কালি লিনাক্সে Wifi Hack

একজন হ্যাকার যখন তার নিজ বাসার নেটওয়ার্কের বাহিরে অবস্থান করে, কিংবা বাহিরে কোথাও ট্রাভেল করতে যায়, তখন নিশ্চয় তার বাসায় ওয়াইফাই নেট কাজ করবে না। এমতাবস্থায় মোবাইলের নেটওয়ার্কই একমাত্র ভরসা। আগে যখন হাতে হাতে এন্ড্রোয়েড ফোন ছিল না, তখন মানুষ ল্যাপটপে নেট ব্যবহার করার জন্য মডেম ব্যবহার করত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এন্ড্রোয়েড ফোনের হটস্পট কানেকশন মডেমের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে সবাইকে। এরপরেও অনেক সময় এমন হয় যে, মোবাইলের নেট স্পীড খুবই কম, কিংবা ফোনের এমবি শেষ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ঐ হ্যাকারের তখন অন্যের ওয়াইফাই হ্যাক করা ব্যতীত আর কোন উপায় থাকে না। তাছারা একজন হ্যাকার শুধুমাত্র ফ্রিতে নেট ব্যবহার করার মত সামান্য কাজে ওয়াইফাই হ্যাক করে না। আমি আপনাদের এই টপিকে শিখিয়ে দেবো, কিভাবে আপনি একটি ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে পারেন।

 

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমি পর্যায়কর্মে সম্পূর্ণ প্রসেসটিই বিস্তারিত ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি। ওয়াইফাই হ্যাক অনেক ভাবে করা যায়। যার কাছে যে পদ্ধতিটি ভালো লাগে, সে সেই পদ্ধতিই অবলম্বন করে থাকে। —– তো শুরু করা যাক —–

ধাপঃ ০১= প্রথমেই বলে রাখি যে, আপনার যদি ডেক্সটপ কম্পিউটার হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে বাজার থেকে অবশ্যই এমন কোয়ালিটির ওয়াইফাই এডোপটার কিনতে হবে, যা Monitor Mode সাপোর্ট করে। বর্তমান বাজারে ডেক্সটপ কম্পিউটারে ওয়াইফাই সংযোগের জন্য বিভিন্ন মানের কম দামের ওয়াইফাই এডোপটার পাওয়া যায়, যা দিয়ে শুধুমাত্র ডেক্সটপ কম্পিউটারে ওয়াইফাই সংযোগটাই কেবল দেওয়া যায়, হ্যাকিংএর কাজে ব্যবহার করা যায় না। কাজেই আপনাকে Monitor Mode সাপোর্ট করে এমন ওয়াইফাই এডোপটার কিনতে হবে। এরপর সেটা ইন্সটল করে ফেলুন।

যদি আপনার লেটেস্ট ভার্সনের ল্যাপটপ হয়, তাহলে সেই ল্যাপটপে Monitor Mode সাপোর্টেড এডোপটার সেটাপ করাই থাকে, ফলে বাড়তি কোন ঝামেলা একেবারেই করতে হয় না। কিন্তু যদি আপনার ল্যাপটপ একটু ওল্ড মডেলের হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি ওয়াইফাই এডোপডার তো পাবেন বটে, কিন্তু সেটা Monitor Mode সাপোর্টেড নয় মোটেও। সেক্ষেত্রেও আপনাকে বাজার থেকে এক্সট্রা ওয়াইফাই এডোপটার কিনতে হবে এবং ইন্সটল করতে হবে।

 

এতো গেল ওয়াইফাই এডোপটারের কথা। এবার আসুন এডোপটার সেটাপের কথায়। আপনি যদি আপানার ডেক্সটপ কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে ডাইরেক্ট লিনাক্স ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে এডোপটার ইন্সটল দিলেই এডোপটার সম্বলিত কাহিনী শেষ। কিন্তু যদি আমার মত ভার্চুয়াল মেশিন ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মেশিনের Network অপশনটি একটু চেঞ্জ করতে হবে। সেক্ষত্রে চলুন, ভার্চুয়াল মেশিনের নেটওয়ার্ক সেটাপ করি।

 

১. ভার্চুয়াল মেশিনটি ওপেন করুন এবং Settings মেন্যুতে ক্লিক করুন। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

 

২. এখন পাশের Network মেন্যুতে ক্লিক করুন এবং Adapter-1 সাব মেন্যুতে Enable Network Adapter-এ টিক মার্ক দিন। Attached to: মেন্যুতে Bridged Adapter সিলেক্ট করে OK করুন। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৩. এবার USB মেন্যুতে ক্লিক করুন এবং ডান পাশের উপরের আইকনে ক্লিক করলে আপনার ইন্সটল করা এডোপটারের নাম দেখতে পাবেন, সেই নামে ক্লিক করুন। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৪. এবার মাঝখানে আপনার এডোপটারের নাম চলে এসেছে, সেই নামের উপর মাউজ দিয়ে ডাবল ক্লিক করে এডোপটার সেটিং ওপেন করুন এবং একদম নিচের Remote অপশনে Yes সিলেক্ট করে Ok করে দিন। ব্যস আপনার ভার্চুয়াল মেশিনে এডোপটার সেটিং এর কাজ শেষের মাধ্যমে আপনার ওয়াইফাই হ্যাকিং এর প্রথম ধাপ সম্পন্ন হল। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

ধাপঃ ০২

১. এই ধাপে লিনাক্সের টার্মিনাল ব্যবহৃত হবে। কাজেই লিনাক্স ওপেন করে টার্মিনাল ওপেন করুন এবং root টার্মিনালের জন্য কমান্ড দিনঃ sudo su এরপর এন্টার প্রেস করুন। এবার আপনার লিনাক্স পাসওয়ার্ড দিয়ে পুনরায় এন্টার করুন। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

২. আপনার লিনাক্সে ওয়াইফাই এডোপটার সেটাপ আছে কি নাই, অর্থাৎ কনফিগারেশন দেখতে টার্মিনালে কমান্ড দিনঃ ifconfig এবং এন্টার প্রেস করুন। এবার আপনার টার্মিনালে খেয়াল করে দেখুন টার্মিনালের বাম পাশে Eth0 এবং তার নিচে lo নামের দুটি মেন্যু রয়েছে। অর্থাৎ আপনার লিনাক্সে ওয়াইফাই এডোপটার সেটাপ নাই। যদি থাকতো, তাহলে উক্ত দুটি অপশনের ছাড়াও wlan0 নামের আরেকটি অপশন থাকতো। এবার আপনাকে ওয়াইফাই ড্রাইভার ডাউনলোড দিয়ে তা সেটাপ করতে হবে।

৩. এজন্য আপনাকে একটি ব্রাউজার ওপেন করে এই গুগলে সার্চ করুনঃ Compact Wireless/github এবং Hunghtbk/Compact-Wireless নামের একটি লিংক পাবেন যেখানে ক্লিক করুন। অথবা সরাসরি এই লিংকে ক্লিক করুনঃ https://github.com/hunghtbk/compat-wireless-2.6-2010-10 বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৪. লিংকটি ওপেন হলে সবুজ চিহ্নিত Code মেন্যুতে ক্লিক করে zip ফাইলের ড্রাইভার ডাউনলোড করে ফেলুন। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৫. আপনার ফাইলটি ডাউনলোড ফোল্ডারে সেভ হয়ে গেছে। এবার টার্মিনাল থেকে ডাউনলোড ফোল্ডারে যেতে কমান্ড দিনঃ cd Downloads এবং উক্ত ফোল্ডারে ডাউনলোড হওয়া ড্রাইভারটি দেখতে কমান্ড দিনঃ ls এবং এন্টার প্রেস করুন। দেখতে পাবেন লাল কালারের লেখায় Compact-Wireless-2.6 নামের একটি zip ফাইলের ড্রাইভার ডাউনলোড হয়ে গেছে। কাজেই উক্ত zip ফাইলকে unzip করতে টার্মিনালে কমান্ড দিনঃ unzip Compact-Wireless-2.6-2010-10-Master.zip

⇒unzip অর্থ zip ফাইলকে unzip করার কমান্ড

⇒ Compact-Wireless-2.6-2010-10-Master.zip এটি হচ্ছে ডাউনলোড হওয়া ওয়াইফাই ড্রাইভারের নাম, যা টার্মিনালে দেখা যাচ্ছে। কাজের দ্রুততার জন্য টার্মিনালে unzip টাইপ করে টার্মিনাল থেকে ড্রাইভারের নামটি কপি করে পেস্ট করে দিন এবং এন্টার করুন। এবার ফাইলটি unzip হয়েছে কিনা, তা দেখতে কমান্ড দিনঃ ls এবং এন্টার প্রেস করুন। এখন দেখতে পাবেন, নীল কালারের লেখা সম্বলিত Compact-Wireless-2.6-2010-10-Master নামের নতুন আরেকটি ফাইল যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ zip ফাইলটি unzip হয়ে গেছে। আমি যেহেতু পূর্বেই unzip করেছি, সেহেতু উক্ত কমান্ড আর দিলাম না। আপ্নারা কিন্তু অবশ্যই দিবেন।

 

৬. উক্ত ফোল্ডারে প্রবেশ করে টার্মিনালে কমান্ড দিন cd Compact-Wireless-2.6-2010-10-Master এবং এন্টার প্রেস করুন। উক্ত ফোল্ডারের মধ্যে কি রয়েছে, তা দেখতে কমান্ড দিনঃ ls এবং এন্টার প্রেস করুন। এবারে দেখতে পাবেন লাল লেখা সম্বলিত cd Compact-Wireless-2.6-2010-10.tar.bz2 নামের tar ফাইল রয়েছে। উক্ত tar ফাইলকে ক্র্যাক করতে কমান্ড দিনঃ tar –jxvf -Wireless-2.6-2010-10.tar.bz2 এবং এন্টার প্রেস। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৭. ক্র্যাক হওয়া tar ফাইলে কি কন্টেন্ট রয়েছে, তা দেখতে কমান্ড দিনঃ ls এবং এন্টার প্রেস করুন। এবার নীল কালারের Compact-Wireless-2.6-2010-10 ফাইলটি দেখতে পাবেন। উক্ত ফাইলে যেতে কমান্ড দিনঃ cd Compact-Wireless-2.6-2010-10 এবং এন্টার প্রেস করুন। এখন উক্ত ফাইলের মধ্যকার কন্টেন্ট দেখতে কমান্ড দিনঃ ls এবং এন্টার প্রেস করুন। উক্ত ফাইলটি আনলোড করতে কমান্ড দিনঃ make unload এবং এন্টার প্রেস করুন। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৮. উক্ত ফাইলকে লোড করার জন্য কমান্ড দিনঃ make load এবং এন্টার প্রেস করুন। নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

আপাতত ড্রাইভার ইন্সট্রলেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপ সমাপ্ত হল।

ধাপঃ ০৩= এবার আমরা দেখবো, ড্রাইভারটি সত্যিকার অর্থ কালি লিনাক্সে সেটাপ হয়েছে কি না এবং কিভাবে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

১. টার্মিনালের সমস্ত লেখা মুছে ফেলতে কমান্ড দিনঃ clear এবং এন্টার প্রেস করুন। এখন আপনার ড্রাইভার সেটাপ হয়েছে কিনা, তা দেখতে কমান্ড দিনঃ ifconfig এবং এন্টার প্রেস করুন। এখন দেখতে পাবেন, আপনার টার্মিনালে পূর্বের থেকে আরও দুটি অপশন যুক্ত হয়েছে, wlan0 এবং wlan1 অর্থাৎ আপনার কাজ সাকসেস হয়েছে। প্রয়োজনে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

২. আপনার ড্রাইভার কোন মুডে রয়েছে, তা দেখা অত্যন্ত জরুরী। কেননা, Managed Mode থাকলে ওয়াইফাই হ্যাকিং সম্ভব নয়, কাজেই ড্রাইভারটি Managed Mode থাকলে, তা চেঞ্জ করে Monitor Mode করতে হবে। প্রথমেই কমান্ড দিনঃ iwconfig এবং এন্টার প্রেস করুন। নিচের পিকচারের মত যদি wlan0 এবং wlan1, Managed Mode হয়ে থাকে, তাহলে তা চেঞ্জ করে Monitor Mode করতে হবে। প্রয়োজনে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৩. আমি যেহেতু wlan0 এর মাধ্যমে হ্যাকিং পরিচালনা করবো, সেহেতু wlan0 কেই Managed mode থেকে Monitor mode এ চেঞ্জ করবো। আপনি চাইলে wlan1 এর মাধ্যমেও হ্যাকিং পরিচালনা করতে পারেন। কাজেই প্রথমেই wlan0 কে ডাউন করার জন্য কমান্ড দেবঃ ifconfig wlan0 down এবং এন্টার প্রেস করুন। এবার wlan0 এর সহিত সম্পর্কযুক্ত যাবতীয় প্রসেস বন্ধ করতে কমান্ড দিনঃ airmon-ng check kill এবং এন্টার প্রেস করুন। এখন Monitor mode করার জন্য কমান্ড দিনঃ airmon-ng start wlan0 এবং এন্টার প্রেস করুন। প্রয়োজনে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৪. Mode চেঞ্জ হয়েছে কিনা, তা দেখতে কমান্ড দিনঃ iwconfig এবং এন্টার প্রেস করলেই দেখতে পাবেন, Managed mode চেঞ্জ হয়ে Monitor mode হয়ে গেছে এবং সেই সাথে wlan0 এর নাম পরিবর্তন হয়ে wlan0mon হয়ে গেছে। প্রয়োজনে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

এবার ওয়াইফাই হ্যাকিং এর জন্য আপনার লিনাক্স সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং সেই সাথে তৃতীয় ধাপের কার্যক্রমও সমাপ্ত হয়ে গেছে। এখন শুরু হবে হ্যাকিং। …তো শুরু করা যাক…

৫. টার্মিনালের সমস্ত লেখা মুখে ফেলতে clear কমান্ড দিন এবং এন্টার প্রেস করুন।এবার আপনার আশেপাশে কতগুলো ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক আছে, তা সার্চ করতে কমান্ড দিনঃ airodump-ng wlan0mon

উক্ত কমান্ডের অর্থ হচ্ছেঃ airodump-ng দ্বারা সার্চ করার নির্দেশ বোঝানো হয়েছে এবং wlan0mon দ্বারা আপনার ওয়াইফাই এডোপটারের মাধ্যমে সার্চ করা বোঝানো হচ্ছে। উক্ত কমান্ড প্রয়োগ করলে আপনার আশেপাশে যত ওয়াইফাই রাউটার আছে, তা নিচের পিকচারের মত দেখাবে।

৬. উক্ত নেটওয়ার্ক গুলোর  মধ্য থেকে আপনার টার্গেট নেটওয়ার্ক পেয়ে গেলে, কিবোর্ডের Ctrl  + C বাটনের মাধ্যমে সার্চ করা বন্ধ করুন। এবার লক্ষ্য করুন, টার্মিনালের উপরের বেশ কিছু অপশন রয়েছে, তন্মধ্যে BSSID ও CH এবং ESSID গুরুত্বপূর্ণ।

BSSID= রাউটারের ম্যাক এড্রেস

CH= রাউটারের চ্যানেল

ESSID= রাউটারের নাম।

 আমি 90:91A:4A:B8:F3:FB ম্যাক এড্রেসের রাউটারকে টার্গেট করলাম যা, চ্যানেল ২ এবং নাম TP-Link

বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৭. এখন দেখতে হবে, আমার টার্গেট করা রাউটারে কোন ইউজার কানেক্ট রয়েছে কিনা। যেহেতু আমার এই প্রসেসটি হচ্ছে হ্যান্ডসেক ক্যাপচার প্রসেস, সেহেতু কোন ইউজার কানেক্ট না থাকলে কোন ফায়দা হবে না। এখন দেখব, আমার টার্গেটকৃত রাউটারে কোন ইউজার কানেক্ট রয়েছে কিনা। সেটা পর্যবেক্ষণ করতে কমান্ড দিনঃ airodump-ng wlan0mon –d 90:91A:4A:B8:F3:FB এবার দেখতে পাবেন কোন ইউজার কানেক্ট রয়েছে কিনা। আমার টার্গেটকৃত রাউটারে একজন ইউজার কানেক্ট রয়েছে যার ম্যাক এড্রেস STATION অপশনে দেখা যাচ্ছেঃ BA:AD:08:AC:15:A7

মনে রাখতে হবে হবে যে, BSSID হচ্ছে রাউটারের ম্যাক এড্রেস এবং STATION হচ্ছে উক্ত রাউটারে যুক্ত থাকা ইউজারের ম্যাক এড্রেস। প্রয়োজনে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

৮. হ্যান্ডসেক ক্যাপচারের জন্য প্রয়োজনীয় তত্ত্ব কালেক্ট করা শেষ। এবার আপনার কাজ হল হ্যান্ডসেক ক্যাপচারের জন্য কমান্ড দেয়া। তার জন্য কমান্ড দিনঃ  airodump-ng –c 2 –w hack1-01 90:91A:4A:B8:F3:FB wlan0mon

উক্ত কমান্ডেঃ airodump-ng হল রাউটার সার্চ করার নির্দেশ, -c 2 হল CH নাম্বার ২, -w হল পাসওয়ার্ড ক্যাপচার করার নির্দেশ, hack1-01 হল যে নামে ক্যাপচার হওয়া পাসওয়ার্ড সেভ হবে, 90:91A:4A:B8:F3:FB হল আমার টার্গেট করা রাউটারের ম্যাক এড্রেস এবং wlan0mon হল আমার ওয়াইফাই এডোপটারের মনিটর মুড।

এবার রাউটারে যুক্ত থাকা ইউজার কখন ডিসকানেক্ট হয়ে পুনরায় কানেক্ট হবে, আর তখন আপনি তার পাসওয়ার্ড ক্যাপচার করতে পারবেন, ততক্ষণ বসে থাকা কি সম্ভব? তার চেয়ে আমরা যদি ইউজারকে ডিসকানেক্ট করে দিয়ে পুনরায় কানেক্ট করাই, তাহলে আর লেট করতে হবে না। কাজেই ইউজারকে ডিসকানেক্ট করতে নতুন আরেকটি রুট টার্মিনাল ওপেন করে কমান্ড দিনঃ

aireplay-ng -–dauth 0 –a 90:91A:4A:B8:F3:FB –c BA:AD:08:AC:15:A7 wlan0mon

এখানে -–dauth 0 এর অর্থ হল উক্ত রাউটারে যুক্ত থাকা ইউজারের কানেকশনে আনলিমিটেড এ্যাটাক পরিচালনা করা, ফলে সে রাউটার থেকে ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে এবং সে যখন পুনরায় তার ফোনে পাসওয়ার্ড দিয়ে কানেক্ট করতে যাবে, তখনই সেই পাসওয়ার্ড ক্যাপচার হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি যদি আনলিমিটেড এ্যাটাক পরিচালনা করেন, তাহলে ইউজার আর রাউটারে কানেক্ট হতে পারবে না, ফলে আপনি তার পাসওয়ার্ড নাও পেতে পারেন। সেজন্য -–dauth 0 কমান্ডের পরিবর্তে -–dauth 10 করে দিলে মাত্র দশবার এ্যাটাকের ফলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে এবং পুনরায় অটোভাবে কানেক্ট হতেই পাসওয়ার্ড ক্যাপচার হয়ে যাবে, যা প্রথম টার্মিনালের উপরের অংশে দেখতে পাবেন। হ্যান্ডসেক সাকসেসফুল হয়ে গেলে এট্যাক বন্ধ করে দিন কিবোর্ডের Ctrl + C প্রেস করে। দ্বিতীয় টার্মিনাল বন্ধ করে দিন। টার্মিনালে ls কমান্ড দিয়ে এন্টার প্রেস করলেই আপনার ক্যাপচার হওয়া তিনটি ফাইল দেখতে পাবেন, যার একটি hack1-01.cap, আরেকটি hack1-01.kismet.csv এবং তৃতীয়টি hack1-01.log.csv. আমাদের প্রয়োজন hack1-01.cap ফাইলটি। বাঁকি দুটোর কোন কাজ নেই এখানে। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

 

৯. .cap ফাইল ডাইরেক্ট ওপেন করে আপনি পাসওয়ার্ড পাবেন না। কারন, উক্ত ফাইলে রাউটারের পাসওয়ার্ডটি এনক্রিপ অবস্থায় রয়েছে, যা কম্পিউটারের সাংকেতিক ভাষাও বলতে পারেন। কাজেই উক্ত .cap ফাইলের পাসওয়ার্ড পড়তে হলে আপনাকে উক্ত ফাইলকে কনভার্ট করে txt ফাইলে রূপান্তরিত করতে হবে। তার জন্য প্রথমে আপনার ওয়াইফাই এডোপটারের Monitor mode চেঞ্জ করে managed mode করতে হবে। এরজন্য কমান্ড দিনঃ airmon-ng stop wlan0mon

এবার আমার ক্যাপচার হওয়া ফাইলটির নাম পরিবর্তন করে ডেক্সটপে নিয়ে আসলাম এবং ফাইলের নতুন নাম দিলাম chal-01.cap এখন উক্ত ফাইলকে .cap ফাইল থেকে .hccap ফাইলে কনভার্ট করতে কমান্ড দিনঃ aircrack-ng –J chal01 ‘home/user/Desktop/chal-01.cap’ এবং এন্টার প্রেস করুন। chal01 হচ্ছে কনভার্ট হওয়া নতুন ফাইলের নাম হবে chal01 এবং ডেক্সটপ থেকে মাউজের মাধ্যমে .cap ফাইলটি ধরে টার্মিনালে ছেড়ে দিন, তাহলে ‘Home/user/Desktop/chal-01.cap’ এই কমান্ড দেখাবে। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

এখানে আপনি দেখতে পাবেন কত নাম্বার ইন্ডেক্সেম আপনার কাঙ্ক্ষিত পাসওয়ার্ড ক্যাপচার হয়েছে, এবার সেই ইনডেক্স নাম্বার টাইপ করে এন্টার দিন। আমার 2 নাম্বার ইনডেক্স তাই, 2 টাইপ করে এন্টার দিয়েছি। এবার আমার ফাইলটি .hccap ফাইলে কনভার্ট হয়ে গেছে। আপনাদের নাম্বার চেঞ্জ হতে পারে।

১০. এবার .hccap ফাইলকে txt ফাইলে কনভার্ট করতে হবে, ফলে কমান্ড দিনঃ

hccap2john ‘home/user/Desktop/chal01.hccap’ > chal.txt এবং এন্টার প্রেস করুন। hccap2john= hcccap ফাইলকে কনভার্ট করার জন্য কমান্ড

‘home/user/Desktop/chal01.hccap’= মাউজের মাধ্যমে hccap ফাইলকে টার্মিনালে ছেড়ে দিলে এভাবেই ফাইল লোকেশন দেখাবে

Chal.txt = উক্ত hccap ফাইলকে chal.txt ফাইলে কনভার্ট করার কমান্ড।

বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ

১১. এখন আপনি ডেক্সটপে দেখতে পাবেন আপনার chat.txt ফাইলটি সেভ হয়ে গেছে। উক্ত ফাইলটি ওপেন করলে নিচের পিকচারের মত দেখাবে, যা থেকেও আপনি কাঙ্ক্ষিত পাসওয়ার্ড খুঁজে পাবেন না।

১২. উক্ত ফাইল থেকে পাসওয়ার্ড পেতে কমান্ড দিনঃ john ‘home/user/Desktop/chal.txt’ এবং এন্টার প্রেস করুন।  ‘home/user/Desktop/chal.txt’ এই কমান্ডটি কিসের, তা নিশ্চয় বুঝে গেছেন। হ্যাঁ, এটা হচ্ছে txt ফাইলের লোকেশন। আপনি চাইলে উক্ত লোকেশন টাইপ করেও দিতে পারেন, না চাইলে শুধু john টাইপ করে ডেক্সটপে সেভ হওয়া chal.txt ফাইলকে মাউজের মাধ্যমে টেনে টার্মিনালে ছেড়েও দিতে পারেন। almost any other key for status ম্যাসেজ আসলে পুনরায় এন্টার প্রেস করুন, তাহলে ধীরে ধীরে কিভাবে আপনার পাসওয়ার্ড রিড হচ্ছে, তা দেখতে পাবেন। এবার কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন, তাহলেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড। বুঝতে সমস্যা হলে নিচের পিকচার ফলো করুনঃ