্ষু, সীমাসম্মতি প্রাপ্ত ভিক্ষু, প্রতিজ্ঞাদ্বারা ভিক্ষু এবং ‘এসো ভিক্ষু।‘ এরূপ আহ্বানের দ্বারা তথাগত কর্তৃক অনুমতি প্রাপ্ত ভিক্ষু, ত্রিশরণের আশ্রয় দ্বারা উপসম্পদা প্রাপ্ত ভিক্ষু, ভদ্র ভিক্ষু, সার ভিক্ষু, শৈল্য-অশৈল্য ভিক্ষু, সমগ্র সঙ্ঘ কর্তৃক নানা প্রশ্নোত্তরে নিঃসন্দেহ হওতঃ প্রত্যক্ষ উপস্থিতির মাধ্যমে ‘জ্ঞপ্তি চতুর্থ’ কর্মবাক্য পাঠ দ্বারা উপসম্পদা প্রদানের মাধ্যমে উপসম্পন্ন ভিক্ষু বুঝায়। এখানে সমগ্র সঙ্ঘ কর্তৃক উপরোল্লিখিত জ্ঞপ্তি চতুর্থ কর্মবাক্য দ্বারা উপসম্পদা প্রাপ্ত ভিক্ষুকে বুঝায়। এস্থলে এই অর্থেই ভিক্ষু অভিপ্রেত।

‘সঞ্চিচ্চাতি’ অর্থে জেনে-শুনে, জ্ঞাতসারে, স্বেচ্ছায় নীতি-নিয়ম ভঙ্গ করে পাপকর্ম সম্পাদন করা।

‘মনুসৃসবিজ্ঞহো’ বলতে যখন হতে মাতৃকুক্ষিতে প্রথম চিত্ত উৎপন্ন, প্রথম বিজ্ঞান উৎপন্ন হয় এবং যাবৎ মরণকাল পর্যন্ত মরণকে বুঝায়।

‘জীবিতা বোরোপেয্যাতি’ বলতে জীবন (প্রাণ) বা জীবনীশক্তি নাশ করা, বধ করা এবং কুল ধ্বংস করা অর্থে বুঝায়।

‘স্থহারকং বাসস পরিযেসেয্যাতি’ অর্থে অসি, বল্লম, তীর, মুগুর, পাথর, শেল, বিষ, রজ্জু ইত্যাদি অস্ত্র-শস্ত্রকে বুঝায়।

‘ মরণবন্ন বা সংবন্নেয্যাতি’ বলতে জীবিতাবস্থায় বিবিধ দুঃখ, দুর্দশা, দেহে উৎপন্ন রোগাদি দর্শন করতঃ মরণের বর্ণনা বা প্রশংসা করা।

‘মরণায বা সমাদপেয্যাতি’ অর্থে যে কোন অস্ত্র বা রজ্জু দ্বারা কিংবা বিষপান করায়ে হত্যা করা।

‘কিং তুযহিমিনা পাপকেন দুজ্জীবিতেনাতি’ বলতে পাপীর জীবনে যেমন দুঃখ আসে অনুরূপ ভাবে ঐশ্বর্যশালী, দরিদ্র পীড়িত, হীনতর, ধনশালী, ধনহীন, দেবতা এবং মনুষ্যদের জীবনেও দুঃখ আসে অর্থাৎ দুঃখময়, পাপময় জীবনে পতিত হতে হয়।

‘দুজ্জবিতং’ অর্থে হস্তচ্ছিন্ন, পাদছিন্ন, হস্তপাদছিন্ন, কর্ণছিন্ন, নাসাছিন্ন, কর্ণনাসাছিন্ন এরূপ পাপময়, দুঃখময় জীবনে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।

‘ইতি চিত্তমনোতি’ বলতে যে চিত্ত সে মন, সে মন সে চিত্ত।

‘চিত্তসংকস্পোতি’ অর্থে মরণধারণায়, মরণচেতনা, ম্যাণাভিপায়কে বুঝায়।

‘অনেকপরিযাসেনাতি’ অর্থ অনেক প্রকারে, বিবিধ উপায়ে।

‘মরণবন্ন বা সংবেন্নয্যাতি’ বলতে জীবিতাবস্থায় উপদ্রব দর্শন করায়ে আপনি এখান হতে কালগত হয়ে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হবেন। তথায় দিব্য পঞ্চকামগুণের দ্বারা সমর্থিত, প্রমিত ও পরিচালিত হবেন, এ’রূপে মৃত্যুর বর্ণনা বা প্রশংসা করা।

‘মরণায বা সমাদপেয্যাতি’ বলতে গভীর গর্তে বা গভীর নিম্নভূমিতে বা প্রপাতে ফেলে দিয়ে, অস্ত্র দ্বারা বা বিষ পান করায়ে বা দড়ি দ্বারা ফাঁসি দিয়ে হত্যা করাকে বুঝায়।

‘অযম্পীতি’ অর্থে পূর্বাকারে বর্ণিত বুঝায়।

‘পারাজিকো হোতীতি’ অর্থে দ্বিধা খন্ডিত প্রস্তরখন্ড পুনঃরায় জোড়া নেওয়া যেমন অসম্ভব; তদ্রুপ যদি কোন ভিক্ষু সজ্ঞানে মানুষ হত্যা করে তাহলে সে অশ্রমণ, অশাক্যপুত্র হয় এবং ভিক্ষুত্ব জীবন হতে চ্যুত হয়।

‘অসংবাসোতি’ অর্থে সংবাস বলতে একই বিনয়কর্ম, একই উদ্দেশ, সমশিক্ষা প্রাপ্তিকে বুঝায়। ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্ত ভিক্ষু প্রকৃতস্থ (অপারাজিকা ভিক্ষু) ভিক্ষুদের যে সকল ধর্ম-বিনয়কর্ম রয়েছে, সেগুলো প্রকৃতস্থ ভিক্ষুদের সহিত একত্রে করতে পারবে না বলে ‘অসংবাসো’ বলা হয়েছে।

(১৭৩)⇒ (১) স্বয়ং নিজে, (২) নিজে উপস্থিত থেকে, (৩) দূতের মাধ্যমে সংবাদ পাঠিয়ে, (৪) দূতপরম্পরা, (৫) সংকেত দ্বারা দূত পাঠিয়ে, (৬) দূত গিয়ে এবং পুনঃ ফিরে এসে, (৭) সম্মুখে অসম্মুখে ধারণায়, (৮) অসম্মুখে সম্মুখে ধারণায়, (৯) সম্মুখে সম্মুখে ধারণায়, (১০) অসম্মুখে অসম্মুখে ধারণায়, (১১) কায়ের দ্বারা বর্ণনা করে, (১২) বাক্যের দ্বারা বর্ণনা করে, (১৩) কায়-বাক্য দ্বারা বর্ণনা করে, (১৪) দূতের দ্বারা বর্ণনা করে, (১৫) লেখার মাধ্যমে বর্ণনা করে, (১৬) গর্তে ফেলে, (১৭) মঞ্চ, আসনাদির সাহায্যে, (১৮) গোপনে ফাঁদ স্থাপন করে, (১৯) ভৈষজ্য প্রয়োগে, (২০) রূপ প্রবঞ্চনা, (২১) শব্দ প্রবঞ্চনা, (২২) গন্ধ প্রবঞ্চনা, (২৩) রস প্রবঞ্চনা, (২৪) স্পষ্টব্য প্রবঞ্চনা, (২৫) ধর্ম প্রবঞ্চনা, (২৬) ব্যাখ্যা দ্বারা, (২৭) অনুশাসন, (২৮) সংকেত কর্ম এবং (২৯) নিমিত্তকর্ম।

 

(১৭৪)⇒ ‘সামন্তি বা স্বয়ং নিজে’ অর্থে স্বীয় কায় দ্বারা বা কায় সংলগ্ন কোন বস্তু কিংবা অস্ত্র-শস্ত্র ও প্রস্তরাদি দ্বারা হত্যা করা।

‘অধিষ্ঠা যাতি বা নিজে উপস্থিত থেকে’ অর্থে স্বয়ং নিকটে উপস্থিত থেকে, ‘এরূপে বিদ্ধ কর, এরূপে প্রহার কর’ নির্দেশ দেওয়াকে বুঝায়।

(১) ভিক্ষু ভিক্ষুকে- ‘এই নামীয় ব্যক্তিকে হত্যা কর’ বলে আদেশ দিলে ‘দুক্কট’। সে সেই আদেশে উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করলে, উভয়ের ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

(২) ভিক্ষু ভিক্ষুকে- ‘অমুক নামীয় ব্যক্তিকে হত্যা কর’ এরূপ নির্দেশ করলে ‘দুক্কট’। সে সেই নির্দেশে অন্য একজনকে হত্যা করলে, নির্দেশদানকারীর অনাপত্তি কিন্তু হত্যাকারীর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(৩) ভিক্ষু ভিক্ষুকে- ‘এই নামীয় ব্যক্তিকে হত্যা কর’ বলে নির্দেশ দিলে ‘দুক্কট’। আদিষ্ট ভিক্ষু অন্যধারণায় সেই ব্যক্তিকে হত্যা করলে, উভয়ের ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(৪) ভিক্ষু ভিক্ষুকে- ‘অমুককে হত্যা কর’ বলে নির্দেশ দিলে নির্দেশকারীর ‘দুক্কট’। আদিষ্ট ভিক্ষু অন্য ধারণায় অন্য একজনকে হত্যা করলে, নির্দেশদানকারীর অনাপত্তি কিন্তু হত্যাকারীর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(৫) যদি ভিক্ষু ভিক্ষুকে এরূপ আদেশ দিয়ে বলে যে- ‘অমুক নামীয় ভিক্ষু অমুক ভিক্ষুকে এরূপ বলুক যে, অমুককে এই উপায়ে হত্যা করুক’ এরূপ নির্দেশ দিলে, নির্দেশদানকারীর ‘দুক্কট’ অপরাধ। আদিষ্ট ভিক্ষু অন্যকে সেই বিষয়ে প্রকাশ করলে, নির্দেশদানকারীর ‘দুক্কট’। হত্যাকারী সেই খবর গ্রহণ করলে, নির্দেশদানকারীর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি। হত্যাকারী উক্ত ব্যক্তিকে (নির্দেশিত ব্যক্তিকে) হত্যা করলে, সকলের ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(৬) যদি ভিক্ষু ভিক্ষুকে এরূপ আদেশ দিয়ে বলে যে- ‘অমুক ভিক্ষু অমুক ভিক্ষুকে এরূপ বলুক যে, অমুককে এরূপে হত্যা করুক’ এবলে নির্দেশ দিলে, নির্দেশদানকারীর ‘দুক্কট’। আদিষ্ট ভিক্ষু অপরকে এ’বিষয়ে আদেশ করলে, আদেশদানকারী ভিক্ষুর ‘দুক্কট’। যদি হত্যাকারী সেই আদেশ গ্রহণ করে, তাহলে নির্দেশদানকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি। আর যদি হত্যাকারী নির্দেশিত ব্যক্তিকে বধ করে, তাহলে আদেশদানকারীর অনাপত্তি কিন্তু ঘোষকের ও বধকারী উভয়ের ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(৭) যদি ভিক্ষু ভিক্ষুকে এরূপ নির্দেশ দিয়ে বলে যে- ‘অমুককে এই উপায়ে বধ কর’ এভাবে নির্দেশ দিলে, নির্দেশদানকারী ভিক্ষুর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। আদিষ্ট ভিক্ষু হত্যা করতে গিয়ে পুনঃরায় ফিরে এসে বলে ‘সেই ব্যক্তিকে হত্যা করতে আমি সক্ষম নই।‘ যদি নির্দেশদানকারী পুনঃরায় নির্দেশ দেয় যে- ‘যখন সক্ষম হবে, তখন হত্যা করবে’ এরূপে নির্দেশ দিলেও নির্দেশদানকারীর ‘দুক্কট’ অপরাধ হয়। আর যদি আদিষ্ট ভিক্ষু কায়ের দ্বারা বর্ণনা করে নির্দেশিত ব্যক্তিকে হত্যা করে, তাহলে উভয়ের ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

(৮) যদি ভিক্ষু ভিক্ষুকে এরূপ নির্দেশ দেয় যে- ‘অমুককে হত্যা কর’ তাহলে নির্দেশদানকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। নির্দেশদানকারী নির্দেশ দেওয়ার পর অনুশোচনা উৎপন্ন হওতঃ বলে যে- ‘হত্যা কর না’। যদি আদিষ্ট ভিক্ষু নির্দেশদানকারীর নির্দেশ না শুনে উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করে, তাহলে উভয়ের ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(৯) যদি ভিক্ষু ভিক্ষুকে এরূপ নির্দেশ দিয়ে বলে যে- ‘এই নামীয় ব্যক্তিকে হত্যা কর’ তাহলে আদেশদানকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। আদেশ দেয়ার পর যদি আদেশদানকারীর মনে অনুশোচনা উৎপন্ন হওতঃ বলে যে- ‘হত্যা কর না’। আদিষ্ট ভিক্ষু তা শুনে ‘আমি আপনার দ্বারা আদিষ্ট হয়েছি’ এবলে নির্দেশিত ব্যক্তিকে হত্যা করলে, আদেশদানকারীর অনাপত্তি কিন্তু হত্যাকারীর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

(১০) যদি ভিক্ষু ভিক্ষুকে এরূপ আদেশ দিয়ে বলে যে- ‘অমুককে হত্যা কর’ তাহলে আদেশদানকারী ভিক্ষুর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। আদেশদানকারী আদেশ দেয়ার পর অনুশোচনা উৎপন্ন হওতঃ আদিষ্ট ভিক্ষুকে বলে যে- ‘হত্যা কর না’। আদিষ্ট ভিক্ষু ইহা শুনে বলে যে- ‘ঠিক আছে ভান্তে! হত্যা করব না’। তাহলে উভয় ভিক্ষুর অনাপত্তি।

 

(১৭৫)⇒ সম্মুখে অসম্মুখে ধারণায়- ‘বেশ বেশ! অমুকের মৃত্যু হয়েছে’ এরূপে প্রশংসা করলে, প্রশংসাকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। অস্মমুখের সম্মুখে ধারণায়- ‘বেশ বেশ! অমুকের মৃত্যু হয়েছে’ এরূপে প্রশংসা করলে, প্রশংসাকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সম্মুখে সম্মুখে ধারণায়- ‘বেশ বেশ! অমুকের মৃত্যু হয়েছে’ এরূপ প্রশংসা করলে, প্রশংসাকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। অসম্মুখে অসম্মুখে ধারণায়- ‘বেশ বেশ! অমুকের মৃত্যু হয়েছে’ এরূপ প্রশংসা করলে, প্রশংসাকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।

‘কাযেন সংবেদন্নতি বা কায়ের দ্বারা বর্ণনা করে’ বলতে- “যে এরূপে মরবে, সে ধন-যশ লাভ করবে কিংবা স্বর্গে যেতে পারবে” কায়ের দ্বারা এরূপ ভাবান্তর করলে, ভাবান্তরকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। তার সেরূপ বর্ণনায় উক্ত ব্যক্তি বলে যে- ‘আমি মরব’। যদি এরূপ দু”খাদি বেদনা উৎপন্ন করে, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই বর্ণনায় মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

‘বাচায সংবেদন্নতি বা বাক্যের দ্বারা বর্ণনা করে’ বলতে- ‘যে এরূপে মরবে, সে ধন-যশ লাভ করবে কিংবা স্বর্গে যেতে পারবে’ এরূপে বাক্যের দ্বারা বর্ণনা করলে, বর্ণনাকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। তার সেরূপ বর্ণনায় উক্ত ব্যক্তি বলে যে- ‘আমি মরব’। যদি এরূপ দুঃখাদি বেদনা উৎপন্ন করে, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ অপরাধ হয়। সেই বর্ণনায় মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘কাযেন বাচায সংবেদন্নতি বা কায়-বাক্যের দ্বারা বর্ণনা করে’ বলতে- ‘যে এরূপে মরবে, সে ধন-যশ লাভ করবে কিংবা স্বর্গে যেতে পারবে’ এরূপ কায়-বাক্যের দ্বারা বর্ণনা করলে, বর্ণনাকারীর ‘দুক্কট’। তার সেরূপ বর্ণনায় উক্ত ব্যক্তি বলে যে- ‘আমি মরব’। যদি এরূপ দুঃখাদি  বেদনা উৎপন্ন করে, তাহলে বর্ণনাকারীর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি। আর সেই বর্ণনায় মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

‘দূতেন সংবেদনন্নতি বা দূতের দ্বারা বর্ণনা করে’ বলতে- ‘যে এ’উপায়ে মরবে, সে ধন-যশ লাভ করবে কিংবা স্বর্গে উৎপন্ন হতে পারবে’ এরূপে দূতের মাধ্যমে সংবাদ প্রেরণ করলে, প্রেরণকারীর ‘দুক্কট’। তার সেরূপ সংবাদ শুনে উক্ত ব্যক্তি বলে যে- ‘আমি মরব’। যদি এরূপ বেদনা দুঃখাদি উৎপন্ন করে, তাহলে সংবাদ প্রেরণকারীর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই বর্ণনায় মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

 

(১৭৬)⇒ লেখায সংবেন্নতি বা লেখার মাধ্যমে বর্ণনা করে’ বলতে ‘যে এরূপে মরবে, সে ধন-যশ বা স্বর্গ লাভ করবে’ এরূপ লিখিত সংবাদ প্রেরণ করলে, প্রেরণকারীর অক্ষরে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। লেখা দেখে- ‘আমি মরব’ এরূপ দুঃখাদি বেদনা সৃষ্টি করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই লেখানুযায়ী মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

‘ ওপাতং বা গর্তে ফেলে’ অর্থে- ‘এই গর্তে পড়ে মরুক’ এরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষ্কে মারার জন্য গর্তাদি খনন করলে, খননকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। খনিত গর্তে পড়ে দুঃখাদি পেলে ‘থুল্লচ্চয়’। আর সেই খনিত গর্তে ‘যে কেউ পড়ে মরুক’ এরূপ অনুদ্দেশ্যে গর্তাদি খনন করলে, খননকারীর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই খনিত গর্তে মানুষ পড়লেও ‘দুক্কট’। মানুষ পড়ে দুঃখাদি পেলে ‘থুল্লচ্চয় আপত্তি হয়। আর মরলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। যক্ষ, ভূত-প্রেত বা তির্যকজাতীয় প্রাণী সেই খনিত গর্তে পতিত হলে ‘দুক্কট’। গর্তে পতিত হয়ে দুঃখ সৃষ্টি হলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। পড়ে মরলে ‘থুল্লচ্চয়’। তির্যকজাতীয় প্রাণী পশু পক্ষী খনিত গর্তে পতিত হলে ‘দুক্কট’। পড়ে গিয়ে দুঃখাদি বেদনা পেলে ‘দুক্কট’ এবং সেই গর্তে পড়ে মরলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়।

 

(১৭৭)⇒ ‘অপসসেনং বা মঞ্চ, আসনাদি সাহায্যে’ অর্থ মঞ্চে, আসনে, বালিশে বা দিনে বিশ্রামের স্থানে কিংবা বর্ণিত স্থানে উৎপন্ন বৃক্ষাদি লতাতে অথবা চংক্রমন স্থানে অস্ত্র-শস্ত্রাদি স্থাপন করে বা বিষ জাতীয় পদার্থ মেখে দিয়ে কিংবা অন্যকোন উপায়ে দুর্বল করে অথবা ‘এই গর্তে পড়ে মরুক’ এরূপ সঙ্কল্প করে গর্তাদি খনন করতঃ অস্ত্রাদি বিষ ফেলে রাখলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। অস্ত্র বা বিষদ্বারা অথবা গর্তাদিতে ফেলে দিয়ে দুঃখ উৎপন্ন করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি। আর বর্ণিত উপায়ে মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

‘উপনিক্ষিপনং বা ফাঁদ স্থাপন করে’ অর্থে ইহার দ্বারা মরবে’ এরূপ সঙ্কল্প করে অসি। বল্লম, তীর, মুগুর, পাষাণ, শেল, বিষজাতীয় পদার্থ বা রজ্জু ইত্যাদি অস্ত্র-শস্ত্রাদি দ্বারা গোপনে ফাঁদ স্থাপন করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ‘বর্ণিত অস্ত্র-শস্ত্রাদি দ্বারা মারব’ এরূপ সঙ্কল্প করতঃ দুঃখাদি বেদনা উৎপন্ন করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই বর্ণিত অস্ত্র-শস্ত্রাদি দ্বারা মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘ভেসজ্জং বা ভৈষজ্য প্রয়োগে’ অর্থে ‘ইহা খাবায়ে মারব’ এরূপ সঙ্কল্প করে ঘৃত, মাখন, তেল, মধু ও গুড়াদিতে বিষ মিশালে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। বর্ণিত ভৈষজ্যাদি গুলো খাবায়ে দুঃখ সৃষ্টি করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই খাদ্য দ্রব্যাদি খেয়ে মরলে ‘পারাজিকা’ আপত্তি।

 

(১৭৮)⇒ ‘রুপুপহারো বা রুপ প্রবঞ্চনা’ বলতে ‘এরূপ মূর্তি দেখে ভয় পেয়ে মরবে’ এরূপে মারার জন্য ভয়ানক ভীতিজনক ও বিরূপ মূর্তি স্থাপন করার সঙ্কল্প করলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ঐ মূর্তি দেখে ভয় পেলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর উক্ত মূর্তি দেখে মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। ‘ইহা দেখে অপ্রাপ্তিতে অস্থি- কঙ্কাল হয়ে মরবে’ এরূপে মারার জন্য মনোজ্ঞ, চিত্তাকর্ষী মূর্তি স্থাপন করলেও ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। উক্ত রূপে মূর্তি আদি দ্বারা অপ্রাপ্তি জনিত দুঃখ সৃষ্টি করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই উপায়ে মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘সন্দুপহারো বা শব্দ প্রবঞ্চনা’ বলতে ‘এরূপে শব্দ শুনে ভয় পেয়ে মরবে’ এই উপায়ে মারার জন্য ভয়ানক ভীতিপূর্ণ ও ত্রাশজনিত শব্দ প্রয়োগ করার সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ঐরূপ শব্দ শুনে ভয় পেলে ‘থুল্লচ্চয়’ আর মরলে ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। ‘এরূপ শব্দ শুনে অপ্রাপ্তিতে অস্তি-কংকাল হয়ে মরবে’ এরূপে মারার জন্য মনোজ্ঞ, কর্ণসুখকর ও হৃদয়গ্রাহী শব্দ দ্বারা আকর্ষণ করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ঐরূপে দুঃখ সৃষ্টি করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি। আর ঐরূপে অপ্রাপ্তিতে মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘গন্ধুপহারো বা গন্ধ প্রবঞ্চনা’ অর্থে এরূপ দুর্গন্ধ পেয়ে ঘৃণায় ও বিরক্তিতে মরবে’ এই উপায়ে মারার জন্য অমনোজ্ঞ, ঘৃণিত ও বিরক্তিকর দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্য সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ঐরূপ দুর্গন্ধ প্রয়োগ দ্বারা দুঃখাদি বেদনা উৎপন্ন করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। ঐরূপে মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। ‘এরূপ সুগন্ধ পেয়ে তা অপ্রাপ্তিতে বিবর্ণ, কৃশ হয়ে মরবে’ এরূপে মারার জন্য মনোজ্ঞ সুগন্ধ ছড়ানোর সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’। সেরূপ সুগন্ধ প্রয়োগ দ্বারা বিবর্ণ ও কৃশ হয়ে দুঃখ পেলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর অপ্রাপ্তিতে মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

‘রসুপহারো বা রস প্রবঞ্চনা’ বলতে ‘এরূপ অপ্রীতিকর রসের কারণে ঘৃণায় ও বিরক্তিতে মরবে’ এই উপায়ে মারার জন্য অমনোজ্ঞ, ঘৃণিত ও বিরক্তিকর রস প্রয়োগ করার সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই অমনোজ্ঞ, ঘৃণিত ও বিরক্তিকর রস প্রয়োগ দ্বারা দুঃখাদি বেদনা সৃষ্টি করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই প্রয়োগে মরলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। ‘এরূপ রসাস্বাদ গ্রহণ করতঃ তা অপ্রাপ্তিতে জীর্ণ, কৃশ হয়ে মরবে’ এরূপে মারার জন্য মনোজ্ঞ রস প্রয়োগ করার সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ঐরূপ রসাস্বাদ অপ্রাপ্তিতে বিবর্ণ, কৃশ হলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর অপ্রাপ্তিতে ম্রলে্‌ ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘ফোটঠব্বুপহারো ব স্পষ্টব্য প্রবঞ্চনা’ বলতে ‘এরূপ স্পর্শ দ্বারা মরবে’ এভাবে মারার জন্য অমনোজ্ঞ, দুঃখজনক ও তীক্ষ্ম সংস্পর্শ প্রয়োগ করার জন্য সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। উক্তরূপ স্পর্শ প্রয়োগ দ্বারা দুঃখাদি বেদনা উৎপন্ন করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। ঐরূপ স্পর্শ প্রয়োগ দ্বারা মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। ‘এরূপ স্পর্শ অপ্রাপ্তিতে বিবর্ণ, কৃশ হয়ে মরবে’ এভাবে মারার জন্য মনোজ্ঞ, সুখকর, মৃদু সংস্পর্শ প্রয়োগ করার সংকল্প করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। ঐরূপ সংস্পর্শ প্রয়োগ দ্বারা দুঃখাদি বেদনা উৎপন্ন করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। ঐরূপ সংস্পর্শ প্রয়োগ দ্বারা দুঃখাদি বেদনা উৎপন্ন করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। ঐরূপ সংস্পর্শ প্রয়োগ দ্বারা মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘ধম্মুপহারো বা ধর্ম প্রবঞ্চনা’ অর্থে এরূপ কথা শুনে ভয় পেয়ে মরবে’ ইহা সংকল্প করতঃ নারকীয়দের নরক বর্ণনা করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি। সেরূপ কথা শুনে ভয় পেলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর উক্তরূপ কথা শুনে মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। ‘এরূপ কথা শুনে ব্যগ্রচিত্ত হয়ে মরবে’ ইহা সংকল্প করতঃ স্বর্গবাসীর স্বর্গ কথা বললে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেরূপ কথা শুনে ব্যগ্রচিত্ত হওতঃ ‘আমি মরব’ এরূপ সংকল্পবদ্ধ হয়ে দুঃখ পেলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি। আর ঐরূপ বর্ণনায় মরলে ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

 

(১৭৯)⇒ ‘আচিক্ষনা বা ব্যাখ্যা দ্বারা’ বলতে ‘এই উপায়ে মর’। যে এরূপে মরে সে ধন-যশ লাভ করে এবং মৃত্যুর পর স্বর্গে উৎপন্ন হয়। এরূপ ব্যাখ্যা করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেরূপ বর্ণনায় ‘আমি মরব’ এরূপ সংকল্পবদ্ধ হয়ে দুঃখাদি যন্ত্রনা পেলে, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর সেই বর্ণনায় মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘অনুসাসনী বা অনুশাসন’ বলতে ‘এই উপায়ে মর’। যে এরূপে মরে সে ধন-যশ লাভ করে এবং মৃত্যুর পর স্বর্গে উৎপন্ন হয়। এরূপ অনুশাসন করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেরূপ অনুশাসনে ‘আমি মরব’ এরূপ সংকল্প বদ্ধ হয়ে দুঃখাদি যন্ত্রনা পেলে ‘থুল্লচ্চয়‘ আপত্তি হয়। আর সেরূপ অনুশাসন দ্বারা মরলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘সঙ্কেতকস্মং’ বলতে ‘সকালে বা সন্ধ্যায় বা রাত্রিতে কিংবা দিনে এই চারি সময়ের মধ্যে যখনই পার তখনই হত্যা করবে’ এরূপ সঙ্কেত করলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। আর সেই সঙ্কেতানুযায়ী হত্যা করলে, আদেশদানকারীর অনাপত্তি কিন্তু হত্যাকারী ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়।

‘নিমিত্তকস্মং’ বলতে চক্ষু-আদি শিরদ্বারা ইশারা করতঃ হত্যা করার জন্য নির্দেশ দিলে, ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। আর সেই ইশারায় হত্যা করলে, উভয়ের ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। যদি ইশারা করার পূর্বে বা পরে হত্যা করে, তাহলে নির্দেশদানকারীর অনাপত্তি কিন্তু হত্যাকারীর ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়।

অনাপত্তিঃ- অজ্ঞানাবস্থায় হত্যা করলে, মনুষ্যজাতি না জেনে হত্যা করলে, মারার চিত্ত না থাকলে, উন্মাদাবস্থায় হত্যা করলে এবং আদিককর্মিক হলে।

[‘মনুষ্য-হত্যা’ প্রথম পরিচ্ছেদ সমাপ্ত]

 

বিনীত বথু-উদান গাথা

সংবর্ণনায়, উপবেশনে, মুযল আর উদুখলে,

বৃদ্ধ প্রব্রজ্যিত, নিঃসারিত, পূর্বে পরীক্ষামূলক বিষে।

তিন বাস্তুকর্মে, অতঃপর তিন ইষ্টকে,

বাটালী, বীম, উন্নত মঞ্চ, অবতরণ, পতনে।

সিদ্ধ, নাকের চিকিৎসা, ঘর্ষণে, স্নানে, তেলে,

গাত্রোত্থান, শয়ন, অন্ন-পানীয় হেতু মৃত্যুতে।

জারগর্ভ, সপত্নী, মাতা ও পুত্র, উভয়ের প্রাণ হননে,

মৃত্যু বা মর্দন কোনোটি নয়, দগ্ধকারী, বন্ধ্যা, বন্ধ্যাহীনে।

কনুয়ের মৃদু গুঁতা, নিগ্রহ, যক্ষ, অপর হিংস্র যক্ষ প্রেরণে,

সেরূপ মনে করে নিক্ষেপিল, স্বর্গ আর নিরয়ের বর্ণনে।

তিন বৃক্ষ আলবীতে, অপর তিন অগ্নিতে,

না থাকে দুঃখ তোমাদের, দধি আর অম্ল কাঞ্জি পানে।

 

বিনীত বথু

(১৮০)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষুর দুরারোগ্য ব্যাধি উৎপন্ন হল। তখন অন্য ভিক্ষুরা সেই ভিক্ষুর প্রতি করুণাবশতঃ মৃত্যুবর্ণনা ও প্রশংসা করলে, সেই ভিক্ষু দেহ ত্যাগ করলেন। এহেতু সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপ্ত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছি?” এবিষয়ে ভগবানকে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছ।“

(২) সে সময়ে অন্যতর পিন্ডচারিক ভিক্ষু আসনে বসার সময় পুরোনো বস্ত্র দ্বারা আবৃত বালককে না জেনে হত্যা করল। ইহাতে তার মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয় নিবেদন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! না জেনে হত্যা করা হেতু তোমার অনাপত্তি।“

“হে ভিক্ষুগণ! অবলোকন  না করে আসনে উপবেশন করতে পারবে না; যে উপবেশন করবে, তার ‘দুক্কট’ আপত্তি হবে।

(৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু ভোজনালয়ে আসন প্রস্তুত করার সময় উত্তোলনকৃত পেষণ দন্ড হতে একটি  পেষণদন্ড সরাতে গিয়ে অন্যতর বালকের মস্তকে পড়ে আঘাত হল। ইহাতে বালক কালগত হলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে ইহা জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি চিত্ত নিয়ে তা করেছ?” “ভান্তে আমি তা না জেনে করেছি।“ “তাহলে, না জানা হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু ভোজনালয়ে আসন প্রস্তুত করার সময় উক্ত ভিক্ষুর অজ্ঞাতসারে ঢেঁকির পেষণকৃত দ্রব্য আক্রমণাত্মক ভাবে ছুটে এসে অন্যতর বালককে আঘাত করল। ইহাতে সেই বালক কালগত হল। তখন সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে ইহা জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি চিত্ত নিয়ে তা করেছ?” “ভান্তে আমি তা না জেনে করেছি।“ “তাহলে, না জানা হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে পিতা-পুত্র মিলে ভিক্ষুদের মধ্যে প্রব্রজ্যিত হলেন। সময় জ্ঞাপনার্থে পুত্র পিতাকে এরূপ বললেন- “ভান্তে! আপনি গমন করুন; সঙ্ঘ আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন” এবলে পিষ্ঠে ধরে বের করে দিল। ইহাতে সেই পিতা ভিক্ষু পড়ে গিয়ে কালগত হলেন। তখন সেই পুত্র ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে ইহা জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে সেই রক্ম করেছ?” “ভান্তে! আমি হত্যার অভিপ্রায়ে সেই রকম করিনি।“ “তাহলে ভিক্ষু হওয়ার অভিপ্রায় না থাকলে, তোমার অনাপত্তি।“

(৬) সে সময়ে পিতা-পুত্র একত্রে ভিক্ষুকের মধ্যে প্রব্রজ্যিত হলেন। সময় জ্ঞাপনার্থে পুত্র পিতাকে এরূপ বলল- “ভান্তে! আপনি গমন করুন; সঙ্ঘ আপনার জন্য অপেক্ষমান।“ এবলে পিতা ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে পুত্র ভিক্ষু পিষ্ঠে ধরে বের করে দিল। ইহাতে পিতা ভিক্ষু পড়ে গিয়ে কালগত হলেন। তখন সেই পুত্র ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে নিবেদন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছ।“

(৭) সে সময়ে পিতা পুত্র মিলে ভিক্ষুকের মধ্যে প্রব্রজ্যিত হলেন। সময় জ্ঞাপনার্থে পুত্র পিতাকে এরূপ বলল, “ভান্তে! আপনি গমন করুন; সঙ্ঘ আপনার জন্য অপেক্ষমান।“ এবলে পিতা ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে পুত্র ভিক্ষু পিষ্ঠে ধরে বের করে দিল। কিন্তু পিতা ভিক্ষুর মৃত্যু হল না। তখন পুত্র ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান বললেন- ‘হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮১)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষুর ভোজনকালে মাংস কন্ঠে আবদ্ধ হল। অন্যতর ভিক্ষু সেই ভিক্ষুর গ্রীবায় প্রহার করলে, মাংসসহ রক্ত বমি করলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলেন। তখন এভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে ইহা জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে প্রহার করেছ?” “ভান্তে! আমি হত্যা করার অভিপ্রায়ে আঘাত করিনি।“ “তাহলে ভিক্ষু! হত্যার অভিপ্রায় না থাকলে, তোমার অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষুর ভোজন করার সময়ে গলায় মাংস আবদ্ধ হল। অন্যতর ভিক্ষু হত্যার অভিপ্রায়ে সেই ভিক্ষুর গ্রীবায় আঘাত করলে, সেই ভিক্ষু মাংসসহ রক্ত বমি করলেন। এতে সেই ভিক্ষু কালগত হলেন। এহেতু ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষুর ভোজন সময়ে মাংস কন্ঠে আটকে গেল। তখন জনৈক ভিক্ষু হত্যার অভিপ্রায়ে সেই ভিক্ষুর কন্ঠে প্রহার করলে, সেই ভিক্ষু মাংসসহ রক্ত বমি করলেন। কিন্তু সেই ভিক্ষু কোন রকমে বেঁচে গেলে, ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৪) সে সময়ে জনৈক পিন্ডচারিক ভিক্ষু বিষ মিশ্রিত পিন্ডান্ন লাভ করে প্রত্যাবর্তন করতঃ ভিক্ষুদেরকে অগ্রে প্রদান করলেন। সেই ভিক্ষুগণ বিষযুক্ত পিন্ডান্ন ভোজন করে কালগত হলেন। তখন সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে ঐরূপ করেছ?” “ভগবান আমি তা অজ্ঞাতে করেছি।“ “তাহলে ভিক্ষু অজ্ঞাত হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু পরীক্ষা করার অভিপ্রায়ে জনৈক ভিক্ষুকে বিষ প্রয়োগ করলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলেন। তখন বিষ প্রয়োগকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্তে তা করেছ?” “ভগবান আমি তা পরীক্ষা করার অভিপ্রায়ে করছি।“ “তাহলে হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮২)⇒ (১) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার নির্মাণ করছিলেন। তখন অন্যতর ভিক্ষু নিচ দিক হতে ঊর্ধ্বদিকে প্রস্তরখন্ড উঠাচ্ছিলেন। উপরের ভিক্ষু প্রস্তরখন্ড গ্রহণে অসমর্থ হলে, নিচের ভিক্ষুর মস্তকে ফেললেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হল। তখন ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে জ্ঞাত করালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি ইহা জ্ঞাতসারে করেছ, না অজ্ঞাতসারে করেছ?” “ভগবান তা অজ্ঞাতসারে করেছি।“ “তাহলে হে ভিক্ষু! ইহা তোমার অজ্ঞাত হেতু অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার নির্মাণ করছিলেন। তখন জনৈক ভিক্ষু নিম্নদিক হতে উপরে প্রস্তরখন্ড উঠাচ্ছিলেন। উপরের ভিক্ষু হত্যার অভিপ্রায়ে নিচের ভিক্ষুর মস্তকে প্রস্তরখন্ড নিক্ষেপ করলে, সেই ভিক্ষু কালগত হলেন। এহেতু ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মাধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তুমি ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার নির্মাণ করছিলেন। তখন অন্যতর ভিক্ষু নিচ হতে উপরে শিলা উঠাচ্ছিলেন। উপরের ভিক্ষু হত্যার অভিপ্রায়ে নিচের ভিক্ষুর মস্তকোপরি শিলা নিক্ষেপ করল। তখন সেই ভিক্ষু কালগত না হয়ে কোন রকমে বেঁচে গেলে, শিলা নিক্ষেপকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ কালগত না হয়ে কোন রকমে বেঁচে গেলে, শিলা নিক্ষেপকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মাধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে নিবেদন করলে, ভগবান উক্ত ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ অপরাধ নহে।“

(৪) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার নির্মাণের জন্য ইষ্টক সংগ্রহ করছিলেন। ঐ সময়ে অন্যতর ভিক্ষু নিচ হতে ইট উপরে উত্তোলন করার সময়ে উপরের ভিক্ষু কর্তৃক ইট গ্রহণে অক্ষমতা হেতু নিচের ভিক্ষুর মস্তকে ফেলবেন। এতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান উক্ত ভিক্ষুকে জিজ্ঞেস করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি ইহা সক্ষমতা কিংবা অক্ষমতা হেতু করেছ?” “ভগবান! আমি ইহা অক্ষমতা হেতু করছি।“ “তাহলে তোমার অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার নির্মাণের জন্য ইট সংগ্রহ করছিলেন। ঐ সময়ে জনৈক ভিক্ষু নিচ হতে ইট উপরে তুলছিলেন। উপরের ভিক্ষু হত্যার উদ্দেশ্যে নিচের ভিক্ষুর মস্তকোপরি ইট নিক্ষেপ করল। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, ইট নিক্ষেপকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান উক্ত ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৬) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার নির্মাণের জন্য ইট সংগ্রহ করছিলেন। ঐ সময়ে অন্যতর ভিক্ষু নিচ হতে উপরে ইট উঠাচ্ছিলেন। উপরের ভিক্ষু নিচের ভিক্ষুকে হত্যার ইচ্ছায় মস্তকোপরি ইট নিক্ষেপ করল। তখন সেই ভিক্ষুর মৃত্যু না হয়ে কোন রকমে প্রাণরক্ষা হলে, নিক্ষেপকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান উক্ত ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮৩)⇒ (১) মসে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহারের নবকর্ম করছিলেন। ঐ সময়ে অন্যতর ভিক্ষু নিভ বাটালি উপরে তুলছিলেন। উপরের ভিক্ষু বাটালি গ্রহণ করতে অসমর্থ হওয়ায় নিচের ভিক্ষুর মস্তকে বাটালি ফেললেন। এতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞেস করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি ইহা জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে করেছ?” “ভগবান আমি অজ্ঞাতসারে করেছি।“ “তাহলে হে ভিক্ষু! অজ্ঞাত হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করছিলেন। তখন অন্যতর ভিক্ষু নিচ হতে বাটালি উপর দিকে উঠাচ্ছিলেন। ঐ সময়ে উপরের ভিক্ষু নিচের ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে নিচের ভিক্ষুর মস্তকোপরি বাটালি নিক্ষেপ করল। ইহাতে নিচের ভিক্ষু কালগত হলে, উপরের ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবান এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করছিলেন। তখন অন্যতর ভিক্ষু নিচ হতে উপর দিকে বাটালি উঠাচ্ছিলেন। উপরের ভিক্ষু নিচের ভিক্ষুকে হত্যা করার ইচ্ছায় নিচের ভিক্ষুর মস্তকোপরি বাটালি নিক্ষেপ করল। কিন্তু নিচের ভিক্ষু কালগত না হয়ে কোন প্রকারে বেঁচে গেলে, উপরের ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৪) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করছিলেন। ঐ সময়ে অন্যতর ভিক্ষু নিচস্থান হতে উপরের দিকে বিম তুলছিলেন। তখন উপরের ভিক্ষু সেই বিম গ্রহণে অসমর্থ হওয়ার কারণে নিচস্থানের ভিক্ষুর শিরোপরি ফেললেন। এতে সেই ভিক্ষু মৃত্যুবরণ করলে, ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি ইহা জেনে করেছ নাকি না জেনে করেছ?” “ভগবান আমি তা না জেনে করেছি।“ “তাহলে হে ভিক্ষু! অজ্ঞাত হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করছিলেন। তখন জনৈক ভিক্ষু নিচস্থান হতে উপরে বাম উঠাচ্ছিলেন। ঐ সময়ে উপরের ভিক্ষু নিচের ভিক্ষুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেই বিম নিচের ভিক্ষুর মস্তকোপরি নিক্ষেপ করল। এহেতু সেই ভিক্ষু কালগত হলে বিম নিক্ষেপকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছ।“

(৬) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করছিলেন। ঐ সময়ে অন্যতর ভিক্ষু নিম্ন স্থান হতে ঊর্ধ্বদিকে বিম উঠাচ্ছিলেন। তখন উপরের ভিক্ষু নিচের ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে শিরোপ্রায়ে শিরোপরি বিম নিক্ষেপ করল। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত না হয়ে কোন প্রকারে প্রাণে রক্ষা পেলে, বিম নিক্ষেপকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! ঐ ভিক্ষুর মৃত্যু না হওয়ায় তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; না হয় ‘পারাজিকা’ আপত্তি হত।“

(৭) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার করার সময় মাচান (উন্নত মঞ্চ) বাঁধলেন। ঐ সময়ে একজন ভিক্ষু অন্যজন ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! এস্থানে বাঁধেন।“ তখন সেই ভিক্ষু নির্দেশিত স্থানে বন্ধন করার সময় নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলেন। ইহাতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি হত্যা করার অভিপ্রায়ে করেছ?” “না ভগবান” “তাহলে তোমার অনাপত্তি।“

(৮) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করার সময় মাচান বাঁধছিলেন। ঐ সময় অন্যতর একজন ভিক্ষু অন্য একজন ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে এরূপ বলল- “আবুসো! আপনি এই স্থানে বাঁধেন।“ তখন সেই ভিক্ষু আদিষ্ট স্থানে বাঁধার সময় নিচে পড়ে গিয়ে কালগত হলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(৯) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ নতুন বিহার নির্মাণ করার সময় মাচান বাঁধছিলেন। ঐ সময় জনৈক ভিক্ষু অপর এক ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে এরূপ বলল- “আবুসো! এখানে বাঁধেন।“ তখন সে ভিক্ষু নির্দেশিত স্থানে বাঁধার সময় নিচে পড়ে গিয়েও কোন রকমে বেঁচে গেলে, আদেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে। ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১০) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু বিহার ছাউনি দিয়ে অবতরণ করছিলেন। তখন জনৈক ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! এখান হতে অবতরণ করুন।“ সেই ভিক্ষু সেখান হতে অবতরণ করার সময় পড়ে গিয়ে কালগত হলেন। ইহাতে নির্দেশকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞেস করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি হত্যার অভিপ্রায়ে সেরূপ নির্দেশ প্রদান করেছ?” “না ভগবান।“ তাহলে তোমার অনাপত্তি।“

(১১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু বিহার ছাউনি দিয়ে অবতরণ করছিলেন। ঐ সময় অন্যতর ভিক্ষু হত্যার উদ্দেশ্যে সেই ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! এই স্থান হতে অবতরণ করুন।“ তখন সেই ভিক্ষু সে স্থান হতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু বরণ করলে, আদেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাপন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছ।“

(১২) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু বিহার আচ্ছাদন করে অবতরণ করছিলেন। ঐ সময় জনৈক ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে এরূপ বললেন- “আবুসো! এখান হতে অবতরণ করুন।“ তখন সেই ভিক্ষু সেখান হতে অবতরণ করার সময় নিচে পড়ে গিয়ে কালগত না হয়ে কোন রকমে প্রাণে রক্ষা পেলে, নির্দেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু ভিক্ষুত্ব জীবনের প্রতি অনুৎসাহী ও উৎপীড়িত হয়ে গিজবাকূট পর্বতে আরোহণ করে প্রপাতে পতিত হওয়ার সময় জনৈক ঝুড়ি নির্মাতার মস্তকোপরি পড়ে তাকে হত্যা করল। এতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান উক্ত ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার অনাপত্তি হয়েছে।“ তখন ভগবান ভিক্ষুদেরকে সমবেত করে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! আমি তোমাদের অনুজ্ঞা প্রদান করছি- ‘প্রব্রজ্যা জীবনের প্রতি উৎপীড়িত ও অনুৎসাহী হওতঃ আত্ম হত্যা করার চেষ্টা করতে পারবে না। যে চেষ্টা করবে, তার ‘দুক্কট’ আপত্তি হবে।“

(১৪) সে সময়ে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ গিজ্জাকূট পর্বতে আরোহণ করে ক্রীড়াচ্ছলে শিলাখন্ড নিক্ষেপ করল। ইহাতে অন্যতর রাখালের মৃত্যু হলে, সেই ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে প্রকাশ করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! ক্রীড়াচ্ছলে শিলা নিক্ষেপে মৃত্যুর কারণে তোমাদের অনাপত্তি।“ তখন ভগবান সমবেত ভিক্ষুগণকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! ক্রীড়াচ্ছলে প্রস্তরখন্ড নিক্ষেপ করতে পারবে না; যে নিক্ষেপ করবে, তার ‘দুক্কট’ আপত্তি হবে।“

 

(১৮৪)⇒ (১) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু পীড়িত হলে ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুকে আগুনে তাপ দিলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি হত্যা করার উদ্দেশ্যে অগ্নি তাপ দিয়েছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে হত্যা করার উদ্দেশ্য না থাকলে, তোমাদের অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিতাপ দিল। এতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়েছে।“

(৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু রোগগ্রস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে অগ্নিতাপ দিল। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু না হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে ইহা জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু রোগগ্রস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুর নাসিকায় তৈল প্রয়োগ করলেন। এতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, উক্ত ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ বিষয়ে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি হত্যার ইচ্ছায় সেই ভিক্ষুর নাসিকায় তেল প্রয়োগ করেছ?” না ভান্তে!” “তাহলে অনিচ্ছা হেতু তোমাদের অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষুর শির-তাপ উৎপন্ন হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে নাসিকায় তৈল প্রয়োগ করল। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৬) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু শির-তাপ উৎপন্ন হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নাসিকায় তৈল প্রয়োগ করল। এতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু না হলে, উক্ত ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৭) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুর শরীর মালিশ করে দিলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে সেই বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান ভিক্ষুগণকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেই ভিক্ষুর শরীর মালিশ করেছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে তোমাদের অনাপত্তি।“

(৮) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেই পীড়িত ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে দেহ মালিশ করে দিল। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুগণকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৯) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেহ মালিশ করে দিলেন। এতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু না হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ,ভগবান সেই ভিক্ষুগণকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ, ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১০) সে সময় অন্যতর ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুকে স্নান করায়ে দিলেন। এতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুগণকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি হত্যার উদ্দেশ্যে সেই ভিক্ষুকে স্নান করায়ে দিয়েছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে তোমাদের অনাপত্তি।“

(১১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হলে ভিক্ষুগণ সেই পীড়িত ভিক্ষুকে হত্যা করার অভিপ্রায়ে স্নান করায়ে দিল। এতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুগণকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(১২) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্নান করায়ে দিল। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত না হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১৩) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষুর রোগ উৎপন্ন হলে, ভিক্ষুগণ সেই ভিক্ষুর দেহে তেল মালিশ করলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি হত্যা করার ইচ্ছুক হয়ে সেই ভিক্ষুর দেহে তেল মালিশ করেছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে অনিচ্ছুক হেতু তোমাদের অনাপত্তি।“

(১৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু রোগগ্রস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই রোগগ্রস্থ ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে তেল মালিশ করল। এতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছ।“

(১৫) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেই পীড়িত ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেল মালিশ করল। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু না হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাপন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ নহে।“

 

(১৮৫)⇒ (১) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে উত্তেজিত করলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, উক্ত ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি সেই ভিক্ষুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উত্তেজিত করেছ?” না ভান্তে!” “তাহলে হত্যা করার উদ্দেশ্য না থাকলে, তোমাদের অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু রোগগ্রস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই রোগী ভিক্ষুকে হত্যা করার ইচ্ছায় উত্তেজিত করল। এতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা সবাই ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেই পীড়িত ভিক্ষুকে হত্যা করার অভিপ্রায়ে উত্তেজিত করল। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মৃত্যু না হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাপন করল, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা সবাই ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি প্রাপ্ত হয়েছ; ‘পারাজিকা’ নহে।“

(৪) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষুর অসুখ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে তাড়িয়ে দিলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জানালে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি সেই ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়িয়ে দিয়েছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে তোমাদের অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেদি পীড়িত ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে তাড়িয়ে দিলেন। সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হলে, সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে নিবেদন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা সবাই ‘পারাজিকা’ অপরাধী হয়েছ।“

(৬) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিতাড়িত করল। এতে সেই ভিক্ষু কালগত না হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৭) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেই পীড়িত ভিক্ষুকে অন্ন প্রদান করলেন। সেই ভিক্ষু অন্ন ভোজন করার ফলে কালগত হলেন, ইহাতে সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভান্তে!” “তাহলে অনিচ্ছা হেতু তোমাদের অনাপত্তি।“

(৮) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে অন্ন খেতে দিল। ইহাতে সেই ভিক্ষু অন্ন ভোজন করার ফলে কালগত হল, ইহাতে সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুবান! তোমরা সবাই ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৯) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু রোগগ্রস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই রোগী ভিক্ষুকে হত্যার ইচ্ছায় অন্ন ভোজন করতে দিল। তখন সেই ভিক্ষু অন্ন ভোজন করাতে কালগত হল না, ইহাতে সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১০) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হলে, ভিক্ষুগণ সেই পীড়িত ভিক্ষুকে পানীয় প্রদান করলেন। উক্ত ভিক্ষু পানীয় পান করার ফলে তার মৃত্যু হল। ইহাতে সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি সেই ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে পানীয় পান করতে দিয়েছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে তোমাদের অনাপত্তি।“

(১১) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষুর অসুখ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে হত্যার ইচ্ছায় পানীয় পান করতে দিল। তখন সেই ভিক্ষু পানীয় পান করার ফলে কালগত হল, ইহাতে সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘পারাজিকা’ দোষ প্রাপ্ত হয়েছ।“

(১২) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হলে, ভিক্ষুগণ সেই অসুস্থ ভিক্ষুকে হত্যা করার ইচ্ছায় পানীয় পান করতে দিল। তখন সেই ভিক্ষু প্রদত্ত পানীয় পান করে কালগত না হলে, সেই ভিক্ষুগণের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮৬)⇒ (১) সে সময়ে অন্যতরা স্ত্রীলোক স্বামী প্রবাসে অবস্থান কালীন উপপ তি দ্বারা গর্ভিণী হয়েছিল। সেই স্ত্রীলোকের গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি কি গর্ভপাত সম্বন্ধে জানেন?” “হ্যাঁ ভগিনী” বলে সেই ভিক্ষু উক্ত স্ত্রীলোকের ঔষধ দ্বারা গর্ভপাত করাল। ইহাতে গর্ভিণীর সন্তান কালগত হলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(২) সে সময়ে জনৈক পুরুষের দুই স্ত্রী ছিল। তাদের মধ্যে একজন বন্ধ্যা অন্যজন গর্ভে সন্তান ধারণে সমর্থা। বন্ধ্যা স্ত্রী গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি কি গর্ভপাত সম্পর্কে জানেন? ভান্তে! যদি আপনি আমার সতীনের গর্ভ নষ্ট করতে সমর্থ হন, তাহলে আমার সকল সম্পত্তির অধিকারী হবেন।“ সেই বন্ধ্যা স্ত্রীলোক এরূপ বললে, সেই ভিক্ষু ‘হ্যাঁ ভগিনী’ বলে প্রত্যুত্তর দিল। অতঃপর সতীনের গর্ভ উৎপন্ন হলে, উক্ত ভিক্ষু ঔষধ প্রয়োগে সতীনের গর্ভপাত করাল। এতে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হল কিন্তু মাতার (সতীনের) মৃত্যু হল না। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানের এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে অন্যতর পুরুষের দুই স্ত্রী ছিল। তাদের মধ্যে একজন বন্ধ্যা অন্যজন গর্ভে সন্তান উৎপাদনে সমর্থা। বন্ধ্যা স্ত্রী গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি গর্ভপাত সম্বন্ধে জ্ঞাত আছেন কি? ভান্তে! যদি আপনি আমার সতীনের গর্ভ নষ্ট করতে সমর্থ হন, তাহলে আমার সকল প্রকার সম্পত্তির মালিক হবেন”। সেই বন্ধ্যা স্ত্রী লোক এরূপ বললে, সেই ভিক্ষু ‘হ্যাঁ ভগিনী’ বলে প্রত্যুত্তর দিল। অনন্তর সতীন অন্তঃসত্বা হলে, সেই ভিক্ষু ঔষধ প্রয়োগে সতীনের গর্ভপাত করাল। ইহাতে মাতার (সতীনের) মৃত্যু হল কিন্তু সন্তানের মৃত্যু হল না। এ’হেতু সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৪) সে সময়ে জনৈক ব্যক্তির দুই পত্নী ছিল। তাদের মধ্যে একজন বন্ধ্যা অন্যজন সন্তান জন্ম দানে সমর্থা। বন্ধ্যা পত্নী কুলে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি গর্ভপাত সম্বন্ধে জানেন কি? ভান্তে! যদি আপনি আমার সতীনের গর্ভ নষ্ট করতে পারেন, তাহলে আমার সকল প্রকার সম্পত্তির অধিকারী হতে পারবেন।“ সেই বন্ধ্যা পত্নীর কথায় সম্মতি প্রদান করতঃ সেই ভিক্ষু সতীনের গর্ভ সঞ্চার হলে, ঔষধ প্রয়োগে সতীনের গর্ভপাত করাল। এতে মাতা (সতীন) ও সন্তান উভয়ের মৃত্যু হলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৫) সে সময়ে অন্যতর ব্যক্তির দুই পত্নী ছিল। তাদের মধ্যে একজন বন্ধ্যা অন্যজন গর্ভে সন্তান ধারণে সমর্থ। বন্ধ্যা পত্নী গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি কি গর্ভপাত সম্বন্ধে জ্ঞাত আছেন? ভান্তে! যদি আপনি আমার সতীনের গর্ভ নষ্ট করতে সমর্থ হন, তাহলে আমার সব সম্পত্তির মালিক হবেন।“ সেই বন্ধ্যা পত্নীর কথায় সম্মতি জ্ঞাপন করতঃ উক্ত ভিক্ষু সতীনের গর্ভ সঞ্চার হলে, ঔষধ  প্রয়োগে গর্ভপাত করাল। এতে মাতা (সতীন) ও সন্তান উভয়ের মৃত্যু না হলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮৭)⇒ (১) সে সময়ে অন্যতরা গর্ভিণী স্ত্রী গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আসুন আর্য! আপনি গর্ভপাত সম্বন্ধে জ্ঞাত আছেন কি?” ‘হ্যাঁ ভগিনী!’ বলে সেই ভিক্ষু গর্ভিণীকে বলল- “হে ভগিনী! আপনি গর্ভ মর্দন করুন।“ এরূপ পরামর্শনুযায়ী উক্ত গর্ভিণী গর্ভ মর্দন করাল। ইহাতে গর্ভপাত হলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(২) সে সময়ে জনৈকা স্ত্রী কুলে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনার গর্ভপাত সম্পর্কে জানা আছে কি?” ‘হ্যাঁ ভগিনী!’ বলে উক্ত ভিক্ষু গর্ভিণীকে বলল- “হে ভগিনী! আপনি গর্ভে তাপ দিন।“ সেই ভিক্ষুর এরূপ পরামর্শনুযায়ী সেই গর্ভিণী গর্ভে তাপ দেয়াল। এতে গর্ভপাত হলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে অন্যতরা বন্ধ্যা স্ত্রীলোক গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি এমন কোন ভৈষজ্য প্রদান করলেন। তখন সেই বন্ধ্যা স্ত্রীলোক ঐ ভিক্ষু কর্তৃক প্রদত্ত ভৈষজ্য প্রদান করলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘দুক্কট’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৪) সে সময়ে জনৈকা সন্তান জন্ম দানে সমর্থা স্ত্রীলোক গৃহে উপস্থিত ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আসুন আর্য! আপনি কি এমন কোন ভৈষজ্য জানেন; যেন আমি সন্তান ধারণে অসমর্থা হই?” সম্মতি জ্ঞাপন করে সেই ভিক্ষু সেই স্ত্রীলোককে ভৈষজ্য প্রদান করলে, সেই স্ত্রীলোক প্রদত্ত ভৈষজ্য সেবন করে কালগত হলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘দুক্কট’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৫) সে সময়ে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ সপ্তদশবর্গীয় ভিক্ষুদের মধ্যে একজনকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে ঠাট্টা করছিল। ইহাতে সেই ভিক্ষু শঙ্কিত হওতঃ শ্বাসত্যাগে অসমর্থ হয়ে কালগত হল। এতে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের ‘পারাজিকা’ হয় নাই।“

(৬) সে সময়ে সপ্তদশবর্গীয় ভিক্ষুগণ ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদের মধ্যে একজনকে ‘এই কাজ আমরা করব’ এরূপ বলে না জেনে হত্যা করল। ইহাতে সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয় নাই।“

(৭) সে সময়ে অন্যতর ভূতের বৈদ্য ভিক্ষু যক্ষকে হত্যা করল। ইহাতে তার মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৮) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু না জেনে অন্য এক ভিক্ষুকে ক্রুদ্ধযক্ষ আশ্রিত স্থানে প্রেরণ করলেন। যক্ষগণ প্রেরিত ভিক্ষুকে হত্যা করলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এই বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! হত্যাকরার অভিপ্রায় না থাকলে, তোমার অনাপত্তি।“

(৯) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুকে হত্যা করার ইচ্ছায় ক্রুদ্ধযক্ষ আশ্রিত স্থানে প্রেরণ করল। যক্ষগণ প্রেরিত ভিক্ষুকে হত্যা করলে, প্রেরণকারী ভিক্ষু মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এই বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(১০) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্যতর ভিক্ষুকে জীবন নাশের উদ্দেশ্যে ক্রুদ্ধযক্ষ আশ্রিত স্থানে প্রেরণ করল। যক্ষগণ প্রেরিত ভিক্ষুকে হত্যা না করলে, সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১১) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু অন্য এক ভিক্ষুকে মরুকান্তারে প্রেরণ করেছিলেন। সেই ভিক্ষু সেখানে গিয়ে কালগত হলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগভবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! বধ করার ইচ্ছা না থাকলে, তোমার অনাপত্তি।“

(১২) সে সময়ে অন্যতর অপর এক ভিক্ষুকে হত্যা করার ইচ্ছায় মরুকান্তারে প্রেরণ করেছিল। সেই ভিক্ষু সে স্থানে গিয়ে কালগত হলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(১৩) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্যতর ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে গহীন মরুকান্তারে প্রেরণ করেছিল। সেই ভিক্ষু তথায় গিয়ে কালগত না হলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(১৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু অপর এক ভিক্ষুকে চোর ডাকাতের উপদ্রব স্থানে প্রেরণ করেছিল। সেই চোর-ডাকাতরা প্রেরিত ভিক্ষুকে হত্যা করলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! হত্যার ইচ্ছা না থাকা হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(১৫) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্য এক ভিক্ষুকে হত্যার ইচ্ছায় চোর-ডাকাতের উপদ্রবযুক্ত স্থানে প্রেরণ করেছিল। সেখানে চোর-ডাকাতরা প্রেরিত ভিক্ষুকে হত্যা করলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান প্রেরণকারী ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(১৬) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্যতর ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে চোর-ডাকাতের উপদ্রুত স্থানে প্রেরণ করেছিল। সেখানে চোর-ডাকাত কর্তৃক প্রেরিত ভিক্ষুর মৃত্যু না হলে, প্রেরণকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান প্রেরণকারী ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮৮)⇒ (১) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু যাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল তাকে হত্যা করল। এতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(২) সে সময়ে জনৈক যাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল, তাকে হত্যা করতে না পেরে অন্যকে হত্যা করল … অন্যটি পরিকল্পনা করে অপর ব্যক্তিকে হত্যা করল … অপরটি পরিকল্পনা করতঃ অন্যকে হত্যা করল। এতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষুকে অমনুষ্য আশ্রয় করে অবস্থান করছিল। তখন জনৈক ভিক্ষু উক্ত ভিক্ষুকে প্রহার করলে, সেই ভিক্ষুর মৃত্যু হল। ইহাতে প্রহারকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার মনে হত্যা করার অভিপ্রায় না থাকা হেতু অনাপত্তি।“

(৪) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অমনুষ্য কর্তৃক পরিগৃহীত হয়েছিলেন। অন্যতর ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে হত্যা করার ইচ্ছায় প্রহার করলে, উক্ত ভিক্ষু কালগত হল। এতে প্রহারকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! হত্যা করার ইচ্ছায় প্রহার করা হেতু তোমার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(৫) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু অমনুষ্য কর্তৃক আশ্রিত হওয়ার জনৈক ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে প্রহার করল, ইহাতে সেই ভিক্ষু কালগত না হলে, প্রহারকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাপন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ অপরাধ হয়েছে; ‘পারাজিকা’ অপরাধ নহে।“

(৬) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্য ভিক্ষুকে কল্যাণময় কর্মের ফল বর্ণনা করতে গিয়ে স্বর্গ-কথা প্রকাশ করছিলেন। তখন সেই ভিক্ষু স্বর্গ লাভের আশায় ব্যগ্র চিত্ত হওয়ায় কালগত হলেন। ইহাতে প্রকাশকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! হত্যার ইচ্ছা না থাকা হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(৭) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে কল্যাণকর কর্মের সুফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বর্গ-কথা বর্ণনা করছিল। তখন সেই ভিক্ষু স্বর্গ প্রাপ্তির আশায় ব্যগ্র চিত্ত হয়ে কালগত হলেন। ইহাতে বর্ণনাকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৮) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুকে হত্যার ইচ্ছায় মঙ্গলকর কর্মের সুফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বর্গ-কথা বর্ণনা করছিল। তখন সেই ভিক্ষু স্বর্গ প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ব্যগ্রমনা হওয়া সত্বে কালগত হলেন না। তখন বর্ণনাকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৯) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অপর এক ভিক্ষুকে নারকীয়দের নরক বর্ণনা করছিলেন। তখন সেই ভিক্ষু নরক যন্ত্রনার বর্ণনা শ্রবণ করে ভয়ে আতঙ্কে কালগত হলেন। ইহাতে বর্ণনাকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি হত্যার উদ্দেশ্যে নরক যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করেছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে হে ভিক্ষু। হত্যার উদ্দেশ্য না থাকা হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(১০) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে নারকীয়দের নরক যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করছিল। তখন সেই ভিক্ষু নরক যন্ত্রণার কথা শুনে ভয়ে আতঙ্কে কালগত হল। ইহাতে বর্ণনাকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষ্যে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(১১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্য এক ভিক্ষুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নারকীয়দের নরক যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করছিল। কিন্তু সেই ভিক্ষু নরক যন্ত্রণার বর্ণনা শুনা সত্বে কালগত না হলে, বর্ণনাকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৮৯)⇒ (১) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার সংস্কারার্থে বৃক্ষ ছেদন করছিলেন। তখন জনৈক ভিক্ষু অন্য এক ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! এই স্থানে ছেদন করুন।“ সেই ভিক্ষুও আদিষ্ট স্থানে ছেদন করলে, ছেদন কৃত বৃক্ষ উক্ত ভিক্ষুর শিরোপরি পতিত হল, সেই ভিক্ষু কালগত হলেন। এতে আদেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি হত্যার উদ্দেশ্যে ঐরূপ আদেশ করেছ?” “না ভান্তে!” “তাহলে হে ভিক্ষু! হত্যার উদ্দেশ্য না থাকায় তোমার অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার সংস্কারণার্থে বৃক্ষ ছেদন করছিলেন। তখন অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুকে হত্যার অভিপ্রায়ে এরূপ বলল- “আবুসো! এই স্থানে ছেদন করুন।“ সেই ভিক্ষুও আদিষ্ট স্থানে ছেদন করার ফলে, ছেদন কৃত বৃক্ষ উক্ত ভিক্ষুর শিরোপরি পতিত হয়ে কালগত হলেন। ইহাতে আদেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! হত্যার উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেওয়ার কারণে তোমার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(৩) সে সময়ে আলবক ভিক্ষুগণ বিহার সংস্কারণার্থে বৃক্ষ ছেদন করছিলেন। তখন জনৈক ভিক্ষু হত্যার অভিপ্রায়ে অন্য এক ভিক্ষুকে এরূপ বলল- “আবুসো! এই স্থানে ছেদন করুন।“ সেই ভিক্ষু আদিষ্ট স্থানে ছেদন করলে, ছেদন কৃত বৃক্ষ ছেদনকারী ভিক্ষুর শিরোপরি পতিত হলেও উক্ত ভিক্ষুর মৃত্যু হল না। ইহাতে আদেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৯০)⇒ (১) সে সময়ে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ বন পুড়াচ্ছিল। তখন জনসাধারণ সেই অগ্নিতে দগ্ধ হয়ে কালগত হলে, ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে নিবেদন করলে, ভগবান তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কি সাধারণ জনগণকে হত্যার উদ্দেশ্যে বন পুড়াচ্ছিল?” “না ভান্তে!” “তাহলে তোমাদের অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ সাধারণ জনগণকে হত্যা করার অভিপ্রায়ে বনে আগুন দিল। তখন সাধারণ জনগণ সেই আগুনে দগ্ধ হয়ে কালগত হলে, ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান তাদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের সবার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(৩) সে সময়ে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুগণ সাধারণ জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বনে আগুন দিল। তখন সাধারণ জনগণ সেই আগুনে পুড়ে গিয়েও কালগত হল না। এতে ষড়বর্গীয় ভিক্ষুদের মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৯১)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু প্রাণদন্ডের স্থানে গিয়ে চোরঘাতককে এরূপ বলল- “আবুসো! একে এরূপে পীড়ন করতঃ এক প্রহারে হত্যা কর।“ তখন চোর ঘাতক ‘হ্যাঁ ভান্তে’ বলে এক প্রহারেই হত্যা করল। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! হত্যার নির্দেশ দেয়ার কারণে তোমার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(২) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু বধ্যভূমিতে গিয়ে চোরঘাতককে এরূপ বলল- “আবুসো! একে এরূপে দুঃখ দিয়ে এক প্রহারেই হত্যা কর।“ তখন চোরঘাতক এরূপ বলল- “না ভান্তে! আপনার কথানুযায়ী তাকে হত্যা করতে পারব না।“ চোরঘাতক এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার বাক্য প্রয়োগ জনিত ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(১৯২)⇒ (১) সে সময়ে হস্ত-পদ ছিন্ন অন্যতর পুরুষ জ্ঞাতির ঘরে জ্ঞাতিদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে অবস্থান করছিল। তখন জনৈক ভিক্ষু সেই মানুষদেরকে এরূপ বলল- “আবুসোগণ! আপনারা কি ইহার মৃত্যু ইচ্ছা করেন?” জ্ঞাতিগণ “হ্যাঁ ভান্তে! ইচ্ছা করি” বলে প্রত্যুত্তর জানালে, সেই ভিক্ষু তাদেরকে বলল- “তাকে দধি পান করান”। সেই মানুষরাও সেই ভিক্ষুর নির্দেশানুযায়ী দধি পান করালে, সেই পুরুষের মৃত্যু হল। এতে নির্দেশদানকারী ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছে।“

(২) সে সময়ে হস্ত-পদ ছিন্ন অন্যতর পুরুষ পিতা-মাতার গৃহে জ্ঞাতিদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হওতঃ অবস্থান করছিল। তখন জনৈকা ভিক্ষুণী সেই জ্ঞাতিদেরকে এরূপ বলল- “আবুসোগণ! আপনারা কি এই ব্যক্তির মৃত্যু ইচ্ছা করেন?” “হ্যাঁ আর্যে! ইচ্ছা করি” বলে সেই জ্ঞাতিগণ প্রত্যুত্তর দিলে, সেই ভিক্ষুণী উক্ত ব্যক্তিকে ক্ষারযুক্ত কাঞ্জিপান করানোর জন্য নির্দেশ দিলেন। তারাও সেই ভিক্ষুণীর নির্দেশানুযায়ী ক্ষার যুক্ত কাঞ্জি পান করালে, সেই ব্যক্তির মৃত্যু হল। ইহাতে ভিক্ষুণীর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” অতঃপর সেই ভিক্ষুণী এ’বিষয়ে ভিক্ষুণীদেরকে প্রকাশ করলে, দোষগ্রস্থ হয়েছি?” অতঃপর সেই ভিক্ষুণী এ’বিষয়ে ভিক্ষুণীদেরকে প্রকাশ করলে, ভিক্ষুণীগণ ইহা ভিক্ষুদেরকে প্রকাশ করলেন। তখন ভিক্ষুগণও এ’ব্যাপারে ভগবানের নিক্টে নিবেদন করলে ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! এই ভিক্ষুণী ‘পারাজিকা’ অপরাধে দোষী হয়েছে।“

[তৃতীয় পারাজিকা সমাপ্ত]