চতুর্থ পারাজিকা

(লোকোত্তর ধর্ম প্রকাশ সম্পর্কিত শিক্ষাপদ)

[স্থান – বৈশালী]

(১৯৩)⇒ সে সময়ে ভগবান বুদ্ধ বৈশালীর মহাবনে কূটাগারশালায় অবস্থান করছিলেন। তখন কিছু সংখ্যক বন্ধু ভাবাপন্ন ও অভিন্নমনা ভিক্ষু বজ্ঞমুদা নদীর তীরে বর্ষাবাস করছিলেন। সে সময়ে বজ্জীরাজ্যে দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হওয়ায় ভিক্ষান্ন দুষ্কর হেতু ভিক্ষুদের কালযাপন করতে কষ্টসাধ্য হচ্ছিল। অতঃপর সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ চিন্তার উদয় হল যে- “এখন বজ্জীরাজ্যে দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হওয়ায় ভিক্ষান্নের অভাবে আমাদের কালযাপন করতে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কি উপায়ে আমরা একতাবদ্ধ হয়ে সন্তুষ্টি চিত্তে বিবাদহীন এবং প্রীতিপূর্ণ চিত্তে বর্ষাবাসে অবস্থান করতে পারি; যাতে আমাদের ভিক্ষন্নের জন্য ক্লিষ্ট হতে হয় না?” তারা এ’বিষয়ে পরামর্শ করলে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এরূপ বললেন- “আবুসোগণ! যদি আমরা সবাই মিলে গৃহীদের কাজকর্মে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে তারা আমাদেরকে আহারাদি দিতে কার্পণ্য করবে না। উপরন্তু, এরূপ হলে আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে, সন্তুষ্টি চিত্তে, বিবাদহীন এবং আনন্দচিত্তে বর্ষাবাসে অবস্থান করতে পারব এবং ভিক্ষান্নের জন্যেও কোন প্রকারের অসুবিধা হবে না।“ আমার কোন কোন ভিক্ষু এরূপ বলতে লাগলেন- “আবুসোগণ! কি প্রয়োজন গৃহীদের কাজ-কর্মে দায়িত্ব পালন করা। যদি আমরা সবাই মিলে গৃহীদের দূতের কাজ করি, তাহলে আমাদের আহারাদির কোনরূপ কষ্ট হবে না। উপরন্তু, এরূপ হলে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধাবস্থায়, সন্তুষ্টি চিত্তে, বিবাদহীন এবং পরমানন্দে বর্ষাবাসে নিরূপদ্রবে অবস্থান করতে সক্ষম হবো এবং ভিক্ষন্নের জন্যেও কোন প্রকার বিঘ্ন ঘটবে না।“ আবার কেউ কেউ এরূপ বলতে লাগলেন- “আবুসোগণ! কি প্রয়োজন গৃহীদের কাজ-কর্মের দায়িত্ব পালন কিংবা দূতের কাজ করা। বন্ধুগণ! যদি আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হওতঃ গৃহীদের কাছে পরস্পরের অলৌকিক শক্তি এবং আর্যমার্গ প্রাপ্তির কথা এরূপে বর্ণনা করি যে- “এই ভিক্ষু প্রথম ধ্যান লাভী; এই ভিক্ষু দ্বিতীয় ধ্যান লাভী; এই ভিক্ষু তৃতীয় ধ্যান লাভী; এই ভিক্ষু চতুর্থ ধ্যান লাভী এবং অমুক অমুক ভিক্ষু স্রোতাপন্ন; অমুক অমুক ভিক্ষু সকৃদাগামী; অমুক অমুক ভিক্ষু অনাগামী; অমুক অমুক ভিক্ষু অরহৎ মার্গে উপনীত হয়েছেন কিংবা অমুক অমুক ভিক্ষু ত্রিবিদ্যাজ্ঞান লাভী এবং অমুক অমুক ভিক্ষু ষড়াভিজ্ঞাজ্ঞানে অধিষ্ঠিত। বন্ধুগণ! যদি আমরা এরূপ অলৌকিক ধ্যান ও আর্যমার্গ লাভের কথা জনসাধারণকে বর্ণনা করি; তাহলে তারা আমাদেরকে প্রভূত খাদ্য ভোজ্য প্রদান করবে, তাতে আমাদের আহারাদির কোন প্রকার কষ্ট হবে না। উপরন্তু, এরূপ হলে আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে, সন্তুষ্টি মনা হয়ে বিবাদহীন ও পরম প্রীতির সহিত বর্ষাবাস যাপন করতে সমর্থ হবো এবং ভিক্ষন্নের জন্যেও কোন প্রকার অসুবিধা হবে না, আসুন আবুসোগণ! ইহাই শ্রেয় হবে যে, আমরা পরস্পর পরস্পরের অলৌকিক শক্তি ও আর্যমার্গ ধ্যানের কথা গৃহীদেরকে বর্ণনা করি।“

 

(১৯৪)⇒ অনন্তর সেই ভিক্ষুগণ গৃহীদের নিকট পরস্পরের অলৌকিক শক্তি ও আর্যমার্গ ধ্যানের কথা এরূপে প্রচার করতে লাগলেন- “এই ভিক্ষু প্রথম ধ্যান লাভী, এই ভিক্ষু দ্বিতীয় ধ্যান লাভী, এই ভিক্ষু তৃতীয় ধ্যান লাভী; এই ভিক্ষু চতুর্থ ধ্যান লাভী এবং অমুক অমুক ভিক্ষু স্রোতাপন্ন; অমুক অমুক ভিক্ষু সকৃদাগামী; অমুক অমুক ভিক্ষু অনাগামী; অমুক অমুক ভিক্ষু অরহৎ মার্গে উপনীত হয়েছেন কিংবা অমুক অমুক ভিক্ষু ত্রিবিদ্যাজ্ঞান লাভী এবং অমুক অমুক ভিক্ষু ষড়াভিজ্ঞাজ্ঞানে অধিষ্টিত।“ তখন সেই গৃহীরা এরূপ ভিক্ষুদের সাহচর্য লাভ করব; নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে যে সকল ভিক্ষু এ’স্থানে অবস্থান করেছিলেন, তাঁদের চেয়েও এই ভিক্ষুরা খুবই শীলবান এবং কল্যাণ ধর্ম পরায়ণ। আমরা নিজেরা আহারাদি পরিভোগ না করে আমাদের পিতা-মাতাদেরকে না দিয়ে, স্ত্রী-পুত্রদেরকে না দিয়ে, দাস-দাসীদেরকে না দিয়ে এবং জ্ঞাতি-মিত্র, আত্মীয়-স্বজনদেরকে না দিয়ে সকল প্রকার পুণ্যলাভেচ্ছায় এরূপ ভিক্ষুদেরকে দেওয়া উচিৎ।“ তখন বজ্ঞুমদা নদীর তীরবাসী জনগণ খাদ্য-ভোজ্য পানাহারাদি নিজেরা পরিভোগ না করে, পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র, দাস-দাসী, জ্ঞাতি-মিত্র এবং আত্মীয়-স্বজনদেরকে না দিয়ে পুণ্য লাভেচ্ছায় খাদ্য-ভোজ্যাদি উক্ত ভিক্ষুদেরকে দিতে লাগলেন। অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ জনগণ কর্তৃক প্রদত্ত আহারাদি পরিভোগ করে অচিরেই বর্ণসম্পন্ন, পরিপুষ্ট ইন্দ্রিয় সম্পন্ন হলেন এবং তাদের দেহচ্ছবি ও মুখবর্ণ হল অত্যুজ্জল। সে সময়ে এরূপ প্রচলিত রীতি ছিল যে, ভিক্ষুরা বর্ষাবাস সমাপ্ত করে ভগবানকে দর্শনার্থে উক্ত ভিক্ষুগণ তিনমাস ব্যাপী বর্ষাবাস যাপন শেষে শয্যাসন সামলে রেখে পাত্রচীবরাদি নিয়ে যেদিকে বৈশালী সেদিকে রওনা হলেন। তারা ক্রমাগত পরিভ্রমণ করে মহাবন কূটাগারশালায় পৌঁছলেন। এবং যেখানে ভগবান বুদ্ধ অবস্থান করেছেন সেখানে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন ও সম্মান প্রদর্শন করে এক পাশে উপবেশন করলেন। ঐ সময়ে চতুর্দিকের অন্যান্য ভিক্ষুরা বর্ষাবাস শেষে কৃশ, রুক্ষ, বিবর্ণ ও রক্ত-মাংসহীন হয়ে কেবল শিরা-উপশিরায় ধমনিজালে আচ্ছাদিত হলেন। কিন্তু বজ্ঞুমুদা নদীর তীরবাসী ভিক্ষুরা দেখতে সুবর্ণ, পরিপুষ্ট ইন্দ্রিয় সম্পন্ন এবং তাদের দেহচ্ছবি ও মুখবর্ণ অত্যুজ্জল দেখাচ্ছিল। আগন্তুক ভিক্ষুদের সহিত কুশলা-কুশল বিনিময়াদি করা ছিল ভগবান বুদ্ধের রীতি। তখন ভগবান সেই বজ্ঞুমুদা নদীর তীরবাসী ভিক্ষুদেরকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা সবাই সুস্থ ও কুশলে আছ তো, তোমরা সবাই ঐক্যবদ্ধাবস্থায়, সন্তুষ্টি চিত্তে, প্রীতিপূর্ণচিত্তে এবং নির্বিবাদে, নিরূপদ্রবে বর্ষাবাস যাপন করেছ তো, ভিক্ষান্নের জন্য কোন প্রকার ক্লিষ্ট হতে চায়নি তো?” প্রত্যুত্তরে তারা বললেন- “হ্যাঁ ভগবান! আমরা সবাই সুস্থ আছি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধাবস্থায়, সন্তুষ্টি চিত্তে, প্রীতিপূর্ণচিত্তে এবং নির্বিবাদে, নিরূপদ্রবে বর্ষাবাস যাপন করেছি, আমাদের ভিক্ষান্নের জন্য কোনরূপ ক্লিষ্ট হতে হয়নি।“ তথাগতগণ কোন কোন বিষয়ে জেনেও জিজ্ঞাসা করেন, আবার কোন কোন বিষয়ে জেনেও জিজ্ঞাসা করেন না; সময় জ্ঞাত হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, সময় জ্ঞাত হয়েও জিজ্ঞাসা করেন না। বুদ্ধগণের জিজ্ঞাসা অর্থপূর্ণ, অর্থহীন নহে। দ্বিবিধ কারণে বুদ্ধগণ ভিক্ষুদেরকে প্রশ্ন করে থাকেন, ধর্মোপদেশ প্রদানের নিমিত্তে অথবা শ্রাবকদের (শিষ্যদের) শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করার জন্যে। অতঃপর ভগবান বজ্ঞুমুদা নদীর তীরবাসী ভিক্ষুগণকে আবারো এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা কিরূপে একতাবদ্ধ হয়ে, সন্তুষ্টি চিত্তে, পরমানন্দে ও নির্বিবাদে নিরূপদ্রবে বর্ষাবাস যাপন করেছ; এবং কিরূপে তোমাদের ভিক্ষান্নের জন্য কষ্ট হয়নি?” তখন সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে তাদের সেই অবস্থা সম্পর্কে আদ্যোপান্ত সমস্ত বিষয় প্রকাশ করলে, ভগবান জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষুগণ! সত্যই কি তোমরা এরূপে বর্ষাবাস কাটিয়েছ?” “হ্যাঁ ভগবান!” তখন ভগবান এ’বলে নিন্দা ও ভৎসনা করে বললেন যে- “হে ভিক্ষুগণ! ইহা তোমাদের পক্ষে বড়ই অনুপযুক্ত, অনুচিত, অননুরূপ,অশ্রমণোচিত, অবিধেয় ও অকরণীয় কার্য হয়েছে। হে মোঘপুরুষ! কি করে তোমরা উদরপূর্তির নিমিত্তে অলৌকিক শক্তি ও আর্যমার্গ ধ্যান লাভ না করেও গৃহীদেরকে পরস্পরের অলৌকিক শক্তি ও আর্যমার্গ ধ্যান প্রাপ্তির কথা বর্ণনা করতে গেলে, প্রকাশ করতে গেলে? বরং হে মোঘপুরুষগণ! উদরপূর্তির জন্য তোমাদের উদর কেটে ফেলে দেওয়ায় উচিৎ ছিল। কি কারণে? যেহেতু মোঘপুরুষগণ! এই ধরণের হীন কার্য সম্পাদন হেতু মৃত্যু কিংবা মৃত্যুতুল্য-যন্ত্রনা ভোগ করতে হয় অথবা কায় ভেদে মরণের পর অপার দুর্গতি বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হতে হয়। হে মোঘপুরুষগণ! তোমাদের এরূপ হীন কার্য কোন কোন শ্রদ্ধাবানদের শ্রদ্ধা উৎপাদন কিংবা কোন কোন শ্রদ্ধাবানদের শ্রদ্ধা বৃদ্ধির সহায়ক নহে; বরঞ্চ কোন কোন অশ্রদ্ধাবানদের অধিকতর অশ্রদ্ধা উৎপাদন অথবা কোন কোন শ্রদ্ধাবানদের শ্রদ্ধা পরিহানির সহায়ক হবে অধিক।“ ভগবান সেই ভিক্ষুগণকে বিবিধভাবে নিন্দা ও ভৎসনা করে ধর্ম কথা উত্থাপন করে ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে বলতে লাগলেন-

 

(১৯৫)⇒ হে ভিক্ষুগণ! জগতে এই পাঁচ প্রকার মহাচোর বিদ্যমান। সেই পাঁচ প্রকার মহাচোর কি কি?

(১) হে ভিক্ষুগণ! এখানে একাংশ মহাচোরের এরূপ ইচ্ছা উদয় হয় যে- “কখন আমি আমার শত কিংবা সহস্র সঙ্গী-সাথী নিয়ে পরিবৃত হয়ে গ্রাম, নিগম (ছোট শহর) ও রাজধানীতে হত্যা, ছেদন, ভেদন, পিষণ করতঃ চুরি, ডাকাতি ও লুন্ঠন করে পরিভ্রমণ করব।“ পরবর্তী সময়ে সে সেই ইচ্ছানুযায়ী শত কিংবা সহস্র সঙ্গী-সাথী নিয়ে পরিবেষ্টিত হয়ে গ্রাম, নিগম এবং রাজধানীতে নির্বিচারে হত্যা, ছেদন, ভেদন, পিষণ করতঃ চুরি, ডাকাতি ও লুন্ঠন করে বিচরণ করে।

হে ভিক্ষুগণ! তেমনিও এখানে একাংশ পাপ-পরায়ণ ভিক্ষুর মনে এরূপ পাপ বাসনার উদয় হয় যে- “কখন আমি আমার শত কিংবা সহস্র শিষ্য-প্রশিষ্য দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে গ্রাম, নিগম এবং রাজধানীতে সম্মানিত, পূজিত, গৌরবান্বিত ও শ্রদ্ধাভাজন হয়ে গৃহস্থ এবং প্রব্রজ্যিত হতে চীবর, ভিক্ষান্ন শয্যাসন, রোগীর ভৈষজ্য ইত্যাদি চারিপ্রত্যয়াদি প্রাপ্ত হয়ে চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করব।“ পরবর্তী সময়ে সেই পাপী ভিক্ষুর বাসনানুযায়ী শত কিংবা সহস্র শিষ্য-প্রশিষ্য দ্বারা পরিবৃত হওতঃ গ্রাম, নিগম এবং রাজধানীতে সম্মানিত, পূজিত, গৌরবান্বিত এবং শ্রদ্ধাভাজন হয়ে গৃহী ও প্রব্রজ্যিত হতে চীবর, পিন্ডপাত, ঔষধ প্রত্যয় ও শয্যাসন প্রভৃতি লাভ করতঃ চতুর্দিকে বিচরণ করে। হে ভিক্ষুগণ! এ’ধরণের পাপী ভিক্ষুই হল প্রথম মহাচোর, যারা এই জগতে বিদ্যমান।

(২) হে ভিক্ষুগণ! দ্বিতীয় মহাচোর কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এখানে কোন কোন পাপী ভিক্ষু আছে, যারা তথাগত কর্তৃক দেশিত ধর্ম-বিনয় শিক্ষা করতঃ আয়ত্ব করে নিজেই অর্জন করেছে বলে ঘোষণা করে। হে ভিক্ষুগণ, এ’প্রকারের পাপবাদী ভিক্ষু হল দ্বিতীয় মহাচোর, যারা এ’জগতে বিদ্যমান।

(৩) হে ভিক্ষুগণ! তৃতীয় মহাচোর কিরূপ? “ভিক্ষুগণ, এখানে কিছু কিছু পাপী ভিক্ষু আছে, যে ভিক্ষু শুদ্ধ ব্রক্ষ্মচারী, পরিশুদ্ধ ব্রক্ষ্মচর্যা পালনকারীকে অমূলকভাবে মিথ্যা দোষারোপ করতঃ অব্রক্ষ্মচারী বলে নিন্দা করে, তিরস্কার করে। হে ভিক্ষুগণ, এ’ধরণের পাপী ভিক্ষুই হল তৃতীয় মহাচোর, যারা এ’ঝতে বিদ্যমান।

(৪) হে ভিক্ষুগণ! জগতে চতুর্থ মহাচোর কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এখানে কোন কোন পাপধর্মী ভিক্ষু আছে, সঙ্ঘের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধায় প্রদত্ত দ্রব্যসামগ্রী ও ভূমি আদি, যেমন- বাগান, বাগানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, আবাস, আবাসের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, আসন, বেদি, বালিশ, বাহন, তামার কলসি, তামার পাত্র, তামার বয়ম, লোহার পাত্র, বাটালি, ছোট কুঠার, কুদাল, বাঁশ, গাছ, কাষ্ঠ নির্মিত দ্রব্য, মৃত্তিকা নির্মিত দ্রব্য ইত্যাদি দ্রব্য-সামগ্রী দ্বারা গৃহীদেরকে সন্তোষ বিধান করে থাকে। হে ভিক্ষুগণ, এ’প্রকারের পাপী ভিক্ষুকে চতুর্থ চতুর্থ মহাচোর ব্লা হয়, যারা এ’জগতে বিদ্যমান।

(৫) “হে ভিক্ষুগণ! পঞ্চম মহাচোর কিরূপ?” ভিক্ষুগণ এখানে কোন কোন পাপী ভিক্ষু আছে, নিজে লোকোত্তর আর্যমার্গ জ্ঞান লাভ না করে দেবতা, ব্রক্ষ্মা, মার, শ্রমণ-ব্রাক্ষ্মণ, প্রজাগণ ও দেব মনুষ্যগণ সহ এই জগত সাক্ষাৎ করতঃ উচ্চতর লোকোত্তর আর্য-মার্গজ্ঞান লাভ করেছে বলে প্রবঞ্চনা, শঠতার সহিত মিথ্যা প্রশংসা প্রকাশ করে থাকে। হে ভিক্ষুগণ, ইহাই পঞ্চম মহাচোর এবং সবার চেয়ে হীন, নিম্নতর। কি হেতু? ভিক্ষুগণ, সে পরের শ্রদ্ধা প্রদত্ত আহারাদি চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন করতঃ পরিভোগ করে। তখন ভগবান উপস্থিত ভিক্ষুদেরকে বুঝানোর জন্য এই গাথাটি ভাষণ করলেন-

যতটা নহে শান্ত, তার চেয়ে ততোধিক প্রকাশে অন্যকে,

ছল-চাতুরী, প্রবঞ্চনা, চৌর্যবৃত্তি সেই আহারে।

দেহে কাষায় বসনধারী নিত্য রত পাপাচারে,

অসংযত হয় সে নিত্য কায়বাক্যের আচারে।

পাপ কর্ম করে পাপী উৎপত্তি হয় নিরয়ে,

মূর্খ জনে জানে নাকো, গতি কি হয় মরণে।

অসংযত দুঃশীল পরদত্ত ভোজনে,

শ্রেয় তর হয় লৌহগোলক অগ্নিসম ভক্ষণে।

অতঃপর ভগবান সেই বজ্ঞুমুদা নদীতীরবাসী ভিক্ষুদের অনেক প্রকারে নিন্দা ও ভৎসনা করে চঞ্চলতা, দুর্বিনীতা, মহাতৃষ্ণা, অসন্তুষ্টিতা, সংজ্ঞাপ্রিয়তা এবং অলসতার কুফল বর্ণনা করলেন। তিনি অনেক প্রকারে গাম্ভীর্যতা, সুবিনীতা, অল্পেচ্ছুতা, সন্তুষ্টিতা, সম্ভ্রান্ততা, ধূতাঙ্গপ্রিয়তা, সঙ্ঘসেবাপ্রিয়তা, বীর্যারম্ভতার সুফল বর্ণনা করলেন। অতঃপর ভিক্ষুরা যাতে তদনুরুপ, তদনুকুল আচরণ করে, তেমন ভাবে ধর্মোপদেশ দেওয়ার পর ভিক্ষুদের সম্বোধন করে তুললেন-

“হে ভিক্ষুগণ! আমি দশবিধ প্রত্যয় ও অর্থবশে ভিক্ষুসঙ্ঘের জন্য শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করব; যথা- (১) সঙ্ঘের সুষ্ঠুতা, (২) সঙ্ঘের শান্তিভাব বৃদ্ধির জন্যে, (৩) দুর্দম্য ভিক্ষুগণকে দমনের জন্যে, (৪) সদাচারী (শীলবান) ভিক্ষুদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের জন্যে, (৫) বর্তমানে উৎপন্ন তৃষ্ণা সমূহ সংবরণের জন্যে, (৬) অনাগতজন্মের আসব সমূহের উৎপত্তিকে প্রতিঘাতের জন্যে, (৭) অপ্রসন্নের প্রসাদ উৎপন্নের জন্যে, (৮) প্রসন্নের প্রসাদ বৃদ্ধির জন্যে, (৯) সদ্ধর্মের স্থিতির জন্যে এবং (১০) বিনয়কে অনুগ্রহের জন্যে যা একান্তই হিতবহ। সেহেতু হে ভিক্ষুগণ! আমি ভিক্ষুদের জন্য এই শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করতেছি-

“যে ভিক্ষু লোকোত্তর মার্গফলাদি নিজে লাভ না করে শ্রদ্ধা- সম্মান, লাভ-সৎকারাদি প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ‘লোকোত্তর মার্গফলাদি লাভ করেছি’ এরূপ বলে কায়-বাক্য দ্বারা প্রকাশ করে এবং এরূপ বলে যে- “আমি এরূপ জানি; আমি এরূপ দেখি’ ইত্যাদি পাপচেতনায় জনগণের কাছে মিথ্যা বলে, তাহলে সেই ভিক্ষু ভিক্ষুত্ব জীবন হতে পরাজিত বা চ্যুত হবে এবং সে ভিক্ষুদের সহিত একত্রে বসবাসের অযোগ্য হবে।“

এরূপে ভগবান কর্তৃক ভিক্ষুদের জন্য এই শিক্ষাপদটি প্রজ্ঞাপ্ত হয়েছিল।

 

(১৯৬)⇒ সে সময়ে কিছু সংখ্যক ভিক্ষু দিব্য দৃষ্টিতে না দেখে; দেখে ধারণায়, লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্ত না হয়ে প্রাপ্ত হয়েছে ধারণায়, চারি আর্যসত্যজ্ঞান জ্ঞাত না হয়ে জ্ঞাত হয়েছে ধারণায় এবং নির্বাণ সাক্ষাৎ না করেও সাক্ষাৎ করেছে এরূপ ধারণায় অভিমান বশতঃ অন্যকে ব্যাখ্যা ও প্রকাশ করছিলেন। অপর সময়ে তাদের সকলের চিত্ত লোভ-দ্বেষ-মোহে অভিভূত হলে, তাদের মনে এরূপ সংশয় উৎপন্ন হল- “আমরা তো দিব্য দৃষ্টিতে না দেখে দেখি ধারণায়, লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্ত না হয়ে প্রাপ্ত হয়েছি ধারণায়, চারি আর্যসত্য জ্ঞান প্রাপ্ত না হয়েও হয়েছি ধারণায় এবং নির্বাণ সাক্ষাৎ না করেও সাক্ষাৎ করেছি’ এরূপ ধারণায় অভিমান বশতঃ অন্যকে ব্যাখ্যা ও প্রকাশ করছি। ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদে আমরা কি ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছি?” তারা এ’বিষয়ে আয়ুষ্মান আনন্দ স্থবিরকে প্রকাশ করলেন। আয়ুষ্মান আনন্দ স্থবিরও এ’বিষয়ে ভগবানকে প্রকাশ করলেন। তখন ভগবান আনন্দ স্থবিরকে বললেন, ‘হে আনন্দ! সত্য যদি সেই মূর্খ ভিক্ষুগণ দিব্য দৃষ্টিতে না দেখেও দেখে ধারণায়, লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্ত না হয়ে প্রাপ্ত হয়েছে ধারণায়, চারি আর্যসত্যজ্ঞান জ্ঞাত না হয়ে জ্ঞাত হয়েছে ধারণায় এবং নির্বাণ সাক্ষাৎ না করেও সাক্ষাৎ করেছে’ এরূপ ধারণায় অভিমান বশতঃ অন্যকে প্রচার ও ব্যাখ্যা করে থাকে, তাহলে তারা ইহা নিঃসন্দেহে মূর্খের ন্যায় কাজ করেছে, নির্বোধের ন্যায় কাজ করেছে।“ তৎপর ভগবান ভিক্ষুদেরকে সম্বোধন করে বললেন- হে ভিক্ষুগণ! তদ্ধেতু আমি ভিক্ষুদের জন্য এই শিক্ষাপদ নির্দেশ করছি-

 

(১৯৭)⇒ “যো পন ভিক্ষু অনভিজানং উত্তরিমনুসসধম্মং অত্তুপনাযিকং অলমরিযঞাণদসসনং সমুদাচরেয্য- ‘ইতি জানামি ইতি পসসামী’তি ততো অপরেন সমযেন সমনুজ্ঞাহীযমানো বা অসমনুজ্ঞাহীযমানো বা আপন্নো বিসুদ্ধাপেক্ষা এবং বদেয্য- ‘অজানমেবং, অবুসো, অবচং জানামি, অপসসং পসসামি। তুচ্ছং মুসা বিলপি’ন্তি অঞত্র অধিমানা, অযম্পি পারাজিকো’ হোতি অসংবাসো’তি।“

অনুবাদ- “যে ভিক্ষু লোকোত্তর মার্গফলাদি নিজে না করে শ্রদ্ধা-সম্মান, লাভ-সৎকারাদি প্রাপ্তির আশায় লোকোত্তর মার্গফলাদি লাভ করেছি’ এরূপ বলে কায়-বাক্য দ্বারা প্রকাশ করে এবং ইহা বলে যে- ‘আমি এরূপ দেখি, আমি এরূপ জানি’ ইত্যাদি পাপ চেতনায় মানুষদের কাছে মিথ্যা প্রকাশ করে, কিন্তু এরূপ প্রকাশ করাতে অপরাধ হয়েছে মনে করতঃ স্বীয় আত্মশুদ্ধির আশায় বলে যে- ‘আবুসোগণ! আমি না জেনে জানি, না দেখে দেখি এরূপ তুচ্ছ, মিথ্যাকথা বলেছি।‘ তবে একাগ্রতার সহিত ভাবনাদি করার ফলে সমাধি আদি আর্যমার্গ লাভ না করেও লাভ করেছে ধারণায় প্রকাশ করলে, ‘পারাজিকা’ হবে না কিন্তু অসৎ ইচ্ছায় বা পাপ চেতনায় বললে, সেই ভিক্ষু ভিক্ষুত্ব জীবন হতে পরাজিত হবে, চ্যুত হবে এবং সে ভিক্ষুদের সহিত একত্রে বসবাস করতে পারবে না।“

 

(১৯৮)⇒ ‘যোনি পনাতি’ অর্থে যা যেরূপ, যথাযুক্ত, যেই জাতি, যেই নাম, যেই গোত্র, যেই শীল, যেরূপ বসবাসকারী, যথা গোচর, স্থবির, নবীন অথবা মধ্যম ইত্যাদি ভিক্ষুকে বুঝায়।

‘ভিক্ষুতি’ বলতে ভিক্ষান্নজীবী ভিক্ষু, ভিক্ষাচর্যে উপনীত ভিক্ষু, ছিন্নবস্ত্রধারী ভিক্ষু, সীমাসম্মতি প্রাপ্ত ভিক্ষু, প্রতিজ্ঞাদ্বারা ভিক্ষু এবং ‘এসো ভিক্ষু!’ এরূপ আহ্বানের দ্বারা তথাগত কর্তৃক অনুমতি প্রাপ্ত ভিক্ষু, ত্রিশরণের আশ্রয় দ্বারা উপসম্পদা প্রাপ্ত ভিক্ষু, ভদ্র ভিক্ষু, সার ভিক্ষু, শৈক্ষা অশৈক্ষা ভিক্ষু, সমগ্র সঙ্ঘ কর্তৃক নানা প্রশ্নোত্তরে নিঃসন্দেহ হওতঃ  প্রত্যক্ষ উপস্থিতির মাধ্যমে ‘জ্ঞপ্তি চতুর্থ’ কর্মবাক্য পাঠ দ্বারা উপসম্পদা প্রদানের উপসম্পন্ন ভিক্ষু বুঝায়। এখানে সমগ্র সঙ্ঘ কর্তৃক উপরোল্লিখিত জ্ঞপ্তি চতুর্থ কর্মবাক্য দ্বারা উপসম্পদা প্রাপ্ত ভিক্ষুকে বুঝায়। এস্থলে এই অর্থেই ভিক্ষু অভিপ্রেত।

‘অনভিজানন্তি’ বলতে অসত্য, মিথ্যা ধারণায় যাহা অবিদ্যমান, অজানা-অদেখা অবস্থায় নিজে কুশল ধর্ম অর্থাৎ লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্ত না হয়ে হয়েছে ধারণায়- ‘আমার দ্বারা কুশল ধর্মাদি (লোকোত্তর জ্ঞান) অধিগত হয়েছে’ এরূপ মনে করাকে বুঝায়।

‘উত্তরিমনুসস ধম্মো’ বলতে ধ্যান, বিমোক্ষ, সমাধি, সমাপত্তি (অর্থাৎ সমাধি লাভের পর প্রীতি উপভোগ অবস্থা), জ্ঞানদর্শন মার্গভাবনা দ্বারা ফলাদি সাক্ষাৎ, ক্লেশপ্রহাণ, পঞ্চনীবরণাদি অতিক্রম প্রভৃতি চিত্তের নিরাসক্ত, নিশ্চলাবস্থায় আনন্দানুভবকে বুঝায়।

‘অত্তুপনাযিকন্তি’ বলতে যত প্রকার কুশল ধর্ম আছে, সেগুলোতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা যতপ্রকার কুশল ধর্ম রয়েছে সেই কুশল ধর্ম সমূহ নিজের মধ্যে উৎপন্ন করা।

‘ঞাণন্তি’ অর্থে ত্রিবিধ বিদ্যা। ‘দসসনন্তি’ অর্থে যাহা জ্ঞান তাহাই দর্শন আর যাহা দর্শন তাহাই জ্ঞান।

‘সমুদাচরেয্যাতি’ অর্থে স্ত্রী বা পুরুষ বা গৃহস্থ কিংবা প্রব্রজ্যিতকে প্রকাশ করাকে বুঝায়।

‘ইতি জানামি ইতি পসসামীতি’ বলতে ‘এই সকল ধর্ম আমি জানি, এই সকল বিষয় আমি দেখি; যে সকল ধর্ম আছে সে সকল ধর্ম আমার দ্বারা জ্ঞাত হয়েছে আর যে সকল সন্দ্রিষ্টিক ধর্ম আছে তাও আমি দর্শন করতে পারি’।

‘ততো অপরেন সময়েনাতি’ বলতে যেই ক্ষণে উদিত হয়ে কৃত হয়, সেই মুহূর্তে স্থিতি এবং সেই ক্ষণেই বিলয় হওয়াকে বুঝায়।

‘সমনুজ্ঞাহীযমানোতি’ বলতে এখানে যেই বিষয়ে পরিজ্ঞাত হয়, সেই বিষয়ে পরিজ্ঞাত হওয়ার সময়, কাল, স্থান ও প্রকারকে বুঝাচ্ছে। যেমন- ‘উহা কোন বিষয়ে অধিগত (জ্ঞাত) হল? ঐ বিষয়টি কিরূপে অধিগত হল? কখন উহা অধিগত হয়েছে? কোথায় উহা অধিগত হয়েছে? এবং ‘ঐ ক্লেশসমূহ কত প্রকারে প্রহীন হয়েছে? কোন কোন বিষয়ে বা ধর্মে তুমি অধিগত বা জ্ঞাত হয়েছ?’ এরূপে ইত্যাদি জিজ্ঞাসাবাদের দ্বারা স্থান, কাল, সময়, বিষয় ও প্রকারাদি পরিজ্ঞাত হওয়াকে বুঝায়।

‘অসমনুজ্ঞাহীযমানোতি’ অর্থে পূর্বোক্ত বিষয় সম্পর্কে কোন কিছুই জ্ঞাত না হওয়া।

‘আপন্নোতি’ বলতে ভিক্ষু পাপ চেতনায়, পাপ ইচ্ছাপরবশ হওতঃ লাভ- সৎকারাদির প্রত্যাশায় মিথ্যা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে লোকোত্তর জ্ঞান লাভ না করেও লাভ করেছে বলে প্রকাশ করে ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হওয়া।

‘বিশুদ্ধপেক্ষোতি’ বলতে বিশুদ্ধ কামনায় বা গৃহী বা উপাসক, সেবক অথবা শ্রামণের হওয়ার ইচ্ছায় প্রকাশ করাকে বুঝায়।

‘অজানমেবং আবুসো অবচং জানামি অপসসং পসসামীতি’ বলতে “এই সকল ধর্ম সমূহ আমি জানি না, এই সকল ধর্ম আমার দ্বারা জ্ঞাত হওয়া সম্ভব হয় নাই, যে সকল ধর্মের মধ্যে ‘সন্দ্রিষ্টিক’ ধর্ম রয়েছে, সে সকল ধর্মও আমি দর্শন করতে অক্ষম।“

‘তুচ্ছংমুসা বিলপিন্তি’ অর্থে আমার দ্বারা নীচ, তুচ্ছ কথা বলা হয়েছে, মিথ্যা বাক্য বলা হয়েছে, শঠতাপূর্ণ ও প্রতারণাপূর্ণ বাক্য বলা হয়েছে, আমার দ্বারা না জানা সত্বেও জানা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে।‘

‘অঞঞত্র অধিমানাতি’ অর্থে নিজে অধিমান বা দৃঢ়তার সঙ্গে স্থিত থাকা বুঝায়।

‘অযম্পীতি’ অর্থে পূর্বে বর্ণিত বিষয়কে বুঝায়।

‘পারাজিকো হোতীতি’ বলতে তালবৃক্ষের মস্তক ছিন্ন হলে, যেমন পুনরোদগম, পুনর্বুদ্দির সম্ভাবনা থাকে না; তদ্রুপ ভিক্ষুও যদি পাপীচ্ছু হওতঃ ইচ্ছাপরবশ হয়ে লাভ-সৎকারাদির পাওয়ার আশায় নীচ তুচ্ছ বাক্য বলে, মিথ্যা বাক্য বলে, শঠতা ও প্রতারণাপূর্ণ বাক্য বলে এবং লোকোত্তর জ্ঞানাদি না হয়েও প্রাপ্ত হয়েছে বলে, জন সমক্ষে প্রচার করে, তাহলে সে অশ্রামণ, অশাক্যপুত্র বলে কথিত হয়। সেজন্য ইহা ‘পারাজিকা’ আপত্তি বলে উক্ত হয়েছে।

‘অসংবাসোতি’ বলতে একই কর্মবাক্য, একই প্রজ্ঞপ্তি, বিনয়-শীল, একই শিক্ষাকে সংবাস বুঝায়। ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ ভিক্ষুর সঙ্গে এসকল সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করাকে ‘অসংবাস’ বলা হয়।

 

(১৯৯)⇒ ‘উত্তরিমনুসসধম্মো’ বলতে ধ্যান, বিমোক্ষ, সমাধি,সমাপত্তি (ধ্যান লাভের পর আনন্দোপভোগ অবস্থা), জ্ঞানদর্শন মার্গ ভাবনাদি করতঃ অরহত্ব ফলাদি সাক্ষাৎ করণ, সকল প্রকার ক্লেশ প্রহার বা নিরোধ ও পঞ্চনীবরণাদি ধ্বংস করে চিত্তকে চিরাসক্ত, নিষ্কলংক, পবিত্র রেখে প্রীতি, সুখে অভিরমিত হওয়াকে বুঝায়।

‘ঝানন্তি’ অর্থে প্রথম ধ্যান, দ্বিতীয় ধ্যান, তৃতীয় ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যানকে বুঝায়।

‘বিমোক্ষতি’ বলতে শূন্যতা(1) বিমোক্ষ, অনিমিত্ত(2) বিমোক্ষ ও অপ্রণিহিত (3) বিমোক্ষ।

‘সমাধীতি’ বলতে শূন্যতা সমাধি, অনিমিত্ত সমাধি ও অপণিহিত সমাধি(4)।

‘সমাপত্তীতি’ বলতে শূন্যতা সমাপত্তি, অনিমিত্ত ও অপ্রনিহিত সমাপত্তি।

‘ঞাণদসসনান্তি’ বলতে ত্রিবিধ বিদ্যা। ‘মজ্ঞ ভাবনাতি’ বলতে চতুর্বিধ সতিটঠান, চতুর্বিধ সম্যক প্রধান, চতুর্বিধ ঋদ্ধিপাদ, পঞ্চেন্দ্রিয়, পঞ্চবল, সপ্ত বোজ্ঝাঙ্গ এবং আর্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গ ভগবানকে বুঝায়।

‘ফলসচ্ছিকিরিযাতি’ বলতে স্রোতাপত্তিফল, সকৃদাগামীফল, অনাগামীফল, এবং অরহত্বফল সাক্ষাৎ করণকে বুঝায়।

‘কিলেসস্পহানন্তি’ বলতে রাগ পহাণ বা পরিহার, দ্বেষ পরিহার ও মোহ পরিহারকে বুঝায়।

‘বিনীবরণতা চিত্তসসতি’ বলতে লোভচিত্ত হতে মুক্ত, দ্বেষচিত্ত হতে মুক্ত, মোহচিত্ত হতে মুক্তকে বুঝায়।

‘সুঞঞাগারে অভিরতীতি’ বলতে প্রথম ধ্যান, দ্বিতীয় ধ্যান, তৃতীয় ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান লাভ করে সকল প্রকার অকুশলকে পরাভূত করতঃ কুশলচিত্ত নিয়ে বিবেকস্থানে প্রীতিসুখে অবস্থান করা।

(1)’শূন্যতা’ বলতে লোভ, হিংসা, অজ্ঞান হতে সম্পূর্ণরূপে চিত্তকে শূন্য করার্থে শূন্যতা বুঝায়।
(2)’অনিমিত্ত’ বলতে রাগ, দ্বেষ, মোহ প্রভৃতি অকুশল পাপ হতে চিত্তকে সম্পূর্ণরূপে নিমিত্ত বা বিষয়াভিভূত অর্থাৎ অকলুষিত রাখার্থে অনিমিত্ত বুঝায়।
(3)’অপ্রণিহিত’ বলতে লোভ, দ্বেষ, অজ্ঞান প্রভৃতি কুশল কর্ম দ্বারা কার্য সম্পাদনের অভাব হেতু ‘অপ্রণিহিত’ বুঝায়।
(4)’সমাপত্তি’ অর্থে এখানে আর্যগণ কর্তৃক ধ্যান ও মার্গফলাদি প্রাপ্তির পর যে সুখ উপলব্ধি করেন।

 

(২০০)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ(1) করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(1)মিথ্যা ভাষণ করার কিংবা মিথ্যা বাক্য বলার অনেক প্রভেদ রয়েছে। যথা- নিজের নিকটে লোকোত্তর জ্ঞান আছে বলে মিথ্যা প্রকাশ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। অপর ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ করলে, ‘সঙ্ঘাদিশেষ’ আপত্তি হয়। এবং সঙ্ঘাদিশেষ হয়েছে বলে মিথ্যা দোষারোপ করলে, ‘পাচিত্তিয়’; আচার বিপত্তি দ্বারা বা পঞ্চাপত্তি গল্প দ্বারা মিথ্যা অভিযোগ করলে, ‘দুক্কট’। যেই ভিক্ষু তোমার বিহারে বাস করে, সে অরহৎ এরূপ ইত্যাদি কূটবাক্য দ্বারা নিজের লোকোত্তর গুণ প্রকাশ করলে, ‘থুল্লচ্চয়’ অপরাধ হয়।

(২) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি- সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে চার প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই চার প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে’ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে।

(৩) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, এবং (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে।

(৪) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রিতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ছয় প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই ছয় প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে’, (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, এবং (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে।

(৫) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের বশবর্তী হয়ে।

 

(২০১)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছি’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

 (২) ‘আমি প্রথম ধ্যান প্রাপ্ত হয়ে, তাতে প্রীতি- সুখে তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছি’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে চার প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই চার প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে।‘

(৩) ‘আমি প্রথম ধ্যান প্রাপ্ত হয়ে, তাতে প্রীতি- সুখে তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছি’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে।

(৪) ‘আমি প্রথম ধ্যান প্রাপ্ত হয়ে, তাতে প্রীতি- সুখে তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছি’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ছয় প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই ছয় প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে।

(৫) ‘আমি প্রথম ধ্যান প্রাপ্ত হয়ে, তাতে প্রীতি- সুখে তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছি’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে না যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের বশবর্তী হয়ে।

 

(২০২)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করেছি,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করেছি,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে চার প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই চার প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে।

(৩) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করেছি,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, এবং (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে।‘

(৪) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করেছি,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ছয় প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই ছয় প্রকারে; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, এবং (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে।‘

(৫) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করেছি,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

 

(২০৩)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভী’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভী’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে চার প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই চার প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে।‘

(৩) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভী’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে।

(৪) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভী’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ছয় প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই ছয় প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে।

(৫)‘আমি প্রথম ধ্যান লাভী’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

 

(২০৪)⇒ (১) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে চার প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই চার প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে।

(৩) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৫)অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে।

(৪) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ছয় প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই ছয় প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫)অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৬)মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে।

(৫) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে, ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫)অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

 

(২০৫)⇒ (১) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে চার প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই চার প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,‘ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে।

(৩) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,‘ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে। এবং (৫)অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে।

(৪) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,‘ এবং (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫)অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে।

(৫) ‘আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে পাঁচ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই পাঁচ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩)  মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,‘ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে,’ (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে,’ (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে,’ এবং (৬) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।‘

[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এখানে পরবর্তী ধ্যান সমুহের বর্ণনা পূর্বোক্ত প্রথম ধ্যানের বর্ণনার ন্যায় বিস্তারিত জ্ঞাতব্য]

 

(২০৬)⇒ ‘আমি প্রথম ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, আমি চতুর্থ ধ্যান প্রাপ্ত হয়ে, তাতে প্রীতি-সুখে রত আছি, আমার দ্বারা চতুর্থ ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমি চতুর্থ ধ্যান লাভী, আমি চতুর্থ ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’, (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে’, (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

(২০৭)⇒ (১) ‘আমি শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ অধিগত করে; তাতে রত ছিলাম, অধিগতি করছি, আমার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে, আমি অপ্রণিহিত বিমোক্ষ লাভী, অপ্রণিহিত বিমোক্ষে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা অপ্রণিহিত বিমোক্ষ সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। তিন প্রকার; (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি’, (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।

(২) ‘আমি শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি অধিগত করে; তাতে অবস্থান করছিলাম, অধিগত করছি, আমার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে, আমি অপ্রণিহিত সমাপত্তি লাভী, অপ্রণিহিত সমাপত্তিতে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা অপ্রণিহিত স্মাপত্তি সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ হয়েছে।‘

(৩) ‘আমি ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-প্রস্থান … চারি সম্যক প্রধান … চারি ঋদ্ধিপাদ … পঞ্চ ইন্দ্রিয় … পঞ্চবল … সপ্ত-বোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ অধিগত করে; তাতে রত ছিলাম, অধিগত করছি, আমার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে, আমি আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ লাভী, আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা সাক্ষাৎকৃত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৪) ‘আমি স্রোতাপত্তি মার্গ-ফল … সকৃদাগামী মার্গ-ফল … অনাগামী মার্গ-ফল … অরহত্ব মার্গ-ফল অধিগত করে; তাতে রত ছিলাম, অধিগত করছি, আমার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে, আমি অরহত্ব মার্গ ফল লাভী, অরহত্ব মার্গ-ফলে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা অরহত্ব মার্গ-ফল সাক্ষাৎ করা হয়েছে,’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি ম্মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৫) ‘আমার চিত্ত হতে রাগ, দ্বেষ ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন, নিক্ষিপ্ত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৬) ‘আমার চিত্ত রাগ মুক্ত, দ্বেষ মুক্ত ও অজ্ঞান মুক্ত হয়েছে, ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

[সুদ্ধিক বর্ণনা সমাপ্ত]

 

খন্ডচক্ক বর্ণনা

(২০৮)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান ও দ্বিতীয় ধ্যান … প্রথম ধ্যান ও তৃতীয় ধ্যান … প্রথম ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, আমি প্রথম ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান প্রাপ্ত হয়ে; তাতে প্রীতি-সুখে রত আছি, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমি প্রথম ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান লাভী, প্রথম ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার, যথা- (১) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি প্রথম ধ্যান ও শূন্যতা বিমোক্ষ … প্রথম ধ্যান ও অনিমিত্ত বিমোক্ষ … প্রথম ধ্যান ও অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … প্রথম ধ্যান ও শূন্যতা সমাধি … প্রথম ধ্যান ও অনিমিত্ত সমাধি … প্রথম ধ্যান ও অপ্রণিহিত সমাধি … প্রথম ধ্যান ও শূন্যতা সমাপত্তি … প্রথম ধ্যান ও অনিমিত্ত সমাপত্তি … প্রথম ধ্যান ও অপ্রণিহিত সমাপত্তি … প্রথম ধ্যান ও ত্রিবিদ্যা অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, প্রথম ধ্যান ও ত্রিবিদ্যা অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত আছি, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও ত্রিবিদ্যা অধিগত করা হয়েছে, আমি প্রথম ধ্যান ও ত্রিবিদ্যা লাভী, প্রথম ধ্যান ও ত্রিবিদ্যাতে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও ত্রিবিদ্যা সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ত্রিবিধ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই ত্রিবিধ প্রকার, যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ,আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৩) ‘আমি প্রথম ধ্যান ও চারি স্মৃতি-প্রস্থান … প্রথম ধ্যান ও চারি সম্যক-প্রধান … প্রথম ধ্যান ও চারি ঋদ্ধিপাদ … প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-বল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-বল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত আছি, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-বল অধিগত করা হয়েছে, আমি প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-বল লাভী, প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-বলে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও পঞ্চ-বল সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ত্রিবিধ প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই ত্রিবিধ প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

 

(২০৯)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান ও সপ্তবোধ্যঙ্গ … আমি প্রথম ধ্যান ও আর্য-অষ্টাঙ্গিক … আমি প্রথম ধ্যান ও স্রোতাপত্তিফল … আমি প্রথম ধ্যান ও সকৃদাগামীফল … আমি প্রথম ধ্যান ও অনাগামী ফল … আমি প্রথম ধ্যান ও অরহত্বফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছিলাম, আমি প্রথম ধ্যান ও অরহত্বফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছি, আমার দ্বারা আমি প্রথম ধ্যান ও অরহত্ব ফল অধিগত করা হয়েছে, আমি প্রথম ধ্যান ও অরহত্ব ফল লাভী, আমি প্রথম ধ্যান ও অরহত্ব ফলে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান ও অরহত্ব ফল সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত আছি, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমি প্রথম ধ্যান লাভী, প্রথম ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে, আমার চিত্ত রাগ, দ্বেষ ও অজ্ঞান মুক্ত, বর্জিত, পরিত্যক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত রাগমুক্ত, দ্বেষমুক্ত ও অজ্ঞানমুক্ত এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

[খন্ডচক্ক বর্ণনা সমাপ্ত]

 

(২১০)⇒ (১) ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান ও তৃতীয় ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান ও শূন্যতা বিমোক্ষ … দ্বিতীয় ধ্যান ও অনিমিত্ত বিমোক্ষ … দ্বিতীয় ধ্যান ও অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … দ্বিতীয় ধ্যান ও শূন্যতা সমাধি … দ্বিতীয় ধ্যান ও অনিমিত্ত সমাধি … দ্বিতীয় ধ্যান ও অপ্রণিহিত সমাধি … দ্বিতীয় ধ্যান ও শূন্যতা সমাপত্তি … দ্বিতীয় ধ্যান ও অনিমিত্ত সমাপত্তি … দ্বিতীয় ধ্যান ও অপ্রণিহিত সমাপত্তি … দ্বিতীয় ধ্যান ও ত্রিবিদ্যা … দ্বিতীয় ধ্যান ও চারি ঋদ্ধি-প্রস্থান … দ্বিতীয় ধ্যান ও পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … দ্বিতীয় ধ্যান ও পঞ্চ-বল … দ্বিতীয় ধ্যান ও সপ্তবোধ্যঙ্গ … দ্বিতীয় ধ্যান ও আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … দ্বিতীয় ধ্যান ও স্রোতাপত্তি ফল … দ্বিতীয় ধ্যান ও সকৃদাগামী ফল … দ্বিতীয় ধ্যান ও সকৃদাগামী ফল … দ্বিতীয় ধ্যান ও অনাগামী ফল … দ্বিতীয় ধ্যান ও অরহত্ব ফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, আমার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে, দ্বিতীয় ধ্যান ও অরহত্ব ফল লাভী, দ্বিতীয় ধ্যান ও অরহত্ব ফলে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা দ্বিতীয় ধ্যান ও অরহত্ব ফল সাক্ষাৎকৃত হয়েছে,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, আমার দ্বারা দ্বিতীয় ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমি দ্বিতীয় ধ্যান লাভী, দ্বিতীয় ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা দ্বিতীয় ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে,’ আমার লোভ, দ্বেষ ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভমুক্ত, হিংসামুক্ত ও অজ্ঞানমুক্ত’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৩) ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান ও প্রথম ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, অবস্থান করছি, আমার দ্বারা দ্বিতীয় ধ্যান ও প্রথম ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমি দ্বিতীয় ধ্যান ও প্রথম ধ্যান লাভী, দবিতীয়ব ধ্যান ও প্রথম ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার দ্বারা দ্বিতীয় ধ্যান ও প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

 

বদ্ধচক্ক

[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এরূপে একেকটি সংক্ষিপ্ত মূলকে চক্রবৃদ্ধি বা বিস্তৃতরুপে রূপান্তরিত করে জ্ঞাতব্য]

 

সংক্ষিপ্তরূপ বর্ণনা

(২১১)⇒ (১) ‘আমি তৃতীয় ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান ও শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … তৃতীয় ধ্যান ও শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … তৃতীয় ধ্যান ও শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-প্রস্থান … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি-পাদ … পঞ্চ ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তিফল … সকৃদাগামীফল … অনাগামী ফল … অরহত্বফল অধিপতি করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম রত আছি, আমার দ্বারা অধিগত হয়েছে, আমি তৃতীয় ধ্যান ও অরহত্বফল লাভী, আমি অবস্থানকারী, আমার তৃতীয় ধ্যান ও অরহত্বফল সাক্ষাৎকৃত হয়েছে,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি তৃতীয় ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, আমার দ্বারা তৃতীয় ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমি তৃতীয় ধ্যান লাভী, আমি তৃতীয় ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার তৃতীয় ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান মুক্ত, বর্জিত, পরিত্যক্ত, প্রহীণ এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভ, দ্বেষ ও অজ্ঞান মুক্ত’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৩) আমি তৃতীয় ধ্যান ও প্রথম ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান ও দ্বিতীয় ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, আমার দ্বারা তৃতীয় ধ্যান ও দ্বিতীয় ধ্যান ও দ্বিতীয় ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার তৃতীয় ধ্যান ও দ্বিতীয় ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত, এবং আমি প্রথম ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান অধিগত করা হয়েছে, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমি চতুর্থ ধ্যান লাভী, আমি চতুর্থ ধ্যানে অবস্থানকারী, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমার দ্বারা চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত করা হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা করছি,’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

 

(২১২)⇒ (১) ‘আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমি শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমি অপ্রণিহিত সমাপত্তি লাভী, অবস্থানকারী, আমার দ্বারা সাক্ষাৎকৃত হয়েছে,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমার চিত্ত মোহ (অজ্ঞান) মুক্ত এবং আমি ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-প্রস্থান … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধিপাদ অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, অবস্থান করছি, আমার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমি চারি ঋদ্ধিপাদ লাভী, চারি ঋদ্ধিপাদে অবস্থানকারী, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমার দ্বারা চারি-ঋদ্ধিপাদ সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ অপরাধ হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

 

(২১৩)⇒ (১) ‘আমার চিত্ত অজ্ঞানমুক্ত এবং আমি পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ, স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল’ অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, আমার দ্বারা অরহত্ব ফল অধিগত করা হয়েছে, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমি অরহত্ব ফল লাভী, অরহত্ব ফলে অবস্থানকারী, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমার দ্বারা অরহত্ব ফল সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত এবং আমার লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত … হিংসা মুক্ত … লোভ মুক্ত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে ত্রিবিধ প্রকারে … চারি প্রকারে … পঞ্চ প্রকারে … ষড় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।‘

[এক মূল্ক বর্ণনা সমাপ্ত]

[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এস্থলে যেরূপ এক মূলকের বিস্থারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেরূপে দুই মূলকাদির বর্ণনাও বিস্তারিত ভাবে জ্ঞাতব্য।]

 

সর্বমূলক বর্ণনা

(২১৪)⇒ ‘আমি প্রথম ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান … শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সামপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-প্রস্থান … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি পাদ … পঞ্চ ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্ত-বোধ্যঙ্গ … আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, রত আছি, অধিগত করেছি, আমার লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভ মুক্ত, হিংসা মুক্ত এবং অজ্ঞান মুক্ত হয়েছে,’ এরূপ প্রকাশ করতে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা ভাষণ করলে, ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

সর্বমূলক বর্ণনা সমাপ্ত।

[সুদ্ধিকরার কথা বর্ণনা সমাপ্ত]

 

(২১৫)⇒ (১) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করতে ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে (বলা মাত্রই) সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি তৃতীয় ধ্যান লাভ করে, প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সেও এ’বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৩) ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ ইহা প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি চতুর্থ ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সেও উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৪) ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-প্রস্থান … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি-পাদ … পঞ্চ-পাদ … পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য অষ্টাঙ্গিকমার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল, ‘আমার লোভ, দ্বেষ ও মোহ (অজ্ঞান) বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভমুক্ত, হিংসামুক্ত এবং অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে … মিথ্যা বললে, যাকে বলে সেও উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

[বথু বিসারক এক মূলক কন্ডচক্ক বর্ণনা সমাপ্ত]

 

(২১৬)⇒ (১) ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে আমি ‘তৃতীয় ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম, এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি চতুর্থ ধ্যান লাভ করে, প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হল, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৩) ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।‘

[বথু বিসারক এক মূলক বদ্ধচক্ক বর্ণনা সমাপ্ত]

 

মূল সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

(২১৭)⇒ (১) ‘আমার চিত্ত অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি প্রথম ধ্যান অধিগত করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমার চিত্ত অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে’ ইহা প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমার চিত্ত হিংসামুক্ত হয়েছে’ এরূপ সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

[বথু বিসারকের এক মূলক বর্ণনা সমাপ্ত]

[বিশেষ দ্রষ্টব্য- এখানে যেরূপে এক মূলকের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেরূপে দুই মূলকাদির বর্ণনাও বিস্তারিত ভাবে জ্ঞাতব্য।]

 

সর্বমূলক বর্ণনা

(২১৮)⇒ ‘আমি প্রথম ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান … শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-উপস্থাপন … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি-পাদ … চারি সম্যক-প্রধান … পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করছিলাম, আমার লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত অজ্ঞান মুক্ত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

 

(২১৯)⇒ (১) ‘আমি দ্বিতীয় … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান … শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-উপস্থাপন … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি-পাদ … চারি সম্যক-প্রধান … পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, ‘আমার লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভমুক্ত, হিংসামুক্ত এবং অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিয়াম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘আমি তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান … শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-উপস্থাপন … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধিপাদ … চারি সম্যক-প্রধান … পঞ্চ ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, ‘আমার লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভমুক্ত, হিংসামুক্ত এবং অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি প্রথম ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমি দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে, তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলাম’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি’ এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৩) ‘আমার চিত্ত অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে এবং আমি প্রথম ধ্যান, দ্বিতীয় ধ্যান, তৃতীয় ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান … শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-উপস্থাপন … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি-পাদ … চারি সম্যক-প্রধান … পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলাম, ‘আমার লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আমার চিত্ত লোভমুক্ত হয়েছে’ এরূপ প্রকাশ করার ইচ্ছুক হয়ে ‘আমার চিত্ত হিংসামুক্ত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

বথু বিসারকের সর্বমূল বর্ণনা সমাপ্ত।

বথু বিসারকের চক্কপেয়্যাল সমাপ্ত।

[বথুকামবার কথা বর্ণনা সমাপ্ত]

 

(২২০)⇒ (১) ‘যেই ভিক্ষু আপনার বিহারে অবস্থান করেছিলেন, সেই ভিক্ষু প্রথম ধ্যান লাভ করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলেন … রত আছেন … তার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে … সেই ভিক্ষু প্রথম ধ্যান লাভী, প্রথম ধ্যানে অবস্থানকারী … তার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(২) ‘যেই ভিক্ষু আপনার বিহারে অবস্থান করেছিলেন, সেই ভিক্ষু প্রথম ধ্যান লাভ করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলেন … রত আছেন … তার দ্বারা অধিগত করা হয়েছে … সেই ভিক্ষু প্রথম ধ্যান লাভী, প্রথম ধ্যানে অবস্থানকারী … তার দ্বারা প্রথম ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

(৩) ‘যেই ভিক্ষু আপনার বিহারে অবস্থান করেছিলেন, সেই ভিক্ষু দ্বিতীয় ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান … শূন্যতা বিমোক্ষ … অনিমিত্ত বিমোক্ষ … অপ্রণিহিত বিমোক্ষ … শূন্যতা সমাধি … অনিমিত্ত সমাধি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাধি … শূন্যতা সমাপত্তি … অনিমিত্ত সমাপত্তি … অপ্রণিহিত সমাপত্তি … ত্রিবিদ্যা … চারি স্মৃতি-উপস্থাপন … চারি সম্যক-প্রধান … চারি ঋদ্ধি-পাদ … চারি সম্যক-প্রধান … পঞ্চ-ইন্দ্রিয় … পঞ্চ-বল … সপ্তবোধ্যঙ্গ … আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ … স্রোতাপত্তি ফল … সকৃদাগামী ফল … অনাগামী ফল … অরহত্ব ফল লাভ করে; তাতে রত ছিলেন … রত আছেন … তার দ্বারা অরহত্বফল সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি, এবং (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৪) ‘যেই ভিক্ষু আপনার বিহারে অবস্থান করেছিলেন, সেই ভিক্ষুর লোভ, হিংসা ও অজ্ঞান বর্জিত, পরিত্যক্ত, মুক্ত, প্রহীন এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই তিন প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘

(৫) ‘যেই ভিক্ষু আপনার বিহারে অবস্থান করেছিলেন, সেই ভিক্ষুর চিত্ত লোভমুক্ত, হিংসামুক্ত ও অজ্ঞানমুক্ত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বল সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার;যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে।‘ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

(৬) ‘যেই ভিক্ষু আপনার বিহারে বাস করেছিলেন, সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে (শূন্যস্থানে) প্রথম ধ্যান … দ্বিতীয় ধ্যান … তৃতীয় ধ্যান … চতুর্থ ধ্যান লাভ করে; তাতে প্রীতি-সুখে অবস্থান করেছিলেন … অবস্থান করছেন … তার দ্বারা চতুর্থ ধ্যান অধিগত করা হয়েছে … সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান লাভী … অবস্থানকারী … সেই ভিক্ষুর দ্বারা শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ম আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধাণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এস্থলে যেরূপে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেরূপে অবশিষ্ট বর্ণনাগুলো বিস্তারিত ভাবে জ্ঞাতব্য]

 

(২২১)⇒ (১) ‘যেই ভিক্ষু আপনার প্রদত্ত চীবর পরিভোগ করেছিলেন, পিন্ডপাত পরিভোগ করছিলেন … শয়নাসন পরিভোগ করেছিলেন … বৈকালিক পানীয় ও ভৈষজ্য ঔষধ-পথ্যাদি পরিভোগ করেছিলেন, সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান লাভ করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলেন … রত আছেন … তার দ্বারা চতুর্থ ধ্যান অধিগত হয়েছে … সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান লাভী … অবস্থানকারী … সেই ভিক্ষু কর্তৃক শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

(২) ‘যেই ভিক্ষুর দ্বারা আপনার বিহার পরিভুক্ত হয়েছি … চীবর পরিভুক্ত হয়েছি … পিন্ডপাত পরিভুক্ত হয়েছি … শয়নাসন পরিভুক্ত হয়েছি … বৈকালিক পানীয় ও ভৈষজ্য ঔষধ-পথ্যাদি পরিভুক্ত হয়েছিলেন, সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলেন … রত আছেন … তাঁর দ্বারা চতুর্থ ধ্যান অধিগত হয়েছে … সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান লাভী … অবস্থানকারী … সেই ভিক্ষু কর্তৃক শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপ সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

(৩) ‘আপনি এসে যেই ভিক্ষুকে বিহার দান দিয়েছিলেন … চীবর দান দিয়েছিলেন … পিন্ডদান দিয়েছিলেন … শয়নাসন দান দিয়েছিলেন … বৈকালিক পানীয় ও ভৈষজ্য ঔষধ-পথ্যাদি দান দিয়েছিলেন, সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান অধিগত করে; তাতে প্রীতি-সুখে রত ছিলেন … রত আছেন … তার দ্বারা চতুর্থ ধ্যান অধিগত হয়েছে … সেই ভিক্ষু শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান লাভী … অবস্থানকারী … সেই ভিক্ষু কর্তৃক শূন্যাগারে চতুর্থ ধ্যান সাক্ষাৎকৃত হয়েছে’ এরূপে সজ্ঞানে তিন প্রকারে … চার প্রকারে … পাঁচ প্রকারে … ছয় প্রকারে … সাত প্রকারে মিথ্যা বললে, যাকে বলে সে উক্ত বাক্যটি বুঝতে সমর্থ হলে, ভিক্ষুর ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়। আর যদি বাক্যটি বুঝতে অসমর্থ হয়, তাহলে ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়। সেই সাত প্রকার; যথা- (১) মিথ্যা বলার পূর্বে সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করতে যাচ্ছি,’ (২) মিথ্যা বলার সময় সে জানে যে- ‘আমি মিথ্যা ভাষণ করছি,’ (৩) মিথ্যা বলার পর সে জানে যে- ‘আমার দ্বারা মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে,’ (৪) অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, (৫) অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে, (৬) মিথ্যা রুচিতে বশবর্তী হয়ে, এবং (৭) মিথ্যা সঙ্কল্পের উপর বশবর্তী হয়ে।

পঞ্চদশ প্রকারে পেয়্যাল বর্ণনা সমাপ্ত।

প্রত্যয়-প্রতিসংযুক্তবার কথা সমাপ্ত।

[লোকোত্তর ধর্ম চক্কপেয়্যাল সমাপ্ত]

 

(২২২)⇒ অনাপত্তি- অধিমান বা দৃঢ়ভাবে ধ্যান করার ফলে অপ্রাপ্ত বিষয়ে প্রাপ্ত ধারণায় প্রকাশ করলে, সৎ অভিপ্রায়ে প্রকাশ করলে, উন্মাদ হলে, বিক্ষিপ্ত চিত্ত হলে, বেদনাগ্রস্থ হলে এবং আদিকর্মিকের ক্ষেত্রে অনাপত্তি।

 

বিনীত বথু-উদান গাথা

অপ্রাপ্ত বিষয়ে প্রাপ্ত ধারণায়, অরণ্যে,

পিন্ডাপাত, আচার্য আর আচরণে।

সংযোজন, নির্জনে বিহার, প্রত্যুত্থানে,

দুষ্কর নহে, বীর্য হেতু মৃত্যুর ভয় নাই এ’জীবনে।

বন্ধু, ভয়, অনুশোচনায় আর সম্যকভাবে পরিচালনায়,

বীর্য, ধ্যান, আরাধনা, অতঃপর দুই উপলব্ধি, অধ্যবসায়।

পঞ্চ কাহিনী, ব্রাক্ষ্মণের, তিন সুগভীর জ্ঞানে,

আগার, আবরণ, কাম রতি আর প্রস্থানে।

অস্থি, মাংসপিন্ড, উভয় গোঘাতকে,

পক্ষিশিকারী চর্মহীন, ভেড়া ঘাতকে,

অসি, শূকর ঘাতক, বল্লম, ব্যাধ, তীর, বিচারক,

সুচ, রথচালক, যে ছিল দরজি; সে হয় পর-নিন্দুক,

অন্ডকোষ বহনকারী ছিল পূর্বে গ্রাম প্রবঞ্চক।

কূপে পতিত সে ছিল পর-দার লঙ্ঘনকারী,

দুষ্ট ব্রাক্ষ্মণ পরে হয় বিষ্টা-আহারী।

চর্মহীন স্ত্রী ছিল পাপাচারিনী,

মন্দভাষী স্ত্রী ছিল প্রিয়ভাষীনী।

অঙ্গারে প্রক্ষিপ্ত সতিন ছিল বহিষ্কৃতা স্ত্রীলোক,

শিরচ্ছিন্ন ছিল চোরঘাতক।

ভিক্ষু, ভিক্ষুণী আর শিক্ষাকামীগণ,

শ্রামণের অতঃপর শ্রামণেরী গণ।

প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছিল কাশ্যপ সম্বুদ্ধের শাসনে,

পাপকর্ম করেছিল তারা সেই সময়ে।

তপোদা রাজ গৃহে, যুদ্ধ, হস্তীদের অবগাহনে,

অরহৎ সোভিত ভিক্ষু পঞ্চশত কল্প অনুস্মরণে।

 

বিনীতবথু

(২২৩)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অধিমান বা দৃঢ়তার সহিত ভাবনা করলে অপ্রাপ্ত বিষয়ে (ধ্যানাদিমার্গ ফল) প্রাপ্ত ধারণায় অন্যকে প্রকাশ করছিলেন। তখন ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপ্ত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছি?” সেই ভিক্ষু ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষু! অধিমান হেতু তোমার অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু ‘এরূপে অরণ্যে বাস করলে, জনগণ আমাকে শ্রদ্ধা-সম্মান করবে’। এই আশায় উক্ত ভিক্ষু অরণ্যে অবস্থান করতে লাগলেন। জনগণও তাকে শ্রদ্ধা-সম্মান করছিলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! সেই ভিক্ষুর অনাপত্তি। কিন্তু ভিক্ষুগণ! সেরূপ চেতনা নিয়ে অরণ্যে বাস করতে পারবে না; যে সেরূপ চেতনা নিয়ে বাস করবে, তার ‘দুক্কট’ আপত্তি হবে।“

(৩) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু ‘এরূপে পিন্ডচরণ করলে, জনগণ আমাকে শ্রদ্ধা-সম্মান করবে’ এই আশায় সেই ভিক্ষু পিন্ডচরণ ব্রত পালন করতে লাগলেন। জনগণও উক্ত ভিক্ষুকে শ্রদ্ধা-সম্মান করতে লাগলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! সেই ভিক্ষুর অনাপত্তি হয়েছে বটে; কিন্তু ভিক্ষুগণ! সেরূপ চেতনা নিয়ে পিন্ডচরণ ব্রত পালন করবে না; যে পালন করবে তার ‘দুক্কট’ আপত্তি হবে।“

(৪) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্যতর ভিক্ষুকে এরূপ প্রকাশ করছিলেন ‘আবুসো! আমাদের উপাধ্যায়ের যে সকল সহবিহারী আছেন; তারা সকলেই অরহৎ।‘ তখন এরূপ প্রকাশ করাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক  প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান উক্ত ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে সেরূপ প্রকাশ করেছিলে?” “ভগবান আমি প্রশংসা করার অভিপ্রায়ে তা প্রকাশ করেছি।“ “তাহলে হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৫) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুকে এরূপ প্রকাশ করছিলেন- ‘আবুসো! আমাদের উপাধ্যায়ের যে সকল অন্তেবাসী আছেন; তাঁরা সকলেই মহা ঋদ্ধিমান ও মহানুভব।‘ এরূপ প্রকাশ করাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” “ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে এরূপ বলতে গেলে?” “ভগবান! আমি কি প্রশংসা করার ইচ্ছায় তা প্রকাশ করেছি।“ “তাহলে, ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৬) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু ‘যদি আমি ত্রিবিধ ঈর্ষাপদে (দাঁড়ান, গমন ও উপবেশনে) অবস্থান করি; তাহলে জনগণ আমাকে শ্রদ্ধা-চিত্তে সম্মান করবে’ ইহাই শ্রেয়তর হবে আশায় ত্রিবিধ ঈর্ষাপদে অবস্থান করছিলেন। জনগণও সেই ভিক্ষুকে শ্রদ্ধা-সম্মান করছিলেন। ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! সেই ভিক্ষুর অনাপত্তি হয়েছে। কিন্তু ভিক্ষুগণ! শ্রদ্ধা-সম্মান পাওয়ার আশায় সেরূপ ঈর্ষাপদে অবস্থান করতে পারবে না; যে করবে তার ‘দুক্কট’ আপত্তি হবে।“

(৭) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুর লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্তির সম্বন্ধে প্রশংসা করছিলেন। উক্ত ভিক্ষুও এরূপ প্রকাশ করছিলেন- ‘আবুসো! আমার সংযোজন সমূহ প্রহীন (ধ্বংস) হয়েছে।‘ এতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

 

(২২৪)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু নির্জন স্থানে গিয়ে নিজে লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে ধারণায় নিজে নিজে আত্ম প্রশংসা করছিলেন। তখন অন্য এক পরচিত্ত বিজানন জ্ঞান প্রাপ্ত ভিক্ষু সেই ভিক্ষুর মনের কথা জানতে পেরে এ’বলে নিন্দা করছিলেন যে- ‘আবুসো! তোমার কোন লোকত্তর জ্ঞান লাভ হয় নাই; তুমি সেরূপ মনে করবে না।“ তখন সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘দুক্কট’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(২) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু বিবেক স্থানে গিয়ে নিজে লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে ধারণায় নিজে নিজে আত্মপ্রশংসা করছিলেন। ঐ সময়ে এক দেবতা উক্ত ভিক্ষুকে এ’বলে নিন্দা করছিলেন যে- “ভান্তে! আপনার কোন লোকোত্তর জ্ঞান লাভ হয় নাই; আপনি এ’রূপ মনে করবেন না।“ ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৩) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্যতর এক উপাসককে এরূপ প্রকাশ করছিলেন- “হে উপাসক! যে ভিক্ষু আপনার বিহারে অবস্থান করছেন, সে অরহৎ।“ ইহাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে ঐরূপ প্রকাশ করেছিলে” ভগবান! আমি প্রশংসা করার ইচ্ছায় সেরূপ প্রকাশ করেছি।“ “তাহলে, হে ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

(৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক উপাসককে এরূপ বলছিলেন- “হে উপাসক! আপনি যেই ভিক্ষুকে চতুরপ্রত্যয় দ্বারা সেবা-যত্ন করছেন, সেই ভিক্ষু অরহৎ।“ সেই উপাসকও সেই ভিক্ষুকে আরো বেশি চতুরপ্রত্যয় দ্বারা সেবা-যত্ন করছিলেন, ইহাতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে ঐরূপ প্রকাশ করেছিলে?” “ভগবান! আমি প্রশংসা করার অভিপ্রায়ে সেরূপ প্রকাশ করেছি।“ “তাহলে, ভিক্ষু! তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ অপরাধ হয়েছে; ‘পারাজিকা’ অপরাধ নহে।“

 

(২২৫)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হয়েছিলেন। অন্য এক ভিক্ষু উক্ত পীড়িত ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আয়ুষ্মানের লোকোত্তর জ্ঞান লাভের কথা প্রকাশ করার প্রয়োজন নয় কি?” “বন্ধু! আমি তা অন্যকে প্রকাশ করতে সক্ষম নই”। তখন সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সংশয় উদয় হল- “ভগবানের যে৪ সকল শ্রাবকগণ (অরহত্বমার্গলাভী) আছেন। একমাত্র তাঁরাই এরূপ প্রকাশ করতে পারেন। আমি তো এখনও ভগবানের শ্রাবকত্ব (অরহত্ব মার্গ-ফল) লাভ করতে পারি নাই। আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ অপরাধী হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্ত নিয়ে ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান আমি তা তিরস্কার করার অভিপ্রায়ে বলেছিলাম।“ “তাহলে, ভিক্ষু! তিরস্কারের ইচ্ছায় হলে, তোমার অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হয়েছিলেন। তখন অপর ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আয়ুষ্মানের লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্তির কথা প্রকাশ করার দরকার নয় কি?” “আবুসো! সেই আরদ্ধ বীর্য প্রয়োগ দ্বারা প্রাপ্ত ধর্ম শুধু নিজের শান্তি বিধানের জন্যে; প্রকাশের জন্যে নহে।“ এতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্তে ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান। আমি তা নিন্দা করার ইচ্ছায় বলেছিলাম।“ “তাহলে ভিক্ষু তোমার অনাপত্তি।“

(৩) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হয়েছিলেন। তখন অন্য এক ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! আপনি মৃত্যুকে ভয় পাবেন না।“ “না আবুসো! আমি মৃত্যুকে ভয় করি না।“ ইহাতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! কেন তুমি ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান! আমি তিরস্কার করার ইচ্ছায় বলেছিলাম।“ “তাহলে, ভিক্ষু! তোমার অনাপত্তি।“

(৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু রোগগ্রস্থ হয়েছিলেন। অপর এক ভিক্ষু সেই রোগগ্রস্থ ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! আপনি মৃত্যুকে ভয় করবেন না।“ “আবুসো! যার মধ্যে অনুশোচনা ও অনুরাগ আছে; নিশ্চয় সে মৃত্যুকে ভয় করবে।“ এতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এব্যাপারে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! কেন তুমি ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান। আমি তিরস্কার করার অভিপ্রায়ে বলেছিলাম।“ “তাহলে তোমার অনাপত্তি।“

(৫) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হয়েছিলেন। অন্য এক ভিক্ষু সেই পীড়িত ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আয়ুষ্মানের অরহত্ব ফল প্রাপ্তির কথা বলার প্রয়োজন নয় কি?” “আবুসো! আমি যেই সম্যক প্রচেষ্টার দ্বারা ধর্ম অধিগত করেছি; তা শুধু আমার শান্তির জন্যে; লোকসমাজে প্রকাশের জন্যে নয়।“ ইহাতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! কেন তুমি ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান! আমি নিন্দা করার ইচ্ছায় প্রকাশ করেছিলাম।“ “তাহলে ভিক্ষু তোমার অনাপত্তি।“

(৬) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু পীড়িত হলে, অন্য এক ভিক্ষু উক্ত পীড়িত ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আয়ুষ্মানের অরহত্ব ফলের কথা প্রকাশের প্রয়োজন মনে করেন কি?” “আবুসো! আরদ্ধ বীর্য প্রয়োগ দ্বারা যেই ধর্ম লাভ করেছি; তা জনসমক্ষে প্রকাশের দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। তা শুধু আমার বিমুক্তির জন্যে।“ ইহাতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এবিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! কেন তুমি ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান! আমি নিন্দা করার অভিপ্রায়ে প্রকাশ করেছিলাম।“ “হে ভিক্ষু! নিন্দার অভিপ্রায়ে হলে, তোমার অনাপত্তি।“

(৭) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অসুস্থ হয়েছিলেন। তখন অপর ভিক্ষু সেই ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আয়ুষ্মানের লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্তির কথা প্রকাশ করার দরকার নয় কি?” “আবুসো! আমি যেই কঠোর সাধনা যোগে ধর্ম লাভ করেছি, তা প্রকাশ করার নিমিত্তে নহে; তা শুধু আমার শান্তি লাভের জন্যে।“ এতে ঐ ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! কেন তুমি ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান! আমি ভৎসনা করার অভিপ্রায়ে প্রকাশ করেছিলাম।“ “হে ভিক্ষু! ভৎসনা করার ইচ্ছায় হলে, তোমার অনাপত্তি।“

(৮) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু অসুস্থ হলে, অন্য এক ভিক্ষু উক্ত ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! কেন আপনি রোগোপশম এবং সুখে কাল যাপনের জন্যে ব্যবস্থা করছেন না?” “না আবুসো! যদ্দারা তা করা দরকার, তদ্দারা তা আমি করতে সক্ষম নই।“ এতে ঐ ভিক্ষুর  মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু। কেন তুমি ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান! আমি তিরস্কার করার অভিপ্রায়ে প্রকাশ করেছিলাম।“ “হে ভিক্ষু। তিরস্কার করার অভিপ্রায়ে হলে, তোমার অনাপত্তি।“

(৯) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু পীড়িত হলে, অন্য এক ভিক্ষু সেই পীড়িত ভিক্ষুকে এরূপ বললেন- “আবুসো! কি কারনে আপনি এত রোগগ্রস্থ হয়ে দুঃখ ভোগ করে অবস্থান করছেন; রোগোপশমের উপায় আপনার জানা নাই কি?” “আবুসো। এই জগতে পৃথকজন হয়ে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কোন চিত্তে ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান আমি প্রশংসা করার ইচ্ছায় বলেছিলাম।“ “তাহলে ভিক্ষু প্রশংসা করার ইচ্ছায় হলে, তোমার ‘থুল্লচ্চয়’ আপত্তি হয়েছে; ‘পারাজিকা’ আপত্তি নহে।“

 

(২২৬)⇒ (১) সে সময়ে অন্যতর ব্রাক্ষণ ভিক্ষুদেরকে নিমন্ত্রণ করে এরূপ আহ্বান করলেন- “আসুন, মাননীয় অরহৎগণ।“ তখন ব্রাক্ষণ ইহা বলাতে সেই ভিক্ষুদের এরূপ সংশয় উদয় হল- “আমরা তো কেউ অরহৎ নই; কিন্তু এই ব্রাক্ষণ আমাদেরকে সসম্মানে অরহৎ বলে সম্বোধন করছেন। এখন আমাদের কি করা উচিৎ?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান তাদেরকে বললেন, ,ভিক্ষু প্রসাদজ্ঞানে সম্বোধন হেতু তোমাদের অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে জনৈক ব্রাক্ষণ ভিক্ষুদেরকে নিমন্ত্রণ করে এরূপ বললেন- ‘উপবেশন করুন, মাননীয় অরহৎগণ! … ভোজন করুন, মাননীয় অরহৎগণ! … পরিতৃপ্ত হোন’, মাননীয় অরহৎগণ! … গমন করুন। মাননীয় অরহৎগণ ব্রাক্ষ্মণ ইহা বলাতে তাদের এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমরা তো কেউ অরহৎ নই; কিন্তু এই ব্রাক্ষ্মণ আমাদেরকে অরহৎ বলে সম্বোধন করছেন। এখন আমাদের কি করা কর্তব্য?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জানালে, ভগবান সেই ভিক্ষুদেরকে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! প্রসাদ (শ্রদ্ধা) হেতু সম্বোধন করায় তোমাদের অনাপত্তি।“

(৩) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অন্যতর ভিক্ষুর লোকোত্তর জ্ঞানের কথা প্রশংসা করছিলেন। তখন যেই ভিক্ষু উক্ত ভিক্ষুকে প্রশংসা করেছিলেন, সেই ভিক্ষুও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজে লোকোত্তর জ্ঞান লাভ না করে এরূপ বলতে লাগলেন- “আবুসো! আমারও সকল প্রকার আসব (তৃষ্ণা) প্রহীণ (ক্ষয়) হয়েছে।“ এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৪) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষু জনৈক ভিক্ষুর লোকোত্তর জ্ঞান সম্বন্ধে প্রশংসা করছিলেন। সেই ভিক্ষুও এরূপ বললেন- ‘আবুসো। আমার দ্বারাও এই ধর্ম সাক্ষাৎকৃত হয়েছে।‘ এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ রোগগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে নিবেদন করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তোমার ‘পারাজিকা’ আপত্তি হয়েছে।“

(৫) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষু অপর এক ভিক্ষুর লোকোত্তর জ্ঞান প্রাপ্তির সম্বন্ধে প্রশংসা করছিলেন। তখন সেই ভিক্ষুও এরূপ বলতে লাগলেন- ‘আবুসো! আমিও সেই ধর্ম সমূহ প্রদর্শন করেছি।‘ ইহা বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

(৬) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষুকে তার জ্ঞাতিগণ এরূপ বললেন- “আসুন ভান্তে! আগারে (ঘরে) বাস করুন।“ “না আবুসো। আমার ন্যায় ভিক্ষু আগারে বাস করা অনুপযুক্ত।“ তখন ইহা বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে প্রকাশ করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি কারণে সেরূপ বলেছিলে?” “ভগবান। আমি তা নিন্দা করার ইচ্ছায় বলেছিলাম।“ “তাহলে, ভিক্ষু! নিন্দা করার ইচ্ছায় হলে, তোমার অনাপত্তি।“

 

(২২৭)⇒ (১) সে সময়ে জনৈক ভিক্ষুকে জ্ঞাতিগণ এরূপ বললেন- “আসুন ভান্তে! কামসুখে রমিত হোন।“ “না আবুসো। আমার দ্বারা কামসুখে রমিত হওয়া অসম্ভব।“ এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি কারণে সেরূপ বলেছিলে?” “ভগবান! আমি তা নিন্দা করার ইচ্ছায় বলেছিলাম।“ “তাহলে, ভিক্ষু! নিন্দা করার ইচ্ছায় হলে, তোমার অনাপত্তি।“

(২) সে সময়ে অন্যতর ভিক্ষুকে তার আত্মীয়-স্বজনরা এরূপ বললেন- “ভান্তে! আপনি কিভাবে অভিরমিত হন?” “হ্যাঁ আবুসো। অভিরমিত হই বটে; তবে আমি পরমার্থ সুখে অভিরমিত হই।“ অহা প্রকাশ করাতে সেই ভিক্ষুর মনে সন্দেহ উদয় হল যে- “যারা অরহত্ব ফললাভী ভগবানের প্রকৃত শ্রাবক; তাঁরাই শুধু এরূপ প্রকাশ করতে পারেন। আমি তো এখনো সেরূপ হতে পারি নাই।। ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে আমি কি ‘পারাজিকা’ অপরাধগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষুকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ভিক্ষু! তুমি কি কারণে ঐরূপ বলেছিলে?” “ভগবান আমি তা অবজ্ঞা করার অভিপ্রায়ে বলেছিলাম।“ “তাহলে ভিক্ষু। তোমার অনাপত্তি।“

(৩) সে সময়ে কি সংখ্যক ভিক্ষু এরূপ চুক্তি করতঃ অন্যের আবাসে বর্ষা যাপনের জন্য উপস্থিত হলেন- “যে এই আবাসে প্রথমে প্রবেশ করবে, তাকেই আমরা অরহত্ব বলে জানব।“ তখন অন্যতর ভিক্ষু এরূপ বললেন- “আমাকেই তোমরা অরহত্ব বলে জান; কারণ আমিই প্রথমে এই আবাসে প্রবেশ করেছি।“ এরূপ বলাতে সেই ভিক্ষুর মনে এরূপ সন্দেহ উদয় হল- “আমি কি ভগবান কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত শিক্ষাপদের মধ্যে ‘পারাজিকা’ দোষগ্রস্থ হয়েছি?” ভগবানকে এ’ব্যাপারে জ্ঞাত করলে, ভগবান সেই ভিক্ষু বললেন- “হে ভিক্ষু! তুমি ‘পারাজিকা’ আপত্তিগ্রস্থ হয়েছ।“

 

(২২৮)⇒ সে সময়ে ভগবান বুদ্ধ রাজগৃহের বেলুনস্থ কলন্দক নিবাপে অবস্থান করছিলেন। ঐ সময়ে আয়ুষ্মান লক্ষণ এবং আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন গিজবাকূট পর্বতে অবস্থান করছিলেন। অনন্তর আয়ুষ্মান মহামজ্ঞল্লায়ন গিজ্বাকূট পর্বতে অবস্থান করছিলেন। অনন্তর আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন পূর্বাহ্নসময়ে বহির্গমনোপযোগী নিবাস (বস্ত্র) আচ্ছাদন করে পাত্র-চীবর নিয়ে যেখানে আয়ুষ্মান লক্ষণ সেখানে গিয়ে আয়ুষ্মান লক্ষণকে এরূপ বললেন- ‘আসুন, আবুসো লক্ষণ! পিন্ডান্নের জন্য রাজগৃহে প্রবেশ করি।“ “হ্যাঁ আবুসো।“ বলে আয়ুষ্মান লক্ষণ আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়নের কথায় প্রত্যুত্তর দিলেন। অতঃপর আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময় অন্যদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতঃ মৃদুহাস্য করলেন। ইহা দেখে আয়ুষ্মান লক্ষণ আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবিরকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- “আবুসো মহামোজ্ঞল্লায়ন! আপনি কি কারণে কি হেতুতে পর্বত হতে অবতরণের সময় অন্যদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতঃ মৃদুহাস্য করলেন?” “আবুসো লক্ষণ! আপনি এই প্রশ্ন অসময়ে করলেন। এ’বিষয়ে আপনি আমাকে ভগবানের সম্মুখে জিজ্ঞেস করবেন।“ অনন্তর আয়ুষ্মান লক্ষণ এবং মোজ্ঞল্লায়ন পিন্ডান্ন সংগ্রহ করে ভোজন শেষে যেখানে ভগবান সেখানে উপস্থিত হলেন এবং ভগবানকে অভিবাদন জ্ঞাপন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান লক্ষণ আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়নকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন- ‘আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়ন। আমি দেখলাম আপনি গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময়ে অন্যস্থানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতঃ মৃদুহাস্য করেছিলেন। আবুসো। আমি পর্বত হতে নামার সময়ে অস্থি-কংকাল সার এক প্রাণীকে আকাশ দিয়ে গমন করতে দেখলাম। আমি আরো দেখলাম যে, ঐ অস্থি-কংকাল সার প্রাণীকে শকুন, কাক ও শ্যেন পক্ষী পিছে পিছে অনুসরণ করে তাদের চঞ্চু দ্বারা সেই প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে আঘাত করছে। সেই পক্ষীকুলের আঘাতে সে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। আবুসো! তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল “বড়ই আশ্চর্য। বড়ই অদ্ভুত যে, জগতে এরূপ প্রাণীও বিদ্যমান। এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা নিজের দ্বারা সম্পাদিত অকুশলকর্ম বিপাকের ফল ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও বদনাম করতে লাগলেন- “কেন আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়ন নিজের ঋদ্ধি সম্পর্কে প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথার্থ ভাবে জ্ঞানচক্ষু দ্বারা অবস্থান কর; এবং জ্ঞানচক্ষু দ্বারা দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যা ইচ্ছা তা জ্ঞানচক্ষু দ্বারা দেখতে সক্ষম হবে। হে ভিক্ষুগণ! আমি পূর্বেই সেই প্রাণীকে দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করবে না বিধায় তা প্রকাশ করি নাই। কারণ আমার দ্বারা প্রকাশিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘকাল ধরে অহিত ও দুঃখের কারণ হবে। ভিক্ষুগণ! পূর্বে সে এই রাজগৃহের গোঘাতক (গুরুহত্যাকারী) হিসাবে জীবন-যাপন করেছিল। সে তার প্রাণী হত্যা জনিত অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর পর্যন্ত নরকে দগ্ধ হওতঃ সেই কর্ম বিপাকাবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ দুঃখ যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়নের কথাই সত্য। ভিক্ষুগণ, মোজ্ঞল্লায়নের কোন আপত্তি হয়নি।“

(২২৯)⇒ (১) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে নামার সময়ে এক মাংসপেশী সদৃশ সত্ত্বকে আকাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। সেই মাংসপেশীকে অনুসরণ করতঃ কাক, শকুন ও শোন প্রভৃতি পক্ষী তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ খন্ড-বিখন্ড করছিল। সেই মাংসপেশী সত্ত্ব সেই পক্ষীকুলের চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। আবুসো! তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভুত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই মাংসপেশী সত্ত্বকে পূর্বেই দেখেছি। কারণ, তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের বীর্য দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই সত্ত্ব পূর্বে রাজগৃহে গোঘাতক ছিল। সে তার প্রাণীহত্যা জনিত অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।

(২) “বন্ধুগণ! আমি এক গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণ করার সময় মাংসপিন্ড সদৃশ এক প্রাণীকে দেখতে পেয়েছি। সেই মাংসপিন্ডকে অনুসরণ করতঃ কাক, শকুন ও শ্যেন প্রভৃতি পক্ষী তাদের চক্ষু (ঠোঁট) দিয়ে আঘাত করতঃ খন্ড-বিখন্ড করছে। সেই মাংসপিন্ড সদৃশ প্রাণী সেই পক্ষীকুলের চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। আবুসোগণ। তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- “অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভুত যে, জগত এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করছে।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ। তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ। আমি সেই মাংসপিন্ড সদৃশ সত্ত্বকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ, তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই সত্ত্ব পূর্বে এই রাজগৃহে পক্ষীশিকারী ছিল। সে তার প্রাণী হত্যা জনিত অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহু শত সহস্র বৎসর  ধরে নরকে দ্গধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করতেছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।

(৩) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময়ে দেহচর্মহীন পুরুষকে আকাশ দিয়ে গমন করতে দেখলাম। সেই দেহচর্মহীন পুরুষকে ঘিরে কাক, শকুন ও শ্যেন প্রভৃতি পক্ষীকুল তাদের স্বীয় চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ ক্ষত-বিক্ষত করছে, খন্ড-বিখন্ড করছে। সেই দেহচর্মহীন পুরুষ সেই পক্ষীকুলাদির চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। বন্ধুগণ। সে সময়ে আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- “অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভুত যে, পৃথিবীতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করছে।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই চর্মহীন পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ, তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই চর্মহীন পুরুষ পূর্বে রাজগৃহের ভেড়া ঘাতক ছিল। সে তার প্রাণীহত্যা জনিত অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়ন এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৪) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময়ে এক অসিলোম প্রেতকে আকাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। তার সেই তীক্ষ্ণ অসি সদৃশ লোমসমূহ ঊর্ধ্বদিকে উত্থিত হয়ে তার দেহকে ভেদ করতঃ ক্ষত-বিক্ষত করছে এবং অসত্য যন্ত্রনায় চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। বন্ধুগণ। তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভুত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই অসিলোম প্রেতকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই অসিলোম প্রেত পূর্বে রাজগৃহে শূকর-ব্যবসায়ী ছিল। সে তার প্রাণীহত্যা জনিত অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৫) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণের সময় এক শূললোম পুরুষকে আকাশ দিয়ে গমন করতে দেখেছি। সে তার সেই তীক্ষ্ণ শূল দ্বারা স্বীয় দেহকে ভেদ করতঃ এফোঁড়-ওফোঁড় বিদ্ধ করছে। সেই শূললোম স্বীয় তীক্ষ্ণ শূল দ্বারা দেহকে এফোঁড়-ওফোঁড় করার ফলে অসহ্য বর্ণনাতীত যন্ত্রনায় আর্তনাদ করছিল, চিৎকার করছিল। বন্ধুগণ! ঐ সময়ে আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভুত যে, এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই শূললোম পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ, তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই শূললোম পুরুষ পূর্বে এই রাজগৃহে ব্যাধ ছিল। সে তার প্রাণীহত্যা জনিত অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৬) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময় এক শরলোম পুরুষকে আকাশ দিয়ে গমন করতে দেখেছি। সে তার তীক্ষ্ণ শর দ্বারা স্বীয় দেহকে ভেদ করতঃ এফোঁড়-ওফোঁড় বিদ্ধ করছে। সে সেই তীক্ষ্ণ শরের আঘাতে অসহ্য বর্ণনাতীত যন্ত্রণায় চিৎকার করছে, আর্তনাদ করছে। বন্ধুগণ! তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, পৃথিবীতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কোন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ। তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই শরলোম পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ, তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই শরলোম পুরুষ পূর্বে এই রাজগৃহে শরনির্মাতা ছিল। সে তার অকুশল কর্ম ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করতেছে। হে ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৭) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে নামার সময় এক সূচিলোম পুরুষকে আকাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। তার তীক্ষ্ণ সূচি সদৃশ লোমসমূহ উপরে উঠে এসে তার তীক্ষ্ণ সূচি সদৃশ লোমের আঘাতে বর্ণনাতীত অসহ্য দুঃখ-যন্ত্রণায় চিৎকার করছে, আর্তনাদ করছে। ‘বন্ধুগণ!’ সে সময়ে আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা সবীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করছে।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে, “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির সবীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরা যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই সূচীলোম পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ, তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই সূচীলোক পুরুষ পূর্বে এই রাজগৃহে অশ্ব-ব্যবসায়ী ছিল। সে তার অকুশল কর্ম বিপার্কমের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৮) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণের সময়ে এক সূচিলোম প্রেতকে আকাশ দিয়ে গমন করতে দেখেছি। তার সেই সূচি সদৃশ লোমসমূহ শিরোপরি দিয়ে প্রবেশ করে মুখদ্বার দিয়ে বাহির হয়; মুখ দিয়ে প্রবেশ করতঃ হৃদয় ভেদ করে বাহির হয়; হাঁটু ভেদ করে বাহির হয়; হাঁটুর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতঃ জঙ্ঘা ভেদ করে বাহির হয়; জঙ্ঘার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতঃ পায়ের নিম্ন ভেদ করে বাহির হয়। সে সেই তীক্ষ্ণ সূচি সদৃশ লোমের আঘাতে বর্ণনাতীত অসহ্য দুঃখ-যন্ত্রণায় চিৎকার করছে; আর্তনাদ করছে। ‘বন্ধুগণ!’ ঐ সময়ে আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করছে। অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই সূচিলোম প্রেতকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ। সেই সূচিলোম প্রেত পূর্বে এই রাজগৃহে সূচ নির্মাতা ছিল। সে তার অকুশল কর্ম বিপাক জনিত বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৯) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণ করার সময় এক কুমড়ার ন্যায় অন্ডকোষ সম্পন্ন পুরুষকে আকাশ দিয়ে গমনরত দেখেছি। সে গমন করার সময় সেই কুমড়া সদৃশ অন্ডকোষ স্বীয় স্কন্ধে ধারণ করতঃ গমন করে এবং উপবেশনের সময়ে সেই কুমড়া ন্যায় অন্ডকোষোপরি উপবেশন করে। তাকে পশ্চাতে পশ্চাতে অনুসরণকারী কাক, শকুন ও শ্যেন পক্ষীকুল তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ ক্ষত-বিক্ষত করছে, খন্ড-বিখন্ড করছে। সেই ‘কুম্ভান্ড’ পুরুষ সেই পক্ষীকুলাদি কর্তৃক ভীষণভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ভয়ানক চিৎকার করছিল, ভীষণ আর্তনাদ করছিল। ‘আবুসোগণ!’ সে সময়ে এরূপ চিন্তার উদয় হল- “অতি আশ্চর্য। অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগাবন সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ। তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই কুম্ভান্ড পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ  তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ। সেই কুম্ভান্ড পুরুষ পূর্বে এই রাজগৃহে গাম্য কূটবিচারক ছিল। সে তার অকুশল কর্ম বিপাক জনিত ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(১০) “বন্ধুগণ!’ আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণ করার সময় বিষ্টাকূপে শিরসহ নিমজ্জিত পুরুষকে দেখেছি। সেই বিষ্টাকূপে শিরসহ নিমগ্ন পুরুষকে ঘিরে কাক, শকুন ও শ্যেনাদি পক্ষীকুল তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ খন্ড-বিখন্ড করতেছে। সেই পক্ষীকুলের চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘আবুসো!’ তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- “অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভুত যে, পৃথিবীতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এ’রূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই বিষ্টাকূপে নিমজ্জিত পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই বিষ্টাকূপে শিরসহ নিমজ্জিত পুরুষ পূর্বে এই রাজগৃহে পরস্ত্রীদার, ব্যভিচারী পুরুষ ছিল। সে তার অকুশল জনিত কর্ম বিপাকের ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করতেছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(১১) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে নামার সময় বিষ্টাকূপে শিরসহ নিমগ্ন এক পুরুষকে দেখেছি। সে তার উভয় হস্তদ্বারা বিষ্টা খাচ্ছিল। সেই বিষ্টাকূপে শিরসহ নিমগ্ন পুরুষকে ঘিরে কাক, শকুন ও শ্যেনাদি পক্ষীকুল তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ খন্ড-বিখন্ড করতেছে। সেই পক্ষীকুলের চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘আবুসো!’ তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, পৃথিবীতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এ’রূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই বিষ্টাকূপে নিমজ্জিত পুরুষকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগ্ণ! সে পূর্বে এই রাজগৃহে দুষ্ট ব্রাক্ষ্মন ছিল। সে কাশ্যপ সম্যকসম্বুদ্ধ সহ উনার শিষ্যসঙ্ঘকে সাদরে নিমন্ত্রণ করে দ্রোনিতে (পাত্রবিশেষ) বিষ্টা ভর্তি করায়ে এরূপ বলে আহারের সময় জ্ঞাপন করেছিল- “মাননীয় ভান্তেগণ! আপনাদের যথাইচ্ছা ভোজন করুন, যথাইচ্ছা নিয়ে গমন করুন” ইত্যাদি মন্দ বাক্য দ্বারা প্রবঞ্চনা করেছিল। সে তার অকুশল কর্ম-বিপাক জনিত কর্মফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

 

(২৩০)⇒ (১) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণের সময় এক দেহচর্মহীন স্ত্রী প্রেতনীকে আকাশ দিয়ে গমনরতা দেখেছি। সেই দেহচর্মহীন স্ত্রী প্রেতনীকে অনুসরণ করে কাক, শকুন ও শ্যেনাদি পক্ষীকুল তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ  খন্ড-বিখন্ড করতেছে। সেই পক্ষীকুলের চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘আবুসো!’ তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই দেহচর্মহীন স্ত্রী প্রেতনীকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই দেহচর্মহীন স্ত্রী পেতনী পূর্বে এই রাজগৃহে ব্যভিচারিণী ছিল। সে তার অকুশল কর্ম বিপাক জনিত বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(২) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময় এক বিরূপ, বীভৎস, দুর্গন্ধযুক্তা স্ত্রীকে আকাশ দিয়ে গমন করতে দেখেছি। সেই বিরূপ, বীভৎস, দুর্গন্ধযুক্তা স্ত্রীকে অনুসরণ করে কাক, শকুন ও শোনাদি পক্ষীকুল তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ খন্ড-বিখন্ড করতেছে। সেই পক্ষীকুলের চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘আবুসো!’ তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়। অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে, কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথরুপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই বিরূপ, বীভৎস, দুর্গন্ধযুক্তা স্ত্রীকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই বিরূপ, বীভৎস, দুর্গন্ধযুক্তা স্ত্রী পূর্বে এই রাজগৃহে নারী দৈবজ্ঞ ছিল। সে তার অকুশল কর্ম বিপাকের ফলে ভহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সম্পূর্ণ সঠিক। ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৩) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে নামার সময় প্রজ্বলিত অঙ্গারে দগ্ধাবস্থায় আকাশ নিয়ে গমনরতা এক স্ত্রী প্রেতনীকে দেখেছি। সেই স্ত্রী প্রেতনী প্রজ্বলিত অঙ্গারে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ বর্ণনাতীত অসহ্য, দুঃখ-যন্ত্রনায় কাতর হয়ে বিকট চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘বন্ধুগণ!’ তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ স্বত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই স্ত্রী প্রেতনীকে সেই স্ত্রী পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই স্ত্রী প্রেতনী পূর্বে কলিঙ্গ রাজার অগ্রমহিষী ছিল। সে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে রাজার নর্তকীকে জলন্ত লৌহ অঙ্গার পাত্রে নিক্ষেপ করেছিল। সে তার অকুশল কর্ম-বিপাক জনিত বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহুসহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সম্পূর্ণ সঠিক। ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৪) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবতরণের সময় এক মস্তকহীন শরীর আকাশ দিয়ে গমনরত দেখেছি। তার মুখ এবং চক্ষুদ্বয় বক্ষঃস্থলে স্থিত। সেই মস্তকহীন শরীরকে অনুসরণ করে কাক, শকুন ও শ্যেনাদি পক্ষীকুল তাদের চঞ্চু দ্বারা আঘাত করতঃ খন্ড-বিখন্ড করতেছে। সেই পক্ষীকুল চঞ্চুর আঘাতে চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। “বন্ধুগণ! তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ করছেন? তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই মস্তকহীন দেহধারীকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! সেই মস্তকহীন দেহধারী সত্ত্ব রাজগৃহে হারিক নামক চোরঘাতক ছিল। সে তার অকুশল কর্ম-বিপাক জনিত ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয়নি।“

(৫) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণের সময় এক ভিক্ষুকে আকাশোপরি গমনরত দেখেছি। তার সঙ্ঘাটি, পাত্র, চীবর, কটিবন্ধনী এবং পুরো দেহটিও প্রচন্ড প্রজ্বলিত, সম্প্রজ্বলিত এবং সজ্যোতিভূত হওতঃ অগ্নিতে দগ্ধ হচ্ছিল। সে সেই প্রচন্ড উত্তপ্ত অগ্নিতে দগ্ধ-বিদগ্ধ হয়ে বেদনায় বর্ণনাতীত অসহ্য দুঃখ-যন্ত্রনাতীত হওতঃ চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘বন্ধুগণ!’ তখন আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- ‘অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- ‘হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই ভিক্ষুকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে, তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! পূর্বে এই ভিক্ষু কাশ্যপ সম্যক সম্বুদ্ধের সময়ে পাপী ভিক্ষু ছিল। সে তার অকুশল কর্ম-বিপাক জনিত ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগন! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সত্য। ভিক্ষুগণ। মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ বর্ণনা করাতে কোন অপরাধ হয় নাই।“

(৬) “বন্ধুগণ! আমি এই গিজ্বাকূট পর্বত হতে অবরোহণ করার সময় এক ভিক্ষুণীকে দেখেছি … এক শিক্ষাকামীকে দেখেছি … এক শ্রামণেরীকে আকাশ দিয়ে গমনরতাবস্থায় দেখেছি। তার সম্পূর্ণ শরীরটি অগ্নিতে দগ্ধ হওতঃ প্রজ্বলিত, সম্প্রজ্বলিত ও সজ্যোতিভূত হচ্ছিল। সে সেই প্রচন্ড উত্তপ্ত অগ্নিতে দগ্ধ-বিদগ্ধ হয়ে বেদনাকাতর হওতঃ বর্ণনাতীত অসহ্য দুঃখ-যন্ত্রনায় চিৎকার করছিল, আর্তনাদ করছিল। ‘বন্ধুগণ!’ ঐ সময়ে আমার এরূপ চিন্তার উদয় হল- অতি আশ্চর্য! অতি অদ্ভূত যে, জগতে এরূপ সত্ত্বও বিদ্যমান। যা স্বীয় অকুশলকর্ম বিপাকের ফল স্বরূপ ভোগ করতে হয়।“ অতঃপর অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও ভৎসনা করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির স্বীয় ঋদ্ধির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন?” তখন ভগবান সকল ভিক্ষুদেরকে সমবেত করিয়ে এরূপ উপদেশ দিতে লাগলেন- “হে ভিক্ষুগণ! তোমরা যথাযথ রূপে সম্যক জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন হয়ে বিহার কর এবং সম্যক জ্ঞানচক্ষু দ্বারা সকল বিষয়কে দর্শন কর। তাহলে তোমরাও যথা ইচ্ছা তথা জ্ঞানদৃষ্টিতে দর্শন করতে সক্ষম হবে।“

“হে ভিক্ষুগণ! আমি সেই ভিক্ষুণীকে পূর্বেই দেখেছি। কিন্তু সাধারণ জনগণ তা বিশ্বাস করবে না বিধায় প্রকাশ করি নাই। কারণ তথাগত বর্ণিত বাক্য যদি কেউ কর্ণপাত না করে তাহলে দীর্ঘ দিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হে ভিক্ষুগণ! পূর্বে এই শ্রামণেরী কাশ্যপ সম্যক সম্বুদ্ধের কালে পাপী শ্রামণেরী ছিল। সে তার অকুশল কর্ম-বিপাক জনিত ফলে বহু বৎসর, বহুশত বৎসর, বহু সহস্র বৎসর, বহুশত সহস্র বৎসর ধরে নরকে দগ্ধ-বিদগ্ধ হওতঃ সেই কর্মফল অবসানে এরূপ দেহ ধারণ করতঃ ভীষণ দুঃখ-যন্ত্রনা ভোগ করছে। হে ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়ন যা বর্ণনা করেছে তা সম্পূর্ণ সঠিক। ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়নের এরূপ প্রকাশ করাতে তার কোন প্রকার অপরাধ হয়নি।“

 

(২৩১)⇒ (১) অনন্তর আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন ভিক্ষুদেরকে সমবেত করে এরূপ বললেন- “বন্ধুগণ! যে স্থান হতে এই সরোবর প্রবাহিত হয়, সেই সরোবর অতিশয় পরিচ্ছন্ন, শীতল, মধুর ন্যায় স্বাদযুক্ত জল সম্পন্ন, বালি-কর্দমাহীন পরিশুদ্ধ, অতি রমণীয়, সুন্দর স্নানোপযোগী ঘাট সম্পন্ন, প্রভূত মৎস-কচ্ছপাদি প্রাণীতে ভর্তি, রথ-চক্র সদৃশ গোলাকৃতির বিবিধ উৎপল, পদ্ম পুষ্পাদি দ্বারা পরিপূর্ণ। পক্ষান্তরে এই সরোবর উত্তপ্ত, সন্তপ্ত হয়ে প্রবাহিত হয়।“ তখন ভিক্ষুগণ, এ’বলে আন্দোলন, নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন স্থবির এরূপ প্রকাশ করছেন- “আবুসো! যেখান হতে এই সরোবর প্রবাহিত হয়, সেই সরোবর অতিশয় পরিচ্ছন্ন, শীতল, মধুর ন্যায় স্বাদযুক্ত জল সম্পন্ন, বালি-কর্দমাহীন পরিশুদ্ধ, অতিরমনীয়, অপূর্ব স্নানোপযোগী তীর্থ সম্পন্ন, মৎস-কচ্ছপাদি প্রভৃতি প্রাণীতে ভর্তি, রথ-চক্র সদৃশ গোলাকৃতির বিবিধ উৎপল, পদ্ম পুষ্পাদি দ্বারা পরিপূর্ণ। পক্ষান্তরে এই সরোবর উত্তপ্ত, সন্তপ্ত হয়ে প্রবাহিত হয়।“ আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন এরূপে স্বীয় ঋদ্ধিশক্তির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন। তারা এ ব্যাপারে ভগবানকে প্রকাশ করলে, ভগবান ভিক্ষুদেরকে সম্বোধন করে বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! এই সরোবর যে স্থান হতে প্রবাহিত হয়, সেই সরোবর অতিশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শীতল, মধুর স্বাদযুক্ত জল সম্পন্ন, বালি-কর্দমাহীন পরিশুদ্ধ, অতিরমণীয়, সুন্দর স্নানোপযোগী তীর্থ সম্পন্ন, বিবিধ মৎস-কচ্ছপাদি জলজ প্রাণীতে ভর্তি, রথ-চক্র সদৃশ গোলাকৃতির বিভিন্ন উৎপল, পদ্ম পুষ্পাদি দ্বারা পরিশোভিত। পরন্তু ভিক্ষুগণ! এই সরোবর দুইটি মহানিরয়ের মধ্যস্থল হতে উৎপন্ন। সে কারণেই এই সরোবর উত্তপ্ত, সন্তপ্ত হয়ে প্রবাহিত হয়। ভিক্ষুগণ! মোজ্ঞল্লায়নের কথাই সত্য। এরূপ বর্ণনা করাতে মোজ্ঞল্লায়নের কোন প্রকার আপত্তি হয় নাই।“

(২) সে সময়ে মগজ রাজ শ্রেণীক বিম্বিসার লিচ্ছবিদের সহিত সংগ্রাম করতে গিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। অতঃপর পরবর্তীতে রাজা বিম্বিসার সেনা সমভিব্যাহারে লিচ্ছবিউদেরকে পরাস্ত করেছিলেন। যখন যুদ্ধে লিচ্ছবিরা বিম্বিসার রাজা কর্তৃক পরাজিত হল। তখন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন ভিক্ষুদেরকে সমবেত করায়ে এরূপ বললেন- ‘আবুসোগণ! রাজা বিম্বিসার কর্তৃক লিচ্ছবিগণ পরাস্ত।‘ এরূপ বলা হলে ভিক্ষুগণ এ’বলে আন্দোলন, নিন্দা ও বদনাম করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়ন এরূপ বলছেন, আবুসো! লিচ্ছবিগণও রাজা বিম্বিসার কর্তৃক পরাজিত হয়েছে।‘ আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়ন এখন দেখছি নিজের ঋদ্ধির কথা প্রশংসা করছেন, প্রচার করছেন।“ ভিক্ষুগণ এ’বিষয়ে ভগবানের কর্ণগোচর করলে, ভগবান বললেন- ‘ভিক্ষুগণ! প্রথমে লিচ্ছবিদের দ্বারা রাজা বিম্বিসার পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার রাজা বিম্বিসার সৈন্য-সেনা সমভিব্যাহারে লিচ্ছবিদেরকে পরাজিত করেছিলেন। ভিক্ষুগণ! আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়নের কথাই সঠিক। মোজ্ঞল্লায়নের কোন অপরাধ হয়নি।“

 

(২৩২)⇒ (১) সে সময়ে আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়ন ভিক্ষুদেরকে আহ্বান করে এরূপ বলতে লাগলেন- “বন্ধুগণ! আমি এই সর্পিনিকায় নদীর(1) তীরবর্তী স্থানে আনেঞ্জ (নিশ্চয়, নিষ্কম্প) সমাধি সুখে রতাবস্থায়, হস্তীগুলো নদীতে নেমে জলকেলি ও অবগাহন করতঃ ক্রৌঞ্চনাদ করতে করতে তীরে উঠার সময় তাদের উচ্চশব্দ-মহাশব্দ শুনতে পেয়েছি।“ মোজ্ঞল্লায়ন কর্তৃক এরূপ বলা হলে, অন্যান্য ভিক্ষুগণ এ’বলে নিন্দা, আন্দোলন ও বদনাম করছেন যে- “কেন আয়ুষ্মান মোজ্ঞল্লায়ন আনেঞ্জ সমাধি সুখে রমিত থাকাকালীন এরূপ উচ্চশব্দ-মহাশব্দ শুনেছেন বলে প্রকাশ করছেন? ইহা এম্ন নয় কি, তিনি উনার ঋদ্ধির কথা প্রশংসা করছেন, প্রচার করছেন?” ভিক্ষুগণ ভগবানকে এ’বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! তখন আয়ুষ্মান মহামোজ্ঞল্লায়নের সমাধি ছিল অপরিপূর্ণ, সে কারণে সে ঐ হস্তীদের ক্রৌঞ্চনাদ শুনতে পেয়েছিল। ভিক্ষুগণ, মোজ্ঞল্লায়নের বর্ণনাই যথার্থ। তার কোন আপত্তি হয়নি।“

(1)রাজগৃহের একটি নদী। বুদ্ধের সময়কালে এই নদীর তীরে ছিল একটি পরিব্রাজকারাম ছিল। সেখানে অবস্থান করতেন বিখ্যাত পরিব্রাজকগণ। এই নদী- রাজগৃহ এবং মগধরাজ্যের অন্তর্গত অন্ধকবিন্ধ নামক গ্রামের মধ্যবর্তী স্থল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সম্ভবতঃ এইটি গিজ্বাকূট পর্বত হতে সৃষ্টি।

(২) সে সময়ে আয়ুষ্মান শোভিত স্থবির ভিক্ষুদেরকে সমবেত করে এরূপ বললেন- “বন্ধুগণ! আমি পঞ্চশত কল্প অনুস্মরণ করতে সক্ষম।“ ভিক্ষুগণ ইহা শুনে এ’বলে আন্দোলন, নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলেন যে- “কেন আয়ুষ্মান শোভিত এরূপ প্রকাশ করছেন- “বন্ধুগণ! আমি পঞ্চশত কল্প অনুস্মরণে সমর্থ। ইহা এমন নয় কি তিনি উনার আধ্যাত্মিক শক্তির কথা প্রচার করছেন, প্রশংসা করছেন।“ ভগবানকে এ বিষয়ে জ্ঞাত করলে, ভগবান বললেন- “হে ভিক্ষুগণ! আয়ুষ্মান শোভিত শুধু অতীত পঞ্চশত কল্প জন্মের কথা অনুস্মরণ করতে সমর্থ। শোভিতের কথাই যথার্থ। ইহাতে তার কোন আপত্তি হয়নি।“

 

[চতুর্থ পারাজিকা বর্ণনা সমাপ্ত]

 

(২৩৩)⇒ হে আয়ুষ্মানগণ! চতুর্বিধ পারাজিকা- ধর্ম আপনাদের সম্মুখে আবৃত্তি করা হল। কোন ভিক্ষু এ’সকল পারাজিকা ধর্মের মধ্যে যে কোন একটি মাত্র প্রাপ্ত হলে অন্য সুশীল ভিক্ষুর সাথে উপোস্থাদি বিনয় কর্ম কার্য করতে পারবেনা। গৃহী যেমন অনুপসম্পন্নাবস্থায় ভিক্ষুদের সহিত বিনয় কর্মাদি করতে পারে না, তেমন ভাবে ‘পারাজিকা’ অপরাধী ভিক্ষু সুশীল ভিক্ষুদের সহিত সকল প্রকার বিনয় কর্মাদি সম্ভোগে বর্জিত হয়। এ কারনে আয়ুষ্মানগণকে এখন জিজ্ঞাসা করতেছি, আপনারা পরিশুদ্ধ আছেন তো? দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করতেছি আপনারা পরিশুদ্ধ আছেন তো? আমি আপনাদের মৌনতাবলম্বন দেখে সকলকে পরিশুদ্ধ আছেন বলে ধারণা করছি।

[চতুর্থ পারাজিকা বর্ণনা সমাপ্ত]

 

তসসুদ্দানং / স্মারক গাথা

মৈথুন, অদত্ত গ্রহণ, মনুষ্য হত্যা আর অলব্ধ লোকোত্তর জ্ঞান বর্ণনে,

সঙ্ঘ হতে সম্পূর্ণরূপে বহিষ্কৃত হতে হয়, এ’চারি পারাজিকা লঙ্ঘনে।

[পারাজিকা অধ্যায় সমাপ্ত]