ডেসটিনি, ইভ্যালি বনাম বান্দর ব্যবসা

বিদেশ হতে সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে তিন বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় বেড়াতে গেল। সেখানে গিয়ে দেখল, ওই এলাকার মানুষ বান্দরের অত্যাচারে অতিষ্ট। তিন পর্যটক অনেক চিন্তা করে একটা বুদ্ধি বের করল। তারা ঘোষনা করে দিল যে, তারা বান্দর কিনে বিদেশে পাঠাবে, তাই তারা এখান থেকে প্রতি পিচ বান্দর ১০০টাকা হারে ক্রয় করবে। এই খবর প্রচারের পর, এলাকার মানুষ টাকা উপার্জনের জন্য না হোক, অন্তত বান্দরের অত্যাচারের হাত থেকে নিস্তার পেতে হলেও তারা বান্দর ধরার কাজে উঠেপড়ে লেগে গেল। এই সুযোগে তিন পর্যটক একটি বিরাট গোডাউন তৈরি করে ফেলল, যেখানে তারা বান্দরগুলো জমিয়ে রাখবে।

 

অনেকেই বান্দর ধরার এই কাজটাকে টাকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেই ধরে নিল। কেউ সারা দিনে ৭টি, কেউ ৮টি, কেউ বা আবার ১০টি বান্দর ধরে সেই বিদেশী পর্যটকের নিকট বিক্রয় করে দিল। কিন্তু খুব বেশি মানুষের আগ্রহ না দেখায়, কয়েক দিন পরে আবারো ঘোষনা করে দিল যে, এখন থেকে বান্দর প্রতি ২০০ টাকা হারে বান্দর কিনবে। তখন এলাকার মানুষ আরেকটু নড়েচড়ে বসল। এবার প্রথম বারের ঘোষনায় যারা বান্দর ধরার কাজে লাগে নি, তাদের অনেকেই এবার এই কাজে লেগে গেল।

 

এক সপ্তাহের সপ্তাহের মধ্যেই এলাকার প্রায় ৫০% বান্দর ধরা হয়ে গেল। এরপর আবারো ঘোষনা আসল, এখন থেকে বান্দর প্রতি ৬০০টাকা হারে বান্দর কেনা হবে। এই ঘোষনার পরে যুবক, আবাল, বৃদ্ধ-বনিতা সবাই বান্দর ধরার কাজে লেগে গেল। কেউ সারাদিনে ২টি, কেউ বা ৩টি বান্দর ধরে বিক্রয় করছে। কয়েক দিনের মধ্যেই একালার প্রায় ৯০% বান্দর ধরা শেষ হয়ে গেছে। এখনো যারা এই কাজে লিপ্ত হয় নি, তাদেরকে অনেকেই বোকা, গাধা বলে সম্বোধনও করছে।

 

এবার পুনরায় ঘোষনা আসল, এখন থেকে ১০০০টাকা প্রতি পিচ বান্দর কেনা হবে। কিন্তু ঘোষনা দিলে কি হবে, ততদিনে যেমন এলাকার ৯০% বান্দর গোডাউনে বন্দি হয়ে গেছে, তদ্রূপ বান্দর ধরা পাবলিকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে অনেকগুন। কাজেই কেউ সারাদিন ঘুরে ১টি, কারো বা কপালে সেটাও জোটে নি। অন্যদিকে গোডাউন থেকে গোপনে প্রচার করা দেওয়া হল যে, তারা প্রতি পিচ বান্দর ৯০০টাকা করে বিক্রয় করবে। এলাকার লোকজন এবার চিন্তা করল, গোডাউন থেকে বান্দর কিনে বিক্রয় করলেই তো নগদে বান্দর প্রতি ১০০টাকা লাভ হচ্ছে। কাজেই খবরটি প্রচারের সাথে সাথে এতো পরিমাণ লোকের সমাগম ঘটল যে, এক মুহূর্তের মধ্যেই গোডাউন পুরো ফাঁকা হয়ে গেল। এবার যখন তারা বান্দরগুলো নিয়ে বিক্রয় করতে গেল, তখন দেখতে পেল, বান্দর ক্রয়ের লোকগুলো উধাও হয়ে গেছে। তখন উপায় অন্ত না দেখে লোকগুলো সমস্ত বান্দর ছেড়ে দিতে বাধ্য হল এবং পুরো এলাকাটি আবারো বান্দরে বান্দরময় হয়ে গেল।

 

ঠিক এভাবেই আমাদের দেশে ডেসটিনি, ইভ্যালি নামক বিদেশী পর্যটক ঘুরে ফিরে আসবে, আমাদের দিয়ে ব্যবসা করিয়ে তারা আখের গুছিয়ে পালাবে, আর আমরা যে আঙ্গুল চোষা পাবলিক, সেই আঙ্গুল চুষতেই থাকবো।

One Comment

  1. খোলামন

    গল্পটি ভালো লাগলে শেয়ার দিতে ভুলবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *